হজরত রাসূলুল্লাহ সা.-এর সামাজিক ও মানবীয় চরিত্র



মাওলানা আবদুল জাব্বার, অতিথি লেখক, ইসলাম
নবী মুহাম্মদ সা.-এর অনুসরণেই আমাদের মুক্তি নিহিত, ছবি: সংগৃহীত

নবী মুহাম্মদ সা.-এর অনুসরণেই আমাদের মুক্তি নিহিত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হজরত স্ত্রী খাদিজা (রা.) কে হেরা পাহাড়ে ঘটে যাওয়া অহি ও জিবরাইল সংক্রান্ত ঘটনাগুলো উল্লেখপূর্বক ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার জীবন সম্পর্কে আশঙ্কা করছি।’ হজর খাদিজা (রা.) সান্তনা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! তা কখনও হতে পারে না, তিনি (আল্লাহতায়ালা) আপনাকে অপদস্থ করবেন না। ১. আপনি আত্মীয়তার বন্ধন সংরক্ষণ করেন, ২. আপনি দুস্থ মানুষের বোঝা হালকা করেন, ৩. নিঃস্বদের আহার করান, ৪. অতিথিদের সেবা করেন ও ৫. সত্যের পথে নির্যাতিতদের সাহায্য করেন।’ –সহিহ বোখারি

এগুলো হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে হজরত খাদিজা (রা.)-এর উক্তি। তিনি নবী করিম (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। উম্মতের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নকারী, জগতের শ্রেষ্ঠতম চার রমণীর অন্যতম। তিনি তার সব ধনসম্পদ রাসূলের কদমে উৎসর্গ করেছেন। রাসূলের সব ছেলেমেয়ে তার গর্ভে জন্মলাভ করেন। অহি লাভের পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অস্থিরতায় তিনি সান্তানা দিয়ে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

একজন স্ত্রীর মন্তব্য স্বামীর ব্যাপারে খুবই প্রণিধানযোগ্য। কারণ সুখে-দুঃখে, দিনে-রাতে, সকালে-বিকেলে, রাগ-বিরাগে সর্বাবস্থায় নিবিড়ভাবে স্বামীকে দেখার সুযোগ পান তিনি। আর যদি স্ত্রী হন অতীব বিচক্ষণ, সচেতন ও জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন তবে তো কথাই নেই। যে মুহাম্মদকে মক্কাবাসী পূর্বেই আল আমিন বলে ঘোষণা দিয়েছে, নবুওয়তপূর্ব জীবনে বর্বতার মধ্যে সভ্য, অশ্লীতার মধ্যে পরিচ্ছন্ন, পুঁতিগন্ধময়ের মধ্যে সৌরভ, অন্ধকারের মধ্যে আলো হিসেবে দেখছেন। তারপরও সবার প্রশংসার চেয়ে খাদিজার উক্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হাদিসে হজরত খাদিজা (রা.) আরও বলেছেন, ‘আপনি আত্মীয়তার বন্ধন সংরক্ষণ করেন।’ এর বাস্তবতা আমরা নবী জীবনের পরতে পরতে দেখতে পাই। এ সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নবুওয়তের ঘোষণা দেয়ার পরও তিনি এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। কোরআনে কারিমেও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বহু আয়াত নাজিল হয়েছে।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা অধিকার দাবি করো আর সতর্ক থাকো আত্মীয়তার অধিকার ও সম্পর্কের বিষয়ে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখেন।’ -সূরা নিসা: ০১

হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়তা ছিন্নকারীরা জান্নাতে যাবে না।’ –সহিহ বোখারি

আজকের সমাজে ভাইয়ে-ভাইয়ে, পিতা-পুত্রে, চাচা-জেঠাদের সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক নেই বরং নিকটাত্মীয়রা যেন অন্যদের চেয়েও বেশি শত্রু। সামান্য কারণে ঝগড়া-বিবাদ লেগে যায় এবং তা চলতে থাকে বছরের পর বছর। এই সময়ে রক্তের সম্পর্ক রক্ষা ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার জন্য জরুরি।

হজরত খাদিজা (রা.) আরও বলেন, ‘আপনাকে দেখেছি সারাজীবন দুর্বল ও বঞ্চিতদের বোঝা বহন করতে।’ অথচ বাস্তবতা হলো- সমাজের বেশিরভাগ মানুষ দুর্বল ও অবহেলিত। তারা ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। এই শ্রেণির লোকেরা সবসময় স্বল্পসংখ্যক সুবিধাভোগীর হাতে নিপীড়িত হয়। স্বয়ং নবী মুহাম্মদ (সা.) তাদের অন্তর্ভুক্ত। সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। তিনি সামান্য অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মক্কাবাসীর বকরি চরিয়েছেন। ইমাম বোখারি (রহ.) এমন একটি হাদিসও উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহতায়ালা এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি রাখাল ছিলেন না। আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি, বেশিরভাগ নবী শ্রমজীবী ছিলেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সারাজীবন এতিম, বেওয়ারিশ ও মিসকিনদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে রেখেছিলেন। তিনি এতটুকু বলেছেন, আমার উম্মতের বেশিরভাগ মানুষ গোলাম, শ্রমজীবী ও এতিম হবে। তাদের বোঝা হালকা করার জন্য নিয়োজিতরা জান্নাতি।

কিন্তু আজকের সমাজে কী দেখি? মানুষ কিভাবে জালেমদের অত্যাচারে নির্বাক ও নিথর হয়ে অশ্রুবিসর্জন করছেন।

হজরত খাদিজা (রা.) হাদিসে আরও বলেন, ‘আপনি তো নিঃস্বদের আহারের ব্যবস্থা করেন, আপনি নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন, আপনি বিবস্ত্রদের কাপড় দেন, আল্লাহতায়ালা অবশ্যই আপনার কল্যাণ করবেন।

‘দরিদ্র, নিঃস্ব ও বুভুক্ষুরা আল্লাহর পরিবারের সদস্য’ বলে হাদিসে বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে হাদিসে কুদসিতে, আল্লাহ বলবেন কিয়ামতে- ‘হে বনি আদম! আমি ক্ষুধার্ত হয়ে তোমার নিকট গিয়েছিলাম তোমরা আমাকে খাবার দাওনি, লোকেরা বলবে তুমিতো আহার করো না, কিভাবে তোমায় আহার করাবো? আল্লাহ বলবেন, ক্ষুধার্তকে খাবার দান করা হলে আমাকে খাদ্য দেওয়া হতো।’ –সহিহ মুসলিম

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি রাসূলের জবানে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘তারা মুমিন নয়, যারা প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে আহার করে।’ মিশকাত

নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রতিবেশীদের খবর না নিয়ে, আসহাবে সুফফার লোকদের আহারের ব্যবস্থা না করে খাবার মুখে দেননি।

এখন তো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দু’বেলা আহার করতে পারে না, বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ। তাদের মুখে অন্ন ও পরিধানের বস্ত্র ও আর্তের চিকিৎসার জন্য আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কর্মনীতি কী ছিল? আমরা কোথায়, কী করছি, কোন ইবাদাতের মধ্যে জান্নাত খুঁজছি- এসব চিন্তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানবতার সেবায়ই রয়েছে, আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি।

হজরত খাদিজা (রা.) আরও বলেন, ‘আপনি অতিথির সেবা করেন।’ কাবা শরীফ মক্কায় অবস্থিত বিধায় হাজার হাজার বছর থেকে কাবাকেন্দ্রিক বিভিন্ন এলাকা ও জনপদ থেকে তীর্থযাত্রীরা ভিড় জমাতো। কোরাইশ পৌত্তলিকেরা বিদেশিদের জীবন সম্পদ লুণ্ঠনের উৎসব করত বিশেষ করে হজ মৌসুমে। যদিও জাতিগতভাবে আরবিরা অতিথিপরায়ণ কিন্তু অসৎদের আর মূল্যবোধের বালাই থাকে না।

নবী মুহাম্মদ (সা.) বাল্যকাল থেকে অসহায় বিদেশি ও অতিথিদের সহায়-সম্পদ লুণ্ঠনের দৃশ্য দেখে আসছিলেন। হিলফুল ফুজুল সংগঠন সৃষ্টির উদ্দেশ্যও ছিল সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিদেশিদের নিরাপত্তা দেওযা।

নবী করিম (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘কেউ যদি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান আনে, সে যেন অতিথির সেবা করে।’ –সহিহ বোখারি

‘সত্যের পথে নির্যাতিতদের আপনি সাহায্য করেন’ হজরত খাদিজা (রা.)-এর এই উক্তিটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। হক ও ন্যায়ের পথে যারা যে যুগেই চলতে চেয়েছে, নিষ্ঠুর সমাজ তাদের চলার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। তাদেরকে জুলুম-নিপীড়ন নির্যাতনের বিষাক্ত কাঁটা মাড়িয়ে চলতে হয়েছে। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদেরকে (মুমিনদের) ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, ধনসম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব, তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও, যারা যেকোনো বিপদ-মুসিবতে বলে আমরা আল্লাহর কাছ হতে এসেছি এবং তারই নিকট ফিরে যাব।’ -সূরা বাকারা: ১৫৫

বস্তুত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সামাজিক ও মানবীয় চরিত্র যা হজরত খাদিজা (রা.) বর্ণনা করেছেন, এগুলো উম্মতের জন্য শিক্ষা ও গ্রহণী বিষয়।

সুতরাং আমাদেরকে সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত মজলুমদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। দরিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে কোটি কোটি মানুষ। তাদেরকে সমাজের মূলস্রোতে আনতে চেষ্টা করতে হবে। নিরন্নদের মুখে অন্ন তুলে দিতে হেব। এগুলোকে ইবাদত মনে করতে সম্পাদন করতে হবে।

সেই সঙ্গে দেশি-বিদেশি অতিথি, পরিচিত-অপরিচিত সবার প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়াতে হবে। এটা মানবতার পরম শিক্ষা।

   

হজ না করার পরিণাম



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজ শারীরিক ও আর্থিক ফরজ ইবাদত। হজ আদায়ে সক্ষম ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে যারা বায়তুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর আল্লাহর জন্য এই গৃহের হজ করা ফরজ।’ -সুরা আলে ইমরান : ৯৭

হজ সব গোনাহ মুছে দেয়
বিভিন্ন হাদিসে হজের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন- হজ পূর্ববর্তী সব গোনাহ মুছে দেয়। এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ করে আর তাতে কোনোরূপ অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করে না, তার পূর্ববর্তী গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। -জামে তিরমিজি : ৮১১

অন্য বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ করল এবং অশ্লীল কথাবার্তা ও গোনাহ থেকে বিরত থাকল, সে ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে হজ থেকে ফিরে আসবে, যেদিন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। -সহিহ বোখারি : ১৫২১

হজের প্রতিদান জান্নাত
হজে মাবরুরের প্রতিদান হলো জান্নাত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, হজে মাবরুরের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। -সনহিহ বোখারি : ১৭৭৩

সামর্থ্য থাকার পরও হজ আদায়ে বিলম্ব করা
যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে সে যদি মৃত্যুর আগে যেকোনো বছর হজ আদায় করে, তবে তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু হজের মৌলিক তাৎপর্য, যথার্থ দাবি ও আসল হুকুম হচ্ছে হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা। বিনা ওজরে বিলম্ব না করা।

কারণ যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদ, অসুখবিসুখের সম্মুখীন হওয়া বা মৃত্যুর ডাক এসে যাওয়া তো অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফরজ হজ আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ তোমাদের কারো জানা নেই তোমাদের পরবর্তী জীবনে কী ঘটবে।’ -মুসনাদ আহমদ : ২৮৬৭

হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি আমার বান্দার শরীরকে সুস্থ রাখলাম, তার রিজিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করলাম। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সে আমার গৃহে হজের উদ্দেশ্যে আগমন না করে তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত।’ -ইবনে হিব্বান : ৩৬৯৫

হজ না করার পরিণাম
সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করার পরিণাম খুব ভয়াবহ। ফরজ হজ ত্যাগ করলে ইহুদি-নাসারার মতো মৃত্যু হবে বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ আদায়ে সামর্থ্য থাকার পরও তা আদায় না করে সে ইহুদি হয়ে মৃত্যুবরণ করুক বা খ্রিস্টান হয়ে- তার কোনো পরোয়া নেই।’ -জামে তিরমিজি : ৮১২

তাই শেষ জীবনের ভরসায় না থেকে হজ ফরজ হওয়া মাত্রই যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা উচিত।

;

ইমান পাকা করার গল্প শোনালেন মোহাম্মদ আলীর নাতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের হারামে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মোহাম্মদ আলীর নাতি বিয়াজিও ওয়ালশ। তিনিও একজন প্রখ্যাত মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) যোদ্ধা। সম্প্রতি মক্কা-মদিনা সফর করেছেন তিনি। আল আরাবিয়া ইংরেজির কাছে বর্ণনা করেছেন উমরা পালনের ‘অবিশ্বাস্য’ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলতে পারবেন না!

গত এপ্রিলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ঝটিকা সফরের সময় ২৫ বছর বয়সী বিয়াজিও মক্কায় যাত্রাবিরতি দেন এবং প্রথমবারের মতো পবিত্র উমরা পালন করেন।

মক্কা যাওয়ার পথে বিয়াজিও ওয়ালশের গাড়িচালক তার জন্য একজন গাইড জোগাড় করেছেন। এই গাইডই তাদের উমরার পুরো সময়টা সঙ্গ দেন। তবে এই গাইড ইংরেজিতে খুব দুর্বল। এই গাইড আরবিতে উচ্চ স্বরে দোয়া করার সময় ওয়ালশ তাকে অনুসরণ করেন এবং কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন।

এই অভিজ্ঞতা বর্ণনায় ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি আসলে ইংরেজি বলতে পারেননি। কিন্তু তিনি আমাদের যা বলছিলেন সব আবৃত্তি করতে বললেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, আমি সত্যিই আরবি বলতে পারি না। কিন্তু তিনি যা বলছিলেন তার সবই আবৃত্তি করছিলাম।’

ওয়ালশ বলেন, ‘আমাদের দারুণ কৌশলে গাইড করা হয়েছে। লোকেরা আমাদের আবৃত্তিতে চমকিত হচ্ছিল। এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা যা আমি কখনই ভুলতে পারব না! আমি আশা করি, আমার পরিবার এটি অনুভব করতে পারবে।’

ওয়ালশ গত মার্চে আল আরাবিয়া ইংলিশকে বলেছিলেন, তিনি তার ইমান শক্ত করার একটি নতুন যাত্রায় ছিলেন। এবারের রমজান মাসে সবগুলো রোজাই করেছেন তিনি।

পবিত্র কাবার সামনে বিয়াজিও ওয়ালশ, ছবি: সংগৃহীত

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উমরা ছিল তার জন্য সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো এবং ইসলামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সুযোগ। ওয়ালশ বলেন, ‘আমরা এক জীবনে এটাই করি। আমরা আরও আল্লাহর প্রতি সচেতন হতে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে চাই।’

এই ক্রীড়াবিদ মনে করেন, আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে তার কথা বলা এবং ইসলাম গ্রহণ করায় লজ্জা না পাওয়া মুসলমানদের সম্পর্কে মানুষের ধারণায় পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

তার দাদা মোহাম্মদ আলীসহ অনেক ক্রীড়াবিদ আছেন, যারা মুসলিম হওয়া নিয়ে গর্ববোধ করতেন। তারা মুসলিম হওয়ার অর্থ কী সে প্রশ্নে একটি দুর্দান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন- যোগ করেন ওয়ালশ। এ সময় সাবেক রুশ মিক্সড মার্শাল আর্টিস্ট খাবিব আব্দুলমানাপোভিক নুরমাগোমেদভের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

গত এপ্রিলে ছিল সৌদি আরবে ওয়ালশের দ্বিতীয় সফর। গত ফেব্রুয়ারিতে কিংডম এরিনাতে অনুষ্ঠিত ডিএফএল চ্যাম্পিয়ন বনাম বেলেটর চ্যাম্পিয়নস ফাইট কার্ডের অংশ হিসেবে রিয়াদের এমএমএতে তরুণ পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে ওয়েলশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ওয়ালশ বলেন, তিনি সৌদি আরবের সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানতে, সুস্বাদু স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে এবং নতুন নতুন মানুষের সাক্ষাৎ উপভোগ করছেন।

;

সিলেট থেকে ছেড়ে গেল প্রথম হজ ফ্লাইট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট থেকে মদিনায় হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

বুধবার (২২মে) বিকেল ৩টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৩৮৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বিমানের বিজি-২৩৭ ফ্লাইটটি মদিনার উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিস্ট্রিক ম্যানেজার শাহনেওয়াজ মজুমদার।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ২৯ জন হজযাত্রী নিয়ে এসে ফ্লাইটটি সিলেটের ৩৬০ জনসহ মোট ৩৮৯ জন নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের জন্য এবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫ হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। প্রথম দিনের ফ্লাইট ছাড়া বাকিগুলো পরিচালিত হবে সিলেট-জেদ্দা রুটে। বাকি চারটি ফ্লাইটের শিডিউল হচ্ছে আগামী ১, ৩, ৬ ও ৯ জুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

;

সৌদি পৌঁছেছেন ৩৪ হাজার ৭৪১ হজযাত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ মে) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ হাজার ৯৯৪ জন সৌদিতে গিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৪টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৮৭টি ফ্লাইট সৌদিতে গিয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৯টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২০টি ফ্লাইট রয়েছে। হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৪ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মো. লুৎফর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি মক্কায় মারা যান। এ নিয়ে হজ করতে গিয়ে মোট তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মক্কায় দুইজন এবং মদিনায় একজন মারা যান।

এ বছর সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক হজযাত্রী মারা যান। গত ১৫ মে তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মো. মোস্তফা (৮৯) নামে এক বৃদ্ধ গত শনিবার (১৮ মে) মক্কায় মারা যান।

গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেষ হবে ১০ জুন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন এবং শেষ হবে ২২ জুলাই।

;