নিরাপত্তার স্বার্থে চীনা টেলিকম সরঞ্জামে নিষেধাজ্ঞা বাইডেনের



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি চীনা টেলিকম সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাইডেন প্রশাসন। দেশটির কেন্দ্রীয় যোগাযোগ কমিশন জানিয়েছে, হুয়াওয়ে, জেডটিইসহ বেশ কয়েকটি চীনা ব্র্যান্ডের টেলিযোগাযোগ ও ভিডিও নজরদারি সরঞ্জাম আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এফসিসির কমিশনার ব্যান্ডন কর বলেন, এফসিসির পাঁচ সদস্যের অনুমোদন বিষয়ক কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরাও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অভিযোগ তুলেছিল ৫-জি মোবাইল পরিষেবায় চীনা সরঞ্জামের ব্যবহারের ফলে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হুয়াওয়ে এবং জেডটিই ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় হাইতেরা কমিউনিকেশনস, হাংঝু হিকভিশন ডিজিটাল টেকনোলজি কোম্পানি এবং দাহুয়া টেকনোলজি কোম্পানি রয়েছে বলে এফসিসি সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় কার্যকর হওয়া ‘সিকিওর অ্যান্ড ট্রাস্টেড কমিউনিকেশনস নেটওয়ার্কস অ্যাক্ট’-কে হাতিয়ার করেই চীনা টেলিকম সরঞ্জামে নিষেধাজ্ঞা জারি করল বাইডেন সরকার।

ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে টেলিকম সরঞ্জামের সাহায্যে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে।

২০২০ সালে বিএসএনএল এবং এমটিএনএল-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত টেলি পরিষেবা সংস্থাগুলোকে চীনা টেলিকম সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিল মোদি সরকার। বেসরকারি টেলি যোগাযোগ সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা বলা হয়েছিল।

ধ্বংসস্তূপে চাপা মেয়ের নিথর দেহ, হাত ধরে বসে আছেন বাবা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড তুরস্ক ও সিরিয়া এখন মৃত্যুদ্বীপ। একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। তবুও আশায় বুক বেঁধে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে স্বজনের খোঁজ করছেন অনেকে। গত দুই দিন ধরে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক-সিরিয়ার চিত্রটা প্রায় একই রকম। যা ছবিতে তুলে আনছেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ফটোসাংবাদিকরা।

এর মধ্যে মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এএফপির ফটোগ্রাফার অ্যাডাম আলতান তুলে এনেছেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের ছবি। যা এক অসহায় বাবার আর্তনাদ! যেন প্রকৃতির কাছে মানুষের বারবার আসহায়ত্বের চিত্র।

অ্যাডাম আলতানের ছবিতে দেখা যায়, ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড তুরস্কের শহর কাহরামানমারাসের একটি বিধ্বস্ত ভবনের সামনে কারো হাত ধরে বসে আছেন এক ব্যক্তি। তার নাম মেসুত হেনসার। আর ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা যার হাত ধরে তিনি বসে আছেন সে তার ১৫ বছর বয়সী কন্যা ইরকাম। যে আর বেঁচে নেই।

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আহত হয়েছে আরও ২০ হাজার ৪২৬ জন। কেবল তুরস্কে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ৩৮১ জন। আর সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ৫৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন।

জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে উদ্ধারকারীদের কাজ আরও কঠিন করছে তুষারপাত ও বৃষ্টি। আগামী দিনে এ পরিস্থিতি আরও বৈরী হতে পারার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭.৯ কিলোমিটার নিচে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। পরে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৫। এর কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস প্রদেশের এলবিস্তান নামক জেলায়।

;

ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কমপক্ষে চার হাজার ৯৪০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ২০ হাজার ৪২৬ জন। কেবল তুরস্কে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৩৮১ জন। আর সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৫৫৯ জন দাঁড়িয়েছে।

দেশ দু’টির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের আরজিনক্যান ভূমিকম্পের পর ‌'সবচেয়ে বড় বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগের ওই ভূমিকম্পে ৩৩ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

দুটি দেশেই দুর্গত এলাকাজুড়ে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার রাতেও উদ্ধারকাজ চলে। তবে গ্রাম ও শহরগুলোয় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ অনুসন্ধানের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্ক সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদন জানানোর পর বিশ্ব নেতারা সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সিরিয়ায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই অঞ্চলটির সীমান্তের উভয় পাশে শিবিরগুলোতে লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানটেপের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন সব মানুষ ঘুমে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা দেড়টায় সেখানে ৭.৫-মাত্রার নতুন এক কম্পন আঘাত হানে।

তবে কর্মকর্তারা বলেছিলেন, সেটা 'আফটারশক নয়।'

ভূমিকম্পে দুটি দেশেই শত শত ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, সাইপ্রাস এবং ইসরাইলজুড়ে লাখ লাখ মানুষ এর কম্পন অনুভব করেন।

এরপর তুরস্কের একই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরের কাছে।

দুর্গত এলাকা থেকে যেসব মর্মান্তিক ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাসাবাড়ি ও সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের সন্ধানকারী উদ্ধারকারী দলগুলোকে মরীয়া হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের ১০টি শহর ও প্রদেশের স্কুল এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতায়, মারাশ এবং আন্তেপের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

;

জননিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিক তৎপর পুলিশ: আইজিপি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পুলিশকে জনতার পুলিশ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জনতার পুলিশ হতে এ দেশের মানুষের পাশে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে আসছে পুলিশ।

আইজিপি সোমবার বিকালে যশোর জেলা পুলিশ লাইনসে যশোর জেলা পুলিশের বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ 'থ্রি নট থ্রি' রাইফেল দিয়ে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বুলেট নিক্ষেপ করতে ভুল করেনি।

আইজিপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করার জন্য যখন কোন হুমকি এসেছে, তখন পুলিশ সদস্যরা জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে সদা প্রস্তুত রয়েছে।

পুলিশপ্রধান বলেন, এ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল একসময় সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতিতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে আজ ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আইজিপি বলেন, খেলাধুলা মানুষকে জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস থেকে মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নতসমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

আইজিপি পুলিশ সমাবেশের বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশ ও জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার ওপর এক মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী ডা. তৈয়বা মুসাররাত জাহা চৌধুরী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মঈনুল হক, যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, রেঞ্জাধীন জেলার পুলিশ সুপারগণ এবং রেঞ্জ ও জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও তাদের সহধর্মিণীগণ, জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে ছিল— পুলিশ সদস্যদের বালিশযুদ্ধ, কলাগাছে আরোহণ ও যেমন খুশি তেমন সাজো, ইন্সপেক্টর হতে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১০০ মিটার দৌড়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের ১০০ মিটার দৌড়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৫০ মিটার হাঁটা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বেলুন ফুটানো, আমন্ত্রিত নারী অতিথিদের ৮০ মিটার দৌড়, পুলিশ কর্মকর্তাদের সহধর্মিণীদের সুরের তালে বালিশবদল এবং অ্যালার্ম প্যারেড ইত্যাদি।

আইজিপি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট উপভোগ করেন।

পরে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মঈনুল হকের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইিজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী ডা. তৈয়বা মুসাররাত জাহা চৌধুরী। আইজিপি ও পুনাক সভানেত্রী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার সমাপনী বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

;

তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ৪৩শ’ ছাড়াল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার বহু অংশে এক প্রবল ভূমিকম্পে অন্তত ৪,৩৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেবল তুরস্কেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২,৯২১ জন। সিরিয়ায় মারা গেছে ১,৪৫১ জন।

তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ইউনুস সিজার বলেন, বলেন, তার দেশে ভূমিকম্পে ২,৯২১ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছে ১৫,৮৩৪ জন। আর সিরিয়ার সরকার জানিয়েছে, তাদের আহতের সংখ্যা ৩,৫৩১ জন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান সোমবারের এই ভূমিকম্পকে ১৯৩৯ সালের আরজিনক্যান ভূমিকম্পের পর ‌'সবচেয়ে বড় বিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আগের ওই ভূমিকম্পে ৩৩ হাজার লোক মারা গিয়েছিল।

দুটি দেশেই দুর্গত এলাকাজুড়ে এক বিশাল উদ্ধার অভিযান চলছে। সোমবার রাতের বেলাতেও চলে উদ্ধারকাজ। তবে গ্রাম ও শহরগুলোয় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপ অনুসন্ধানের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। হাজার হাজার মানুষ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্ক সাহায্যের জন্য আন্তর্জাতিক আবেদন জানানোর পর বিশ্ব নেতারা সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সিরিয়ায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই অঞ্চলটির সীমান্তের উভয় পাশে শিবিরগুলোতে লক্ষাধিক সিরীয় শরণার্থীর আবাসস্থল।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, সোমবার ভোররাতে গাজিয়ানটেপের কাছে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তখন সব মানুষ ঘুমে। স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা দেড়টায় সেখানে ৭.৫-মাত্রার নতুন এক কম্পন আঘাত হানে।

ভূমিকম্পে দুটি দেশেই শত শত ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে বাঁচাতে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তুরস্ক ও সিরিয়া ছাড়াও লেবানন, সাইপ্রাস এবং ইসরাইলজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ এর কম্পন অনুভব করেন।
এরপর তুরস্কের একই অঞ্চলে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল কাহরামানমারাস শহরের কাছে।

দুর্গত এলাকা থেকে যেসব মর্মান্তিক ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বাসাবাড়ি ও সড়কে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া লোকদের সন্ধানকারী উদ্ধারকারী দলগুলোকে মরীয়া হয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

তুরস্কের ১০টি শহর ও প্রদেশের স্কুল এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতায়, মারাশ এবং আন্তেপের বিমানবন্দরগুলো বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সিরিয়ায় কী হচ্ছে?
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল প্রতিবেশী তুরস্কে হলেও সিরিয়াতেও বহু শত মানুষ মারা গেছে। এই দুর্যোগের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও এবং ছবি উঠে আসছে।

আলেপ্পোর উত্তর-পশ্চিমে এক শহর থেকে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনগুলো ধসে পড়ার সাথে সাথে ধুলোর বিশাল মেঘের মধ্য দিয়ে বাসিন্দারা পালিয়ে যাচ্ছে, চিৎকার করছে।

ভূমিকম্পে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই সেখানে চিকিৎসা সেবা এবং জরুরি সরবরাহের সুযোগ সীমিত।

সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থা হোয়াইট হেলমেট জরুরি সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছে।

তুরস্ক পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটিতে অবস্থিত।

এর আগে ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ঘটেছে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিমমুখী ‘পূর্ব আনাতোলিয়ান ফল্ট’-এর চারপাশে।

সিসমোলজিস্টরা দীর্ঘকাল ধরে বলে আসছেন যে এই ফল্টটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, যদিও গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। তবে অতীতে এই এলাকায় কিছু মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছে।

বিশেষ করে, ১৮৮২ সালের ১৩ অগাস্ট সেখানে ৭.৪-মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা আজকের রেকর্ড করা ৭.৮-মাত্রার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তা সত্ত্বেও, ১৯ শতকের ওই ভূমিকম্পে অনেক শহরের প্রচুর ক্ষতি হয়। আলেপ্পো শহরে ৭,০০০ মানুষ মারা যায়। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের আফটারশক চলতে থাকে প্রায় এক বছর ধরে।

;