সৌদি আরবের বৃহত্তম কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদ



মো. সুমন, রিয়াদ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সৌদি আরবের বৃহত্তম কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদ

সৌদি আরবের বৃহত্তম কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদ স্থাপত্যের মহিমা এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি সৌদি আরবের সাবেক শাসক বাদশাহ খালিদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি।

কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদটির আয়তন প্রায় ২৫ একর। ১৯৭৬ সালে মসজিদটি তৈরি করা হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে ২২ হাজার জন জামাত আদায় করতে পারেন।

কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদের নকশায় আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক স্থাপত্যের সমন্বয় ঘটেছে। এর বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ, ডিজাইন করা গম্বুজ এবং মিনার দ্বারা সজ্জিত। অভ্যন্তরের প্রধান প্রার্থনা হলটি ঝাড়বাতি, ক্যালিগ্রাফি এবং জ্যামিতিক নিদর্শনগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত স্থানকে অলঙ্কৃত করে কারুকার্যের এক বিস্ময়।

মসজিদটিতে ২২ হাজার মানুষ এক সঙ্গে জামাত আদায় করতে পারেন

মসজিদটি শুধু উপাসনালয় হিসেবেই কাজ করে না বরং ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটিতে ইসলামিক সাহিত্যের বিশাল সংগ্রহসহ একটি লাইব্রেরি রয়েছে, যা দর্শকদের জন্য একইভাবে একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে পরিবেশন করে। শিক্ষার প্রতি মসজিদের প্রতিশ্রুতি তার ইসলামিক স্টাডিজ এবং রিসার্চ সেন্টারের দ্বারা আরও দৃষ্টাস্তমূলক।

কিং খালিদ গ্র্যান্ড মসজিদ শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্রই নয় বরং এটি তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সৌদি আরবের উৎ্সর্গের প্রতীক। মসজিদটি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করে, যাতে তারা সৌদি আরবের স্থাপত্যে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ প্রত্যক্ষ করতে পারে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে, এটি জনগণের মধ্যে সম্প্রদায় এবং আধ্যাত্মিক ঐক্যের বোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

   

ভার্জিনিয়ার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে সম্মাননা পেলো ডব্লিউইউএসটি



বিশেষ সংবাদদাতা, বার্তা২৪.কম
ভার্জিনিয়া জেনারেল অ্যাসেম্বলি ভবনের সামনে ডব্লিউইউএসটির প্রতিনিধি দল

ভার্জিনিয়া জেনারেল অ্যাসেম্বলি ভবনের সামনে ডব্লিউইউএসটির প্রতিনিধি দল

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অগ্রসরতার নতুন নতুন ধাপ পার করছে। মিলছে নতুন স্বীকৃতি ও সম্মাননা। সবশেষ ভার্জিনিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলিতে বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা পেলো এই বিশ্ববিদ্যালয়। যার মালিকানায় রয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি ও শিক্ষা উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ। 

এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটে সম্মাননা ও স্বীকৃতি পায় ডব্লিউইউএসটি।সেবার ৪০ জন সিনেটরের পক্ষ থেকে সাইটেশন পাবার পর এবার জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে ভার্জিনিয়ার ১০০ সদস্যের হাউজ অব ডেলিগেটসে বিশেষ সম্মাননা পেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভার্জিনিয়ার রাজধানী শহর রিচমন্ডের অ্যাসেম্বলি হলে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট সেভেনের ডেমোক্র্যাট ডেলিগেট ক্যারেন কিইস গামাররা তার উপস্থাপনায় তুলে আনেন এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রসঙ্গ। জানান, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কে নেতৃত্বে ডব্লিউইউএসটি অগ্রসরতার কথা। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার বিস্তার এবং ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগানিয়া অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রস্তাব তোলেন ক্যারেন কিইস গামাররা। তার উপস্থাপনা শেষ হতে স্পিকার ডন স্কটের নেতৃত্বে ১শ ডেলিগেটস ও গ্যালারিতে উপস্থিত সকল অতিথিগণ তুমুল করতালির মাধ্যমে সম্মননা জানান ডব্লিউইউএসটিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের নেতৃত্বে ১৩সদস্যের এই প্রতিনিধি দল এসময় অ্যাসেম্বলি হলে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ, আবুবকর হানিপ ও ফারহানা হানিপের জ্যেষ্ঠ কন্যা সাইবার সিকিউরিটির শিক্ষার্থী নাফিসা নওশিন, স্কুল অব বিজনেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন, স্কুল অব বিজনেস ও জেনারেল এডুকেশন ফ্যাকাল্টি প্রফেসর সালমান এলবাদর, জেনারেল এডুকেশন অ্যান্ড সেন্টার ফর স্টুডেন্ট সাকসেস এর অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর ড. হুয়ান লি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ডিরেক্টর হোসে উর্তেগা, স্টুডেন্ট সাকসেস ও ক্যারিয়ার সার্ভিস ম্যানেজার র্যাচেল রোজ, ক্যারিয়ার সার্ভিস ও আইটি ম্যানেজার অমিত গুপ্ত, স্টুডেন্ট গর্ভামেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সেলিন ইগিত এবং ইনফরমেশন টেকনলজির মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাসান।

অ্যাসেম্বলি হলে সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে ভার্জিনিয়ার ৪৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল জেসন মিয়ারেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডব্লিউইউএসটি প্রতিনিধি দল। কমনওয়েলথ অব ভার্জিনিয়ার বারবারা জনস বিল্ডিংয়ে এই সাক্ষাতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল। ডব্লিউইউএসটির পক্ষ থেকে রিপাবলিকান এই অ্যাটর্নি জেনারেলের হাতে স্যুভেনির তুলে দেয়া হয়। পরে ফটোসেশনের মাধ্যমে এই বৈঠক শেষ হয়।

এদিকে এশিয়ান কমিউনিটি নিয়ে বহুবছর ধরে সফলতার সাথে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে কাজ করে আসছে এমন চারটি সংগঠনের আয়োজনে একটি মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠান ছিলো সন্ধ্যায়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়ার ৭৪তম গভর্নর রিপাবলিকান দলের গ্লেন ইয়ংকিন। বেশ কয়েকজন সিনেটর ও হাউজ অব ডেলিগেটস এতে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিনিধি দলকে। ভার্জিনিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নানা কথা উঠে আসে গভর্নর গ্লেন ইয়ংকিনের বক্তৃতায়। নতুন নতুন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইন্ড্রাস্টিতে কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভূমিকা রাখছে তা উল্লেখ করেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানেও ডব্লিউইউএসটির সফলতার কথা তুলে ধরেন ডিস্ট্রিক সেভেনের ডেলিগেট ক্যারেন কিইস গামাররা।

আর স্টেটে শিক্ষা সেবায় অনন্য ভূমিকা রাখায় ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কে সাধুবাদ জানান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সফলতা কামনা করেন গভর্ণর গ্লেন ইয়ংকিন। ডিনারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।

এই স্বীকৃতিকে পাথেয় করে নতুন উদ্যম ও উদ্দীপনা নিয়ে রিচমন্ড থেকে ভার্জিনিয়ায় ফিরে আসে ডব্লিউইএসটি টিম।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ও বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি ও শিক্ষা উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষণ ও পরিচালন পদ্ধতিতে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। যার মধ্য দিয়ে ঘটেছে দ্রুত প্রসার, শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে উঠে জনপ্রিয়। তিনবছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩০০ থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭০০।

এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও ব্যবসায়িক প্রশাসনের উপর ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্সে বর্তমানে বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়ায় বৃহৎ ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ক্যাম্পাস।

;

আমিরাতে মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান



তোফায়েল আহমেদ (পাপ্পু), সংযুক্ত আরব আমিরাত
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে 'মায়ের ভাষায় কথা বলি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক ভাষাতে কথা বলা মানেই সংকীর্ণতা নয়, অনাধুনিকতা নয় বরং আঞ্চলিক ভাষার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মানুষের আত্মপরিচয়।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই'র আয়োজনে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির শারজায় এই অনুষ্ঠানে দেশের বিলুপ্তপ্রায় আঞ্চলিক ভাষা তুলে ধরা ও বহির্বিশ্বে ভিনদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা পাঠদানকারী বাংলাদেশি শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

এই আয়োজনে ১০ জন বাংলাদেশি শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে। তারা দেশটিতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও সিবিএসই বোর্ডের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা বিষয়ে পাঠদান করে আসছেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা। 

সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- অধ্যাপক নুরুন নাহার হুদা, রহিমা ইসলাম, সুমনা দাস, অধ্যাপক এস এম আবু তাহের, আবু তাহের মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, নাসরীন সুলতানা, শেখ কানিজ-এ-ফেরদৌস,  রহিমা সেলিনা সিদ্দিকী, স্নিগ্ধা সরকার তিথী ও জুইঁয়েনা আক্তার। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। প্রেসক্লাবের সভাপতি শিবলী আল সাদিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ বিজ্ঞানী রেজা খান, বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (প্রেস) আরিফুর রহমান, শারজা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আহমেদ হোসাইন ও বাংলাদেশ সমিতি দুবাইয়ের  সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াকুব সুনিক, বাংলাদেশ সমিতি শারজার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

এ সময় শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও সিবিএসই বোর্ডের অধীন ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আমিরাতে ৩০ বছর বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতা শেষে অবসর যাওয়া অধ্যাপক নুরুন নাহার হুদা এই সম্মাননা পেয়ে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো। এই প্রথম শিক্ষকরা একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ হলো। এর আগে কোন সামাজিক, রাজনৈতিক বা সেবামূলক সংগঠন বাংলাদেশি শিক্ষকদের আলাদাভাবে সম্মান জানায়নি। এই ভালোবাসা আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেনারেল বিএম জামাল হোসেন বলেন, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করা জাতির কাছে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই ভাষা দূরপরবাসে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের কাছে যারা পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব একটি মহৎ কাজ করেছে৷ তা ছাড়া আঞ্চলিক ভাষায় যে বৈচিত্র্য তারা তুলে ধরেছে এটিও প্রশংসনীয় কাজ।’

এর আগে অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা চর্চায় উৎসাহিত করতে ও আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ পর্ব পরিচালনা করা হয়। যেখানে দেশের আটটি বিভাগের আঞ্চলিক ভাষাসহ প্রায় বিলুপ্ত উপভাষায় নিজ অঞ্চলের ভাষার বৈচিত্র্য ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রবাসীরা। এতে ঢাকার কুট্টি ভাষায় রেজা খান, চাটগাঁইয়া ভাষায় মোস্তফা মাহমুদ, সিলেটি ভাষায় হাজী শফিকুল ইসলাম, রংপুরী ভাষায় স্নিগ্ধা সরকার তিথী, মোমেনশিঙ্গা ভাষায় উত্তম কুমার সরকার, বরিশাইল্যা ভাষায় সাথী আক্তার প্রিয়া, খুলনাইয়া ভাষায় শাহীদ ইসলাম, বরেন্দ্রী উপভাষায় সানজিদা আঞ্জুম শিমুল ও নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কামাল হোসাইন সুমন নিজের অঞ্চলকে তুলে ধরেন। 

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি জামাল হোসেন, আবিদা হোসেন, শিবলী আল সাদিক, এস এম শাফায়েত, রাহবার আবদুল্লাহ শিবলী, রুহিন হোসেন ও সাকিয়া সিদ্দিকা জেরিন।

;

আমিরাতে ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব



তোফায়েল পাপ্পু, সংযুক্ত আরব আমিরাত (দুবাই) থেকে
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫২ জন প্রবাসীর লেখা ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ে প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন কনস্যুলেট লেডিস গ্রুপের সভাপতি আবিদা হোসেন।

এসময় বক্তারা অভিমত প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসের মাটিতে একসঙ্গে এতো সংখ্যক লেখককে একসঙ্গে করতে পেরেছে একটি বই। চিঠির সংকল ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’র মাধ্যমে অর্ধশতাধিক প্রবাসীর লেখা প্রকাশ করায় বই পড়ুয়াদের সংগঠন আরবান রিডার্স কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান বক্তারা৷


আরবান রিডার্সের মুখপাত্র নওশের আলী বলেন, আরবান রিডার্স কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান নয় কেবল একটি উদ্যোগের নাম৷ আমরা 'দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে প্রবাসীদের বই পড়ার পাশাপাশি লেখালেখিতে উৎসাহ দিয়ে আসছি। দুবাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বাংলাদেশ বইমেলায় আরবান রিডার্স সক্রিয় অংশগ্রহণ করে একাধিক বই প্রকাশ করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অমর একুশে বইমেলায় ‘‘প্রবাসে ছিন্নপত্র’’ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।’

চিঠির সংকলন ‘প্রবাসের ছিন্নপত্র’ কামরুল হাসান জনির সম্পাদনায় প্রকাশ হয়েছে সাহিত্যদেশ প্রকাশনী থেকে। বইটিতে প্রবাসীদের মধ্যে ৫২ জন লেখক অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে নারী ১২ জন, পুরুষ ৪০ জন। ঢাকার অমর একুশে বই মেলায় সাহিত্যদেশ ৩৪০-৩৪১ স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

;

দুবাইয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন



দুবাই করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

একুশের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই’র প্রাঙ্গণে আমিরাতের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনস্যুল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। এ সময় কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর একে একে বাংলাদেশ কনস্যুলেট লেডিস গ্রুপ, বাংলাদেশ উইমেন এসোসিয়েশন, দুবাইয়স্থ বাংলাদেশ জনতা ব্যাংক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বঙ্গবন্ধু পরিষদসহ দুবাই ও উত্তর আমিরাতের ৬টি প্রদেশের ৫০টির অধিক সমাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন জানান, একুশের চেতনা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ুক এটিই আমাদের প্রত্যাশা। ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন দিন। একুশের চেতনার সিঁড়ি বেয়ে ১৯৭১-এ উপনীত হয়েছি এবং পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ আমরা পেয়েছি।

এদিকে ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাই ও উত্তর আমিরাতের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন। দিনটি উপলক্ষে কনস্যুলেট জেনারেলে অফিসে আলোচনাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

;