আম্বর পাথরে নির্মিত ভ্রাম্যমাণ মসজিদ

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আম্বর পাথরে নির্মিত ভ্রাম্যমাণ মসজিদ, দুবাই, ছবি: সংগৃহীত

আম্বর পাথরে নির্মিত ভ্রাম্যমাণ মসজিদ, দুবাই, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রাম্যমাণ মসজিদের ধারণা এখন অনেকটাই পরিচিত। নামাজ আদায়কারীদের সুবিধা, ধর্মকে সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়াও ভ্রাম্যমাণ মসজিদ বানানোর অন্যতম কারণ। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া গাড়ির ওপর প্রথম নির্মাণ করে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ। জাপান অলিম্পিক-২০২০ উপলক্ষে মুসলিম দর্শকদের জন্য জাপান সরকার বানায় মোবাইল মসজিদ। করোনা পরিস্থিতির কারণে অলিম্পিকের আসর নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও তাদের বানানো মসজিদ দেখে মুসলিম ক্রীড়ামোদীরা বেশ আনন্দিত হয়েছেন। জাপানের তৈরি ভ্রাম্যমাণ মসজিদকে অলিম্পিক আসরের চমক বলেও অনেকে অভিহিত করেছেন।

তবে ভ্রাম্যমাণ মসজিদ বানানোর ক্ষেত্রে সবাইকে টেক্কা দিয়েছে দুবাইয়ের সাত তারকা হোটেল বুর্জ আল আরব কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সালের এপ্রিল নামিদামি ব্রান্ডের পাথর ও টাইলসের সংমিশ্রণে অত্যাধুনিক এবং নান্দনিক বিলাসবহুল ভ্রাম্যমাণ মসজিদ নির্মাণ করে তারা। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে নির্মিত ভ্রাম্যমাণ মসজিদগুলোর মেধ্য এটা সবচেয়ে বিলাশবহুল ও দামী।

অলিম্পিক গেমস-২০২০ উপলক্ষ্যে জাপানের তৈরি বহনযোগ্য ভ্রাম্যমাণ মসজিদটির আয়তন ৪৮ বর্গমিটার। যা ২৫ টন ওজনের ট্রাকের ওপর নির্মিত। এটি কাস্টমাইজ করে সহজে বহনযোগ্য। ৫০ জন মুসল্লির অজু ও নামাজের পূর্ণ ব্যবস্থা সম্বলিত মসজিদটি বানাতে জাপানের খরচ হয় ৯০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৬ লাখের কিছু বেশি।

তবে বিশ্বের প্রথম বহনযোগ্য বিলাশবহুল ভ্রাম্যমাণ মসজিদ হিসেবে ধরা হচ্ছে- বুর্জ আল আরবের মসজিদটিকে। ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাসবহুল এ মসজিদে নামাজ পড়তে পারবেন মাত্র দু’জন।

মসজিদটি রাজকীয় আবহে নির্মিত। মসজিদের ৭৫ ভাগ কাজে বিশুদ্ধ আম্বর পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। বাদামি, লাল, সাদা, নীল, কালো, সবুজ ও ধবধবে সাদা রঙের তৈলস্ফটিক মহামূল্যবান আম্বর পাথরগুলো ছোট্ট এই মসজিদের সৌন্দর্যকে মোহনীয় করে তুলেছে।

অলিম্পিক গেমস-২০২০ উপলক্ষ্যে জাপানের তৈরি বহনযোগ্য ভ্রাম্যমাণ মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন রঙের খাঁটি আম্বর পাথরগুলো সুগন্ধিযুক্ত। দেখতে স্বচ্ছ, উজ্জ্বল ও মধুর মতো হলুদ বর্ণের। যার ওপর সূর্যের কিরণ পড়লে তা থেকে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। ভোরের শিশুর বিন্দুর মতো চকচক করে।

বিলাশবহুল ভ্রাম্যমাণ মসজিদটিতে ইসলামি ভাবধারা ফুটিয়ে তোলার জন্য দেয়ালে অঙ্কন করা হয় আরবি ক্যালিওগ্রাফি। বানানো হয় একটি গম্বুজ। গম্বুজটি আকারে ছোট হলেও তা মসজিদের সৌন্দর্যকে পরিপূর্ণ করেছে।

এ মসজিদের দরজায় ব্যবহার করা হয় কারুকাজসমৃদ্ধ উন্নতমানের কাঠ। দরজায় লাগানো সোনালি হাতলগুলো বেশ সুন্দর। বহনযোগ্য এ মসজিদের ফ্লোরে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক আম্বর টাইলস, তার ওপর দেওয়া হয়েছে রাজকীয় কার্পেটের জায়নামাজ।

২৬ বর্গমিটার আয়তনের ভ্রাম্যমাণ এ মসজিদটিতে নামাজ পড়তে পারেন মাত্র ২ জন মুসল্লি। আম্বর পাম কোম্পানি মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। দামি এ মসজিদটি স্থানান্তর করে নতুন কোনো জায়গায় নামাজের জন্য সেটাপ দিতে সময় লাগে ৫ ঘণ্টা।

দুবাইয়ের সাত তারকাসমৃদ্ধ হোটেল বুর্জ আল আরবে মসজিদটি ভিআইপি টার্মিনালের জন্য তৈরি করা হয়। ধারণা করা হয়, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল মসজিদ।

আম্বর পাথর ব্যবহারে স্বাস্থ্যের নানাবিধ উপকার হয়। তাই আগের দিনে রাজ-বাদশাহগণ আম্বর পাথরের আংটি ও মালা ইত্যাদি ব্যবহার করতেন। নির্মাতাদের বিশ্বাস, দৃষ্টিনন্দন আম্বরযুক্ত মসজিদে নামাজ আদায়ে মনে এক ধরনের প্রশান্তি আসবে। যা মানুষের দেহ ও আত্মাকে অলৌকিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি হৃদয়কে বিশুদ্ধ করে।

আপনার মতামত লিখুন :