বাইডেনের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন পুতিন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গত বুধবার ‘খুনি’বলে আখ্যায়িত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আর তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও দিয়েছেন ক্রেমলিন।

তবে পুতিন বরাবরের মতো হালকা মসকরা করতেও ভোলেননি।

ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে একীভুল সপ্তবর্ষে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক ভাষণে উপহাসের সুরেই পুতিন বলেছেন, যে যেমন, ‘সবাইকে তো তেমনই ভাববে।’

পুতিন আরও বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েনের জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ছিন্ন করবেন মস্কো।  

তিনি বলেন, ‘‘ছেলেবেলায় যখন আমরা যুক্তি দিতাম- নিজে যেমন অন্যকে সে তেমনই ভাবে। আসলে এই কথা কোনও কাকতালীয় বিষয় নয়। এটি কোনও শিশুর কথা নয়, কিংবা কৌতুক নয়।’’

পুতিন আরও তীর্যক ভাষায় বলেন, “আমরা সবসময় আমাদের নিজেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অন্যদের মধ্যে দেখি এবং অন্যদেরকে নিজেদের মতো ভাবি। চূড়ান্ত বিচারে আমরা একজন ব্যক্তির কাজকর্ম দেখে তার সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসি।’’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাইডেন ‘খুনি’ বলার দু দিন পর পুতিন এসব কথা বললেন।

তিনি আরও বলেন, “বাইডেন বলেছেন, আমরা একে অপরকে চিনি। আমরা তার কথার কী জবাব দেব? আমি শুধু বলব- আমি আপনার সুস্থতা কামনা করি। কোনও রকমের কৌতুক বা বক্রতা ছাড়াই একথা বলছি।’’

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রভাবিত করতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল রাশিয়া।

এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘শিগগিরই এর মূল্য দিতে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) এর দপ্তর থেকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে বাইডেনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও অসমর্থিত তথ্য দিয়ে মস্কো মার্কিন সংবাদ সংস্থা, কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন-সহ বিশিষ্ট মার্কিন ব্যক্তিদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুতিন ‘এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন এবং সম্ভবত তার নির্দেশেই’ ট্রাম্পের পক্ষে এবং বাইডেনের বিপক্ষে এ প্রচারণা চালানো হয়েছিল।

পরদিন এবিসি নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন জানান, নির্বাচনে পুতিনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়েছিলেন বাইডেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার দীর্ঘ কথোপকথন হয়েছে এবং আমি তাকে বেশ ভালো করেই চিনি। কথোপকথনের শুরুতেই আমি বলেছি, আপনি আমাকে চেনেন এবং আমি আপনাকে চিনি। যদি সেটা (নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা) প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রস্তুত থাকবেন। ’

ওই সাক্ষাৎকারে বাইডেনকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি পুতিনকে ‘হত্যাকারী মনে করেন কি না। জবাবে বাইডেন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তা মনে করি। ’

পুতিনের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি বাইডেন।

তবে, গত মাসেই রাশিয়ার চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে গত বুধবার মস্কো বলেছে, নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দাসংস্থার ওই প্রতিবেদনের কোনো নিশ্চিত ভিত্তি এবং প্রমাণ নেই। কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি জানায় মস্কো।