হাদিসে বর্ণিত তিন সংখ্যা, বিশ্লেষণ ও মর্মকথা



মোহাম্মদ নিজামুল ইসলাম, অতিথি লেখক, ইসলাম
হাদিসে বর্ণিত তিন সংখ্যা, বিশ্লেষণ ও মর্মকথা, ছবি: সংগৃহীত

হাদিসে বর্ণিত তিন সংখ্যা, বিশ্লেষণ ও মর্মকথা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদিসে তিন সংখ্যার বিশেষত্ব দেখা যায়। কোনো হাদিসে তিনি বিশেষ তিনটি গুণ অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। আবার কোনো হাদিসে বিশেষ তিনটি দোষের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কখনও বিশেষ তিনটি কাজের ফলাফল বর্ণনা করেছেন। আবার কখনও তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো বিশেষত্ব বর্ণনা করেছেন। এ ধরনের কয়েকটি হাদিস বর্ণনা করা হলো।

তিনটি গুণ অর্জনে ঈমানের স্বাদ
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ আছে, সে ঈমানের স্বাদ পাবে। ১. আল্লাহ তার রাসূল অন্য সব কিছু থেকে তার কাছে অধিক প্রিয় হওয়া, ২. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও ৩. কুফুরিতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা।’ –সহিহ মুসলিম: ১৬

তিন কাজের আদেশ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি কাজের অসিয়ত করেছেন। ১. প্রতি মাসে তিন দিন রোজা পালন করা, ২. চাশতের নামাজ আদায় করা, ৩. বিতরের নামাজ আদায় করে শয়ন করা। -সহিহ বোখারি: ১১৭৮

তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে জান্নাত
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো নারীর তিনটি নাবালেগ সন্তান মৃত্যুবরণ করলে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম। -সহিহ বোখারি: ১০১

তিন ধরনের লোকের জন্য পুরস্কার
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ধরনের লোকের জন্য দু’টি করে পুরস্কার রয়েছে। ১. ওই আহলে কিতাব, যে তার নবীর ওপর ঈমান এনেছে এবং রাসূল (সা.) ওপর ঈমান এনেছে। ২. যে কৃতদাস আল্লাহর হুকুম পালন করে এবং তার মালিকের হুকুম পালন করে ও ৩. ওই মালিক, যে তার কৃতদাসীকে মুক্ত করে দিয়ে তাকে বিয়ে করে। -সহিহ বোখারি: ৯৭

সত্যবাদী ব্যবসায়ীরা তিন ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে
হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীরা (আখেরাতে) নবী, সিদ্দিক (সত্যবাদী) ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে। -সুনানে তিরমিজি: ১২০৯

মৃত্যুর পরেও তিন আমলের সওয়াব পাওয়া যায়
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া। ১. সদকায়ে জারিয়া, ২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার হয় ও ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে। -সহিহ মুসলিম: ৪১১৫

তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও সন্তানের জন্য পিতার দোয়া। -সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৬২

ঘুমন্ত অবস্থায় শয়তান মানুষকে তিনটি গিট দেয়
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিট দেয়। প্রতি গিটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে তাহলে একটি গিট খুলে যায়, পরে অজু করলে আরেকটি গিট খুলে যায়, অতঃপর নামাজ আদায় করলে আরেকটি গিট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষ কালিমা ও আলস্য সহকারে। -সহিহ বোখারি: ১১৪২

আল্লাহ বান্দার তিনটি কাজ অপছন্দ করেন
সাহাবি হজরত মুগিরা ইবনে শুবাহ (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি, আল্লাহ তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন- ১. অনর্থক কথাবার্তা, ২. সম্পদ নষ্ট করা এবং ৩. অত্যধিক সওয়াল করা। -সহিহ বোখারি: ১৪৭৭

তিনটি জিনিস বান্দার কবর পর্যন্ত যায়
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করে। দু’টি ফিরে আসে, আরেকটি তার সঙ্গে থেকে যায়। তার পরিবারবর্গ, তার ধন-সম্পদ এবং তার আমল তার অনুসরণ করে। পরিবারবর্গ ও তার ধন-সম্পদ ফিরে আসে এবং তার আমল তার সঙ্গে থেকে যায়। -সহিহ বোখারি: ৬৫১৪

মুনাফিকের তিনটি আলামত
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি- ১. সে কথা বললে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে ও ৩. তার কাছে আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে। -সহিহ মুসলিম: ১১৫

উম্মতে মুহাম্মদিকে তিনটি জিনিস দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, অন্যসব উম্মতের চেয়ে তিনটি বিষয়ে আমাদের (উম্মতে মুহাম্মদিকে) মর্যাদা দান করা হয়েছে। ১. আমাদের (নামাজের) কাতার ফেরেশতাদের কাতারের মতো করা হয়েছে, ২. সমগ্র পৃথিবী আমাদের জন্য মসজিদ করে দেওয়া হয়েছে ও ৩. পানি না পেলে পৃথিবীর মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করে দেওয়া হয়েছে। - সহিহ মুসলিম: ১০৫২

তিন সময়ে নামাজ পড়া নিষেধ
উকবা ইবনে আমির আল জুহানি (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তিন সময়ে নামাজ আদায় করতে এবং মৃতদের দাফন করতে নিষেধ করেছেন- ১. সূর্য যখন আলোকোদ্ভাসিত হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে তা পরিষ্কারভাবে উপরে ওঠা পর্যন্ত, ২. সূর্য যখন ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত ও ৩. সূর্য ক্ষীণ আলোক হওয়া থেকে তা সম্পূর্ণ অস্ত যায়া পর্যন্ত। -সহিহ মুসলিম: ১৮১৪

আল্লাহর নিকট তিন কাজ হারাম, অপর তিন কাজ অপছন্দনীয়
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মায়েদের অবাধ্য হওয়া, জীবন্ত কন্যা সন্তানকে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং অন্যের হক আদায় না করা। আর তিনটি বিষয় তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেন। তা হলো- ১. নিরর্থক কথা বলা, ২. অধিক প্রশ্ন করা ও ৩. সম্পদ বিনষ্ট করা। -সহিহ মুসলিম: ৪৩৭৫

তিন জায়গায় মিথ্যা বলা জায়েজ
ইবনে শিহাব (রহ.) বলেন, তিনটি স্থান ছাড়া আর কোনো বিষয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি। ১. যুদ্ধ কৌশলের ক্ষেত্রে, ২. মানুষের মধ্যে আপস-মীমাংসা করার জন্য ও ৩. সহধর্মিণীর সঙ্গে স্বামীর কথা ও স্বামীর সঙ্গে সহধর্মিণীর কথা বলার ক্ষেত্রে। -সহিহ মুসলিম: ৬৫২৭

তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না
হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির মানুষ কখনও জান্নাতে যাবে না। ১. যে ব্যক্তি তার পরিবারে বেহায়াপনার সুযোগ দেয়, ২. পুরুষের বেশধারী নারী ও ৩. নিয়মিত নেশাদার দ্রব্য পানকারী। -তাবরানি, তারগিব: ৩৩৮১

অন্য হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতারক, ধোঁকাবাজ, কৃপণ এবং উপকার করে খোটা দানকারী জান্নাতে যেতে পারবে না। -তিরমিজি: ১৯৬৩

   

হজযাত্রীদের জন্য ২ শতাধিক বিশেষ গাইড, সাড়ে ৩ হাজার বাস



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শায়খ সুদাইস এক হজযাত্রীকে উপহার দিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

শায়খ সুদাইস এক হজযাত্রীকে উপহার দিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন হজে মসজিদ হারাম এবং মসজিদে নববিতে আগত বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং অসুস্থদের বিশেষ যত্ন ও সেবার লক্ষে বিশেষ দল নিয়োগ করা হয়েছে।

হারামাইন প্রেসিডেন্সির উদ্যোগে চলতি হজ মৌসুমে ‘ইনসানিয়্যুন’ মানবিক উদ্যোগ শিরোনামে এই কর্মসূচি পারিচালিত হবে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হবে। যারা অসুস্থ, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী- তারা নির্বিঘ্নে ও আরামের সঙ্গে গ্র্যান্ড মসজিদ এবং মসজিদে নববি পরিদর্শন, জিয়ারত ও ইবাদত-বন্দেগি পালন করতে পারবেন।

মসজিদে হারাম এবং নববির ধর্ম বিষয়ক প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস এই কর্মসূচি উদ্বোধন করে বলেন, ‘মানবতাবাদী উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- আচরণ উন্নত করা এবং প্রেসিডেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত পরিষেবাগুলোকে বিভিন্ন সেক্টর এবং বিভাগজুড়ে বিস্তৃতি করা। আমরা সব ধরনের হজযাত্রীদের জন্য একটি উপযুক্ত উপাসনার পরিবেশ উপহার দিতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য, মুসলমানদের উদার মনোভাব বাড়ানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নত করা।’

এই উদ্যোগের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২ শ গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা এই শ্রেণির হজযাত্রীদের ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে প্রযুক্তি, মেধা ব্যবহার করবে। তারা অসুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হজযাত্রীদের ধর্মীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দিকনির্দেশনার জন্য নিবিঢ়ভাবে কাজ করবে।

এ সময় তিনি বলেন, হজপালনকারীদের সেবা দিতে ধর্মীয় বিষয়ক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, হারামাইনের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় বিষয়ভিত্তিক ধর্মীয় পুস্তিকা তৈরি করেছে, যা হজযাত্রীদের দেওয়া হবে।

মিনা-আরাফাতের জন্য সাড়ে ৩ হাজার বাস : সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনায় সেন্ট্রাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটি চলতি হজের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ঘোষণায় বলা হয়, হাজিদের পরিবহনের জন্য ৩ হাজার ৫০০টি বাস প্রস্তুত। এসব বাস চলতি হজ মৌসুমে মসজিদে হারামের চারপাশে অবস্থিত ৯টি স্টেশন থেকে চলাচল করবে। বাসগুলো হজযাত্রীদের মিনা ও আরাফাতে আনা-নেওয়া করবে। এ জন্য ১২টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

;

হজের সফরে যেসব কাজ কখনও করবেন না



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হজপালনকারীরা, ছবি: সংগৃহীত

আরাফাতের ময়দানে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হজপালনকারীরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর যারা হজপালনে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে হজে যাবেন- তাদের জন্য এই লেখা। কাউকে কষ্ট দেওয়া উদ্দেশ্য নয়, ব্যক্তিগত মতামত থেকে কিছু পরামর্শ। দয়াময় আল্লাহর ইচ্ছায় কয়েকবার মক্কা-মদিনা সফরের সুযোগ হয়েছে। সেই আলোকে কাছে থেকে দেখা বিষয়গুলো উত্থাপন করা হলো-

এক. উড়োজাহাজ থেকে নামার পর যে বাসে উঠিয়ে রানওয়ে পার করালো সেটাতে কেন বসার সিট নেই? আমরা কি টাকা কম দিছি? মুরগির খাঁচায় উঠাবে কেন? এয়ারলাইন্সগুলো এটার ব্যবস্থা করতে না পারলে হাঁটিয়ে নিতো! বাসে ৩-৪ মিনিটের পথ, তাতেই এই অবস্থা!

দুই. মক্কার হোটেলে উঠার পর থেকে শুনছি অনেক সমস্যা এই হোটেলে। ওয়াইফাই নেই, লিফটের সংখ্যা কম, বাথরুমে টিস্যু দেয় না, ফিল্টারে পানি নাই আরও কত কি! অনেক হাজি ১০ জন ক‍্যাপাসিটির লিফটে ৬-৭ জন উঠলে বাকীদের উঠতে দেয় না। একটু চেপে দাঁড়ালে অন্যরা উঠতে পারত, সেটা করে না। আবার নিজের লোক উঠানোর জন্য ৪-৫ মিনিট লিফট এক ফ্লোরে আটকে রাখে।

তিন. হোটেল ছেড়ে গেলাম মিনার তাঁবুতে। সাধারণত তাঁবুর ফোমের বেডগুলো হয় খুব ছোট। এবার শুরু হলো নানা কথা, ফোম না দিয়ে কার্পেট দিলে ভালো ছিল; আরামে শুতে পারতাম!

চার. সকালে খাবারের মেনুতে কেন ডিম সিদ্ধ দিল? তার চেয়ে দুপুরে ওইটা দিলে ভালো হতো। রাতে কি এই চর্বিওয়ালা গোশত খাওয়া যায়? খাবার দিতে এত দেরি কেন? খাবারের পরিমাণ এত বেশি কেন? অপচয় হচ্ছে। আল্লাহ জানেন, পরিমাণ কম দিলে কী যে হতো!

পাঁচ. ওয়াশরুম ও অজুখানার সংখ্যা এত কম কেন? সৌদি আরবের তো জায়গার অভাব নেই। তার ওপর আমরা এত এত টাকা দিচ্ছি হজে আসতে। মাটির নীচে ১ হাজার ওয়াশরুম বানায় না কেন? যদিও সেগুলো বছরে একবার লাগে। মিনায় ৩ দিন দিন, আরাফাতে ১ দিন ও মুজদালিফায় ১ রাত ব্যবহার করা হয়।

ছয়. অজুর জন্য ৩-৪ জনের পেছনে সবসময় লাইন ধরতে হয়। তাই কেউ কেউ লাইন ভেঙে অজু করে (অন্যের হক নষ্ট করে) দ্রুত আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে চায়। কেউ আবার নারীদের অজুখানায় ভিড় কম দেখে সেখানে যেয়ে অজু করে। এদিকে নারীরা নানা মন্দ কথা বলে, নিষেধ করে। তারা এসব গায়ে না মেখে, নারীদের কথার জবাব দিতে দিতে অজু করতে থাকেন।

সাত. মিনার তাঁবুতে ইবাদত-বন্দেগির বদলে চলে আড্ডা ও পরনিন্দার আসর। বাকি সময় ঘুম ও খাওয়া। মিনা ও আরাফাতে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে (সুন্নত/ওয়াজিব) মতানৈক্য, পরস্পরে ঝগড়া। এর কোনোটাই কাম্য নয়।

আট. মিনা-আরাফাতের টয়লেটের দরজায় ধুমধাম আওয়াজ করে। ভেতরে লোক থাকলে দরজায় যে একটা লাল সিগনাল দেখায়, সেটা জানা নেই। অনেকে আবার টয়লেট ব্যবহারের পর ফ্ল্যাশ করে না।

নয়. প্রত্যেকের হাতের বেল্টে তাবুর নম্বর দেওয়া আছে। তবুও এক তাঁবুর লোক অন্য তাঁবুতে এসে বিছানা দখল করে থাকে। ফলে ক্রাইসিস তৈরি হয়, তাদের চলে যেতে বললে শুরু হয় নয়া ঝামেলা।

দশ. অনেকে ৪-৫টা বেড একসঙ্গে করে ওপরে চাদর বিছিয়ে দেয়। ফলে সহজে বোঝা যায় না, এখানে কয়টা বেড আছে। এতে লোক ঘুমায় ২-৩ জন। এভাবে নিজেরা আরাম করে ঘুমায়, অন্যরা কষ্টে থাকে।

এগারো. তাঁবুর বাইরে বিভিন্ন পয়েন্টে বিনামূল্যে চা-কফি দেয়। এগুলো দেওয়া হয় সৌদি মোয়াল্লিমের ব্যবস্থাপনায়। একবার চা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশাল ঝগড়া শুরু হয়। পরে তাঁবুতে এসে দুই-তিন সিদ্ধান্ত নেয়- হজ অফিসে লিখিত অভিযোগ দেবে!

বারো. কিছু লোক এখানেও ধূমপান করেন। আবার অনেক হাজি ‘জামালের মা’কে (নিজের স্ত্রী) খুঁজতে নারীদের পর্দাঘেরা স্থানে অবাধে ঘুরতে থাকেন।

তেরো. হজের সময় যেখানেই হেঁটে পার হই, একটা বাক্য সবসময় শুনতে পাই, ‘আমরা এখানে টাকা দিয়ে এসেছি, কারও দয়ায় আসিনি; সার্ভিস পাবো না কেন?’ আরেকটা বিষয়, কোনো বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা হলে কুশল বিনিময়ের পরের প্রশ্নই থাকে, ‘কত টাকা দিয়ে এসেছেন?’

চৌদ্দ. তাঁবুতে এত এত লোক গাদাগাদি করে থাকতে গেলে অসুবিধা হবেই। যদিও মাত্র কয়েকটি রাতের ব্যাপার। কিন্তু কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। ন্যূনতম সহযোগিতা-সহমর্মিতার মানসিকতা নেই আল্লাহর ঘরের মেহমানদের।

পনেরো. মিনা ও আরাফাতের তাঁবুতে বেডগুলো চাপাচাপি করে রাখা, তাতে মানুষে চলাচলের রাস্তা নেই। তাই বাধ্য হয়ে অন্যের বেড মারিয়ে নিজের বেডে যেতে হয়। যাদের বেড আপনার রাস্তায় ওপর হয়, তারা খুব বিরক্ত হন। বলেন, ‘আপনার বেডে কেমনে যাবেন, সেটা আমি জানি না। কিন্তু এখান দিয়ে যেতে পারবেন না।’

ষোলো. একজন বলে এসি বাড়ান, আরেকজন বলে কমান। কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি না। মজার বিষয় হলো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা তাঁবুতেই নেই। এটা অন্য জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সতেরো. মুজদালিফার খোলা ময়দানে কারও জায়গা নির্দিষ্ট করা নেই। যে যেখানে পারছে, চাদর বিছিয়ে শুয়ে পরছে। এই সুযোগে অনেকে বেশি জায়গা দখল করছে, অন্যপাশে লাগেজ রাখছে- যেন ধারেকাছে কেউ আসতে না পারে। আপনি বেশি জায়গা নিয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, অথচ আরেকজনের বসার সুযোগ নেই।

আঠারো. বিয়ের অনুষ্ঠানে পাঁচশ-এক হাজার লোকের একবেলা খাবারের আয়োজন করতে আমাদের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। সেখানে ২০-২২ লাখ লোকের ৫ দিনের আয়োজনে (থাকা, খাবার খাওয়া, যাতায়াত) একটু সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। একটু ধৈর্য ধরলেই হয়।

ঊনিশ. এক হাজি সাহেব ২০ রিয়ালের মোবাইল রিচার্জ কার্ড কিনেছেন। কিন্তু নিয়ম না জানায় রিচার্জ করতে পারছেন না। এক বাংলাদেশি হজকর্মী নিজ থেকে এগিয়ে গেল। সে অনেকদিন থেকে সৌদি থাকে। কিন্তু নেটওয়ার্কের সমস্যায় সেও পারল না। হাজি সাহেব চিৎকার ও গালাগাল শুরু করলেন। আশেপাশের লোকজন বলছেন, ‘দয়া করে শান্ত হোন। ২০ রিয়ালের জন্য হজ নষ্ট করবেন না।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা!

বিশ. তাঁবুর বাইরে ফ্রিজভর্তি পানির বোতল ও জুসের প্যাকেট দেওয়া থাকে। এখান থেকে অনেকে একাই এক কেইস্ (৪০-৪৫ টা) নিয়ে নেয়, ফলে অন্যরা আর পায় না। আর কোনো কিছু ফ্রি’তে বিতরণ করতে দেখলে অনেক হাজি সেখানে ভিড় করে, ধাক্কা-ধাক্কি করে- এগুলো কতটা ঠিক?

এখানে কিছু কথা লেখা হলো, এগুলো সাধারণ বিষয়। এমন আচরণ হাজিদের কাছ থেকে কাম্য নয়। কষ্ট সহ‍্য করা, ধৈর্যধারণ, ভদ্র আচরণ, পরস্পরে সহযোগিতা-সহমর্মিতা হজের সফরের প্রয়োজনীয় বিষয়। আর হজের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও কমবেশি সবারই জানা, তার পরও এমন আচরণ ও কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমন মনোভাব থাকলে, কি দরকার কি ছিল এত কষ্ট করে হজ করার? এর চেয়ে অনেক কম টাকায় ফাইভ স্টার মানের হোটেলে আরাম করে এক-দেড় মাস থাকলেই তো ভালো হতো!

আল্লাহতায়ালা সবাইকে ভুল ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে সবার হজ কবুল করুক। আমিন।

;

মক্কায় বাংলাদেশি হজযাত্রীর ওপেন হার্ট সার্জারি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মক্কার কিং আবদুল্লাহ মেডিকেল সিটি, ছবি: সংগৃহীত

মক্কার কিং আবদুল্লাহ মেডিকেল সিটি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কার কিং আবদুল্লাহ মেডিকেল সিটির বিশেষজ্ঞরা ওপেন হার্ট সার্জারি করে এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর জীবন রক্ষা করেছেন।

সুবাক ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছে, ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি হজযাত্রী হোটেলে অবস্থানকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

হোটেল কর্তৃপক্ষ রেড ক্রিসেন্টকে খবর দিলে বাংলাদেশি ওই হজযাত্রীকে দ্রুত আল নূর হাসপাতালের জরুরি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়- তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা তাকে তাৎক্ষণিক অপারেশনের জন্য কিং আবদুল্লাহ মেডিকেল সিটিতে নিয়ে যান, যেখানে আরও উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী তিনটি শিরা বন্ধ হয়ে গেছে। পরে কিং আবদুল্লাহ মেডিকেল সিটির বিশেষজ্ঞরা তার ওপেন হার্ট সার্জারি করেন। অপারেশনের পর তাকে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

উল্লেখ্য যে, হজের সময় হজযাত্রী সব ধরনের চিকিৎসা সৌদি সরকার বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। চলতি হজে হাজিদের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব।

দেশটি জানিয়েছে, চলতি বছর হজের মৌসুমে হাজিদের চিকিৎসায় ড্রোন ব্যবহার করা হবে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজের মৌসুমে চিকিৎসার জন্য ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত হাজিদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজে এ ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ড্রোনগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা হবে। এগুলোর মাধ্যমে মিনা ও আরাফাতের ময়দানের আশপাশের হাসপাতালে রক্ত ও ল্যাবের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। চলতি বছরের আসন্ন বার্ষিক হজের মৌসুমে এগুলোকে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপের ফলে রক্ত ল্যাবে পৌঁছাতে মাত্র দুই মিনিটের মতো সময় লাগছে। যেখানে স্বাভাবিক ব্যবস্থায় এ জন্য অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যয় করতে হতো।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ উপলক্ষে মক্কা অঞ্চলে ১৬টি হাসপাতাল, ১২৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা দেওয়া হবে। এর বাইরে মক্কা ও মাশায়েরে হারাম এলাকায় ৫টি অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হবে। এ ছাড়া আজইয়াদ ইমারজেন্সি হাসপাতাল, আল হারাম হাসপাতাল, মসজিদে হারামের ৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ মিসফালা রোডে দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাজিদের সেবার নিয়োজিত থাকবে। প্রস্তুত থাকবে ৮০টি ছোট অ্যাম্বুলেন্স, ৭৫টি বড় অ্যাম্বুলেন্স, ৩৩টি সহায়ক অ্যাম্বুলেন্স দল মসজিদে নামিরা ও জাবালে রহমত, মিনার তাঁবু, মুজদালিফা ও জামারাত এলাকায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ২০০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। শনিবার (২৫ মে) দুপুর ১২টায় হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে, সৌদি আরবে হজপালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই পুরুষ। এর মধ্যে মক্কায় তিন জন এবং মদিনায় দুই জন।

;

সৌদি পৌঁছেছেন প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার হজযাত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৪৪৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

শনিবার (২৫ মে) হজ পোর্টালের সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

সৌদিতে যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৭৪৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার গেছেন ৩৭ হাজার ৬৯৯ জন।

বাংলাদেশ থেকে ১০৪টি ফ্লাইটে এসব হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪৮টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ৩৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

এদিকে, সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই পুরুষ।

এর আগে, গত ৯ মে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৪১৫ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এর মাধ্যমেই চলতি বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যা শেষ হবে ১০ জুন।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ২০ জুন। যা শেষ হবে ২২ জুলাই।

;