যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে ইউক্রেন বাহিনীর প্রতিরোধের প্রশংসায় ইইউ প্রধান
রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সেনাদের অসাধারণ প্রতিরোধের প্রশংসা করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেন। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির উপর মস্কোর আগ্রাসন শুরুর দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন উপলক্ষে শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভ সফরে এসে তিনি ইউক্রেন বাহিনীর এমন প্রশংসা করেন।
ভন ডার লেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনে এবং মস্কো বাহিনীর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের জনগণের অসাধারণ প্রতিরোধ উদযাপন করতে আমি কিয়েভে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও বেশি দৃঢ়ভাবে ইউক্রেনের পাশে রয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা অর্থনৈতিক, সামরিক এবং নৈতিকভাবে কিয়েভের পাশে আছি। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে আছি, যতক্ষণ না দেশটি চূড়ান্তভাবে দখলমুক্ত হয়।’
এদিকে, কিয়েভের জন্য বাড়তি সাহায্য অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে অনুরোধ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সম্প্রচারিত এক সাক্ষাত্কারে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেন, সাহায্য ব্যর্থ হলে ইউক্রেনে আরও অনেক প্রাণহাণি ঘটতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা ইউক্রেনের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সাহায্যের অনুমোদন স্থগিত করেছে।
জেলেনস্কি মার্কিন রক্ষণশীলদের পছন্দের চ্যানেল ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে এ ব্যপারে পদক্ষেপের জন্য আবেদন জানান।
জেলেনস্কি ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনের কাছে ফক্সের সাংবাদিক ব্রেট বেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়াাই কি ইউক্রেন টিকে থাকবে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অবশ্যই।’
ইউক্রেনের নেতা আরও সতর্ক করেন যে, কিয়েভকে বর্তমান সহায়তার মূল্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সফল হওয়ার পরবর্তীতে তার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাব্য খরচের চেয়ে অনেক কম।
ইউক্রেনকে কয়েক বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি কিয়েভের সবচেয়ে বড় দাতা। তবে বর্তমানে সহায়তা কমে গেছে। হাউসে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্ররা নতুন সহায়তা থামিয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্প আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনীত সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি কিয়েভকে সাহায্য করার বিরোধিতা করেছেন এবং সম্প্রতি ইউক্রেনে অতিরিক্ত সহায়তার অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি মার্কিন সীমান্ত সংস্কার বিলকে বাতিল করার লক্ষ্যে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।
জেলেনস্কি শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ট্রাম্পকে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে নিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘নীতি নির্ধারকদের দেখতে হবে প্রকৃত যুদ্ধ কী।’