সারকাণ্ডে সাবেক এমপি পোটনের সকালে জামিন, বিকেলে স্থগিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ৫৮১ কোটি টাকার সার আত্মসাতের অভিযোগে দুদুকের দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় নরসিংদী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কামরুল আশরাফ পোটনকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বুধবার (১২ জুন) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এই আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক, সাঈদ আহমেদ রাজা ও মোস্তাফিজুর রহমান খান।

গত ১৫ মে সাবেক এ এমপিসহ পাঁচজনের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। এরপর সাবেক এমপি কামরুল আশরাফ পোটন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

বুধবার সকালে বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। এরপর দুদক আপিল বিভাগে জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, সকালে হাইকোর্ট কামরুল আশরাফকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেন। এ জামিন স্থগিত চেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আপিল বিভাগে আবেদন করি। বিকেলে চেম্বার আদালত ২২ জুলাই পর্যন্ত জামিন স্থগিত করেছেন।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সাবেক এমপি পোটনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. রফিকুজ্জামান কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার সরবরাহের জন্য আমদানি করলেও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সার বাফার গুদামে না দিয়ে ৫৮১ কোটি ৫৮ লাখ ৯ হাজার ৬৪ টাকার ৭১ হাজার ৮০১ টন ৩১ কেজি সার আত্মসাৎ করেছেন।
এতে আরও বলা হয়, কামরুল আশরাফ খানের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পোটন ট্রেডার্সের ৫০ দিনের মধ্যে সার গুদামে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। সেটা না করে সার ট্রানজিটে রয়েছে বলে বিসিআইসিকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়।

রবির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
রবির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

রবির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদের দায়ের করা ২২৭ কোটি টাকার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেছেন আদালত।

রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার বাদী রবি-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জবানবন্দি প্রদান করেন। জবানবন্দি প্রদানের পর বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। তবে বাদীর জেরা শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ জুলাই ধার্য করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশফাকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

২০২২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মাহতাব এই মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর তার তৎকালীন আইনজীবী হাসান মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ আজিম সংবাাদ মাধ্যমকে বলেন, 'আমার মক্কেলকে রবি আজিয়াটা বোর্ডের কিছু সদস্য প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে। তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ারকে শেষ করে দিতে একাজ করা হয়। তাকে তার চাকরির প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হয়নি'।

২০১০ সালে প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা (সিএফও) পদে রবি আজিয়াটায় চাকরি শুরু করেন মাহতাব। এরপর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এবং সবশেষে ২০১৬-২১ সাল পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের আগস্টে তিনি কোম্পানির সাথে নিজের চাকরির চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুসারে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে সে সময় দেওয়া রবির বিবৃতি সূত্রে জানা যায়।

তবে মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই সময়ে চাকরির সুযোগসুবিধা বাবদ যে ২০ কোটি টাকা পাওনা ছিল, তারমধ্যে মাহতাবকে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেয় কোম্পানিটি।

তিনি আরও বলেন, 'তথাকথিত অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার সূত্র ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাকরিচ্যুতের ঘটনায় জব মার্কেটে তার সুনামহানি হয়েছে। এতে তিনি কাঙ্খিত চাকরির সুযোগগুলি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এজন্য কোম্পানিই (রবি) দায়ী'।

মামলায় তিনি ৫০ কোটি টাকা চেয়েছেন মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ। আরও ৫০ কোটি টাকা দাবি করেছেন মানসিক দুর্দশার জন্য। আর চাকরির বাজারে সুযোগ হারানোর জন্য চেয়েছেন ১১০.৭ কোটি টাকা।

এই মামলায় বিবাদী করা হয়, রবির মালয়েশিয়া-ভিত্তিক প্যারেন্ট কোম্পানি আজিয়াটা গ্রুপের সাবেক প্রধান নির্বাহী দাতো মো. ইজাজুদ্দিন ইদ্রিস, রবির চেয়ারম্যান থায়াপারান এস সাঙ্গারাপিল্লাই, রবির দুই পরিচালক- ড. হান্স বিজয়সুরিয়া ও বিবেক সুদকে।

জানা যায়, মাহতাব উদ্দিন ২০২১ সালের ২ আগস্ট পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা একই বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। রবির পরিচালনা পর্ষদ সে বছরের ৫ আগস্ট শর্তহীনভাবে সে পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা এক চিঠিতে তাকে জানায়। হঠাৎ করে রবি মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। এই লেনদেন সম্পর্কে আজিয়াটা গ্রুপ ও রবির বোর্ড অবগত ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন বাদী।

;

রেলওয়ের পোষ্য কোটা নিয়ে রুল জারি হাইকোর্টের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ রেলওয়ের চাকরিতে ১৪তম গ্রেড হতে ২০তম গ্রেডে ৪০ ভাগ পোষ্য কোটার বিধান সংবিধানের সঙ্গে কেনো সাংঘর্ষিক হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রোকনুজ্জামানের আনা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার (১৪ জুলাই) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রেলওয়ের সচিব ও আইন সচিবকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রেলওয়ের ক্যাডার বর্হিভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২০ এর নিয়োগ পদ্ধতি সংক্রান্ত ৩ বিধির উপবিধি ৩ এ বলা হয়েছে যে উপবিধি (১) ও (২) এ যা কিছু থাকুক না কেন সরাসরি নিয়োগযোগ্য ১৪তম গ্রেড হতে ২০তম গ্রেডের মোট শূন্য পদের শতকরা ৪০ ভাগ পদ যোগ্যতাসম্পন্ন পোষ্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে।

এ বিধানটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিটটি করা হয়।

;

কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আদালত/ছবি: সংগৃহীত

আদালত/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নবম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৪ জুলাই) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করেন।

এর আগে, গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১০ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ।

এদিকে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পর থেকে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। সরকারি চাকরিতে কোটা-ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ করছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার থেকে শুরু করেন ‘বাংলা ব্লকেড’। এতে দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য রাজধানীর অনেক প্রধান সড়ক বন্ধ থাকছে। একই অবস্থা বিভিন্ন মহাসড়ক ও রেলপথে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মানুষ।

আজ রোববার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের এক দফা দাবির বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান। রাষ্ট্রপতির কাছেও তারা সেই আবেদন রেখেছেন।

সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী) কোটা রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করার এক দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে মিছিল বের করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। শাহবাগ ও মৎস্য ভবন হয়ে এগিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মিছিলটি শিক্ষা অধিকার চত্বর ও জিরো পয়েন্টে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়। এতে গুলিস্তান এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

;

ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলই থাকছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আদালত/ছবি: সংগৃহীত

আদালত/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আনা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

রোববার (১৪ জুলাই) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ভর্তি বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা দুটি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া রায়ই বহাল রইল। হাইকোর্টের রায় অনুসারে ১৬৯ শিক্ষার্থীর শূন্য আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে এখন শিক্ষার্থী ভর্তিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনগত কোনো বাধা রইল না।

বয়সের নিয়ম না মানার অভিযোগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তিকৃত প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল থাকবে বলে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের ২৯ পৃষ্ঠায় দেওয়া রায় গত ২৭ জুন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

রায়ে বলা হয়, নির্দিষ্ট বয়সসীমার পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থীদের (আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের) ফিল্টার করার জন্য সফটওয়্যারে কোনো প্রোগ্রাম স্থাপন করা হয়নি। এরমধ্যে গত বছরের ২ ডিসেম্বর অযোগ্য ১৬৯ শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অন্যান্য অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের পুনরাবৃত্তি না হয় এবং নিষ্পাপ শিশুরা কর্তৃপক্ষের অবহেলা,অদক্ষতা ও অপকর্মের বিষয়বস্তু না হতে হয়।

রায়ে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভিকারুন্নিসার পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসন্ধান করবে। অনুসন্ধান কমিটি আরও ভালো ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করার এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করার পরামর্শ দেবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের সচিবকে ৩ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার নিচে নয় এমন কর্মকর্তার নেতৃত্বে কমিটি করতে হবে। বাকি দুই সদস্যের মধ্যে একজন শিক্ষা বোর্ড থেকে অপরজন আইটি এক্সপার্ট বুয়েট থেকে যুক্ত করতে হবে। এই রায়ের অনুলিপি শিক্ষা সচিব, বুয়েটের উপাচার্য এবং শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ভিকারুননিসায় ভর্তি নিয়ে বয়সের নিয়ম না মানার অভিযোগ এনে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি-ইচ্ছুক দুই শিক্ষার্থীর মা গত ১৪ জানুয়ারি রিট করেন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। তার ধারাবাহিকতায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি স্মারক হাইকোর্টে উপস্থাপন করে। মাউশির ওই আদেশ মতে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা অনুসরণ করেনি। ১ জানুয়ারি ২০১৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার প্রক্রিয়া ছিল বিধিবহির্ভূত। এসব ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ১০ জন ও ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে শিগগিরই মাউশিকে অবহিত করার অনুরোধ করা হলো।

এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ ১৬৯ জনের ভর্তি বাতিল করে। ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের পর এখন অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে শূন্য আসনে ভর্তি নিতে গত ৬ মার্চ নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাতিলকৃত শিক্ষার্থীর অভিভাবক আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিল বিভাগ গত ২০ মার্চ হাইকোর্টে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেন। এই সময় পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল ও অপেক্ষমাণদের ভর্তির ওপর স্থিতাবস্থা দেয়া হয়। এর মধ্যে ভর্তি বাতিল হওয়া ১২০ শিক্ষার্থীর পক্ষে আরেকটি রিট করা হয়। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৫ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন। এরপর পৃথক রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে গত ২১ মে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ২৯ পৃষ্ঠায় দেয়া এই রায়ের অনুলিপ প্রকাশের পর লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছিল। যা শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত আজ খারিজ করে আদেশ দেয়।

;