অবজ্ঞা নয়, কাছে টানুন প্রতিবন্ধীদের



মাওলানা ফখরুল ইসলাম, অতিথি লেখক, ইসলাম
বিপদ-আপদে সবসময় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানো ঈমানি দায়িত্ব, ছবি : সংগৃহীত

বিপদ-আপদে সবসময় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানো ঈমানি দায়িত্ব, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। অটিজম কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। অটিজম মূলত মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতাজনিত একটি মানসিক রোগ। এটি মানুষের হরমোনজনিত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ।

ইসলামের ইতিহাসে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পাওয়া যায়, যারা তাদের পূণ্যময় কীর্তির কারণে পৃথিবীতে চিরদিনের জন্য ভাস্কর হয়ে আছেন। কোরআনে কারিমে প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে হৃদ্যতামূলক আচরণ করতে এবং তাদেরকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রাচীন যুগে প্রতিবন্ধীদের উপেক্ষা করা হতো, তাদের সামাজিক মান-মর্যাদা দেওয়া হত না। এমনকি এখনও কিছু সমাজে তা দেখা যায়। কিন্তু নবী কারিম (সা.) সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে তার অনুপস্থিতির সময় মদিনার মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব এক প্রতিবন্ধী সাহাবিকে অর্পণ করে তাদেরকে সমাজের সর্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত করার নজির তৈরি করেন। তিনি প্রতিবন্ধী সাহাবিকে আজান দেওয়ার কাজেও নিযুক্ত করেছিলেন। সেই সম্মানীয় সাহাবি হলেন- হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)।

প্রতিবন্ধীদের জন্য শরিয়তের বিধান বাস্তবায়নেও ছাড় রয়েছে। অর্থাৎ শরয়ি আদেশ জরুরি নয় কিন্তু ক্ষমতাবানের প্রতি। এই ফিকহি মূলনীতিটির ব্যাখ্যা হচ্ছে, প্রত্যেক ফরজ বিধান যা মহান আল্লাহ মানুষের প্রতি ধার্য করেছেন, যদি মানুষ তা পালনে সক্ষম হয়, তাহলে তার প্রতি তা পালন করা আবশ্যক হবে, সে প্রতিবন্ধী হোক বা অপ্রতিবন্ধী। আর যদি সম্পূর্ণরূপে সে তা বাস্তবায়ন করতে অক্ষম হয়, তাহলে তা থেকে সে মুক্তি পাবে। আর যদি কিছুটা করতে সক্ষম হয় এবং কিছুটা করতে অক্ষম হয়, তাহলে যেই পরিমাণ করতে সক্ষম হবে, সেই পরিমাণ তাকে পালন করতে হবে এবং যেই পরিমাণ করতে অক্ষম হবে, সেই পরিমাণ থেকে সে ছাড় পেয়ে যাবে।

সমাজ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও তাদের ন্যায্য পাওনা সম্পর্কে ইসলাম গুরুত্ব প্রদান করেছে। যেহেতু প্রতিবন্ধীরা শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থ-সামাজিক অক্ষমতা বা অসুবিধার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। তাই তাদের প্রতি দয়া-মায়া, সেবা-যত্ন, সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহায়তার হাত সম্প্রসারণ করা একান্ত কর্তব্য। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও ন্যায্য প্রাপ্য।

বিপদ-আপদে সবসময় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানো ঈমানি দায়িত্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা তাদের উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা ঠাট্টা-তামাশা করা সৃষ্টিকে তথা আল্লাহকে উপহাস করার শামিল। প্রতিবন্ধীদের সীমাহীন দুঃখ-দূর্দশা উপলব্ধি করতে পারেন সেসব ধর্মপ্রাণ সংবেদনশীল মানুষ, যারা অন্যের দুঃখ-বেদনাকে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখেন।

ইসলামের আলোকে প্রতিবন্ধীদের পরমুখাপেক্ষিতার পথ থেকে স্বাবলম্বিতার পথে আনার সব রকম প্রচেষ্টা জোরদার করার তাগিদ রয়েছে। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করে, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করে থাকেন।’ -সহিহ মুসলিম

কিন্তু বর্তমান সমাজব্যবস্থায় দুর্বল ও অসহায় এই প্রতিবন্ধী শ্রেণি নানা নিগৃহের শিকার। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সমাজের প্রতিবন্ধী শ্রেণিকে তাদের অধিকার আদায়ের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাদেরও মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং স্বাভাবিক সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। পবিত্র ধর্ম ইসলাম প্রতিবন্ধীদের মানবিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত কার্যকরভাবে মানুষকে তাদের প্রতি কর্তব্য-সচেতন হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা এসেছে, ‘আর তাদের (বিত্তশালী) ধনসম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের হক বা অধিকার রয়েছে।’ -সুরা আয যারিয়াত : ১৯

অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা পেলে একজন প্রতিবন্ধীও সুন্দর ও সুস্থভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে। অনুকূল পরিবেশ, আর্থিক সহযোগিতা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে তারাও সমাজ, দেশ ও জাতি গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে পারে। প্রতিবন্ধীদের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক অক্ষমতার জন্য দূরে ঠেলে না দিয়ে তাদের প্রতি অন্যদের মতো সুন্দর আচরণ করা ইসলাম অনুসারীদের মানবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ প্রসঙ্গে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিজন। আল্লাহর কাছে প্রিয় সৃষ্টি হলো, যে তার সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করে।’

অন্য হাদিসে নবী কারিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে ফল খাওয়াবেন। যে তৃষ্ণার্তকে পানি পান করায়, আল্লাহ জান্নাতে তাকে শরবত পান করাবেন। যে কোনো দরিদ্রকে বস্ত্র দান করে, আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে পোশাক দান করবেন।’ -জামে তিরমিজি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিত্বের শিকার। জাতীয় পর্যায়ে জরিপ না থাকায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা কত তা জানা নেই। তবে এই প্রতিবন্ধিত্বের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই সমাজে যেসব প্রতিবন্ধী আছে তাদের সমাজ, দেশ বা জাতির বোঝা মনে না করে উন্নত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও কাজের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে তাদের মানবসম্পদে রূপান্তর করার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত। এতে একদিকে যেমন এরা স্বাবলম্বী হতে পারবে, অন্যদিকে দেশীয় অর্থনীতিতেও অনবদ্য ভূমিকা রাখতে পারবে। আর ইসলাম মানবকল্যাণের ধর্ম হিসেবে সবাইকে প্রতিবন্ধীদের যথার্থ অধিকারের প্রতি সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করে, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করে থাকেন।’ -সহিহ মুসলিম

আমাদের উচিত প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে ইসলাম তাদের যে সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছে তা নিশ্চিত করা।

   

খেলাধুলা ও রসিকতা, ইসলাম কী বলে?



মুফতি উমর ফারুক আশিকী
খেলাধুলা ও রসিকতা বিষয়ে ইসলামের বিধান মানা জরুরি, ছবি : সংগৃহীত

খেলাধুলা ও রসিকতা বিষয়ে ইসলামের বিধান মানা জরুরি, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোরআনে কারিম মানবজাতির হেদায়েতের মূল উৎস, মূল আলো। তাতে মানবজীবনের সফলতার প্রতিটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কেননা ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। তাতে মানুষের মন-মেজাজ, চিন্তা-চেতনার প্রতি গভীরভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে।

ইসলামে হাসি-উল্লাস, রসিকতা এবং শারীরিক সুস্থতা ও প্রশান্তির জন্য খেলাধুলার অনুমতি রয়েছে। শুধু এতটুকুই নয়, অলসতা দূর করে স্বস্তিবোধ ধরে রাখতে নতুন আমেজ আনার পাশাপাশি উৎসাহ-উদ্দীপনা, শক্তি ও সাহস অর্জন করতে আদেশও দিয়েছে।

কেননা এসব বিষয় জীবন গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে। তবে বিষয়গুলো হতে হবে শরিয়ত সমর্থিত ও অর্থবোধক। অনর্থক ও অবৈধ বিনোদন, খেলাধুলা অবশ্যই বর্জনীয়। তাই ইসলাম অলসতা, কর্মহীনতা, হীনমন্যতা, ভীরুতা পছন্দ করে না। বরং হাস্যোজ্জ্বল, কর্মঠ, সাহসি, দৃঢ়মনা ও প্রবল আত্মবিশ্বাসী হওয়াকে ইসলাম বেশি পছন্দ করে।

কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা চান তোমাদের জন্য সহজ করতে, তিনি তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না।’ -সুরা বাকারা : ১৮৫

আরেক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য দ্বীনের মধ্যে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।’ -সুরা হজ : ৭৮

হজরত আলী (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো সাহাবিকে পেরেশান দেখতেন, তখন রসিকতা করে তার মনে আনন্দ দান করতেন। -মিরকাত : ১/২১৮

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দুর্বল মুমিন অপেক্ষা সবল মুমিন শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। (তবে) প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ আছে। তোমাকে যা উপকার দেবে সে বিষয়ে প্রলুব্ধ হও, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। অক্ষম অকর্মণ্য হয়ো না। কোনো (অবাঞ্ছিত) বিষয়ে আক্রান্ত হলে বলো না, যদি আমি এটা করতাম তাহলে এটা এটা হতো; বরং বলবে আল্লাহর ফয়সালা; তিনি যা চান তা-ই করেন। কারণ ‘যদি’ কথাটা শয়তানের কাজের পথ খুলে দেয়।’ -সহিহ মুসলিম : ২৬৬৪

বর্ণিত হাদিসে চিন্তা ও কর্মশক্তিকে কাজে লাগানোর গভীর শিক্ষা আছে। ভারসাম্যপূর্ণভাবে গোটা বিষয়টি উম্মতের চিন্তা-চেতনায় উপস্থিত করা হয়েছে।

এসব আয়াত ও হাদিস থেকে খুব সহজেই বোঝা যায়, নেক কাজে শক্তি ও স্পৃহা বাড়াতে আনন্দ-ফূর্তি, হাসি–খুশি, রসিকতা, বিনোদন ও খেলাধুলা শরিয়তে একেবারে বর্জনীয় নয়; বরং পছন্দনীয় ও ভালো কাজ।

;

উমরা কনফারেন্সে যোগ দিতে সৌদি যাচ্ছেন হাব সভাপতি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, ছবি : সংগৃহীত

এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র উমরা ব্যবস্থাপনা ও উমরা পালনকারীদের জন্য করণীয় নির্ধারণে সৌদি সরকার কর্তৃক আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স যাচ্ছেন হজ্জ এজেন্সীজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) প্রেসিডেন্ট এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হাবের জনসংযোগ সচিব মুফতি মুহাম্মদ জুনায়েদ গুলজারের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পৃষ্ঠপোষকতায় দুই দিনব্যাপী উমরা কনফারেন্স পবিত্র মদিনায় অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী ডক্টর আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মুনাখেরার আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উমরা কনফারেন্সে সৌদি সরকারের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য হজ্জ এজেন্সীজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) প্রেসিডেন্ট এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম রোববার (২১ এপ্রিল) মদিনার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

‘পবিত্র উমরা ব্যবস্থাপনা ও উমরা যাত্রীদের জন্য করণীয়’ বিষয় নির্ধারণে সৌদি সরকার কর্তৃক আয়োজিত এটি প্রথম আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। কনফারেন্সে সৌদি সরকারের বিশেষ মেহমান এবং রিসোর্স পারসন হিসেবে দেশটির পক্ষ থেকে হাব প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সৌদি আরব সফরকালে হাব প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌদি হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডক্টর তওফিক বিন ফাওজান আল রাবিয়ার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এছাড়া সৌদি সরকারের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মুনাখেরা, উপমন্ত্রী ডা. আবদুল আজিজ ওয়াজ্জামসহ অন্যান্য সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

সফরকালে হাব প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের হজ ও উমরা যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নসহ হজ ও উমরা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি উমরাযাত্রীদের উমরা ভিসা ইস্যুর পদ্ধতি, গ্রাউন্ড সার্ভিস, উমরা ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হাব সভাপতি তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। সফরকালে দুই দেশের বেসরকারি উমরা এজেন্সির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। হাব সভাপতির নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক হজ ও উমরা এজেন্সি কনফারেন্সে যোগ দেবেন।

;

ঢাকার বুকে ‘চিনির টুকরা মসজিদ’



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শতবর্ষী কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ, ছবি : সংগৃহীত

শতবর্ষী কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকাকে বলা হয় মসজিদের শহর। পুরনো এই শহরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজারো ঐতিহাসিক মসজিদ। ঢাকায় ইসলামি ঐতিহ্যের বাহক এমনই এক স্থাপনা হলো- কসাইটুলির কে পি ঘোষ রোডের শতবর্ষী কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ।

নামে না চিনলেও ছবি দেখে অনেকেই মসজিদটি চিনে উঠতে পারেন। কারণ, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিটিভির আজানের সময় এই মসজিদের দৃশ্য দেখানো হতো।

এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত ঢাকা কোষ থেকে জানা যায়, পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আবদুল বারি ১৯০৭ সালে বংশাল থানার আধীন কে পি ঘোষ রোডে এই মসজিদ তৈরি করেন। নয়নাভিরাম কারুকার্য শোভিত এই মসজিদের ছাদে তিনটি গম্বুজ। চার কোনায় চারটি বুরুজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গম্বুজ আর বুরুজগুলোর মাথায় রয়েছে সূক্ষ্ম পদ্ম ফুলের নকশা করা তীর। ছাদের চারদিক ঘিরে আছে অনেক টারেট, যা মসজিদের নকশাকে আরও জমকালো করে তুলেছে।

মসজিদের ভেতরের কারুকাজ, ছবি : সংগৃহীত

মসজিদটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, চীনামাটির অভিনব সব কারুকাজ। ভেতরে বাইরে প্রায় সব দেয়ালেই মোজাইকে নকশা করা। চীনামাটির ভাঙা টুকরা আর রঙিন কাচ দিয়ে গোলাপের ঝাড়, আঙুরের থোকা, ফুলদানির ছবি ফুটে উঠেছে মসজিদের দেয়ালে-খিলানে।

ভেতরের মিহরাব এবং এর আশপাশের নকশা সবচেয়ে রঙিন ও মনোমুগ্ধকর। মসজিদের দেয়ালের চীনামাটির টুকরাগুলো দেখতে চিনির টুকরার মতো বলেই স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি চিনির টুকরা মসজিদ হিসেবেই অধিক প্রসিদ্ধ।

বংশাল রোডের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার গলি ঘুপচি দিয়ে হাঁটতে গেলে হঠাৎই নজর কাড়ে এই অনিন্দ্যসুন্দর মসজিদটি। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে জানা যায়, অতীতে আরও বেশি সুন্দর ছিল এই মসজিদ।

মসজিদটি মূল অংশ, বারান্দাসহ প্রায় দুই কাঠা জায়গার ওপর অবস্থিত। মূল মসজিদের অবকাঠামোয় আলাদা সমতল ছাদ নেই। ভেতর দিয়ে ছাদের বেশির ভাগ অংশে সরাসরি তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন আকারের কয়েকটি গম্বুজ। মসজিদ ভবনের মধ্যে বড়, দুই পাশে মাঝারি ধরনের এবং চার কোনায় একই ডিজাইনের চারটি গম্বুজ রয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি ছোট ও দুটি জোড়া পিলারে দুটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোর উচ্চতা পাঁচ থেকে ১২ ফুট। ছাদবিহীন মসজিদের প্রতিটি পিলারের মাথায় রয়েছে গম্বুজ বা মিনার।

মসজিদের ভেতরের কারুকাজ, ছবি : সংগৃহীত

মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ধাপে ধাপে পেছনে তিনতলা পর্যন্ত এর সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে মূল মসজিদের কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। যদিও এখন ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে চীনামাটির করা এর মূল সৌন্দর্য। জনশ্রুতি আছে, মানুষের পাশাপাশি এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসত জিনও।

মুসলিম সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর হলো মসজিদ। বিশ্বের প্রায় সব দেশের মতো বাংলাদেশেও আছে অনন্য স্থাপত্যশৈলীর নয়নাভিরাম কারুকার্যসমৃদ্ধ অসংখ্য মসজিদ। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দীর্ঘকাল দাঁড়িয়ে থাকবে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন।

যেকোনো দিন চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন শতবর্ষ পুরোনো এই মসজিদ থেকে। ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে বাবুবাজার ব্রিজ বা বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুতে আসতে হবে। এখান থেকে রিকশা নিয়ে যেতে হবে। হেঁটেও যেতে পারেন। কসাইটুলির চিনির মসজিদ বললে যে কেউ নিয়ে যাবে।

;

হজযাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা দিতে সরকার বদ্ধপরিকর: ধর্মমন্ত্রী



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার ডলারের দাম বৃদ্ধির পরও গত বছরের তুলনায় এ বছর সাধারণ হজ প্যাকেজের খরচ হ্রাস করেছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান। তিনি বলেন, হজের খরচ সরকারিভাবে ১ লাখ ৪ হাজার ১৭৮ টাকা এবং বেসরকারিভাবে ৮২ হাজার ৮১৮ টাকা কমানো হয়েছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হজযাত্রী প্রশিক্ষণ ২০২৪’র শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফরিদুল হক খান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার হজযাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। হজযাত্রীরা যাতে যৌক্তিক খরচে হজব্রত পালন করতে পারে, সে বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীদের নিবন্ধন থেকে শুরু করে দাফতরিক যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে, সেগুলো আরও কিভাবে সহজ করা যায়, কিভাবে হজযাত্রীদের আরেকটু বেশি কমফোর্ট দেওয়া যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনায় আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

হজ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সকলেই যাতে সহি-শুদ্ধভাবে হজব্রত পালন করতে পারেন, সেজন্যই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে আপনাদের প্রশিক্ষণের জন্য অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। আপনারা যদি প্রশিক্ষণের প্রতি মনযোগী হতে পারেন তাহলে আপনারা হজের নিয়ম-কানুন, হুকুম-আহকাম, ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতা- সবকিছু আয়ত্তে আনতে পারবেন।

ধর্মসচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব (হজ) মো. মতিউল ইসলাম, যুগ্মসচিব মো. নায়েব আলী মন্ডল, যুগ্ম সচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক, ঢাকা হজ অফিসের পরিচালক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বক্তব্য দেন।

;