কোভিড-১৯: মৃত্যু উপত্যকায় জীবনের গান



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম 
পৃথিবী মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হলেও শোনা যাচ্ছে জীবনের গান, ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবী মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হলেও শোনা যাচ্ছে জীবনের গান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না', বলে ঘোষণা করেছিলেন এক কবি। উদ্ধৃতিটি বহুল প্রচারিত ও উচ্চারিত হলেও সেটি কার, তা অনেকেই জানেন না। তিনি ভারতীয় কবি নবারুণ ভট্টাচার্য।

যদিও উক্তিটি করা হয়েছে ভিন্নতর প্রেক্ষাপটে ও রাজনৈতিক কারণে,  তথাপি চলমান করোনাকালের (কোভিড-১৯) প্রচণ্ড তাণ্ডবে উক্তিটি প্রাসঙ্গিক। কারণ, করোনায় বিশেষ কোনো দেশ নয়, সমগ্র বিশ্বই এখন এক জাজ্বল্যমান মৃত্যু উপত্যকা।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনে উহানে উদ্ভূত অচেনা, অজানা, মারাত্মক করোনাভাইরাসটি বৈশ্বিক মহামারি আকারে ব্যাপ্তির ছয় মাসের সময়কালে পৃথিবীতে এক কোটি ৮৬ হাজারের বেশি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, করোনা প্রকোপের ছয় মাসে প্রাণ ঝরেছে ৫ লাখ ১ হাজার ৩৯৩ জনের। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন সাড়ে ৫৪ লাখ ৫৮ জন।

এদিকে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১৭৩৮ জন। মোট শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন।

উৎপত্তিস্থল চীন হলেও করোনায় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৫২ জন করোনায় মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩৭ জন, সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৭ জন।

কোভিড-১৯ আক্রান্তের পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল, সেখানে ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৪১ জন আক্রান্ত এবং ৫৭ হাজার ১০৩ জন মৃত। পরের স্থানে নাম এসেছে রাশিয়ার। রাশিয়ায় মোট আক্রান্ত ৬ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৬ জন এবং ৮ হাজার ৯৬৯ জন মারা গেছেন।

আরো যেসব দেশ করোনায় প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও পরিস্থিতি কিছুটা সামলে উঠেছে, তার মধ্যে ইতালি, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স অন্যতম। চীনও করোনার প্রকোপ অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে। তবে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও দেশগুলো পুরোপুরি করোনামুক্ত হচ্ছে না। এমনকি নিয়ন্ত্রণে আসা উৎপত্তিস্থল চীনে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

ক্রমবর্ধমান আক্রান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উপরের দিকে চলে আসছে। কারণ স্বল্পোন্নত এসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।

ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৭৭ জন এবং ১৬ হাজার ১০৩ জন মারা গেছে। পাকিস্তানে ২ লাখ ২ হাজার ৯৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৪ হাজার ১১৮ জন।

চীনের উহান শহরে গত বছর ডিসেম্বর থেকে দেখা যাওয়া এই নতুন ভাইরাস মূলত ফুসফুসে বড় ধরনের সংক্রমণ ঘটায়। জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষ্মণ। নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো হলেও প্রতিকারহীন ও অতি মারাত্মক, যা সমগ্র বিশ্বকে পরিণত করেছে মৃত্যু উপত্যকায়।

ধারাবাহিক মৃত্যু ও আক্রান্ত বৃদ্ধির কারণ হলো, এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষক, বিজ্ঞানীরা অবিরাম কাজ করছেন প্রতিষেধকের জন্য। ভ্যাকসিন সংক্রান্ত আশাবাদের অনেক তথ্যই আসছে এই ঘোরতর সঙ্কুল পরিস্থিতিতে। 

ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক না-থাকলেও হাজার-হাজার চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী লড়ছেন অদৃশ্য করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে। অনেকেই লড়তে লড়তে ভাইরাসে প্রাণ দিয়েছেন। এই তালিকায় চিকিৎসক ছাড়াও  পুলিশ, সরকারি কর্মচারি ও বিভিন্ন পেশার মানুষও আছেন। যারা মৃত্যু উপত্যকায় জীবনের গান গেয়ে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন।

৮০০ কোটির বেশি জনসংখ্যার বিশ্বে ছয় মাসে এক কোটি লোকের আক্রান্ত ও পাঁচ লক্ষাধিক লোকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এরচেয়ে বেশি লোক বছরে আক্রান্ত ও মারা যায় অন্যান্য রোগে, দুর্ঘটনায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে, যুদ্ধ-গৃহযুদ্ধ-সংঘাতে। এসব ক্ষয়ক্ষতি স্বাভাবিক ও দৃষ্টিগ্রাহ্য মনে হয়। কিন্তু করোনায় মানব ক্ষতি অনেক বড় আকারে সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। কারণ, এসব মৃত্যু একতরফা ভাবে করোনা নামক অদৃশ্য শত্রুর আক্রমণে। যা মানবজাতিকে ভাবায়, উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত করে।

মানবজাতি সভ্যতার লক্ষ লক্ষ  বছরের ইতিহাসে কখনোই একতরফা আক্রান্ত হতে অভ্যস্থ নয়। লড়াকু মানুষ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এগিয়ে এনেছে সভ্যতার চাকা। দুর্যোগ, মারী, দুর্বিপাককে পরাজিত করেই মানুষ বাসযোগ্য করেছে সবুজ পৃথিবীকে। এই পৃথিবীকে করোনার কারণে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হতে দিতে পারেনা মানুষ।     

ফলে ভ্যাকসিক আবিষ্কারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি চলছে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি পালনের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধের তৎপরতা। চলছে জীবনবাজি রেখে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট  পেশাজীবীদের লড়াই। কোটি মানুষ আক্রান্ত ও লক্ষ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে পৃথিবী যতই মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হোক, সেখানে করোনার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জীবনের গানই শোনা যাচ্ছে। আক্রান্ত বা মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান ছাপিয়ে সংগ্রামী মানুষের প্রদীপ্ত প্রাণময়তার  আলোকিত প্রতিচ্ছবিই দৃশ্যমান হচ্ছে পৃথিবী দেশে দেশে, সর্বত্র।

   

‘আলোর স্কুল’ জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশবে ফেনী শহরে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রজীবনে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে পথ ও পন্থা খুঁজছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন তাদের মননশীলতার চর্চাকে উন্মুক্ত করতে। সেই কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন নি। থেকে গেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই। তার আসল নাম কাজী জামালউদ্দিন বলে এখন কম লোকেই ডাকে। সবাই বলে জামাল স্যার, চট্টগ্রামের পাঁচশাইশের জামাল স্যার।

জামাল স্যার দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গ দেন। তাদের দুর্বলতা কাটাতে চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় বসেন মটিভেশনাল সেশানে। তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী যখন শিক্ষাজীবনে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন তার চোখের কোণে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। আর পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটির পরিবার জুড়ে বয়ে যায় খুশির হিল্লোল। ‘এমন পরিস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়‘, বললেন জামাল স্যার।

‘সঠিক দিক-নির্দেশনা না পেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না। তারা হতাশ ও জীবনবিমুখ হয়ে যায়। স্কুল ও বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সমস্যাগুলো দরদ ও মনোযোগ দিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ পান না।  ফলে সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেকেই সফল হয় না। আমি তাদের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করি। সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করি,‘ জানালেন জামাল স্যার।

তিনি বলেন, ‘আমি গতানুগতিক কোচিং এ বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, প্রতিটি সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে কিছু অপূর্ণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ হয় না। এই গ্যাপটি ধরিয়ে দিতে পারলেই সমস্যা পরিণত হবে সম্ভাবনায়।‘

বই উপহার পেলো শত শিক্ষার্থী/বার্তা২৪

জামাল স্যারের মতে, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী একই রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তাদের সমস্যা বহুমাত্রিক। আবার স্কুলগুলোর সমস্যাও নানামুখী। এগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সংযোগ সাধন করা আমার কাজ।‘

তিনি জানান, ‘আমাদের স্কুলগুলো মূলত আধাদিনের। বাকী সময় শিক্ষার্থী থাকে মাঝিবিহীন নৌকার মতো। অভিভাবকরাও নিজের কাজের শেষে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল পথ খুঁজে পায় না। অথচ তাদেরকে সঠিক দিশা দেখানো হলে দেশের মানবসম্পদ বিকাশের কথ মসৃণ হবে। তাদের অন্যান্য সুপ্ত প্রতিভা এবং লাইফস্কিল ডেভেলপ করলে সে শুধু ভালো ছাত্রই হবে না, ভালো ও সফল মানুষ হবে।‘

এ কারণেই বিকল্প স্কুলের মতো একটি লাইব্রেরি গড়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক সমায়ক বই রয়েছে সেখানে। তার মতে, ‘ইন্টারনেটে অনেক ফেক ও অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। শুধু নেটে বসে হাজারো তথ্যের অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও মননশীল প্রচেষ্টার শক্তি হারাবে। এজন্য তাদেরকে বই ও পাঠাগার মুখী করতে হবে।“

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান ফেনী শহরেও জামাল স্যার শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ভিন্নধর্মী, জীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে একযোগে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বই উপহার দিয়েছেন তিনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ডা.সালাউদ্দীন ভবনে আনন্দমুখর পরিবেশে এই বই উপহার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামে সৃজনশীল পাঠদানের পথিকৃৎ জামাল স্যারের সভাপতিত্বে বই উৎসব ও পাঠাগার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম‘র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন আরো অনেক শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, সভ্যতার আদি সূচনা থেকে আজকের অত্যাধুনিক জগত পর্যন্ত গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির উপস্থিতি বিদ্যমান এবং মানব জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত। লাইব্রেরি-বিহীন সমাজের ঐতিহ্যগত শেকড়, সাংস্কৃতিক দ্যুতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দুর্বল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজকের পৃথিবীতে বিশেষায়িত ও সাধারণ গ্রন্থাগার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি, যা সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে এবং মানব জাতির মেধার ভাণ্ডারকে প্রজন্মব্যাপী সম্প্রসারিত করে চলেছে। জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার আসলে একটি ‘আলোর স্কুল‘।

;

১৮ ক্যারেটের সোনার টয়লেট চোরকে পাওয়া গেল!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ৩০০ বছরের পুরনো বাড়ি ব্লেনহিম প্যালেস থেকে চুরি হওয়া একটি সোনার টয়লেটের চোরকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই টয়টেলটি ১৮ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনার দাম অনুযায়ী এর মূল্য ছিল ৪৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানায়,  এ ঘটনায় নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েলিংবোরোর বাসিন্দা জেমস 'জিমি' শিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই টয়লেটটি চুরি হয়। ওই সময় অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িটিতে ইতালির শিল্পী মাউরিজিও ক্যাতেলানের 'ভিক্টরি ইজ নট এন অপশন' প্রদর্শনীতে টয়লেটটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই চুরি হয় সেটি।

পুলিশের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রাসাদের সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত থাকায় চুরির সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশ ভেসে গিয়েছিল।

ব্লেইনহিম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, টয়লেটটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘আমেরিকা’ নামে। ওই প্রাসাদের যে ঘরে উইংস্টন চার্চিল জন্মেছিলেন, তার পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জেমসকে এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ক্রাউন আদালতের শুনানিতে যুক্ত করা হয়েছিল। এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিন বর্তমানে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই ঘটনা এবারই শিনের প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিউমার্কেট এলাকার জাতীয় ঘোড়দৌড়-বিষয়ক জাদুঘর থেকে চার লাখ পাউন্ড দামের ট্রাক্টর ও অত্যন্ত দামি স্মারক বস্তু চুরি করেছিলেন জেমস।

;

কী ছিল টাইটানিকের সকাল-বিকাল-রাতের খাবারের তালিকায়?



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে প্রায় ১১২ বছর আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক। বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরী নিয়ে এখনো আগ্রহের কমতি নেই মানুষের মধ্যে। এতো সময় পরও এখনো টাইটানিক সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষের অজানা। তবে এবার বের হয়েছে এক নতুন তথ্য।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টাইটানিক জাহাজের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের খাবারের তালিকা।

এক্স হ্যান্ডলে ফ্যাসিনেটিং নামের একটি পেজে প্রকৃত মেনুকার্ডের দুই পাশের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

ওই ছবিতে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের মেনু দেওয়া ছিল।

প্রথম শ্রেণির মেনুকার্ডের শিরোনাম ছিল ‘আরএমএস টাইটানিক’। তারিখ ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। প্রথম শ্রেণির খাবারের তালিকায় কনসোমে ফার্মিয়ার, ফিলিটস অব ব্রিল, চিকেন আ লা ম্যারিল্যান্ড, লবণে জারিত গরুর মাংস, ককি লিকি সবজি ও ডাম্পলিং ছিল।

‘ফ্রম দ্য গ্রিল’ ক্যাটাগরিতে ছিল গ্রিলড মাটন চপ, ম্যাসড, ফ্রায়েড এবং বেকড জ্যাকেট পটেটোজ, কাস্টার্ড পুডিং, আপেল মেরিঙ্গু ও প্যাস্ট্রি।

বুফেতে স্যামন মেয়োনিজ, পটেড চিংড়ি, নরওয়েজিয়ান অ্যাঙ্কোভিস সসড হেরিংস, প্লেইন এবং স্মোকড সার্ডিনস, রোস্ট গরুর মাংস, মসলাযুক্ত গরুর মাংসসহ ছিল নানা পদ।

তৃতীয় শ্রেণির সকালের নাশতার মেনুতে ছিল ওটমিল পোরিজ ও দুধ, স্মোকড হেরিংস, জ্যাকেট আলু, হ্যাম ও ডিম, গরম–গরম রুটি ও মাখন, মার্মালেদ, সুইডিশ রুটি, চা ও কফি। রাতের খাবারে ছিল চালের স্যুপ, রুটি, ব্রাউন গ্রেভি, কেবিন বিস্কুট, মিষ্টি ভুট্টা, সেদ্ধ আলু, পাম পুডিং, মিষ্টি সস ও ফল।

ছবি দুটি দিয়ে পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগের দিন। ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। টাইটানিক ১ম শ্রেণীর খাবারের তালিকা বনাম ৩য় শ্রেণির খাবারের তালিকা।

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকেই নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

একজন লিখেছেন, তৃতীয় শ্রেণীর মেনু আমার কাছে ভাল লেগেছে।

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, লক্ষ্য করেছেন ৩য় শ্রেণির মেনুতে রাতের খাবারের জন্য গ্রুয়েল (দুধ অথবা পানিতে ফোটানো তৈরি তরল খাবার) অফার করা হয়। এটা সবার কাছে ভালো খাবার নাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এক বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় জাহাজটি। তখন জাহাজটিতে থাকা প্রায় এক হাজার ৫০০ যাত্রী মারা যায়।

;

ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ যুদ্ধ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা। বাড়ি ফেরা নয়, যেনো এক যুদ্ধে। ভোগান্তির পরও এই যুদ্ধ যেনো আনন্দের ঘরমুখো মানুষের কাছে। যে করে হোক প্রিয়জনের কাছে যেতে ট্রেনে উঠতেই হবে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার ২য় দিন। এদিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিটি ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। তবে ঘরমুখোর মানুষের প্রচণ্ড চাপ ছিল। 

ঈদে বাড়ি যাচ্ছে মা, বাবার ছুটি আরও পড়ে। তাই তো বাবার কোল ছাড়তেই দিল কান্না জুড়ে/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুটিও ফিরছেন গ্রামে/ছবি: নূর এ আলম


 

প্ল্যাটফর্মের বাইরে এভাবে ট্রেনে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উঠছেন এই নারী/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে একটি পরিবার/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে উঠতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়/ছবি: নূর এ আলম


 

গরম থেকে বাঁচতে ছোট্ট ব্যাটারিচালিত পাখা সঙ্গে নিয়েছে শিশুটি/ছবি: নূর এ আলম


 

হাজারো যাত্রী ছাড়ছেন ঢাকা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে ওঠার যুদ্ধ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার কাছে কোনো বাধাই বাধা নয়/ছবি: নূর এ আলম


 

টিকিট চেক করে তবেই যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে/ছবি: নূর এ আলম


 

ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও বেশ তৎপর/ছবি: নূর এ আলম


 

;