উচ্চমাত্রার চিনি থাকে এই খাবারগুলোতেও!

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
ইনস্ট্যান্টে ওটসে স্বাদবর্ধক হিসেবে চিনি যোগ করা হয়

ইনস্ট্যান্টে ওটসে স্বাদবর্ধক হিসেবে চিনি যোগ করা হয়

  • Font increase
  • Font Decrease

পুরো বিশ্ব জুড়েই চিনি ও চিনিসহ খাদ্য উপাদান বর্জনের বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠছে সকলে।

চিনিকে সরাসরি ‘সাদা বিষ’ হিসেবে বলা হচ্ছে, কারণ এই উপাদানটি এতোটাই ক্ষতিকর স্বাস্থ্যের জন্য। চিনি একদিকে যেমন খাবারের স্বাদকে বাড়িয়ে দেয়, তেমনিভাবে বাড়িয়ে দেয় নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকিও। এ কারণে কোমল পানীয় থেকে শুরু করে চিনি উপস্থিতি রয়েছে এমন খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য সচেতনরা। মিষ্টি ঘরানার খাবারে চিনি থাকবে এটা জানা কথা। কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে যেগুলোতেও সিক্রেট উপাদান হিসেবে ও স্বাদ বৃদ্ধির জন্যে চিনি যোগ করা হয়।

এই খাবারগুলো প্রায় প্রতিদিনই কখনো না কখনো খাওয়া হয়। ফলে চিনি গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরেও শরীরে ঠিকই চিনি প্রবেশ করে মেটাবলিজমে তারতম্য ঘটায়, ওজন কমানোতে বাধাদান করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক সমস্যা তৈরি করে।

সবার সুবিধা ও সচেতনতার জন্যে এমন কয়েকটি খাবারের নাম তুলে ধরা হলো যেগুলোতে লুকিয়ে থাকে চিনির মতো ক্ষতিকর উপাদান।

পাউরুটি

চিনিযুক্ত খাবার

ফ্রেশ পাউরুটির চনচনে ঘ্রাণ সবারই পছন্দের। কিন্তু এই পাউরুটিতেও লুকিয়ে রয়েছে চিনি। ময়দা, ইষ্ট ও চিনি হলো পাউরুটি তৈরি মূল উপাদান। এছাড়া ময়দা হলো বিশুদ্ধ কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে প্রবেশের পর ভেঙে রক্তের সাথে চিনি হিসেবে মিশে যায়। ফলে পাউরুটিকেও বলা যেতে পারে চিনির আরেকটি রূপ। এমনকি ব্রাউন ব্রেডেও অল্প মাত্রায় হলেও চিনি থাকে, যা পাউরুটিতে সঠিক স্বাদ আনতে কাজ করে।

বারবিকিউ সস

মাছ বা মাংস মেরিনেট করতে ও যেকোন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে বারবিকিউ সস অনবদ্য। কিন্তু এই বারবিকিউ সসে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি। মাত্র দুই টেবিল চামচ সসে থাকে ১৪ গ্রাম চিনি, যা তিন চা চামচেরও বেশি। এমনকি এক বোতল বারবিকিউ সসে প্রায় ৪০ শতাংশই হলো চিনি। সে অর্থে বলতেই হয় বারবিকিউ সস চিনিরই আরেকটি রূপ।

কেচাপ

চিনিযুক্ত খাবার

বারবিকিউ সসের পরেই যে জিনিসটি পুরো বিশ্ব জুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সেটা হলো কেচাপ। সাধারণত অনেকেই মনে করেন যে কেচাপে কোন চিনি ব্যবহার করা হয় না। কিন্তু সসের মতো কেচাপেও একই মাত্রায় অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি ব্যবহার করা হয়। দেখা গেছে এক টেবিল চামচ কেচাপে এক চা চামচ পরিমাণ চিনি ব্যবহার করা হয়। যা বারবিকিউ সসের সমপরিমাণ প্রায়।

এনার্জি ও স্পোর্টস ড্রিংক্স

আমরা অনেকেই হুটহাট বিভিন্ন ধরনের এনার্জি ড্রিংক্স কিংবা স্পোর্টস ড্রিংক্স পান করি। ধরেই নেই যে এই সকল পানীয়তে চিনির পরিবর্তে অন্য কোন সুইটনার ব্যবহার করা হয়েছে অথবা স্বল্প মাত্রায় চিনি ব্যবহার করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, কোমল পানীয়ের মতো এই সকল পানীয়তেও থাকে উচ্চমাত্রার চিনি। এক সার্ভিং স্পোর্টিস/ এনার্জি ড্রিংক্সে থাকে ১৫ গ্রাম বা তারও বেশি চিনি।

ইনস্ট্যান্ট ওটস

ওজন কমাতে ডায়েট করার পরিকল্পনা করছেন? তবে ভুলেও ইনস্ট্যান্ট ওটসের দিকে হাত বাড়াবেন না। এই ওটসগুলো খেতে মজাদার হলেও এতে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি। যা স্বাস্থ্যকর ওটসকেও অস্বাস্থ্যকর করে দেয়। বিভিন্ন স্বাদের ও ধরনের ওটস ও প্যাকেটের ওজনের ওপর নির্ভর করে এই সকল ইনস্ট্যান্ট ওটসে থাকে ১৪ গ্রাম বা তার চাইতেও বেশি চিনি। এ কারণে ইনস্ট্যান্ট ওটসের পরিবর্তে খেতে হবে সাধারণ ওটস।

সালাদ ড্রেসিং

চিনিযুক্ত খাবার

মজাদার ও স্বাস্থ্যকর সালাদ তৈরিতে সালাদ ড্রেসিং ব্যবহার করা হলে সেটা মজাদার হতে পারে তবে স্বাস্থ্যকর হবে না। কারণ আর কিছুই নয়, এতে ব্যবহৃত সালাদ ড্রেসিং। পরীক্ষা করে দেখা গেছে দুই টেবিল চামচ সালাদ ড্রেসিংয়ে থাকে চার-পাঁচ গ্রাম পরিমাণ চিনি। যা সালাদ ড্রেসিংয়ের মেয়াদ ও স্বাদ বৃদ্ধি করে। তাই সালাদ তৈরিতে সালাদ ড্রেসিং ব্যবহারের পরিবর্তে অলিভ অয়েল, মধু, সরিষা বাটা ও লেবুর রসের মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: শরীর থেকে দূর করুন অতিরিক্ত চিনি

আরও পড়ুন: বিশ্বে সিঙ্গাপুরেই প্রথম নিষিদ্ধ হচ্ছে চিনিযুক্ত পানীয়

আপনার মতামত লিখুন :