নরসিংদীতে ইউপি নির্বাচনে সংঘর্ষের আশঙ্কা



শরীফ ইকবাল রাসেল, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নরসিংদী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাংগা ও গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও বিএনপি সমর্থিত (স্বতন্ত্র) থেকে এবং ইসলামী শাসনতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে দলীয় প্রতিক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন একাধিক প্রার্থী।

এই নির্বাচনকে ঘিরে পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বদুরুদ জামান ভূঞা। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মো. জাকির হোসেন চৌধুরী।

নির্বাচনে নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন সহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেন চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন সাবেক এমপি ও বর্তমান এমপির ছোট ভাই কামরুল আশরাফ খান পোটন ও দলীয় বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। এমটাই জানিয়েছেন জাকির হোসেন চৌধুরীর সমর্থকরা।

এই ইউনিয়ননে আরো চারজন প্রার্থী থাকেলেও প্রতিদ্বন্দ্বীতা হচ্ছে দু’জনের মাঝেই। আর তাই এখানে জয়ী হতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। গজারিয়া ইউনিয়নে নিয়ম বহির্ভূত রঙিণ ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ড, টানানো রয়েছে। এছাড়া দিনরাত সমানতালে মিছিল-মিটিং, মাইকিংতো চলছেই। এরই মধ্যে দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মাঝে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযোগ ও থানায় মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কর্মকর্তা দায় এড়িয়ে বিষয়গুলে উপজেলা প্রশাসনের উপড় ঠেলে দেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো বিশেষ পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

অপরদিকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ডাংগা ইউনিয়নেও একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখানেও গজারিয়ার মতো প্রার্থী নিয়ে একই অবস্থা। চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবের উল হাই। অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পরিষদের সাবেক মেম্বার মো. কামাল হোসেন। এই ইউনিয়নেও নৌকার পক্ষে কাজ করছেন স্থানীয় সংসদ ও তার নেতাকর্মীরা। অপরদিকে নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন সাবেক এমপি ও বর্তমান এমপির ছোট ভাইসহ দলের বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। এছাড়াও আরো এক প্রার্থী থাকলেও এই দুজনের মধ্যেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।  

নির্বাচনি মাঠে এসব অনিয়ম ও প্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. জোবাইদা খাতুন জানান, আমার শুধু কাজ নির্বাচন গ্রহন করা। আর বাকি বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব প্রশাসনের।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা ইয়াসমিনের সাক্ষাত না পেয়ে তার সরকারী মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

দুটি ইউনিয়নে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে আপন দুই ভাই পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সেই কারনেই কিছুটা সংঘর্ষ ঘটছে। আর মাঠে প্রশাসনের নিরব ভূমিকার কারণেও অনিয়মগুলো হচ্ছে। তাই সংঘাত বিহীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে প্রশাসনের জোড়ালো ভূমিকা থাকতে হবে বলে মত দিয়েছেন সাধারণ ভোটারগণ।

এ বছরের ৪ মার্চ নির্বাচন কমিশন এদুটি ইউনিয়নের নির্বাচণি তফসিল ঘোষণা করেন। সেই মোতাবেক ১১ এপ্রিল ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও সরকারি সিদ্ধান্তে দেশে করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে এমাসের ২১ তারিখে ভোট গ্রহণের ঘোষণা দেন ইসি।