বৃদ্ধের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, ভূমি অফিসের দুই কর্মকর্তাকে বদলি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ভূমি অফিস

ভূমি অফিস

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি বাতিল করতে আসা এক বৃদ্ধের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এরমধ্যে অভিযুক্ত বিজয় নন্দ বড়ুয়াকে পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি ও নিউটন বড়ুয়াকে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বদলি করা হয়েছে।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৈতিকসূত্রে পাওয়া জমি মসজিদের জন্য দান করেছিলেন নুর বেগম। এরপর সেটি অধিগ্রহণ করে ফায়ার সার্ভিস। অধিগ্রহণের পর মসজিদ কমিটিকে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও দিয়েছিলেন দাতার স্বামী আবদুল মোনাফ। কিন্তু হঠাৎ উভয় নামজারি বাতিলের আবেদন করেন তিনি।

কাজ না হওয়ায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী বিজয় নন্দ বড়ুয়াকে গালিগালাজ করেন। অভিযোগ করেন, টাকা না দেওয়ায় তার কাজ হয়নি। এর প্রায় এক মাস ২০ দিন পর মারা গেলেও এখন মেয়েদের অভিযোগ, নন্দ বড়ুয়ার অসদাচরণের জেরে মারা গেছেন তিনি।

জানা যায়, গত আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে আব‌দুল মোনাফ হাটহাজারী ভূমি অফিসের অফিস সহকারী বিজয় নন্দ বড়ুয়ার কাছে আসেন। তিনি ২০১৯ সালে রুজুকৃত নামজারি পুনর্বিবেচনা মামলার (১৫৭/২০১৯) আদেশ সম্পর্কে জানতে চান। যা ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর জারি করা হয়।

এসময় বিজয় নন্দ বড়ুয়া জানান, আপনার জমি যেহেতু অধিগ্রহণ করা হয়েছে সেহেতু আপনার জমি নিয়ে নামজারি পুনর্বিবেচনা মামলাটি নথিজাত করা হয়। আপনি যদি আপিল করতে চান তাহলে আদেশের সার্টিফাইড কপি নিয়ে রাজস্ব আদালতে আপিল করতে পারেন।

এ কথা বিস্তারিত বলার পর আবদুল মোনাফ অফিস সহকারী বিজয় নন্দ বড়ুয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। তিনি টাকা দেননি বলে তার কাজ হয়নি বলেও দাবি করেন মোনাফ। মা-বাবাকে অতিরিক্ত গালিগালাজ করায় এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আবদুল মোনাফকে বেয়াদব বলে গালিগালাজ করেন বিজয় নন্দ বড়ুয়া। এসময় আরেক অফিস সহকারী নিউটন বড়ুয়া আবদুল মোনাফকে শাসিয়ে নিবৃত করার চেষ্টা করেন।

এদিকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আব‌দুল মোনাফ। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব‌দুল মোনাফের মেয়ে মিনু আক্তার। তার অভিযোগ, এসিল্যান্ড অফিসের বিজয় নন্দ বড়ুয়া ও নিউটন বড়ুয়ার দুর্ব্যবহারের ধকল সইতে না পেরে আমার বাবা মারা যান। আমি এ ঘটনার তদন্ত করে বিজয় নন্দ বড়ুয়া ও নিউটন বড়ুয়ার শাস্তি চাই।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালের আগে হাটহাজারীর মীরেরহাট মধ্য পাহাড়তলী মৌজায় আমার মা নুর বেগমের (বাবার সূত্রে পাওয়া) জমি আনোয়ারা বেগম নামে এক নারীর কাছে নিজের অংশসহ বিক্রি করেন মামা রফিক মিয়া। পরে সেই জমি জসিম উদ্দিন নামে আরেক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন আনোয়ারা। জসিম উদ্দিন আমার মা নূর বেগমের প্রাপ্ত অংশসহ নামজারি খতিয়ান সৃজন করেন। ২০১৭ সালে ওই জমি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করে সরকার (এল এ কেইস নং ২৯ / ২০১৭-২০১৮)। আমার মায়ের প্রাপ্ত অংশের ক্ষতিপূরণ পেতে তৎপরতা শুরু করে জসিম উদ্দিন। আমরা জানতে পেরে খতিয়ান দুটি বাতিলের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে হাটহাজারীর তৎকালীন এসি ল্যান্ডের কাছে আবেদন করি (নামজারি পুনর্বিবেচনা মামলা নং-১৫৭/২০১১)।

তিনি বলেন, কিন্তু তিন বছরের বেশি ধরে আমরা এসিল্যান্ড অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। ফাইলটি দেখাশোনা করছিলেন বিজয় নন্দ বড়ুয়া। তিনি নানা অজুহাতে নিষ্পত্তির জন্য সহায়তা না করে ফাইলটি আটকে রাখেন। বাবার সাথে দুর্ব্যবহারের পরের দিনই এসি ল্যান্ড স্যারকে ভুলভাল বুঝিয়ে খতিয়ান বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে আমার বাবা মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন। আমরা ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের জন্য ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার (এডিসি) কাছেও আবেদন করি।

তবে হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মধ্য পাহাড়তলী মৌজার ওই জমির (বি.এস. ১০৫১ নং খতিয়ানের বি.এস. ১২৫৪ দাগে ০.৪৮০০ একর) মালিক নুর বেগম ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর তিতাগাজী জামে মসজিদের পক্ষে মোতাওয়াল্লি আব্দুল লতিফের নিকট দান করেন। যা পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা হয় (এল.এ. মামলা নং ২৯/১৭-১৮)।

অধিগ্রহণের টাকা মসজিদ কমিটির নামে নামজারি না থাকায় ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর আবদুল মোনাফ ও তার মেয়ে মিনু আক্তার মসজিদ কমিটিকে (৩৪০০ নং) অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রি করে দেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল দেওয়ার সময় আবদুল মোনাফ মসজিদ কমিটি থেকে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আবু রায়হান বলেন, বৃদ্ধের সঙ্গে যে আচার-আচরণ করা হয়েছে সেটি খুবই দুঃখজনক। এ অভিযোগ পাওয়ার পর তাদেরকে অফিস থেকে বদলি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মাঠের বাইরেও দশগুণ মানুষ হবে: তথ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মাঠের বাইরে আরো আট-দশগুণ মানুষ হবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মাঠের বাইরে আরো আট-দশগুণ মানুষ হবে: তথ্যমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে উপলক্ষ করে সারা চট্টগ্রাম জুড়ে ব্যাপক সাড়া জেগেছে, মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করছি পলোগ্রাউন্ডে আমাদের জনসভায় মাঠ পূর্ণ করে মাঠের বাইরে আরো আট-দশগুণ মানুষ হবে ইনশাআল্লাহ। বাস্তবিক অর্থে এটিই হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব গতকালও বলেছেন নয়াপল্টনের সামনেই তাদের জনসভা হবে। আসলে ওদের উদ্দেশ্য জনসভা করা নয়, দেশে একটা গণ্ডগোল লাগানো এবং দেশকে অস্থিতিশীল করা। তাদের আবেদন অনুযায়ী তাদের সুবিধার্থে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে না গিয়ে নয়াপল্টনে জনসভা হবে এটি বারবার ঘোষণা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে দেশে একটি গণ্ডগোল লাগানো, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই তারা এটি বলছে। সরকার দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য কাউকে অনুমতি ও লাইসেন্স দিতে পাওে না। তারা তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, সেটি আমরা হতে দিব না।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড মাঠ পরিদর্শনশেষে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড অনেক বড় মাঠ, এখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জনসভা করেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও জনসভা করেছেন। কানায় কানায় পূর্ণ জনসভা হয়েছে। অতীতেও মাঠ ছাড়িয়ে মানুষ বাইরে দাঁড়িয়েছে। আমরা যেভাবে সাড়া দেখতে পাচ্ছি, এবার কিন্তু মাঠের তুলনায় আট-দশ গুণ বেশি মানুষ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ক’দিন আগে এখানে বিএনপি জনসভা করেছিল। মাঠের তিন ভাগের একভাগ পেছনে রেখে তারা মঞ্চ বানিয়েছিল। আর সামনে যে মাঠ ছিল তার অর্ধেক পূর্ণ হয়েছিল।

জনসভার মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে আওয়ামী লীগ কি মেসেজ দিতে চায় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করেছি, জনগণের সামনে হাজির হওয়া আমাদের দায়িত্ব। দেশ আগে কোথায় ছিল, এখন কোথায় গেছে, আমরা জনগণের জন্য কি করেছি, দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে চাই - এগুলো জনগণের সামনে উপস্থাপন করা জনগণের দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জনগণের নেত্রী, তিনি সেই কথাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণমানুষের দল, আমরা জনগণের জন্যই কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা গত চৌদ্দ বছরে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে উন্নীত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় পাকিস্তানকে তো বহু আগেই ছাড়িয়েছে, ভারতেকেও ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রামে জনসভার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী অনেকগুলো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন করবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি স্লোগান দেয় ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’, বাংলাদেশকে পিছনে নিয়ে যাও। অর্থাৎ আবার বাংলাভাই, শাইখ আবদুর রহমানের জমানায় নিয়ে যাও। আবার হাওয়া ভবন ও খোয়াব ভবন সৃষ্টি কর, পাঁচশ’ জায়গায় বোমা ফোটাও, দুর্নীতিতে দেশকে আবার পরপর পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন বানাও। তাদের স্লোগান অনুযায়ী আমরা বাংলাদেশকে পিছনে নিয়ে যেতে পারি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজকে উন্নতির সোপানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, আমরা দেশকে পিছনে নিয়ে যেতে পারি না। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি এই জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বিএনপি। তাদের হাতে তো আমরা দেশটা তুলে দিতে পারি না। সেটাও আমরা জনগণের সামনে ব্যাখ্যা দেব।

এসময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম ও সাধারন সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিম পেয়ারুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

;

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১১টি নতুন উপশাখার উদ্বোধন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১১টি নতুন উপশাখার উদ্বোধন

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১১টি নতুন উপশাখার উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১১টি নতুন উপশাখার উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় হতে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন উপশাখাগুলোর উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জাফর আলম।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মোঃ ইয়াহিয়া- এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সামছুল হক। এসময় অন্যান্যের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ফোরকানুল্লাহ, মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান কাজী ওবায়দুল আল-ফারুক, মার্কেটিং এন্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান মোঃ মনিরুজ্জামান, ব্রান্ড কন্ট্রোল এন্ড জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান সাইফ আল-আমীন এবং লজিস্টিক সাপোর্ট ডিভিশনের প্রধান এ.টি.এম জহুরুল হক।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহের ব্যবস্থাপক ও উপশাখার ইনচার্জ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ১১টি উপশাখা হচ্ছে নোয়াখালীর মাইজদীতে হাসপাতাল রোড, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, লক্ষ্মীপুরের মান্দারি বাজার, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, সিলেটের উপশহর, হরিপুর বাজার, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনার সলংগা, পাবনার বেড়া, চট্টগ্রামের বিবিরহাটের সরকার হাট ও ঝংকার মোড়ে।

;

‘সহায়তা পেলে জলবায়ু মোকাবিলায় জোরালোভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেছেন, শুধু বৈদেশিক সহায়তায় নয় বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করছে। এলক্ষ্যে ২০০৯ সালে গঠিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল হতে  ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৪৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এই তহবিলের অর্থে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮ শত ৫০ টির অধিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। পর্যাপ্ত বিদেশি সহায়তা পেলে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও জোরালোভাবে কাজ করতে পারবে। 

শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত “কপ-২৭ জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারে নি” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এবারের সম্মেলনে কিছু সীমাবদ্ধ থাকলেও আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। এবারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের মত জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে উন্নত দেশসমূহ কর্তৃক প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এলক্ষ্যে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। এবারের জলবায়ু সম্মেলনে লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ করা হয়নি যা অতিদ্রুত করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) বাস্তবায়ন করতে ২শত ৩০বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। পর্যাপ্ত বিদেশি সহায়তা পেলে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের জন্য বাংলাদেশের ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন বা NDC বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করা হবে।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকোনোলজি এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। বিতর্কে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকোনোলজি দল জয় লাভ করে। পরে মন্ত্রী বিজয়ী দলকে পুরস্কার প্রদান করেন।

;

‘প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কুষ্টিয়া
‘প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন’

‘প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন’

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিবন্ধীরা আমাদের সন্তান। তারা এখন আর সমাজের বোঝা নয়। আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের জীবনধারা পাল্টে যাবে। অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। ইতিমধ্যেই সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীকতাকে জয় করে অনেকেই সফলতা লাভ করেছেন।

শনিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিতে সহানুভূতি নিয়ে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ালে তারাও জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। সাধারণ মানুষের মতো বাঁচার অধিকার তাদেরও রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের জন্য চাকুরীর কোটা বাস্তবায়ন, বিভিন্ন কারিগরী প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি এনজিওসহ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই আমি উচ্চ মহলে যোগাযোগ করেছি।

এবারের কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনেক গানিম আল মুক্তা আলো ছড়িয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে। তাই অনুপ্রেরণার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীরাও এগিয়ে আসতে পারে।

শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের সমস্যা দূর করতে পারিবারিক পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলের ‘বিশেষ মনোযোগই’ মূল হাতিয়ার হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় জেলা প্রশাসক শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং এ বিষয়ে বিত্তবান ও হৃদয়বান বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আক্তার, কুষ্টিয়া সদর আওয়ামীলীগের সভাপতি বিজ্ঞ জিপি এ্যাড. আখতারুজ্জামান মাসুম, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, শহর সমাজসেবা অফিসার মোঃ জহিরুল ইসলাম, হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার মাহমুল হাসিব, রিসোর্স শিক্ষক আতিয়ার রহমান, সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রর ব্যবস্থাপক নাজনীন নাহার, সহকারী ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. খন্দকার শামস তানিম মুক্তি, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইয়াসমিন আহমেদ, প্রতিবন্ধী সেবা ও সহায়তা কেন্দ্রর কর্মকর্তা শামীম রেজা,

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সঙ্গীত শিক্ষক এসএম টিপু সুলতান,রতনা-হিরা-পারভেজ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।

এসময় জেলার সরকারি কর্মকর্তাসহ বেসরকারী ও বিভিন্ন এনজিওর প্রধানগণসহ প্রতিবন্ধীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র’র উদ্যেগে ১৬জন প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার, সাদাছড়ি, হেয়ারিংএইড ও জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিনাসুদে ৩জনকে ৭০হাজার টাকার চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

;