যুক্তরাষ্ট্রে 'থ্যাঙ্কস গিভিং' উদযাপনে ১০০ কোটি ডলারের টার্কি বিক্রি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাষ্ট্রে 'থ্যাঙ্কস গিভিং' উদযাপনে ১০০ কোটি ডলারের টার্কি বিক্রি

যুক্তরাষ্ট্রে 'থ্যাঙ্কস গিভিং' উদযাপনে ১০০ কোটি ডলারের টার্কি বিক্রি

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের থ্যাঙ্কসগিভিংয়ে ১০০ কোটি ডলারের টার্কি বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৫ কোটি ১ লাখ ডলার বেশি। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন দিবস বা থ্যাঙ্কস গিভিং ডে উদযাপনের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই টার্কির বেচাকেনা চালু হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন দিবস বা থ্যাঙ্কস গিভিং ডে'তে ২৯ কোটি ৩০ লাখ টার্কি প্রেমী মার্কিনী বাৎসরিক ভোজ উপভোগ করতে পরিবারের সদস্যদের সাথে জড়ো হয়েছিল। যা গত বছব্রের তুলনায় প্রায় ২০ লাখ মার্কিনী বেশি। ২০২১ সালে বাৎসরিক ভোজ উপভোগে জড়ো হওয়া মার্কিনীর সংখ্যা ছিল ২৯ কোটি ২০ লাখ।

যুক্তরাষ্ট্রে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) পালিত হয়েছে কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন দিবস বা থ্যাঙ্কস গিভিং ডে। থ্যাঙ্কস গিভিং ডে'র অর্থ কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন বা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন দিবস। প্রতিবছর নভেম্বর মাসের চতুর্থ বা শেষ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে সরকারিভাবে থ্যাংকস গিভিং ডে উদযাপন করা হয়। দিবসটিতে ধনী-গরিব সবাই মেতে ওঠে ঐতিহ্যবাহী টার্কি ভোজে। পারিবারিকভাবে প্রতিটি ঘরেই টার্কি দিয়েই চলে দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা। এবারের থ্যাঙ্কস গিভিং ডেতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের জন্য ১০০ কোটি ১ লাখ  ডলার মুল্যের টার্কি বিক্রি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৫ কোটি ১ লাখ ডলার বেশি।

ন্যাশনাল টার্কি ফেডারেশনের তথ্য অনুসারে থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে শতকরা ৮৯% শতাংশ মার্কিনীদের ঘরেই টার্কি দিয়ে দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে থাকে। গত দুই বছর করোনা মহামারিতেও ২৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিনী এই বার্ষিক ভোজ উপভোগ করতে সমবেত হয়েছিল। চলতি বছরে আরও ১০ লাখ টার্কি প্রেমীর বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে মোট ৯২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের টার্কি বেচাকেনা হয়েছিল। এ বছর ৮ কোটি ১ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১০০ কোটি ১ লাখ ডলারের টার্কি বেচাকেনা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারে থ্যাঙ্কসগিভিং-এ টার্কির প্রতি পাউন্ড মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এবারে  ১৬ পাউন্ড টার্কি বিক্রি হয়েছে ২৪.৬৯ ডলারে, যা গত বছরে ছিল ২১ দশমিক ৪১ ডলার।

১৬২১ সালের এক হেমন্তে আমেরিকার আদি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রধানত ইংল্যান্ড থেকে আগত যাজকদের এক শুভক্ষণে পরস্পরের মধ্যে উৎপাদিত শষ্য এবং পণ্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে 'থ্যাংকস গিভিং' উৎসবের সূত্রপাত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন সেদিনের সেই বন্ধুত্ব এবং শান্তির অমিয়বাণী আমেরিকাবাসীর অন্তরে ধারণ করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিনটিকে 'থ্যাংকস গিভিং হলি ডে' হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর বন্ধুত্ব ও সংহতি প্রকাশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে স্মরণীয় বরণীয় করে তুলতে নানা আয়োজনে মেতে উঠে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র। দিনটি আমেরিকায় সরকারি ছুটির দিন। একই আমেজে পার্শ্ববর্তী দেশ কানাডায় এ দিনটি পালন করা হয় প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সোমবার।

থ্যাংকস গিভিং ডে'র পরের দিনকেই 'ব্লাক ফ্রাইডে' বলা হয়ে থাকে। এ দিনের জন্যও মানুষের অপেক্ষার কমতি নেই। একবছর ধরেই অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে আমেরিকার দুই তৃতীয়াংশ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন কম দামে ভালো একটা কিছু কেনার জন্য দিন অপেক্ষায় থাকে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই টিভি ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া তাদের পণ্যের মূল্যহ্রাসের তালিকা। শতকরা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মুল্যহ্রাস করা হয় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির। তবে এই দিনে অনেকের চাহিদা ইলেক্ট্রোনিক্স দ্রব্য। এর মধ্যে টিভি, ফ্রিজ,‌ ল্যাপটপ, কম্পিউটার, আইফোন, আইপ্যাড ইত্যাদি দ্রব্যের প্রতি মানুষের বেশি চাহিদা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে দোকানের সামনে লাইন ধরে অপেক্ষা করে ভোর ৬টায় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন দোকানে প্রবেশের জন্য। কিন্তু প্রতিবছরই ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরিবর্তে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮/৯ টায় থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান হাজার হাজার মানুষ।

ধ্বংসস্তূপে চাপা মেয়ের নিথর দেহ, হাত ধরে বসে আছেন বাবা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড তুরস্ক ও সিরিয়া এখন মৃত্যুদ্বীপ। একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। তবুও আশায় বুক বেঁধে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে স্বজনের খোঁজ করছেন অনেকে। গত দুই দিন ধরে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক-সিরিয়ার চিত্রটা প্রায় একই রকম। যা ছবিতে তুলে আনছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ফটোসাংবাদিকরা।

এর মধ্যে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এএফপির ফটোগ্রাফার অ্যাডাম আলতান তুলে এনেছেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের ছবি। যা এক অসহায় বাবার আর্তনাদ! যেন প্রকৃতির কাছে মানুষের বারবার আসহায়ত্বের চিত্র।

অ্যাডাম আলতানের ছবিতে দেখা যায়, ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড তুরস্কের শহর কাহরামানমারাসের একটি বিধ্বস্ত ভবনের সামনে কারো হাত ধরে বসে আছেন এক ব্যক্তি। তার নাম মেসুত হেনসার। আর ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা যার হাত ধরে তিনি বসে আছেন সে তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা ইরকাম। যে আর বেঁচে নেই।

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আহত হয়েছে আরও ২০ হাজার ৪২৬ জন। কেবল তুরস্কে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ৩৮১ জন। আর সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৫৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন।

জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উদ্ধারকারীদের কাজ আরও কঠিন করছে তুষারপাত ও বৃষ্টি। আগামী দিনে এ পরিস্থিতি আরও বৈরী হতে পারার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭.৯ কিলোমিটার নিচে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। পরে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৫। এর কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস প্রদেশের এলবিস্তান নামক জেলায়।

;

ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কমপক্ষে চার হাজার ৯৪০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ২০ হাজার ৪২৬ জন। কেবল তুরস্কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৩৮১ জন। আর সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৫৫৯ জন দাঁড়িয়েছে।

দেশ দু’টির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের আরজিনক্যান ভূমিকম্পের পর ‌'সবচেয়ে বড় বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগের ওই ভূমিকম্পে ৩৩ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

দুটি দেশেই দুর্গত এলাকাজুড়ে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার রাতেও উদ্ধারকাজ চলে। তবে গ্রাম ও শহরগুলোয় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ অনুসন্ধানের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্ক সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদন জানানোর পর বিশ্ব নেতারা সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সিরিয়ায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই অঞ্চলটির সীমান্তের উভয় পাশে শিবিরগুলোতে লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানটেপের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন সব মানুষ ঘুমে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা দেড়টায় সেখানে ৭.৫-মাত্রার নতুন এক কম্পন আঘাত হানে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সেটা 'আফটারশক নয়।'

ভূমিকম্পে দুটি দেশেই শত শত ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, সাইপ্রাস এবং ইসরাইলজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এর কম্পন অনুভব করেন।

এরপর তুরস্কের একই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরের কাছে।

দুর্গত এলাকা থেকে যেসব মর্মান্তিক ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাসাবাড়ি ও সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের সন্ধানকারী উদ্ধারকারী দলগুলোকে মরীয়া হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের ১০টি শহর ও প্রদেশের স্কুল এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতায়, মারাশ এবং আন্তেপের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

;

জননিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিক তৎপর পুলিশ: আইজিপি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পুলিশকে জনতার পুলিশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জনতার পুলিশ হতে এ দেশের মানুষের পাশে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে আসছে পুলিশ।

আইজিপি সোমবার বিকালে যশোর জেলা পুলিশ লাইনসে যশোর জেলা পুলিশের বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ 'থ্রি নট থ্রি' রাইফেল দিয়ে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বুলেট নিক্ষেপ করতে ভুল করেনি।

আইজিপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করার জন্য যখন কোন হুমকি এসেছে, তখন পুলিশ সদস্যরা জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

পুলিশপ্রধান বলেন, এ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল একসময় সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতিতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে আজ ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আইজিপি বলেন, খেলাধুলা মানুষকে জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস থেকে মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নতসমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

আইজিপি পুলিশ সমাবেশের বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার ওপর এক মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী ডা. তৈয়বা মুসাররাত জাহা চৌধুরী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মঈনুল হক, যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, রেঞ্জাধীন জেলার পুলিশ সুপারগণ এবং রেঞ্জ ও জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও তাদের সহধর্মিণীগণ, জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে ছিল— পুলিশ সদস্যদের বালিশযুদ্ধ, কলাগাছে আরোহণ ও যেমন খুশি তেমন সাজো, ইন্সপেক্টর হতে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১০০ মিটার দৌড়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের ১০০ মিটার দৌড়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৫০ মিটার হাঁটা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বেলুন ফুটানো, আমন্ত্রিত নারী অতিথিদের ৮০ মিটার দৌড়, পুলিশ কর্মকর্তাদের সহধর্মিণীদের সুরের তালে বালিশবদল এবং অ্যালার্ম প্যারেড ইত্যাদি।

আইজিপি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট উপভোগ করেন।

পরে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মঈনুল হকের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইিজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী ডা. তৈয়বা মুসাররাত জাহা চৌধুরী। আইজিপি ও পুনাক সভানেত্রী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার সমাপনী বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

;

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ৪৩শ’ ছাড়াল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বহু অংশে এক প্রবল ভূমিকম্পে অন্তত ৪,৩৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেবল তুরস্কেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২,৯২১ জন। সিরিয়ায় মারা গেছে ১,৪৫১ জন।

তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ইউনুস সিজার বলেন, বলেন, তার দেশে ভূমিকম্পে ২,৯২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছে ১৫,৮৩৪ জন। আর সিরিয়ার সরকার জানিয়েছে, তাদের আহতের সংখ্যা ৩,৫৩১ জন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের আরজিনক্যান ভূমিকম্পের পর ‌'সবচেয়ে বড় বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগের ওই ভূমিকম্পে ৩৩ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

দুটি দেশেই দুর্গত এলাকাজুড়ে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার রাতের বেলাতেও চলে উদ্ধারকাজ। তবে গ্রাম ও শহরগুলোয় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ অনুসন্ধানের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্ক সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদন জানানোর পর বিশ্ব নেতারা সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সিরিয়ায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই অঞ্চলটির সীমান্তের উভয় পাশে শিবিরগুলোতে লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানটেপের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন সব মানুষ ঘুমে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা দেড়টায় সেখানে ৭.৫-মাত্রার নতুন এক কম্পন আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে দুটি দেশেই শত শত ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, সাইপ্রাস এবং ইসরাইলজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এর কম্পন অনুভব করেন।
এরপর তুরস্কের একই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরের কাছে।

দুর্গত এলাকা থেকে যেসব মর্মান্তিক ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাসাবাড়ি ও সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের সন্ধানকারী উদ্ধারকারী দলগুলোকে মরীয়া হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের ১০টি শহর ও প্রদেশের স্কুল এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতায়, মারাশ এবং আন্তেপের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সিরিয়ায় কী হচ্ছে?
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল প্রতিবেশী তুরস্কে হলেও সিরিয়াতেও বহু শত মানুষ মারা গেছে। এই দুর্যোগের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও এবং ছবি উঠে আসছে।

আলেপ্পোর উত্তর-পশ্চিমে এক শহর থেকে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনগুলো ধসে পড়ার সাথে সাথে ধুলোর বিশাল মেঘের মধ্য দিয়ে বাসিন্দারা পালিয়ে যাচ্ছে, চিৎকার করছে।

ভূমিকম্পে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই সেখানে চিকিৎসা সেবা এবং জরুরি সরবরাহের সুযোগ সীমিত।

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থা হোয়াইট হেলমেট জরুরি সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে।

তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটিতে অবস্থিত।

এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ঘটেছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিমমুখী ‘পূর্ব আনাতোলিয়ান ফল্ট’-এর চারপাশে।

সিসমোলজিস্টরা দীর্ঘকাল ধরে বলে আসছেন যে এই ফল্টটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, যদিও গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। তবে অতীতে এই এলাকায় কিছু মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছে।

বিশেষ করে, ১৮৮২ সালের ১৩ অগাস্ট সেখানে ৭.৪-মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা আজকের রেকর্ড করা ৭.৮-মাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তা সত্ত্বেও, ১৯ শতকের ওই ভূমিকম্পে অনেক শহরের প্রচুর ক্ষতি হয়। আলেপ্পো শহরে ৭,০০০ মানুষ মারা যায়। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের আফটারশক চলতে থাকে প্রায় এক বছর ধরে।

;