সরকারের সমালোচনা করলেই দেশদ্রোহী আইনে কঠোর শাস্তি



মহিউদ্দিন আহমেদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষের কণ্ঠরোধ করতে নতুন এক ফন্দি এঁটেছে জিম্বাবুয়ের সরকার। সম্প্রতি ‘দেশপ্রেম আইন’ এর মোড়কে সমালোচকদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির বিধান করেছে দেশটি। নতুন আইন অনুযায়ী দেশে কিংবা বিদেশে বসে কোনভাবেই সরকারের সমালোচনা করা যাবে না। যে কোন সমালোচনাকে বিবেচনা করা হবে দেশদ্রোহীতা হিসেবে। সেই সাথে থাকছে কোঠর শাস্তির বিধান।

জিম্বাবুয়ে সরকারের নতুন এই আইনকে ঘিরে দেশে ও বিদেশে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। জিম্বাবুয়ের সাংবিধানিক আইনজীবী এবং বিরোধী দলনেতা লাভমোর মধুকু বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসাবেই চিহ্নিত করে স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়েছেন, কোনো রাষ্ট্রেরই ক্ষমতা নেই দেশপ্রেমের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়ার। তার কথায়, এই আইনের প্রবর্তন গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ।

তবে নতুন এই আইন নিয়ে বিতর্ক যতই হোক তাতে কোন বিকার নেই জিম্বাবুয়ের সরকারের। বরং তারা এই আইন প্রয়োগে বদ্ধপরিকর। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের অভিমত, দেশের মধ্যে ঐক্য অটুট রাখতেই এই উদ্যোগ। তাদের মতে ১৯৯৯ সালে বিরোধী দলগুলির উত্থান নষ্ট করেছে দেশের ঐক্যকে। তাদের বিভিন্ন সমালোচনাই নাকি তৈরি করছে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নষ্ট করা হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। বন্ধ হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগের পথ। এই আচরণকে কোনো আইন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে ক্ষমতাশীল দলের নেতারা।

তবে সত্যি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের পিছনের গল্পটি ভিন্ন। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। মাত্রাহীন দুর্নীতি, বিরোধী দলের লোকদের হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিটা ক্ষেত্রেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে সরকারকে। তাছাড়াও অনিয়মিত নির্বাচন এবং ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তো আছেই। এই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বছর খানেক আগেই পদক্ষেপ নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছিল দলীয় কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল অর্থনৈতিক সাহায্যও। তবুও এসব কিছু থেকে পিছু হঠানো যায়নি ক্ষমতাসীনদের।

তাই কঠোরভাবেই সকল সমালোচনাকে রুদ্ধ করতে এবার মাঠে নেমেছে স্বয়ং রাষ্ট্র। ব্যক্তির পাশাপাশি সমালোচনার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে এনজিও-গুলির জন্যও। তবে এসব কিছু যে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা দীর্ঘ করার পায়তারা তা বুঝতে বাকী নেই দেশটির সচেতন মহল সহ বিশ্ববাসীর।