আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ শনিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘ ঘোষিত এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- ‘পরিবর্তিত বিশ্বে প্রবীণ ব্যক্তির সহনশীলতা’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিনটি পালন করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদফতর নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের ২৬২টি উপজেলার শতভাগ বয়স্ক ব্যক্তিকে এ ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৫৭ লাখ এক হাজার জন প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আশ্রয় ও স্বজনহীন প্রবীণদের জন্য আটটি প্রবীণ নিবাস স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপ প্রবীণদের কল্যাণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক অঙ্গীকার প্রতিপালনের জন্য ১৯৯৬ সালে প্রবীণ ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে বয়স্ক ভাতার প্রচলন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত বাস্তবমুখী নানাবিধ উদ্যোগের কারণে সামাজিক সূচকে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২.৪ বছরে উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে বেড়ে চলেছে প্রবীণ ব্যক্তির সংখ্যা। বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশের অধিক প্রবীণ। ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলস্বরূপ ইতোমধ্যে ২৬২টি উপজেলার শতভাগ বয়স্ক ব্যক্তিকে ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলার শত ভাগ প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে বয়স্ক ভাতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৫৭ লাখ এক হাজার জন প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে খুদেবার্তা পাঠানো, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় স্ক্রল প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদফতর মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।

‘বাংলাদেশ সবসময় ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়’



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ সবসময় ভারত থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়: ভার্মা

বাংলাদেশ সবসময় ভারত থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়: ভার্মা

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি নীতি থাকায় বাংলাদেশ সবসময় ভারতের নিকট থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলির জন্য ভারতের একটি নীতি রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়। যেকোনো বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায় বাংলাদেশ।’

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশকে ভারতের ‘খুব ভালো বন্ধু’ উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ কখনোই সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম ও সীমানা নেই। ‘আওয়ামী লীগ কখনো সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেয় না এবং বাংলাদেশের মাটিকে কখনোই এই উদ্দেশে ব্যবহার করতে দেয় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত আলোচনার মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অমীমাংসিত সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশের ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহবান জানান।

প্রণয় ভার্মা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈঠকে শেখ হাসিনা এবং ভার্মা উভয়ই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সহজতর করার জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (সিইপিএ) নিয়েও আলোচনা করেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা দিবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সমগ্র জীবন দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর উৎসর্গ অনুসরণ করে তিনি নিজেও দেশের মানুষের জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করছেন।

এসময় অ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

;

‘মাদক থেকে তরুণদের রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
‘মাদক থেকে তরুণদের রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই’

‘মাদক থেকে তরুণদের রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই’

  • Font increase
  • Font Decrease

মাদক থেকে তরুণদের রক্ষা করতে বর্তমান সময়ে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে বলেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় খ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, আমাদের সমাজে বর্তমানে মাদক একটু ভয়াবহ আকারে ধারণ করছে। অনেকদিন ধরে এই মাদক সমাজের রক্তে রক্তে ঢুকে গেছে। যখন যুবসমাজ খেলাধুলায় মগ্ন থাকবে তখন অন্যকাজে মন যাবে না। একই সময় অলস সময়টিতে খারাপ কাজে না থেকে যদি খেলাধুলা করো তাহলে তোমরা সুস্থ্য থাকবে, সমাজ সুস্থ্য থাকবে।

তিনি আরো বলেন, পঞ্চগড় জেলায় কয়েকটি উপজেলা রয়েছে তার মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলা খেলাধুলায় সব থেকে বেশি এগিয়ে। আমরা চাই এই খেলা আরো অনেকদূর এগিয়ে যাক। তেঁতুলিয়ার মেয়েরা শুধু হেন্ডবল খেলায় নয়, ফুটবলে নয়, অন্যান্য খেলাতেও এগিয়ে যাক। আজকে যে বাংলাদেশের নারীরা শ্রেষ্ঠ অর্জন করছে তার প্রমাণ কিছুদিন আগে হওয়া সাফ ফুটবল। সাফ ফুটবলে নারীরা কিন্তু চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল। এবং সেই অর্জন আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। এবং সেখানে আমাদের মেয়েরা যা দেখিয়েছেন আমাদের ছেলেরাও অনেকসময় তা দেখাতে পারি না। আমরা তোমাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় তোমাদের অর্জনকে শ্রদ্ধা জানায় তোমরা আমাদের যা দেখিয়েছ। আমি বিশ্বাস করি এই খেলাধুলা বা যতকিছুই করি না কেন সবকিছু আমাদের নারী পুরুষ মিলেই এই বাংলাদেশ। সকলের সমান অধিকার। এই দেশটিকে গঠনে আমরা আশা করব যেই স্টেডিয়াম আমরা গঠন করে দিচ্ছি এটি এই এলাকার খেলাধুলা বিকাশে অনেক বেশি উপকারে আসবে।

এসময় ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা, তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা, তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী মন্ডল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মাহবুবুর রহমান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মাজেদ, সহকারী প্রকৌশলী হেদায়েতুল হক মির্জা, প্রকল্প পরিচালক মাহবুব মোরশেদ প্রমূখ।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে তেঁতুলিয়া কাজী শাহবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের খেলোয়াড় শিক্ষার্থীরা ফুলদিয়ে বরণ করেন। এর পর তিনি ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। পরে পঞ্চগড় সদর উপজেলায় আরও একটি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, গত ২১ সালের ৪ মে ২য় পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। ২য় পর্যায়ে ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামের কাজের উদ্বোধন করা হচ্ছে। অনুমোদিত প্রকল্প মূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪৯.৩২৫২ কোটি টাকা।

;

একজন ‘রক্তযোদ্ধা’ রহিদের না বলা গল্প



এসএম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বছরের পর বছর স্বেচ্ছায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়মিত রক্ত দান করে মানবতার সেবায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুষ্টিয়ার সাদিক হাসান রহিদ। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ব্যাগ রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচিয়ে তোলার কাজে এগিয়ে এসেছেন। এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। এলাকার বন্ধু বান্ধবকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন “স্বপ্ন প্রয়াস যুব সংস্থা” নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ বিনামূল্যে রক্ত পাচ্ছেন এখান থেকে।

সাদিক হাসান রহিদ একজন রক্তযোদ্ধা। নিয়মিত রক্তদাতা। রক্ত প্রয়োজন, এমন কথা শুনলে সে অস্থির হয়ে যায় রক্ত সংগ্রহ করে দিতে। ছোট বেলায় বন্ধুদের নিয়ে সাইকেল নিয়ে ঘুরতে ভালোবাসতেন। এখন মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ান সে। পরিবারের খুব পরিশ্রমী ছেলে। বাবা মারা যাওয়ায় নানী এবং মামার কাছেই মানুষ। বিভিন্নভাবে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছেন। মিষ্টভাষী ও ভদ্র। নিজ এলাকায় তাকে সবাই খুব পছন্দ করে। অন্যকে সাহায্য করতে কখনো দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন না এই সাদিক হাসান রহিদ।

মানুষের রক্ত লাল। এই লাল ভালোবাসায় বিলিয়ে শান্তি পান সাদিক হাসান রহিদ।

কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া ১৬ নং মুন্সী লেন সড়কের মৃত বাদশা মন্ডলের ছেলে সাদিক হাসান রহিদ। এখনও সে শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনও পরিচালনা করেন তিনি। কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে কুষ্টিয়া ইনিস্টিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে টেক্সটাইল ৬ষ্ঠ পর্বে পড়ালেখা করছে সে। স্বপ্ন প্রয়াস যুব সংস্থা নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


সে জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্রয়োজন পড়লে তা সংগ্রহ করে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি নিয়মিত একটি ডায়েরি সংরক্ষণ করেন। তার অধীনে শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছে তার সংগঠনে।

সেখানে নিকটাত্মীয়-স্বজন, বন্ধু এমনকি পরিচিতজনদের রক্তের গ্রুপ মোবাইল নম্বরসহ অসংখ্য ব্যক্তির নাম রয়েছে। কারও জরুরি প্রয়োজনে রক্ত লাগলে রহিদের সঙ্গে মোবাইলে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করেন। রহিদ তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তিকে কোনো টাকা ছাড়াই রক্ত সংগ্রহ করে দেন।

সাদিক হাসান রহিদ জানান, মানুষ যখন খুব বিপদে পড়ে তখন অন্যকারও শরণাপন্ন হয়। বিশেষ করে যখন রক্তের প্রয়োজন হয় তখন মানুষ দিশাহারা হয়ে ওঠে। কোথায় পাবে, কীভাবে পাবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করলে রক্ত পাওয়া যাবে? সেই চিন্তা যেন তখন আকাশ সমান হয়ে দাঁড়ায়।

এরই মধ্যে একটা অন্যরকম অনুভূতি হয় তখন, যখন কারও বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারি। রক্তের পোস্ট বা মেসেজ পেলেই সাধ্যমতো চেষ্টা করি রক্ত জোগাড় করার জন্য। যখন রক্ত জোগাড় করে দিই তখন রক্ত গ্রহীতা ও তার আত্মীয়-স্বজনের হাসিমুখ দেখতে পাই। তখনকার অনুভূতি বোঝানোর মতো নয়। রক্ত জোগাড় করে দিলে মনে প্রশান্তি কাজ করে। কারও মুখে হাসি ফোঁটাতে পারার আনন্দ আসলেই অন্যরকম।

তিনি বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে অসুস্থ মানুষকে রক্ত সংগ্রহ করে দেয়ার এ কাজটি করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষকে কোনো টাকা ছাড়াই রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছি। আমি নিজেই তিরিশ বার রক্ত দিয়েছি। মঙ্গলবার সারাদিনে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন রোগীর জন্য ৬ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছি।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময় অসুস্থ মানুষের রক্তের প্রয়োজন পড়ে। কোনো ব্যক্তি রক্তের প্রয়োজন জানালে বন্ধু, পরিচিতজন, নিকটাত্মীয়দের কাছে রক্তদানের জন্য অনুরোধে করি। সে ব্যক্তি সম্মতি হলে অসুস্থ ব্যক্তিকে রক্তদান করা হয়।


শামীম রানা জানান, রহিদ দীর্ঘ দিন ধরে মানুষকে বিনা টাকায় রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করেন। তার এ কাজে আমরাও সহযোগিতার চেষ্টা করি।

সাংবাদিক এসএম জামাল জানান, রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাদিক হাসান রহিদ অনেক মানুষকে রক্ত সংগ্রহ করে দেন। এতে অনেক মানুষ উপকৃত হয়।

পরিবেশ ও পাখি নিয়ে কাজ করা সংগঠন মানুষ মানুষের জন্য সংগঠনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মিলন জানান, আমরা অনেক সময় দেখি হাসপাতালে অনেক মুমূর্ষু গরিব রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়। ওই সময় সাদিক হাসান রহিদকে জানানো মাত্র বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে যোগাযোগ করে রক্ত সংগ্রহ করে দেন। এটি খুবই ভালো কাজ। রহিদের এই কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

তার সংগঠনের সকল কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ করেন। রহিদ তার সংগঠনের সাহায্যে অনেক মানুষের ফ্রিতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দিয়েছেন। বিভিন্ন দিবস উদযাপন উপলক্ষে রহিদ ও তার বন্ধুরা মিলে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করান।

রহিদ একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। সব জাতীয় দিবস পালন করেন। সব স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেন। বিভিন্নভাবে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত।

রহিদ নিয়মিত তিন মাস পরপর রক্ত দান করেন। স্বপ্ন দেখে সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং রক্তের কোন‌ অভাব থাকবে না বাংলাদেশে। সবাই রক্ত দানে উৎসাহিত হবে।

;

নোয়াখালীতে ওএমএসের চাল উদ্ধার, গ্রেফতার ১



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
নোয়াখালীতে ওএমএসের ১১৩০ কেজি চাল উদ্ধার

নোয়াখালীতে ওএমএসের ১১৩০ কেজি চাল উদ্ধার

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ওএমএসের সরকারি ১১৩০ কেজি চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেফতার মাদক কারবারিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার নোয়াখালী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের দত্তেরহাট বাজারের হাকিম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ভিতর থেকে এই চাল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার মো.আব্দুল হাকিম (৪৭) নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের দাইয়া মিয়ার বাড়ির মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্তে এসব চাল উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে।

;