একটি সহজ আমল, যার বিনিময় অনেক সওয়াব

ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
অজু একটি নেক আমল, ছবি: সংগৃহীত

অজু একটি নেক আমল, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পূর্ণাঙ্গ ‘অজু’ পবিত্রতা অর্জনের উপায়। তবে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুন্নত তরিকায় বা পদ্ধতিতে অজু করা হলে তা একটি নেক আমলও বটে। এটি একটি অতি সহজ আমল, যা আমরা সকলেই করি এবং দিনে একাধিকবার করি।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অজুর প্রয়োজন হয়। আমরা যদি একটু খেয়াল করে সুন্নত তরিকায় এই সহজ ও প্রয়োজনীয় আমলটি সম্পাদন করি, তাহলে অতি সহজে আমরা পেতে পারি অনেক বড় বড় পুরস্কার।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যেকোনো ব্যক্তি অজু করে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা, সে প্রবেশ করতে পারবে।’ -সহিহ মুসলিম: ২৩৪

এটি একটি সুসংবাদবাহী সুন্দর হাদিস। এখানে নবী করিম (সা.) অজুর ফরজ, সুন্নত ও আদবের প্রতি লক্ষ রেখে উত্তমরূপে অজু করার এবং অজুর শেষে দোয়া পড়ার একটি সহজ আমলের কথা বলেছেন। যা দেহকে সজীব ও পবিত্র করে, মনে প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা দান করে।

এই সহজ আমলের জন্যও আল্লাহতায়ালা তার বান্দাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করবেন বলে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তার জন্য জান্নাতের সবকটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং সে নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।

অন্যান্য হাদিসে অজুর আরও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অজু করে এবং উত্তমরূপে অজু করে, তার শরীর থেকে, এমনকি নখের নিচ থেকেও গোনাহসমূহ বের হয়ে যায়।’ -সহিহ মুসলিম: ২৪৫

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে আছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম বা মুমিন বান্দা যখন অজু করে, যখন সে মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে বা পানির শেষ ফোঁটার সঙ্গে ওই সব গোনাহ বের হয়ে যায়, যা সে দু’চোখ দ্বারা করেছিল। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওই সব গোনাহ বের হয়ে যায়, যা সে হাত দ্বারা করেছিল। যখন সে দুই পা ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওই সব গোনাহ বের হয়ে যায়, যার দিকে সে চলেছিল। এভাবে সে গোনাহ থেকে পাকসাফ হয়ে যায়।’ -সহিহ মুসলিম: ২৪৪

অন্য হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) সাহাবায়ে কেরামের সামনে হাউজে কাউসারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘মানুষ যেমন তার হাউজ থেকে অন্য মানুষকে সরিয়ে দেয় তেমনি আমিও সেদিন কিছু মানুষকে সরিয়ে দেব। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, সেদিন কি আপনি আমাদের চিনতে পারবেন? নবী করিম (সা.) ইরশাদ করলেন, বলো তো, কারও যদি হাতে ও পায়ে সফেদ চিহ্নবিশিষ্ট কিছু ঘোড়া থাকে এবং সেগুলোকে অসংখ্য কালো রংয়ের ঘোড়ার মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে সেই ব্যক্তি কি তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না? সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ, পারবে। ইয়া রাসূলুল্লাহ! নবী করীম (সা.) ইরশাদ করলেন, তেমনি তোমাদেরও এমন কিছু চিহ্ন হবে যা অন্যকোনো উম্মতের হবে না। কিয়ামতের দিন তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও অজুর কারণে ঝলমল করতে থাকবে।’ –সহিহ মুসলিম: ২৪৬-২৪৯

অন্য একটি সহিহ হাদিসে আরও একটি সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি শুনতে পেয়েছি যে, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিম যখন সুন্দরভাবে অজু করে অতঃপর চেহারা-মন উভয়কে আল্লাহতায়ালা অভিমুখী করে দণ্ডায়মান হয় এবং দু’রাকাত করে নামাজ আদায় করে তখন তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।’ -সহিহ মুসলিম: ২৩৪