দাজ্জালের ফেতনা সম্পর্কে সজাগ হোন



মুফতি মাহফূযুল হক, অতিথি লেখক, ইসলাম
সূরা কাহাফ তেলাওয়াতকারী দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে, ছবি: সংগৃহীত

সূরা কাহাফ তেলাওয়াতকারী দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি রমজানের ১৩তম তারাবিতে পাঠ করা হবে ১৬তম পারা অর্থাৎ সূরা কাহাফের ৭৫ নম্বর আয়াত থেকে সূরা ত্বহার শেষ পর্যন্ত। সূরা কাহাফের কিছু অংশ ১২তম রাতে তেলাওয়াত করা হয়েছে, অবশিষ্টাংশ আজ তেলাওয়াত করা হবে। সে হিসেবে আজ সূরা কাহাফ নিয়েই আলোচনা করা হলো। সূরা কাহাফে সরাসরি দাজ্জালের বিষয় উল্লেখ নেই তবুও সূরা কাহফের অন্যতম একটি প্রসঙ্গ দাজ্জাল।

পৃথিবীর শেষ সময়ে কিয়ামতের বড় একটি আলামত হিসেবে ৪টি ফেতনা নিয়ে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। সম্পদের ফেতনা, জ্ঞান ও তথ্যের ফেতনা, ক্ষমতার ফেতনা এবং ঈমানের ফেতনা। এর মধ্যে প্রথম ৩টি হবে ভিত্তি আর ৪র্থটি হবে উদ্দেশ্য। প্রথম ৩টিকে কাজে লাগিয়ে সে ৪র্থ উদ্দেশ্য পূরণের প্রয়াস চালাবে।

সে মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য বাদ দিয়ে তার আনুগত্য করার নির্দেশ দেবে। এটা হলো দাজ্জালের ঈমানের ফেতনা। সে বৃষ্টি বর্ষণ করার, না করার ক্ষমতা লাভ করবে। এর দ্বারা সে পৃথিবীর বিশাল সম্পদের ওপর নিজের আধিপত্য, কর্তৃত্ব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। এটা হবে তার সম্পদের ফেতনা। পৃথিবীর জ্ঞান ও তথ্যের বিশাল অংশ তার দখলে থাকবে। যার বলে সে তার প্রতিপক্ষের ওপর তথ্য হামলা চালাবে। জ্ঞান ও তথ্যের অপব্যবহার বা ভুল প্রচারের দ্বারা সে মানুষকে বশিভূত করে রাখার চেষ্টা করবে। এটা তার জ্ঞান ও তথ্যের ফেতনা। পৃথিবীর বিশাল অংশের ওপর তার রাজত্ব ও শাসন চলবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সে মানুষকে তার অনুগত বানাতে চাইবে। এটা তার ক্ষমতার ফেতনা।

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ এমনকি জন্মসূত্রের প্রচুর মুসলমান দাজ্জালের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, জ্ঞান-তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও শাসন নিয়ন্ত্রণের বিশালত্ব দেখে বিভ্রান্ত হয়ে সৃষ্টিকর্তাকে বাদ দিয়ে তার আনুগত্য মেনে নিয়ে ঈমানহারা হবে, কাফের হবে, বেঈমান হবে।

হাদিসে আছে, ‘প্রতি শুক্রবারে যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।’ অর্থাৎ দাজ্জালের সম্পদ, জ্ঞান ও শাসন ক্ষমতা দেখে সে বিভ্রান্ত হবে না, আল্লাহর আনুগত্য পরিহার করে দাজ্জালের আনুগত্য স্বীকার করবে না।

দাজ্জাল যে ৪ ফেতনা দ্বারা মানুষকে ঈমানহারা করবে সূরায়ে কাহাফে ৪টি ঘটনা দ্বারা এ ৪ ফেতনা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করা হয়েছে। সূরার শুরুতেই গুহাবাসী যুবকদের ঘটনা দ্বারা ঈমানের ফেতনা সম্পর্কে সচতেনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দুই বাগানের মালিকের ঘটনা দ্বারা সম্পদের ফেতনা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত মূসা (আ.) ও হজরত খিজির (আ.)-এর ঘটনা দ্বারা জ্ঞান ও তথ্যের ফেতনা সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। বাদশাহ যুলকারনাইনের ঘটনা দ্বারা শাসন ক্ষমতার ফেতনা সম্পর্কে সজাগ করা হয়েছে।

উপরন্তু দাজ্জালের বিশ্বব্যপী বিস্তৃত ফেতনা থেকে ঈমান রক্ষার জন্য উপরোক্ত ৪টি ঘটনার শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করার পাশাপাশি আরও কিছু গুণ ও মানসিক শক্তি অর্জন করতে হবে। সূরা কাহাফে ওই গুণগুলোরও আলোচনা এসেছে। যেমন-

২৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহর দিকে অধিক মনোনিবেশ থাকার গুণ অর্জন করার কথা বলা হয়ছে। আর এ গুণ হলো সকল ফেতনা প্রতিরোধের প্রধান শক্তি।

২৮ নম্বর আয়াতে নেককার মানুষদের সান্নিধ্য লাভের ও তাদের সাথে থাকার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।

৪৫ নম্বর আয়াতে পার্থিব জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করার মতো হৃদয় কাড়া আলোচনা আছে। যা উলব্ধি করতে পারলে কোনো ব্যক্তি সম্পদের কোনো ফেতনায় পতিত হবে না।

৪৭-৪৯ নম্বর আয়াতে পরকালের স্পৃহা জাগানোর কথা বলা হয়েছে।

৬৯ নম্বর আয়াতে ধৈর্যধারণের অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ফেতনায় টিকে থাকার জন্য এ গুণের কোনো বিকল্প নেই।

১১০ নম্বর আয়াতে বেশি বেশি নেক আমল সম্পাদনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

দাজ্জাল থেকে ঈমান বাঁচাতে হলে সূরা কাহাফের ৪টি ঘটনার শিক্ষা অনুধাবন করতে হবে আর সূরা কাহাফে বর্ণিত উক্ত ৬ গুণে নিজেকে গুণান্বিত করতে হবে। আর এ সবই সহজ হবে যদি হাদিস মেনে প্রতি শুক্রবারে সূরা কাহাফ মনোযোগের সঙ্গে তেলাওয়াত করা হয়।