ডাস্ট অ্যালার্জি এড়াতে ঘরকে রাখুন ধুলামুক্ত

ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইফস্টাইল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শীতকালীন সময়ে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পাশপাশি বেড়ে যায় ডাস্ট অ্যালার্জির প্রকোপও। আবহাওয়ার শুষ্কতার দরুন বাতাসে ধুলার মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে এমনটা হয়। ঘরের বাইরে বের হলে ধুলাবালির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য সতর্কতামূলক পন্থা অবলম্বন করতে হয়।

কিন্তু নিজের বাড়ি ও আপন ঘরই যদি ধুলার কারখানা হয়ে থাকে, তবে বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্ক হয়েও কোন লাভ হবে না। ভাবতেই পারেন, নিজের ঘরে ধুলা আসবে কোথা থেকে! অথচ প্রতিদিনের ব্যবহৃত জিনিসগুলোতেই রয়ে যাচ্ছে ধুলার আস্তরণ। যা বাড়িয়ে দিচ্ছে ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা। জেনে রাখুন কীভাবে নিজের ঘরকে ধুলামুক্ত রাখতে পারেন ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে দূরে থাকতে।

ক্লজেটে কাপড় রাখুন কম

আমাদের ঘরের ক্লজেট হলো ধুলা তৈরির কারখানা। ক্লজেটে থাকা জামা-কাপড়, তোয়ালে, বিছানার চাদরসহ অন্যান্য কাপড়ে জমে থাকে প্রচুর পরিমাণ ধুলা। যা সাধারণত খোলা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু ধুলার ভয়ে নিশ্চয় জামাকাপড় ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে ক্লজেটে কাপড় রাখার পরিবর্তে বক্সে, প্লাস্টিক কন্টেইনারে ও কাঁচের শেলফে কাপড় রাখতে হবে। এতে করে ধুলাবালি থেকে নিজেকে অনেকটা নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর বদলান

ডাস্ট অ্যালার্জি

এই অভ্যাসটি বাসাকে ধুলামুক্ত রাখতে খুবই জরুরি। অথচ অনেকেই এই নিয়মটি মেনে চলেন না। বিছানার চাদরের তন্তু তুলনামূলক ভারি ও মোটা হয়ে থাকে। ফলে এতে বাইরের ধুলাবালি বেশি আকৃষ্ট হয়। এছাড়া শরীরের মরা চামড়াও লেগে থাকে বিছানার চাদরে। প্রতিদিন বিছানা ঝাড়া হলেও সাত দিন পরপর অবশ্যই চাদর বদলে নিতে হবে। নতুবা এই বিছানার চাদরই হয়ে যাবে ধুলার কারখানা।  শুধু বিছানার চাদরই নয়, বালিশ-কোলবালিশের কভারও একই সাথে প্রতি সাত দিন অন্তর বদলে নিতে হবে।

সঠিক ক্লিনিং পণ্য ব্যবহার করুন

ডাস্ট অ্যালার্জি

ঘরের আসবাব থেকে ধুলাবালি ঝাড়তে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয় পালকের তৈরি ডাস্টার। অথচ ঘর পরিষ্কারের সময় ও ধুলাবালি ঝাড়ার মূল লক্ষ্যই হলো ঘরে ধুলার পরিমাণ কমিয়ে আনা। অথচ পালকের তৈরি ডাস্টার ঠিক তার বিপরীত কাজটিই করে। একটি স্থান থেকে পুরো ঘরে ধুলা ছড়িয়ে দেয়। এই জিনিসটি ব্যবহার যতই সহজ হোক না কেন, ঘরের আসবাব পরিষ্কারের জন্য এই জিনিসটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ধুলাবালি দূর করতে নরম ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করতে হবে হালকা ভিজিয়ে নিয়ে। এতে করে সকল ধুলাবালি তাতে আকৃষ্ট হবে, ছড়িয়ে যাবে না।

পাপোশ, কার্পেট ও পর্দা পরিষ্কার করতে হবে নিয়মিত

ডাস্ট অ্যালার্জি

এখনকার সময়ে খুব বেশি বাসায় কার্পেতের আনাগোনা দেখা যাবে না। তবে পাপোশ, শতরঞ্জি ও দরজা-জানাল্য পর্দা তো থাকেই। এই জিনিসগুলো ময়লা, ধুলা ও বালি খুব বেশি শোষণ করে। নিয়মিত যদি কাপড়ের এই জিনিসগুলো পরিষ্কার ও ভ্যাকুয়াম করা না হয়, তবে এগুলো থেকে ধুলা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পরে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ঘরে না থাকলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পাপোশ, পর্দা ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে খুব বেশি ধুলাযুক্ত হতে পারবে না জিনিসগুলো।

আরও পড়ুন:

নিয়মিত গোসলে বিরতি নয়

ঠিকভাবে হাত পরিষ্কার না করায় অসুস্থ হচ্ছেন কি?

আপনার মতামত লিখুন :