উগান্ডা-জিম্বাবুয়ের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে ও উগান্ডার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এ ঘোষণা দেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, বিরোধীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া এবং বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগে জিম্বাবুয়ে ও উগান্ডার ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, জিম্বাবুয়েতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করায় দেশটির ওপর নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করছি। এই নীতির আওতায় যারা জিম্বাবুয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা অভিযুক্ত, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ধারা ২১২ (এ) (৩) (সি) অনুসারে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।

কোনো ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, সে বিষয়ে ব্লিঙ্কেন বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনে কারচুপি, ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা ব্যক্তিকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখা; গণতন্ত্র, শাসন বা মানবাধিকারসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলোর ক্ষমতা সীমিত করা। ভোটার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক বা নাগরিক সমাজকে হুমকি বা শারীরিক সহিংসতার মাধ্যমে ভয় দেখানো।

এর বাইরে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা ব্যক্তিরাও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন বলে ঘোষণা করেন ব্লিঙ্কেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী মামলার বিচারের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা বা জিম্বাবুয়েতে মানবাধিকারের অপব্যবহার বা লঙ্ঘনে জড়িত ব্যক্তিরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কেবল যেসব ব্যক্তি এসব কাজে যুক্ত থাকবেন, তারাই নয়, তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ব্লিঙ্কেন বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এই বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত হতে পারেন। সোজা কথায়, যে বা যারা জিম্বাবুয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করেন—২০২৩ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় এবং তার পরে বা আগে—এই নীতির অধীনে মার্কিন ভিসার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

উগান্ডা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল ও ক্ষুণ্ন করায় ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্লিঙ্কেন বলেন, ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় উগান্ডার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে একটি ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ওই সময় দেশটির সরকারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে অনুরোধ করা হয়।

কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় আমি উগান্ডার বর্তমান বা সাবেক কর্মকর্তাদের বা অন্যদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ভিসা-নীতির সম্প্রসারণ ঘোষণা করছি। যারা উগান্ডার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার জন্য বা প্রান্তিক সদস্যদের দমন করার লক্ষ্যে নীতি বা কর্মের জন্য দায়ী বা জড়িত তারাই এর লক্ষ্য।

এছাড়া পরিবেশকর্মী, মানবাধিকার রক্ষাকারী, সাংবাদিক, এলজিবিটিকিউআই+ ব্যক্তি ও সুশীল সমাজ সংগঠকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা এই নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। জিম্বাবুয়ের মতোই বলা হয়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষুণ্ণকারী ওই সব ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও বিধিনিষেধের অধীন হতে পারেন।

   

হাইতিতে কারাগারে হামলা, পালাল ৪ হাজার বন্দি 



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্যারিবিয়ান দেশ হাইতির জেল ভেঙে একসঙ্গে পালিয়েছে ৪ হাজার বন্দি। দেশটির একটি সশস্ত্র গ্যাং রাজধানী পোর্ট-অব প্রিন্সের প্রধান কারাগারে হামলা চালিয়ে এসব বন্দিকে মুক্তি দেয়।

সোমবার (৪ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার দরিদ্রতম দেশ হাইতিতে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে একটি সশস্ত্র গ্যাং। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দেশটির একটি কারাগারে হামলা চালায় সশস্ত্র বাহিনী। স্থানীয় এক সাংবাদিক বিবিসি নিউজকে বলেছেন, সেখানে আটক প্রায় ৪ হাজার বন্দির অধিকাংশই এখন পালিয়ে গেছে। সেখানে আটক থাকা কারাবন্দিদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোয়েসের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত গ্যাং সদস্যরাও ছিলেন।

২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট মোয়েস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূলত দেশটিতে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে হাইতিতেগ্যাং সহিংসতার শিকার হয়ে ৮ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়াও অপহরণ ও হামলার শিকার হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

বিবিসি বলছে, সহিংসতার সর্বশেষ এই পর্ব শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন হাইতিতে কেনিয়ার নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাইরোবি সফরে যান। হাইতির পুলিশ ইউনিয়ন পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রধান ওই কারাগারটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সামরিক বাহিনীকে সাহায্য করতে বলেছিল। কিন্তু শনিবার রাতেই ওই কারাগার কম্পাউন্ডে হামলা হয়। 

এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলার পর রোববার কারাগারের দরজা খোলা ছিল এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কোনও চিহ্ন সেখানে ছিল না। তবে পালানোর চেষ্টা করা তিন বন্দি কারাগারের আঙিনার মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

;

গাজার উত্তরাঞ্চলে বিমান হামলা, ২০ ফিলিস্তিনি নিহত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এখনো পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

রোববার (৩ মার্চ) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা শহরের উত্তরে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং সাফতাউই এলাকায় দুটি বাড়ি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনা বাহিনী।

এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। হামলার পর ২০ জনের মৃতদেহ উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৪১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৭১ হাজার ৭০০ জন।

এদিকে রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শৌকরি। উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির সময়সীমার পাশাপাশি জিম্মি ও বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানান তিনি ।

;

এই সরকার ‘পরাজিতদের জোট’ সরকার : পিটিআই



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেড় শতাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার আসামি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একাধিক মামলায় সাজা মাথায় নিয়ে তিনি এখন কারাগারে।

এ অবস্থায় দেশটির সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত হয়েছে নতুন সরকার। বিবিসিজানিয়েছে, এই সরকারকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ‘পরাজিতদের জোট’ সরকার বলে অভিহিত করেছে।

ইমরান খান কারাগারে থাকলেও গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের তার দলের সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চমক দেখিয়েছেন। প্রযুক্তির ব্যবহার করে ইমরান যেভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন, এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে তিনি শীর্ষ জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। তিনি এখন পুরো দেশের মধ্যে বিখ্যাত বন্দিও বটে, যার নম্বর ৮০৪।

নির্বাচনের আগে এই নম্বরটি হয়ে উঠেছিল পিটিআই সমর্থক প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম স্লোগান। এর মানে ইমরানের জনপ্রিয়তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেরেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ জন্য এক দল তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন নেতাকর্মীর ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য।

কারণ, তারাই বন্দি ইমরানের বক্তব্যকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। খোলা হয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আর ওয়েবসাইট। এর মাধ্যমে তারা খানের বক্তব্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে তাঁকে পৌঁছে দিয়েছেন কোটি কোটি ভোটারের কাছে। বিশেষ করে যুবকদের কাছে।

এর সুফল ঘরেও তুলেছেন তারা। কিন্তু ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির কারণে পুরো সুফল তোলা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ পিটিআইয়ের।

শেহবাজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী করে পাকিস্তানের যে নতুন সরকার রবিবার (৩ মার্চ) যাত্রা শুরু করেছে, সেটিকে নড়বড়ে সরকার বলছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের লেখক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ লিখেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলো স্থিতিশীলতা নিয়ে আসার কথা ছিল। দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও তিক্ত রাজনৈতিক বিভাজন মোকাবিলা করার জন্য এটা খুবই প্রয়োজন ছিল। কিন্তু, এর পরিবর্তে একটি সংখ্যালঘু সরকার এসেছে, যা মোটেই শক্তিশালী নয়। যারা জোট করেছেন, তারাও জোট করতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

এই নির্বাচনে গেরিলা ধাঁচের প্রচারণা চালিয়েছিলেন ইমরান সমর্থকরা। প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা ভোটের মাঠে এতোটাই শক্তিশালী ছিলেন যে, কারচুপির মাধ্যমে তাদের আটকে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনীর কৌশলের বিষয়ে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ছিল অভূতপূর্ব। তারা বলেছিলেন, ‘আপনারা যতোটা ভাবছেন যে, আমরা কিছু বুঝি না, আসলে আমরা ততোটা বোকা নই। আমাদের হাতে ব্যালট আছে।’

পাকিস্তানের অধিকাংশ রাজনীতিবিদকে কোনও না কোনও সময়ে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তবে ইমরান খানের চেয়ে বেশি মজা আর কেউ পেয়েছেন বলে মনে হয় না। কারণ তিনি জেলে থেকেই নির্বাচনী বিজয় অর্জন টেনে এনেছেন।

অন্যদিকে, তাকে খেলতে হয়েছে সেনাবাহিনীর কৌশলের সঙ্গেও। সেনাবাহিনী বোঝাতে চেয়েছিল ইমরান খান এবং তার দল শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু, সেই কৌশলও ভেস্তে গেছে। কারণ, নির্বাচনের আগে দলটি দ্বিতীয় সারির নেতা এবং স্থানীয় বিশ্বস্তদের দিয়ে টিম গঠন করে বিপর্যস্ত দলের বিজয়ের প্রচারাভিযান পরিচালনা করেছে।

তারা নিশ্চিত ছিল, তাদের নেতাকে ক্ষমতায় ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তারা ভোটের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, সেনাবাহিনীর চাপ থাকলেও তারা ইমরানকে ছেড়ে যাননি।

ইমরান খান পদচ্যুত হওয়ার পর তিনি শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপরই নয়, সেনাবাহিনীর প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এটিও তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।

পিটিআই সমর্থকরা বিরোধী দলে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু, ইমরান খান তার রাজনীতি সংসদে নয়, বরং রাজপথে, জনসভা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলতে পছন্দ করেন। নতুন সরকারকে ‘পরাজিতদের জোট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে পিটিআই। আসলে এটি এমন দলগুলোর জোট, যারা নির্বাচনে ইমরানের কাছে পরাজিত হয়েছে।

অনেকে মনে করেন, কারাগারে থাকা ইমরান আরও পরিণত রাজনীতিবিদ হয়ে উঠেছেন।

;

রুহেল চৌধুরীকে ধরিয়ে দিলে ২০ হাজার ডলার পুরস্কার দেবে এফবিআই



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুটি অপহরণ, নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রুহেল চৌধুরীর (৩৪) বিরুদ্ধে। পলাতক এই আসামিকে ধরিয়ে দিতে ২০ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

গত শুক্রবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।

একটি মামলায় নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পাড়ার বাসিন্দা আবু চৌধুরী (৩৪) এবং তার স্ত্রী ইফফাত লুবনাকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

অন্য আরেক মামলায় সুলতানা রাজিয়া, সৈয়দ রুবেল আহমেদ (৪৩) ও আঞ্জু খানকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। রাজিয়া ও আহমেদ জামিনে মুক্তি পেলেও খান হেফাজতে রয়েছেন।

রুহেল চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপহরণে ব্যবহৃত যানবাহন সরবরাহ করা, অপহরণ, যৌন নির্যাতন এবং মুক্তিপণ দাবিতে সহায়তা করা।

এক বিজ্ঞপ্তিতে এফবিআই বলেছে, নিউইয়র্কের কুইন্সের হলিস, কুইন্স ভিলেজ এবং জ্যামাইকা এলাকায় যাতায়াত রয়েছে রুহেল চৌধুরীর। তিনি পুরোনো গাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

নিউইয়র্কের কুইন্সে ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ এবং ১১ মে ঘটে যাওয়া দুটি অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রুহেল চৌধুরীকে খুঁজছে পুলিশ। তিনি এবং অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা রাস্তায় অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের ছিনতাই ও নির্যাতন করেছেন। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাদক প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও এফবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

একজন ভুক্তভোগীকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন রুহেল চৌধুরী। এছাড়া সেই ভুক্তভোগীর জন্য মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল বলেও জানায় এফবিআই।

রুহেল চৌধুরী অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের কুইন্সের বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখতেন। অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে গাড়ি সরবরাহ করতেন এবং বিভিন্ন সময় নিজেই সেসব চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ভুক্তভোগীদের মারধর ও হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইউনাইটেড স্টেটস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট, নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিসট্রিক্ট, ব্রুকলিন এবং নিউইয়র্কে এ বছরের ৯ জানুয়ারি রুহেল চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য একটি ফেডারেল পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি অপহরণ এবং দুটি অপহরণের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এফবিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা জানান হয়েছে যে, রুহেল চৌধুরীর সঙ্গে অস্ত্র থাকতে পারে। তিনি বিপজ্জনক এবং পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেউ যদি রুহেল চৌধুরীর ব্যাপারে কোনো তথ্য জেনে থাকেন তবে নিকটস্থ এফবিআই দপ্তর অথবা আমেরিকান দূতাবাসে যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।

;