নবী করিম সা.-এর খাদ্যাভাস অনুসরণ উত্তম ডায়েট



মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, অতিথি লেখক, ইসলাম
রাসুল (সা.) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন, তবে সেগুলোও অনেক বেশি খেতেন এমন নয়

রাসুল (সা.) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন, তবে সেগুলোও অনেক বেশি খেতেন এমন নয়

  • Font increase
  • Font Decrease

শরীরটা বেড়ে স্থূল হয়ে গেছে; কি করবেন- ঠিক করে উঠতে পারছেন না। এদিকে চিকিৎসক বিশাল এক তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে- কি খাওয়া যাবে আর কি খাওয়া যাবে না। এ তালিকা মানতেও মন সায় দেয় না। আবার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলেও সা মেনে উপায় নেই। এমন দ্বিধাময় সময়ে সহজ সমাধান নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্যাভাস অনুসরণ এবং তার সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা। নবী করিম (সা.)-এর খাদ্যাভাসই পারে আপনাকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে।

ডায়টেশিয়ানরা তো কম খেতে বলে। নবী করিম (সা.) শুধু কমই খেতেন না, অনেক সময় তার ঘরে চুলায় আগুনও জ্বলতো না। নবী করিম (সা.) সপ্তাহে দুই দিন (সোম, বৃহস্পতিবার) রোজা রাখতেন। চিকিৎসকরা রোজা রাখতে বলেন। মাঝে-মধ্যে রোজা রাখলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়। নবী করিম (সা.) প্রচুর পরিশ্রম করতেন। তার জীবনে অলসতা বলতে কিছু ছিলো না। চিকিৎসকরাও বলেন পরিশ্রম করতে। নিদেনপক্ষে দৈনিক কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করতে।

পেট খালি রাখুন, পেট ভরে খাবেন না- এটা ডায়েটে অবশ্যই মানতে হয়। দেখুন, নবী করিম (সা.) এই ফর্মূলা অনেক আগেই দিয়ে গেছেন। পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি, এক ভাগ খালি থাকবে। এই সুন্নত আমল করতে অসুবিধা কোথায়? ডায়েটে যা যা আজকাল করতে বলা হয়, তার সবটাই নবীজীর খাদ্যাভাসে বিদ্যমান। নবী করিম (সা.) কিছু খাবার খেতে পছন্দ করতেন। এর মানে এই নয় যে, ওই খাবারগুলো তিনি পেটভরে খেতেন। ওই খাবারগুলোকে প্রাধান্য দিতেন, কিন্তু কম খেতেন। নবী করিম (সা.) খেজুর খেতেন, খেজুর তার প্রিয় ছিলো। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, আমি দেখলাম নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টুকরা যবের রুটি নিয়ে তাতে একটি খেজুর রেখে বললেন, এই খেজুর এই রুটির তরকারী।’ –সুনানে আবু দাউদ : ৩৮৩০

অন্য হাদিসে আছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে বাড়িতে খেজুর নেই, সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই।’ এমনকি নবী করিম (সা.) সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকেও খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খেজুর কিন্তু ডায়েটের উত্তম খাদ্য। খেজুর শক্তি যোগায়, ক্ষুধা মেটায়। খেজুরের মধ্যে উপকারি অনেক কিছু রয়েছে। খেজুর শুধু সুস্বাদু নয়, পুষ্টিকরও বটে৷ ডায়েটে উত্তম নাস্তা হলো- দু’চারটি খেজুর খেয়ে নেওয়া।

নবী করিম (সা.) দুধ খেতেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মেরাজের রাতে বায়তুল মোকাদ্দাসে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ে বের হলে হজরত জিবরাইল (আ.) আমার সামনে শরাব ও দুধের আলাদা দু’টি পাত্র রাখেন। আমি দুধের পাত্রটি নির্বাচন করি। হজরত জিবরাইল (আ.) বললেন, ‘আপনি প্রকৃত ও স্বভাবজাত জিনিস নির্বাচন করেছেন।’ –সহিহ বোখারি : ৩১৬৪

নবী মুহাম্মদ (সা.) মধু খেতে পছন্দ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) মিষ্টান্ন ও মধু পছন্দ করতেন।’ –সহিহ বোখারি : ৪৯১২

বোখারি শরিফের আরেক হাদিসে হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মধু হলো- উত্তম ওষুধ।’ –সহিহ বোখারি : ৫৩৫৯

মধুর উপকারিতা অনেক। পবিত্র কোরআনে নাহল (মৌমাছি) নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা বর্ণিত হয়েছে। শুধু মধু খেলে যে উপকার তা নয়। মৌমাছির জীবনকাল নিয়ে পড়াশোনা করলে বিস্মিত হতে হবে। আল্লাহতায়ালার প্রতি ঈমান বৃদ্বি পাবে। তার শ্রেষ্ঠত্ব সর্ম্পকে কিছুটা হলেও ধারণা আসবে।

রাসুলুল্লাহ সা.-এর খাদ্য তালিকায় খেজুর, পানি ও দুধই বেশি থাকত 

 

লাউ বা কদু খেতে নবী করিম (সা.) পছন্দ করতেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার এক দর্জি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খাবারের দাওয়াত করে। আমিও নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে সেই খাবারে অংশগ্রহণ করি। রাসুল (সা.)-এর সামনে বার্লির রুটি এবং গোশতের টুকরা ও কদু মেশানো ঝোল পরিবেশন করা হয়। আমি দেখেছি, রাসুল (সা.) খুঁজে খুঁজে কদু নিয়ে খাচ্ছেন। আর আমিও সেদিন থেকে কদুর প্রতি আসক্ত হয়ে উঠি।’ –সহিহ মুসলিম : ২০৬১

খাবার সামনে এলে আমাদের হুঁশ থাকে না। কে কার আগে সব খাবে, এমন প্রতিযোগিতা চলে। অথচ খাবার খাওয়ার কিছু আদব আছে। হেলান দিয়ে কোনো কিছু খাওয়া যাবে না। নবী করিম (সা.) হেলান দিয়ে খেতে নিষেধ করছেন। নবী করিম (সা.) বালিশে বিশ্রাম নেওয়া অবস্থায় খাবার খেতেন না। -সহিহ বোখারি

বিশ্রামরত অবস্থায় খাবার খাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসকরাও এভাবে খেতে নিষেধ করেন। দাঁড়িয়ে খেলে পাকস্থলির ওপর চাপ পড়ে। দাঁড়িয়ে পানি পান করলে পানির কোনো পুষ্টিগুণ শরীরে শোষণ হয় না। এতে পাকস্থলির ক্ষত ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে, কিডনির পানিশোষণ প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন।’ –সহিহ মুসলিম : ৫০১৭

ধীরে-সুস্থে খাওয়া সুন্নত এবং স্বাস্থ্যসম্মত। তাতে খাবার ভালো করে চিবানো হয়। মুখের লালা খাদ্যের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারে, হজম সহজতর হয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন আঙুলে খেতেন এবং খাওয়ার পর জিহ্বা দিয়ে আঙুল চেটে খেতেন। -সহিহ বোখারি

অর্থাৎ তিনি খুব ধীরে-সুস্থে খেতেন। একসঙ্গে বেশি খাবার মুখে দিতেন না। খাওয়ানোর মালিক শুধুই আল্লাহ। আল্লাহর সম্মতি ছাড়া রিজিক আসে না। তাই এক ঢোক পানি খেলেও আলহামদুল্লিাহ বলা দরকার। শোকরিয়া আদায়ে রিজিক বাড়ে। আল্লাহ খুশি হন। তাই খাওয়া শেষের দোয়া আছে। সেটা হলো- ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াসাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন।’ অর্থাৎ ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের খাবার খাইয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়ে জন্ম দিয়েছেন।’ –সুনানে আবু দাউদ : ৩৮৫১

   

হজযাত্রীর কাছে নুসুক কার্ড না পেলেই আটক



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নুসুক কার্ড, ছবি: সংগৃহীত

নুসুক কার্ড, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর নুসুক কার্ড ছাড়া কেউ হজ করতে পারবেন না। সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া হজযাত্রী প্রতিরোধ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হজ এজেন্সির মালিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেদ্দা হজ অফিস থেকে এ সংক্রান্ত প্রাপ্ত পত্রের ছায়ালিপি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জেদ্দা হজ অফিস থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মাশায়ের (মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফ) এলাকাসহ মক্কা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মক্কায় প্রবেশের তাসরিহ বা নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে প্রথমবার ১০ হাজার সৌদি রিয়াল অর্থদণ্ড এবং পুনরায় অপরাধে দ্বিগুণ জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। হজের অনুমতি নেই, এমন কোনো ব্যক্তিকে পরিবহন করা হলে পরিবহনকারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে।

এ ছাড়া মিনা ও আরাফাতে হাজির তাঁবুতে নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে তাকে অর্থদণ্ড আরোপ এবং দেশে প্রত্যাবর্তনের মতো শাস্তি প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরূপ কর্মের সহযোগিতাকারীকেও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

হজের অনুমতি নেই কিংবা নুসুক কার্ডবিহীন কাউকে মাশায়েরে পরিবহন করলে গাড়িচালকসহ উভয়েই শাস্তির আওতায় আসবেন। ই-হজ সিস্টেমে ভাড়াকৃত বাড়ি বা হোটেলে হাজি আবাসন না করে অন্যত্র হাজি আবাসন করা হলে অথবা সিস্টেমে এক হোটেল এন্ট্রি দিয়ে অন্য হোটেলে হাজি ওঠানো হলে এজেন্সি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল এই নুসুক কার্ডে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর প্রয়োজনীয় সব তথ্য মজুদ থাকবে এবং হজের জন্য পবিত্র কাবার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে চাইলে এই কার্ড অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালনেও বিভিন্ন জায়গায় কার্ডটি দেখাতে হবে।

;

মক্কায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ রাস্তা ও ইবাদতের স্থান



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আগে থেকে ব্যবস্থা থাকলেও চলতি হজ মৌসুমে মক্কার মসজিদে হারামে অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশেষভাবে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হারামাইন পরিচালনা পরিষদ। তাদের দেখাশোনা, রাস্তা দেখানো ও যেকোনো ধরনের সাহায্যের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ২ শতাধিক গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এবার মসজিদে হারামের কয়েকটি স্থান বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে, যাতে তাদের ইবাদত-বন্দেগি ও চলাচলে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।

সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মসজিদে হারামে চলাচলে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ারের জন্য বিশেষ পথ তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেখানে তাদের বসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে পানিসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

পুরুষ ও নারী প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদে হারামে পৃথক তিনটি স্থান সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রধান ফটকের কাছে। ফলে তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। জায়গাগুলো হলো- মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট এবং আল শাবাকা ব্রিজের কাছে ৬৮ নম্বর গেট (নিচতলায়)।

মসজিদে হারামে প্রতিবন্ধীদের চলাচলে রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা, ছবি: সংগৃহীত

আর নারীদের হুইলচেয়ার ব্যবহার করার জন্য বাদশাহ ফাহাদ এক্সটেনশনের গেট নম্বর ৮৮ এবং নিচতলার গেট নম্বর ৬৫ ছাড়াও মাতাফের (কাবা চত্বর) সামনে নামাজের জন্য একটি স্থান (মুসাল্লা নম্বর ১৫) সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে হুইলচেয়ারসহ নারীরা আরামে বসতে পারেন৷

এ ছাড়া বয়স্কদের জন্য ডিজিটাল কোরআন এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল সংস্করণ ছাড়াও শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য সাংকেতিক ভাষায় জুমার খুতবার শোনার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

;

সোমবার ছায়াশূন্য কাবার দেখা মিলবে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সোমবার ছায়াশূন্য কাবার দেখা মিলবে, ছবি: সংগৃহীত

সোমবার ছায়াশূন্য কাবার দেখা মিলবে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার পবিত্র কাবা ঘরের ঠিক ওপরে উঠে আসবে সূর্য। ওই সময়ে ছায়াশূন্য পবিত্র কাবার দেখা মিলবে।

জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, সোমবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটে পবিত্র কাবার ঘরের ঠিক ওপর সূর্য থাকবে। বছরের দুইবার এমন ঘটনা ঘটলেও চলতি বছরে প্রথমবারের মতো এ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

আল আরাবিয়া নিউজকে জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির প্রধান মাজেদ আবু জাহরা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর নাগাদ মক্কার পবিত্র কাবা ঘরের সঙ্গে সূর্য একই লাইনে অবস্থান করবে। এ সময় সূর্যের কেন্দ্রবিন্দুটি কাবার ঠিক ওপরে উঠে আসবে।

জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, সূর্যের এই অবস্থানকে ‘ছায়াশূন্য’ (জিরো শ্যাডো) অবস্থা বলেই চিহ্নিত করেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। বছরে অন্তত দুইবার পবিত্র মক্কা নগরীর ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটে। প্রতিবছর ২৭ বা ২৮ মে ছাড়াও ১৫ বা ১৬ জুলাই তারিখে একই ঘটনা ঘটে থাকে। পবিত্র কাবাঘরটি বিষুবরেখা ও কর্কটক্রান্তির মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে।

তারা আরও জানান, মক্কায় সোমবার ভোর ৫টা ৩৮ মিনিটে সূর্যোদয় হবে। উত্তরপূর্ব দিকটি থেকে সূর্য ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে শুরু করবে। সে কারণে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও পবিত্র এই মসজিদ ঘরের কোনো দিকে কোনো ছায়া থাকবে না।

পৃথিবীর অক্ষরেখায় সূর্য ২৩.৫ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থান নিয়ে বিষুব রেখার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ঘুরতে থাকে।

এভাবে একবার উত্তর গোলার্ধে একবার দক্ষিণ গোলার্ধে যায়। আর এই আসা যাওয়ার পথে বছরে দুইবার সরাসরি ওপরে অবস্থান নিয়ে পবিত্র কাবাকে ছায়াশূন্য করে দেয়।

জ্যোতির্বিদ আবু জাহরা আরও জানান, কাঠের কোনো কাঠি মাটিতে লম্বালম্বী করে মানুষ কাবার সঠিক দিক নির্ধারণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কিবলার দিকটি কাঠির ছায়ার ঠিক বিপরীতে দেখতে পাবে।

;

হজযাত্রীদের জন্য ২ শতাধিক বিশেষ গাইড, সাড়ে ৩ হাজার বাস



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শায়খ সুদাইস এক হজযাত্রীকে উপহার দিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

শায়খ সুদাইস এক হজযাত্রীকে উপহার দিচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন হজে মসজিদ হারাম এবং মসজিদে নববিতে আগত বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং অসুস্থদের বিশেষ যত্ন ও সেবার লক্ষে বিশেষ দল নিয়োগ করা হয়েছে।

হারামাইন প্রেসিডেন্সির উদ্যোগে চলতি হজ মৌসুমে ‘ইনসানিয়্যুন’ মানবিক উদ্যোগ শিরোনামে এই কর্মসূচি পারিচালিত হবে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হবে। যারা অসুস্থ, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী- তারা নির্বিঘ্নে ও আরামের সঙ্গে গ্র্যান্ড মসজিদ এবং মসজিদে নববি পরিদর্শন, জিয়ারত ও ইবাদত-বন্দেগি পালন করতে পারবেন।

মসজিদে হারাম এবং নববির ধর্ম বিষয়ক প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস এই কর্মসূচি উদ্বোধন করে বলেন, ‘মানবতাবাদী উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- আচরণ উন্নত করা এবং প্রেসিডেন্সি কর্তৃক প্রদত্ত পরিষেবাগুলোকে বিভিন্ন সেক্টর এবং বিভাগজুড়ে বিস্তৃতি করা। আমরা সব ধরনের হজযাত্রীদের জন্য একটি উপযুক্ত উপাসনার পরিবেশ উপহার দিতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য, মুসলমানদের উদার মনোভাব বাড়ানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নত করা।’

এই উদ্যোগের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২ শ গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা এই শ্রেণির হজযাত্রীদের ধর্মীয় চাহিদা মেটাতে প্রযুক্তি, মেধা ব্যবহার করবে। তারা অসুস্থ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হজযাত্রীদের ধর্মীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দিকনির্দেশনার জন্য নিবিঢ়ভাবে কাজ করবে।

এ সময় তিনি বলেন, হজপালনকারীদের সেবা দিতে ধর্মীয় বিষয়ক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, হারামাইনের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর হজ মৌসুমে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় বিষয়ভিত্তিক ধর্মীয় পুস্তিকা তৈরি করেছে, যা হজযাত্রীদের দেওয়া হবে।

মিনা-আরাফাতের জন্য সাড়ে ৩ হাজার বাস : সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনায় সেন্ট্রাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটি চলতি হজের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ঘোষণায় বলা হয়, হাজিদের পরিবহনের জন্য ৩ হাজার ৫০০টি বাস প্রস্তুত। এসব বাস চলতি হজ মৌসুমে মসজিদে হারামের চারপাশে অবস্থিত ৯টি স্টেশন থেকে চলাচল করবে। বাসগুলো হজযাত্রীদের মিনা ও আরাফাতে আনা-নেওয়া করবে। এ জন্য ১২টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

;