রাসূলের আদর্শ অনুসরণেই শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রাসূলের আদর্শ অনুসরণেই শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব, ছবি: সংগৃহীত

রাসূলের আদর্শ অনুসরণেই শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পৃথিবীটা কোনদিকে যাচ্ছে? বড় বড় রাষ্ট্রগুলো যে পথে চলছে, তাতো শান্তির পথ নয়। ফলে সঙ্কটের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতাও। শুধু অস্ত্রের সংখ্যাই যে বাড়ছে তা নয়, বাড়ছে ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষমতাও। যে সভ্যতায় মানুষ ও জনপদ ধ্বংসের এত আগ্রহ, সেই সভ্যতাকে কি মানবিক সভ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়? মানুষ তো দু’টি বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে, তার ফলাফল কি মানুষ ভুলে গেছে? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞই তো মানুষকে শান্তির কথা ভাবতে অনুপ্রাণিত করেছিল। সে কারণেই ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ। এরপর ৭৫টি বছর কেটে গেছে, কিন্তু জাতিসংঘ তার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরাশক্তিগুলো। পরাশক্তির দাম্ভিক ও অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে জাতিসংঘ পরিণত হয়েছে একটি ভীরু সংস্থায়।

কিন্তু মানুষ চায় জাতিসংঘ তার নৈতিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করুক। এ পথে বিরাজমান বাধা দৃশ্যমান। সে বাধা দূর করার কাজই এখন মানবজাতির প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন। তবে বিশ্ববাতাবরণে তেমন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অবশ্য মানবতাবাদী চিন্তাশীল মানুষরা শান্তির পক্ষে, নৈতিক কর্তৃত্বে বলীয়ান জাতিসংঘের পক্ষে কথা বলছেন, দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। কিন্তু বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর রাজনীতিবিদরা চলছেন ভিন্ন পথে। উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা তো অনেকের সঙ্গত ও স্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনার ক্ষমতাও হরণ করে নিয়েছে। এটাই এখন বিশ্ববাসীর জন্য রূঢ় বাস্তবতা। তার অর্থ কী বিশ্ব শান্তি সুদূর পরাহত? উত্তর, না।

বিশ্ববাসীর সামনে বিদ্যমান হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনালেখ্য। একমাত্র রাসূলের আদর্শ অনুসরণেই শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব। ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্র এখন শতভাগ সাফল্য অর্জন সম্ভব- রাসূলের দেখানো পথে জীবন চলার মাধ্যমে।

উদাহরণ হিসেবে আমরা হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তারুন্যদীপ্ত যৌবনকালের কথা বলতে পারি। তারুণ্যের তাড়নায় যৌবনে নানা রকম উচ্ছৃংখলতার ছাপ পড়ে। সমাজে প্রবাহমান কোনো না কোনো খারাপ প্রভাব যুবকদের চরিত্রে রেখাপাত করে থাকে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যৌবনকাল ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্মল। তৎকালীন সমাজের কোনো অনাচার, অনিয়ম ও অশ্লীলতার প্রভাব তার চরিত্রে পড়েনি। বরং তিনি সমাজের তখনকার খারাপ চিত্র দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েন। মানুষ সমাজের কল্যাণ সেবা চিন্তায় অধীর হয়ে ওঠেন। তাই বিশ বছর বয়সে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সেবামূলক সংস্থা হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি যুবকদের ঐক্যবদ্ধ করে সমাজের অসহায় বিশেষ করে এতিম ও বিধবাদের সহায়তা দান করেন। মানুষকে নানা ধরনের অন্যায়-অবিচার থেকে রক্ষা করতে ব্রতী হন। অভাবী মানুষের অভাব পূরণ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সেবা করাই ছিল এ সংস্থার উদ্দেশ্য।

বর্তমান বিশ্বের হতাশাগ্রস্ত অধঃপতিত যুব সমাজ হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিলফুল ফুজুল থেকে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, পারে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের প্রেরণা গ্রহণ করতে। আজকের যুব সমাজ সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে মাদকাসক্তি, ছিনতাই, রাহাজানি ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তরুণ সমাজ যদি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে তাহলে সব অন্যায় ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে তাদের পক্ষে শান্তির সমাজ গড়া সম্ভব হবে। সুতরাং আমাদের যুব সমাজকে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণে উদ্ধুদ্ধ করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

শুধু উল্লেখিত বিষয় নয়, নবীর জীবনের পরিপূর্ণ অনুসরণ জরুরি। বিশেষ করে জীবনাচারের মতো বিষয়গুলো। যেমন আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা ও আত্মসংবরণশীল হওয়া এক মহৎ গুণ। ধৈর্যের মহত্ততার দিকে লক্ষ্য রেখে আল্লাহতায়ালা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে আদেশ প্রদান করে বলেন, অতএব, তুমি ধৈর্যধারণ করো; যেমন ধৈর্যধারণ করেছেন পূর্ববর্তী রাসূলগণ। -সূরা আহকাফ: ৩৫

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আদেশ যথাযথভাবে পালন করেছেন, এমনকি ধৈর্যধারণ তার অনন্য ও সুমহান চরিত্রে মূর্তমান হয়েছে। তিনি রেসালতের দায়িত্ব পালনের স্বার্থে দাওয়াতের কণ্টকাকীর্ণ পথে দীর্ঘ তেইশ বছর ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। যাবতীয় প্রতিকূলতার মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিচলিত কিংবা রাগের বশবর্তী হননি।

যেমন কোরাইশ কর্তৃক তাকে প্রহার, তার পিঠের ওপর উটের নাড়িভুঁড়ি তুলে দেওয়া, আবু তালেব উপত্যকায় তিন বছর পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা; তার প্রতি অধিকাংশ লোকের বৈরী আচরণ; জাদুকর, গণক ও পাগল ইত্যাদি অবমাননামূলক উপাধি দ্বারা আখ্যা দেওয়া, হিজরতের রাতে হত্যার প্রয়াস, মদিনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়ার লক্ষ্যে কোরাইশের সৈন্য সমাবেশ ও যুদ্ধ প্রস্তুতি, মদিনায় তার বিরুদ্ধে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র, পরস্পর সম্পাদিত চুক্তি ইহুদি কর্তৃক ভঙ্গ, রাসূলকে হত্যার জন্য ইহুদিদের চেষ্টা ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সংগঠিত করা।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এবং তার সাহাবিগণ ও পরিবারবর্গ আহারের ক্ষেত্রেও ধৈর্যধারণ করেছেন। এমনকি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও একদিনে দু’বেলা যবের রুটি পেট ভরে খেতে পারেননি। কখনও চুলায় আগুন জ্বলত না। অধিকাংশ সময় তাদের খাবার থাকতো খেজুর আর পানি।

অথচ বর্তমান বিশ্বে প্রতি বছর নষ্ট হয় উৎপাদিত মোট খাবারের এক তৃতীয়াংশ। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অথচ জীবনের সর্বক্ষেত্রে রাসূলের আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সাফল্যে ভরে ওঠবে জীবন। চলতি রবিউল আউয়াল মাসে এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

   

সিলেট থেকে ছেড়ে গেল প্রথম হজ ফ্লাইট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট থেকে মদিনায় হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী।

বুধবার (২২মে) বিকেল ৩টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৩৮৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বিমানের বিজি-২৩৭ ফ্লাইটটি মদিনার উদ্দেশে সিলেট ছেড়ে যায়।

এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিস্ট্রিক ম্যানেজার শাহনেওয়াজ মজুমদার।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ২৯ জন হজযাত্রী নিয়ে এসে ফ্লাইটটি সিলেটের ৩৬০ জনসহ মোট ৩৮৯ জন নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের জন্য এবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৫টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫ হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। প্রথম দিনের ফ্লাইট ছাড়া বাকিগুলো পরিচালিত হবে সিলেট-জেদ্দা রুটে। বাকি চারটি ফ্লাইটের শিডিউল হচ্ছে আগামী ১, ৩, ৬ ও ৯ জুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

;

সৌদি পৌঁছেছেন ৩৪ হাজার ৭৪১ হজযাত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২২ মে) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩০ হাজার ৯৯৪ জন সৌদিতে গিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৪টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

হেল্প ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৮৭টি ফ্লাইট সৌদিতে গিয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৯টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২৮টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২০টি ফ্লাইট রয়েছে। হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত ৮৪ হাজার ২৪ জন হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু হয়েছে।

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মো. লুৎফর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার তিনি মক্কায় মারা যান। এ নিয়ে হজ করতে গিয়ে মোট তিনজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মক্কায় দুইজন এবং মদিনায় একজন মারা যান।

এ বছর সৌদি আরবে হজ করতে গিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক হজযাত্রী মারা যান। গত ১৫ মে তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মো. মোস্তফা (৮৯) নামে এক বৃদ্ধ গত শনিবার (১৮ মে) মক্কায় মারা যান।

গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শেষ হবে ১০ জুন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন এবং শেষ হবে ২২ জুলাই।

;

উমরা ভিসায় হজ নয়, না মানলে কঠোর শাস্তি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
উমরা ভিসায় হজ নয়, না মানলে কঠোর শাস্তি, ছবি: সংগৃহীত

উমরা ভিসায় হজ নয়, না মানলে কঠোর শাস্তি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

উমরার পারমিট বা ভিসা দিয়ে হজপালন করা যাবে না বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে আগামী ২৪ মে (১৬ জিলকদ) থেকে ২৬ জুন (২০ জিলহজ) পর্যন্ত হজের স্থানগুলোতে দেশটি কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। এ সময়ে শুধুমাত্র হজের অনুমোদন নিয়েই কেবল হজ করা যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত ১৯ মে সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হজ পারমিট ছাড়া মক্কায় প্রবেশে স্থানীয় নাগরিক, দর্শনার্থী ও প্রবাসীদের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। পবিত্র মক্কা শহর, সেন্ট্রাল হারাম এলাকা, মিনার, আরাফাত, মুজদালিফা, রুসাইফার হারামাইন ট্রেন স্টেশন, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং হজযাত্রীদের গ্রুপে হজের অনুমতি ছাড়া ধরা পড়লে জরিমানা করা হবে। আর নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মক্কায় প্রবেশ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে।

আগামী ২ জুন (২৫ জিলকদ) থেকে ২০ জুন (১৪ জিলহজ) পর্যন্ত এ নির্দেশনা থাকবে। এ সময়ে নিয়ম লঙ্ঘনকারী বাসিন্দাদের তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। তা ছাড়া এ নির্দেশনা বারবার লঙ্ঘন করলে পুনরায় ১০ হাজার সৌদি রিয়াল (২ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৪ টাকা) জরিমানা করা হবে।

সৌদি বার্তা সংস্থা আরও জানায়, আর বিনা অনুমতিতে হজ করে হজবিষয়ক নির্দেশনা লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন করে ধরা পড়লে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল (১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭২ টাকা) জরিমানা করা হবে এবং ব্যবহৃত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তা ছাড়া পরিবহন করা মানুষের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরিমানার পরিমাণ আরো বাড়বে। আর নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী প্রবাসী হলে সাজাভোগের পর তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ২০ লাখের বেশি মানুষ হজপালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

;

হাজিদের সচেতনতায় বিশেষ প্রচারণা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হাজিদের সচেতনতায় বিশেষ প্রচারণা, ছবি: সংগৃহীত

হাজিদের সচেতনতায় বিশেষ প্রচারণা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় হজসংক্রান্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং বৈধ অনুমতি বা ভিসাব্যতীত হজপালন করা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত ১৫টি ভাষায় একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও শিক্ষামূলক প্রচারণা শুরু করেছে।

এ বছর হজপালনে আগ্রহী সবার কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২০টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিভিন্ন ইসলামি কেন্দ্র ও ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজিটাল ও প্রচলিত মিডিয়ার মাধ্যমে হজসংক্রান্ত নির্দেশনাবলী ও বিধিবিধানের প্রচার-প্রসারই এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য।

হজযাত্রীরা পবিত্র ভূমিতে যাত্রাপথে বিমানে বসেই নিজ নিজ ভাষায় হজসংক্রান্ত বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলোতে হজ ও উমরা চ্যানেল চালু করেছে।

সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে হজ ও উমরার চ্যানেলে রয়েছে, ২৩টি শিক্ষামূলক ক্লিপ, ১৪টি ভাষায় ১৩টি সচেতনতামূলক নির্দেশিকা, ৯ ভাষায় ১টি ডকুমেন্টারি, ৭ ভাষায় ৬টি ফিল্ম, ৭ ভাষায় ইহরাম পরার ১টি ভিডিও। ভাষাগুলো হলো- সিংহলি, মালয়েশিয়ান, আরবি, ইংরেজি, বাংলা, ফ্রেঞ্চ, হাউসাবিয়া, ফারসি, ইন্দোনেশিয়ান, তুর্কি, স্প্যানিশ, উর্দু, আমহারিক ও রুশ।

এছাড়া দেশটির হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে ধারাবাহিক পোস্টে বলেছে, হজে যাওয়ার পথে, বিধিবদ্ধ সচেতনতা নির্দেশিকা পড়ুন, আপনার ঈমানি সফরে আপনার অধিকার ও বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানুন। হজ-উমরা চ্যানেলের বিষয়বস্তু অনুসরণ করে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আপনার যাত্রা শুরু করুন।

হজ বিষয়ক সচেতনতার বিষয়গুলো বিস্তারিত জানার জন্য মন্ত্রণালয় নিম্নের লিঙ্কে https://www.haj.gov.sa/Guides আল্লাহর মেহমানদের প্রবেশ করার সুযোগ প্রদান করেছে। যাতে হজযাত্রী অতি সহজে হজপালন, বিভিন্ন পদক্ষেপ, সময়সূচি ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন।

হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় তার প্ল্যাটফর্মের ওয়েব প্যানেলের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ব্যাখ্যামূলক নির্দেশিকা প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে- মসজিদে হারাম গাইড, মসজিদে নববি গাইড এবং মসজিদে নববি পরিষেবা গাইড।

;