মুসলমানদের সম্মানে জার্সিতে মসজিদের ছবি!

ইসলাম ডেস্ক. বার্তা২৪.কম
জার্মানির ফুটবল ক্লাব এফসি কোলনের নতুন জার্সি, ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির ফুটবল ক্লাব এফসি কোলনের নতুন জার্সি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে জার্মানির ফুটবল ক্লাব এফসি কোলন তাদের নতুন জার্সিতে কোলনের কেন্দ্রীয় মসজিদের ছবি দিয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নিজেদের নতুন জার্সির ছবি টুইটারে পোস্ট করে এ খবর দিয়েছে। কোলনের মানুষ মসজিদটিকে স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘ক্যোলশ ম্যুশি।’

সাম্প্রতিক সময়ে বুন্ডেসলিগার এই ক্লাবটি মাঠের সাফল্যের কারণে খবরে খুব একটা জায়গা করতে না পারলেও জার্সিতে মসজিদের ছবি দিয়ে সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র দু’বারের বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা সর্বশেষ সাফল্যটি পেয়েছিল ৪২ বছর আগে। আর রানার্সআপ হওয়ার আনন্দও ৩০ বছর আগের।

এফসি কোলন তাদের জার্সিতে মসজিদের ছবি দেওয়ায় অবশ্য এক সমর্থক মহাক্ষুব্ধ হয়ে ক্লাব থেকে তার সমর্থন ও সদস্যপদ প্রত্যাহার করেছেন। তার দাবি, ফুটবল ক্লাবটি নিজেকে ‘ধর্মীয় সংগঠন’ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং ‘মুসলমান এবং মসজিদের সঙ্গে’ এই ক্লাবকে তিনি মেলাতে পারেন না, সুতরাং আর তিনি ক্লাবের সদস্য থাকতে চান না। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ওই সমর্থকের আবেগকে শ্রদ্ধা করে বলেছেন, এটা তার সিদ্ধান্ত।

তবে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ক্লাবটি জানিয়েছে, কোলন শহরকে তুলে ধরতে গেলে মসজিদটির ছবি রাখতেই হবে। তাই এই মসজিদের দেওয়া হয়েছে জার্সিতে।

জার্সিতে দেওয়া ছবিটি কোলনের কেন্দ্রীয় মসজিদের। মসজিদটি ইউরোপের অন্যতম বড় এবং জার্মানির সবচেয়ে বড় মসজিদ। এর আয়তন ৪৫০০ বর্গমিটার। এতে একসঙ্গে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। জার্মানিতে তুর্কি মুসলিমদের সংগঠন ডিটিব মসজিদটি নির্মাণ করেছে। নামাজের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ, খেলাধুলা আয়োজনের ব্যবস্থা এবং দোকান ও লাইব্রেরি রয়েছে। মসজিদটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

এফসি কোলন জার্সিতে মসজিদের পাশাপাশি কোলন ক্যাথেড্রাল ও রাইন নদীসহ শহরের আরও কিছু দর্শনীয় স্থানের ছবি দিয়েছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, কোলনের ক্লাব হিসেবে শহরের সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলার মানসিকতা থেকে এটা করা হয়েছে।

কোলন মসজিদ, জার্মানি, ছবি: সংগৃহীত

কোলন মসজিদটি ‘নন অটোম্যান’ ডিজাইন অনুসরণ তৈরি করা হয়েছে। এতে কংক্রিট এবং কাঁচের দেয়াল ও গম্বুজ রয়েছে। দু’টি মিনারের উচ্চতা ৫৫ মিটার করে। আর মসজিদের ভেতরে দেয়ালে বিভিন্ন ক্যালিগ্রাফি রয়েছে। যা দর্শককে বিমোহিত করে রাখে।

এই মসজিদটি কোলনে বসবাসরত তুর্কি মুসলমানদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এটি চোখে পড়ার মতো একটি স্থাপনা। অবশ্য এর নির্মাণ কাজ শুরুর পর নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এমনকি ২০১১ সালে প্রতিবাদের মুখে মসজিদের নির্মাণকাজ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়। তখনকার একটি পত্রিকা জরিপ করে জানায়, মুসলিম-অমুসলিম মিলিয়ে শহরের ৬৩ শতাংশ বাসিন্দা এটি তৈরির পক্ষে।

জার্মানিতে প্রায় পাঁচ মিলিয়নের মতো মুসলমান বাস করেন। তাদের একটি বড় অংশ তুর্কি বংশোদ্ভূত। আর কোলনে বসবাসরত সোয়া লাখ মুসলমানের জন্য সত্তরটির মতো মসজিদ রয়েছে। অধিকাংশ মসজিদই এমন জায়গায় তৈরি যা সচরাচর চোখে পড়ে না। তবে এই মসজিদটি ব্যতিক্রম।

মসজিদটি তৈরিতে কমপক্ষে সতের মিলিয়ন ইউরো খরচ হয়েছে। তবে এখনও কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে। এই অর্থের অধিকাংশই দিয়েছে ডিটিব। কোলন কেন্দ্রীয় মসজিদের নকশা করেছেন পল ব্যোম। আলোচিত এই মসজিদের ডিজাইন করে তিনি তার দক্ষতাকে অন্যস্তরে নিয়ে গেছেন। মসজিদে প্রাকৃতিক আলো নিশ্চিত করতে দেয়ালে প্রচুর কাঁচ ব্যবহার করা হয়েছে। এর ডিজাইনে জার্মান ছোঁয়া রয়েছে। প্রচলিত তুর্কি মসজিদগুলো যেরকম, এই মসজিদটি সেরকম নয়। মসজিদটি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য উন্মুক্ত। যেকেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারেন।