কোরআন মানব জীবনের মহান পথপ্রদর্শক



ইসলাম ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
কোরআন মানব জীবনের মহান পথপ্রদর্শক, ছবি: সংগৃহীত

কোরআন মানব জীবনের মহান পথপ্রদর্শক, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যা বারবার পড়তে হয়, তাকেই কোরআন বলা হয়। ‘কোরআন’ আরবি শব্দ। কোরআন যেহেতু বারবার পঠিত হয়, তাই এর এরূপ নামকরণ। অথবা কোরআন অর্থ সংযুক্ত করা। যেহেতু এক আয়াত অন্য আয়াতের সঙ্গে এবং এক সূরা অন্য সূরার সঙ্গে সংযুক্ত করে কোরআন শরিফকে গ্রন্থে রূপদান করা হয়েছে, তাই এরূপ নামকরণও সার্থক হয়েছে।

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তের সুদীর্ঘ ২৩ বছর জীবনকালে হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন সময় প্রয়োজন অনুযায়ী যে বাণী অবতীর্ণ করেছেন, তার সংকলিত রূপই হলো- কোরআন। কোরআন সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় বর্তমানের মানবজাতির নিকট মজুত আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে- ইনশাআল্লাহ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আমি কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী।’

তথ্য-প্রযুক্তির চাকচিক্যময় চোখ ধাঁধানো এ যুগেও যে গ্রন্থটি সম্পর্কে বিশ্ববাসীর বিস্ময়ের অন্ত নেই তার নাম কোরআনে কারিম। কোরআন একাধারে বিশ্ব পরিচালনার সংবিধান, বিজ্ঞান গ্রন্থ, সমাজ বিজ্ঞান এবং একটি আধ্যাত্মিক গ্রন্থ। জ্ঞানের এমন কোনো শাখা আজও উদ্ভব হয়নি, যে সম্পর্কে কোরআনে উল্লেখ নেই। কিয়ামত পর্যন্ত মানব জাতির সব চাহিদা ও জিজ্ঞাসার জবাব এই কোরআন।

কোরআনের ব্যবহারিক পরিচয়
সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব: কোরআন ১০৪ খানা আসমানি কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ বিধান গ্রন্থ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘এটা অতীতের সব কিতাবের সত্যতা প্রমাণকারী।’

পরিপূর্ণ জীবন বিধান: আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আজকের এই দিনে আমি দ্বীনকে তোমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিলাম।’ বস্তুত কোরআন নাজিল শেষ করার পরই আল্লাহ এই ঘোষণা প্রদান করেন। কিয়ামত পর্যন্ত মানব জাতির জীবন সমস্যার সকল সমাধান কোরআনে রয়েছে।

সর্বশেষ আসমানি কিতাব: কোরআন নাজিলের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা দ্বীনকে মানব জাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ রূপদান করেছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন নবুওয়ত ও আসমানি কিতাবের দরজা সুতরাং এটা সর্বশেষ খোদায়ী বিধান গ্রন্থ।

ইসলামি আইনের উৎস: ইসলামি আইন হচ্ছে, বিশ্বমানবতার জন্য সর্বাপেক্ষা নিরপেক্ষ ও ইনসাফপূর্ণ আইন। আর এর উৎস হচ্ছে- কোরআনে কারিম।

কোরআনের ভাষাগত মাহাত্ম্য
কাব্যিক অনুরণন: কোরআনের ভাষার কাব্যিক অনুরণন সবচেয়ে আকর্ষণীয়। অতি শক্তিশালী ভাবসম্পন্ন এবং গুরুগম্ভীর বিষয় ও ছন্দের ঝঙ্কারে এর ভাষা হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে। পৃথিবীর আর কোনো গ্রন্থে কাব্যিক সৌন্দর্য ও শক্তিশালী মতবাদের এমন সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায় না।

আবেদনময় ভাষা: কোরআনের ভাষা সহজেই মনকে প্রভাবিত করে। এর ভাষার যে শক্তিশালী মিল, বন্ধনগত আবেদন রয়েছে তা অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। তবে যে ব্যাপারটি লক্ষণীয়, তা হলো- ভাষার বন্ধন শক্তিশালী করতে গিয়ে কখনও ব্যাকরণের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়নি। মরিস বুকাইলি তাই বলেছেন, ‘কোরআন ভাষাবিদদের জন্য শব্দকোষ আর ব্যাকরণবিদদের জন্য ব্যাকরণ গ্রন্থ।’

উৎকৃষ্ট সাহিত্যমানসম্পন্ন ভাষা: আরবের তৎকালীন সমস্ত কবিভাষ্যবিদরা মিলেও কোরআনের একটি আয়াতের সমতুল্য আয়াত রচনায় সক্ষম হননি। এর আঙ্গিক সৌন্দর্য ও অভ্যন্তরীণ সুষমায় বিশ্বের অসংখ্য খ্যাতনামা সাহিত্যিক হতবাক হয়েছেন। ছন্দবদ্ধ পদ্য ও গদ্যের অপূর্ব সমাহারে ভরপুর এই গ্রন্থ সর্বকালের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সাহিত্য।

মানবজীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কোরআন
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘এই কিতাবে সব মানুষের জন্য ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় স্থায়ী কার্যকারিতা ও হক না হকের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। আর পথনির্দেশ ও নসিহত রয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।’

নিম্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
ব্যক্তিগত জীবনে কোরআন: মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের যাবতীয় দিক যথা তার আচরণ, তার জীবনযাত্রা, তার সামগ্রিক জীবনযাপনের প্রণালী কোরআনে কারিমে রয়েছে।

পারিবারিক জীবনে কোরআন: পরিবারের গঠন, পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব-কর্তব্য ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে কোরআনে কারিমে আলোচনা রয়েছে।

সমষ্টিগত জীবনে কোরআন: বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের গঠনরীতি, এগুলোর সদস্য হিসেবে মানুষের আচরণ কেমন হবে সে ব্যাপারে কোরআনে কারিমে নির্দেশিকা রয়েছে।

সাংস্কৃতিক জীবনে কোরআন: মুসলিম সংস্কৃতির কাঠামো, সংস্কৃতির উপাদান, সাংস্কৃতিক পবিত্রতা ইত্যাদির বিষয়েও কোরআনে নির্দেশ আছে।

ধর্মীয় জীবনে কোরআন: ধর্মের মূলনীতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ধর্মের গঠন ইত্যাদি কোরআনে কারিমে আলোচিত হয়েছে বিশদভাবে।

রাজনৈতিক জীবনে কোরআন: রাষ্ট্রীয় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশের প্রকৃতি কেমন হবে সে ব্যাপারেও কোরআনে কারিমে নির্দেশ আছে। তেমনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে।

অর্থনৈতিক জীবনে কোরআন: ইসলামি অর্থব্যবস্থার গঠন-প্রকৃতি, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের গঠনসহ সব অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের প্রকৃতি সম্পর্কে কোরআন মাজিদে বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জীবনে কোরআন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামি রাষ্ট্রের ভূমিকা, আন্তর্জাতিক নীতি কেমন হবে সে ব্যাপারেও কোরআনে নির্দেশিকা রয়েছে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায়, কোরআন মাজিদ এমন এক পরিপূর্ণ বিধান গ্রন্থ যা মানবজীবনের সব দিক নিয়ে আলোচনা করেছে এবং মানুষের জীবন প্রণালী সম্পর্কে সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়। এ কারণে ইসলামকে আল্লাহ দীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এটি তথাকথিত ধর্মের মতো কোনো ধর্ম নয়।

ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর

ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের শিল্পী মুহাম্মদ বদরুজ্জামানের কণ্ঠে 'মইরা গেলে ফিইরা আসে না' শিরোনামে ইসলামি সংগীতের মডেল হলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা মিশা সওদাগর। সংগীতটির কথা লিখেছেন রফিকুল ইসলাম তাওহিদ, সুর করেছেন মুহাম্মদ বদরুজ্জামান। ভিডিও বানিয়েছেন নির্মাতা ইয়ামিন এলান।

গাজীপুর পুবাইলের মনোরম লোকেশনে নির্মিত সংগীতটি ১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩০মিনিটে ইসলামি সংগীত প্রকাশের পরিচিত প্লাটফর্ম 'হলি টিউনে' রিলিজ হবে।

প্রথমবারের মত ইসলামি সংগীতে অভিনয় করা নিয়ে মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমি বরাবরই ধর্মীয় আয়োজনগুলোতে থাকার চেষ্টা করি। ধর্মীয় বিধি-বিধানও মেনে চলার চেষ্টা করি। সেই দিক থেকে এ কাজটি করার জন্য আগ্রহী হয়েছি। আমার এ কাজটি দেখে যদি একজন মানুষের ভেতরও সৎভাবে বাঁচার ইচ্ছে জাগে তাহলে অমি সার্থক।’ গানটির প্রেক্ষাপট নিয়েও তিনি কথা বলেন।

তার ভাষ্য, গল্পের শুরুতে দেখা যাবে আমি নানাভাবে অর্থ উপার্জন করি। এর মধ্যে একদিন আমার একমাত্র শিশুকন্যা সন্তানটি মারা যায়। তারপর আমার মধ্যে উপলব্ধি হয় কেন এত অর্থ উপার্জন করছি। সত্যি বলতে একজন মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন পড়েনা। তবুও আমরা অনেক অন্যায় পথে উপার্জন করছি। আমি বিশ্বাস করি, যারা এটি দেখবেন তাদের মধ্যে কিছুটা হলেও নাড়া দেবে।’

সংগীতটির সুরকার ও গায়ক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, মইরা গেলে ফিইরা আসে না সংগীতটি মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। অত্যন্ত গোছালো ও সহজসরল এবং হৃদয়ছোঁয়া কথামালায় সাজানো হয়েছে এই মরমি সংগীতটি। আশা করি শ্রোতারা পছন্দ করবেন।

;

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন অনুিষ্ঠত

  • Font increase
  • Font Decrease

তিন হাজারের বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুররের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন’। সম্মেলনে বিশেষ নসিহত ও দোয়া পরিচালনা করেন শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি তাজুল ইসলাম।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল নয়টায় শুরু হওয়া সম্মেলন শেষ হয় আসরের নামাজের আগে। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিগত পঞ্চাশ বছরে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতিসহ প্রাক্তন ছাত্ররা দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিয়া আরজাবাদের মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালন করেন মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়জি মাসুম, মুফতি মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া ফাহিম।


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা রহুল আমিন উজানভী, মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা মুঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কামেসী, মাওলানা শামছুল আরেফিন খান, মুফতি এনায়েতুল্লাহ, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান ও প্রমুখ।

দেশের অন্যতম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু হয়। এর আগে থেকেই হিফজসহ অন্যান্য বিভাগ চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাসে তাফসির ও ফেরাকে বাতেলাসহ বিশেষ কোর্স চালু হয়। ২০০০ সালে খোলা হয় ইফতা বিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরজাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.), মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রহ.), মাওলানা রিজাউল কারিম ইসলামাবাদী (রহ.)-এর মতো গুণীজনদের স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিদের দায়িত্ব পালন করছেন আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.)-এর বড় ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

সম্মেলনে আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। এ উপলক্ষে মাসিক পয়গামে হক্বের একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়। সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে আরজাবাদ মাদরাসার মরহুম, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের জীবনী দিয়ে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্মারক উপহার দেওয়া হয়।

;

শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন

শনিবার জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা আর বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজধানীর মিরপুরের জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন’।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকাল নয়টা থেকে শুরু হয়ে আয়োজন চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আয়োজনে যোগ দিতে ইতোমধ্যেই প্রায় তিন হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। যাদের মধ্যে বিগত পঞ্চাশ বছরে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতিদের পাশাপাশি বিভিন্ন কোর্সের শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন ছাত্ররা রয়েছেন।

পারস্পরিক সহযোগিতা, চেনা-জানা ও সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী সম্মেলনটি কর্তৃপক্ষ হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করতে যাচ্ছে। প্রাক্তন ছাত্রদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আরজাবাদ মাদরাসা থেকে হিফজ, দাওরায়ে হাদিস ও ইফতা সমাপ্তকারী ছাত্রদের পাশাপাশি রমজানের বিশেষ কোর্স এবং আরজাবাদ মাদরাসায় যেকোনো এক বছর পড়ালেখা করেছেন এমন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

দেশের অন্যতম দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে দাওরায়ে হাদিসের দরস শুরু হয়। এর আগে থেকেই হিফজসহ অন্যান্য বিভাগ চালু ছিল। পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান মাসে তাফসির ও ফেরাকে বাতেলাসহ বিশেষ কোর্স চালু হয়। ২০০০ সালে খোলা হয় ইফতা বিভাগ।

ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আরজাবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.), মাওলানা মোস্তফা আজাদ (রহ.), মাওলানা রিজাউল কারিম ইসলামাবাদী (রহ.)-এর মতো গুণীজনদের স্মৃতি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিদের দায়িত্ব পালন করছেন আল্লামা শামছুদ্দীন কাসেমী (রহ.)-এর বড় ছেলে মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া।

মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া জানিয়েছেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে সময়ের যোগ্য সারথিরা হাজির হবেন। যেখানে তাদের শৈশব, শিক্ষাকাল ও গড়ে ওঠার নানা ইতিহাস রচিত হয়েছে। অর্ধ শতবর্ষের গৌরবগাঁথাময় পুনর্মিলনীর এই আয়োজন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে। আমাদের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। শুধু অপেক্ষা অনুষ্ঠানের।

জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন দীর্ঘদিনের স্বপ্নে ফসল উল্লেখ করে সম্মেলনের প্রচার উপ-কমিটির প্রধান মুফতি এনায়েতুল্লাহ জানান, জামিয়া আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী সম্মেলন ‘আবনায়ে আরজাবাদ সম্মেলন-২২’ নামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনকে সফল ও সুন্দর করতে একাধিক উপ-কমিটি গঠিত হয়েছে। দেশের নানা সেক্টরে আলো ছড়ানো আরজাবাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা একে-অপরের সঙ্গে শেয়ার করবেন। সম্মেলনে আরজাবাদ মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হবে। এ উপলক্ষে মাসিক পয়গামে হক্বের একটি বিশেষ সংখ্যা বের করা হয়েছে। সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে আরজবাবাদ মাদরাসার মরহুম, সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকদের জীবনী দিয়ে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে বিভিন্ন স্মারক সম্বলিত উপহার।

সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে অংশ নিতে আসা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নির্মানাধীন নতুন ভবনের নিচতলায় অবস্থিত বুথ থেকে টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম বুথে ১-৫০০, দ্বিতীয় বুথে ৫০১-১০০০, তৃতীয় বুথে ১০০১-১৫০০, চতুর্থ বুথে ১৫০১-২০০০ ও পঞ্চম বুথে ২০০১-২৫০০ ক্রমিক নম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিতরা দুটি টোকেন সংগ্রহ করবেন। একটি খাবারের, অন্যটি গিফট সংগ্রহের। টোকেনে খাবার ও গিফট সংগ্রহের স্থান উল্লেখ থাকবে। এছাড়া প্রধান ফটকের বাইরে অভ্যর্থনা বুথ থাকবে যেকোনো সমস্যা, পরামর্শ কিংবা অনুসন্ধানের জন্য।

;

ডিসেম্বরে হেফাজতের সম্মেলন, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেবেন হেফাজত আমির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঢাকা মহানগর কমিটি সম্প্রসারণ ও চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিসেম্বরে উলামা মাশায়েখ সম্মেলন ও কারাবন্দী হেফাজত নেতা-কর্মীদের মুক্তি এবং হেফাজতের নামে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেবেন হেফাজত আমির।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় সংগঠনের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রচার সম্পাদক মুফতী কেফায়েতুল্লাহ আজহারী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, নায়েবে আমীর মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলিল, মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম,  মাওলানা মুহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা মীর ইদরীস, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবাহানী, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী, সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার, মাওলানা রাশেদ বিন নূর।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহনগর কমিটি সম্প্রসারণ এবং পুনঃবিন্যাস করা হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী ও কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানীকে যুগ্মসচিব করা হয়।

এছাড়াও মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারীকে প্রচার সম্পাদক ও মাওলানা রাশেদ বিন নূরকে দফতর সম্পাদক করা হয়।

মাওলানা তাজুল ইসলামকে আহবায়ক এবং মাওলানা মাওলানা লোকমান হাকিমকে সদস্য সচিব করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকে কারাবন্দী হেফাজত নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও হেফাজতের নামে ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত  হওয়া  সকল মামলা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমীরে হেফাজতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়াও আগামী ১৭ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ব্যক্তি উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের যে কোনো  কাজে হেফাজতের পদ পদবী ব্যবহার না করার জন্য আমীরে হেফাজত সকল দায়িত্বশীলদের সতর্ক করেন।

জেলা কমিটি গঠন করার জন্য মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট সাব কমিটি গঠন করা হয়। এতে আরো আছেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী,  মাওলানা মীর ইদরীস,  মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী ও মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আজহারী।

;