পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ১১.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ওই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কিছু দিন ধরেই উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১২-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রেকর্ড করা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলেও আজ সকাল ৯টায় ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। সোমবার বিকেল ৩টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে রোববার রেকর্ড হয়েছিল ২৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে বেশ ঠান্ডা অনভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে এসেছে। হিমালয়-কাঞ্চনজঙ্ঘা কাছাকাছি থাকায় এ অঞ্চলে আগেই শীত নামে। মূলত সকাল ১০টা থেকে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। সন্ধ্যার পর থেকে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের পারদ নেমে আসে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত শীত অনুভূত হয়।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, গত দিনের থেকে তাপমাত্রা কমেছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও সকাল ৯টায় তাপমাত্রা কমে রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

   

নরসিংদীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নরসিংদী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নরসিংদী শহরের মেঘনা নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী বাউল ঠাকুরের আখড়া ধামে শুরু হয়েছে বাউল মেলা। বাউল সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের মাঘী পূর্ণিমা তিথীতে অনুষ্ঠিত হয় ৭ দিন ব্যাপী এই বাউল মেলা।

এরই মধ্যে মেলায় অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন বাউল ভক্তরা। অপরদিকে মেলা উপলক্ষে মেঘনার পাড়ে খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল নিয়ে বসেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ছিল দেবতা ব্রহ্মার মহাযজ্ঞানুষ্ঠান। মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ভারত থেকেও বাউল ভক্ত ও পূর্ণাথীরা এতে অংশ নেন এ মেলায়। পূণ্য লাভের আশায় গঙ্গা স্নান করে আখড়ার জগন্নাথ ঠাকুর ও বাউল ঠাকুরের সমাধি মন্দিরে ঘি বাতি প্রজ্বলন করে মহাযজ্ঞে অংশ নেন।

উল আখড়ার আট চালা বৈঠক ঘরে চলে বাউলদের বৈঠক। বাউল সাধকরা এ আসরে বাউল গান পরিবেশন করেন। বাউল ভক্তদের দাবি, আত্মশুদ্ধি আর আত্মমুক্তির জন্য এ মেলায় আসেন এবং পরিবেশন করেন মানব প্রেমের গান। পরিবেশন করেন ‘এ কি আনন্দ গৌর চন্দ্র, চরণে বন্দী মনরে, দয়াল নিতাই তুমি হইলানা কেন আমার-বইয়ে ভাঙ্গা নাইয়ের বেপারী গানগুলো। গানের ফাঁকে ফাঁকে বাউল দর্শন ব্যাখ্যা করে শোনানো হয় উপস্থিত ভক্ত ও পূর্ণার্থীদের।

মেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাউল আখড়ার বংশধর স্নিগ্ধা বাউল জানান, আমাদের লোভ, হিংসা, ভোগ সকল ত্যাগ করে এখানে বসতে হয়। এখান থেকে মানুষ হয়ে যাতে ফিরে যেতে পারি, মানুষ হয়ে সারা জীবন যাতে কর্ম করে যেতে পারি এবং আবার যেন মানুষ হয়েই পৃথিবীতে জন্ম নিতে পারি এটাই আমাদের সাধনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি একটি ধর্ম। সেটি হল মানুষ। এক সময় এক ধর্মের বাণী নিয়ে গৃহস্তের বাড়ি থেকে মুষ্ঠি তোলা হতো এবং এই মেলার দিনে গৃহস্তদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো এবং তাদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আমরা চাই আবার একটি সুন্দর পৃথিবী তৈরি হবে, যেখানে থাকবেনা কোনো ভেদাভেদ, বৈষম্য বা উচু নিচু বংশ পরিচয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে পূর্ব বঙ্গে কাজ করেছেন এই বাউল সাধক।

মেলা কবে থেকে চালু হয়েছে তার সঠিক হিসেব কেউ না বলতে পারলেও কেউ কেউ বলে থাকেন ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এই মেলার আয়োজন করে আসছেন নদী রাম বাউল নামে এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে তার নাতী মনীন্দ্র চন্দ্র বাউলি এখন তার বংশধর এই মেলার আয়োজন করে থাকেন।

মেলায় বেসেছে বাহারি পণ্যের স্টল

প্রতি বছরের মতো এ বছরও মেলা উপলক্ষে আখড়াধামে ভারতসহ দেশ-বিদেশের বেশকিছু বাউল সাধক এসেছেন। মরমী এ সাধকদের কাছে সাধনাই মূল ধর্ম। আত্মশুদ্ধি আর আত্মমুক্তির জন্য এ মেলায় আসেন তারা। এখানে বাউলরা মানব প্রেমের গানে সুর তোলে মনের আনন্দে গান করেন। সাথে বাউলের গুণকীর্তন নিয়ে ধর্মীয় গান পরিবেশন করেন দেশি বিদেশি বাউল সাধক ও ভক্তরা।

এদিকে বাউল মেলা ঘিরে বাঙ্গালির চিরচেনা মুখরোচক খাবার ও বাহারি পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে- মোয়া, তিলের মোয়া, তিলের সন্দেশ, জিলাপী, সন্দেশ, মিঠাই, দই, আমিত্তি, মুড়ালি, গুড়ের তৈরি মুড়ি ও চিড়ার খাস্তা, কদমা, নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, খাজা, গজা, নিমকি, মনাক্কা, গাজরের হালুয়া, পিঠাসহ রকমারি খাবার। এছাড়া খেলনা, ঘরের তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক, মাটি, লোহা ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্যের স্টল বসছে।

;

খুলনায় ফার্নিচারের শো রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা মহানগরীর লোয়ার যশোর রোডের ডাকবাংলা এলাকায় নিউ নুসা ফার্নিচারের শো রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার কিছু আগে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে আগুনের ভয়াবহ লেলিহানে ওখানকার দুটি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কি কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সেটিও জানা যায়নি।

খুলনা থানার দায়িত্বরত এএসআই মো. আরিফ হোসেন জানান, রাত বারোটার কিছু আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

;

পুলিশ পরিচয়ে টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের দায়ে মো. সোহাগ (৪৫) নামে এক ভুয়া পুলিশকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার মোহাম্মদ সোহাগ (৪৫) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের সালেহপুর গ্রামের ডিলারের নতুন বাড়ির মৃত ইদ্রিস পাটোয়ারীর ছেলে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা শহর মাইজদীর হাসপাতাল রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি সোহাগ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মো.ফরহাদ হোসেন, মো.আবুল হাশেম, ফজর বানু লাভলী, মো. তারেক ও সাইফুল ইসলামের থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে পুলিশের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

নোয়াখালীল পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। ওই মামলায় রোববার আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

;

বিমানের টিকিট নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণা, কানাডায় বিপাকে ব্যবসায়ী



আল-আমিন রাজু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর তেজগাঁও থানার তেজকুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাফায়েল ব্যাপারীর ছেলে আলবার্ট প্রদীপ ব্যাপারী। পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আলবার্ট ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সপরিবারে কানাডা ভ্রমণে যান। আসা-যাওয়ার জন্য একই বছরের জুলাই মাসে ‘ট্রিপ টক’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেনেন। এই টিকিট দিয়ে কানাডায় যেতে পারলেও ফেরার পথে বিমানবন্দরে এসে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েন প্রদীপ।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি কানাডার টরেন্টো বিমানবন্দরে এসে বোডিং পাস নেওয়ার সময় জানতে পারেন তার টিকিটটি আর তার নামে নেই। বরং টিকিট ফেরত দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় বিদেশের মাটিতে বিপদে পড়ে যান এই ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে দেশে থাকা স্বজনদের সহযোগিতায় দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে দ্বারে-দ্বারে ঘুরেও নিজের টাকা কিংবা টিকিট কোনোটাই পাননি তিনি। অবশেষে থানায় ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রিপ টক’-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন প্রদীপ। যদিও ট্রাভেল এজেন্সিটির মালিক পক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে গ্রাহকের ওপর দোষ চাপাতে মরিয়া।

জানা গেছে, দেশে ফেরার ১ মাস পর মামলা করলেও সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন তিনি। ট্রাভেল এজেন্সির মালিক পক্ষকে সমাধানের কথা বারবার বললেও এর মালিক মাহের হাসান কোনো সমাধান দেননি। বরং তিনি নানাভাবে গোঁজামিল দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তেজগাঁও থানা আলবার্ট প্রদীপের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। মামলায় আসামি করা হয়েছে এজেন্সির মালিক মাহের হাসান, তার পার্টনার (ব্যবসার অংশীদার) মো. হাসিবুর রহমান ওরফে জীবন ও কর্মচারী শফিকুল শেখকে।

তেজগাঁও থানা দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আলবার্ট প্রদীপ তার সন্তান, স্ত্রীকে নিয়ে কানাডা যাওয়ার জন্য টিকিট কাটার চেষ্টা করছিলেন। এই সময়ে তার এক স্বজনের পরামর্শে ট্রিপ টক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কানাডায় যাওয়ার জন্য প্রতিটি টিকিটের দাম ধরা হয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসেবে তিনজনের আসা ও যাওয়ার জন্য ছয়টি টিকিটের দাম ধরা হয় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এই টাকা ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারীদের কাছে কয়েক ধাপে পরিশোধ করেন প্রদীপ। টাকা পরিশোধ করার পরে টিকিট বুঝে পেয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর পরিবার নিয়ে কানাডায় চলে যান প্রদীপ। সেখানে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর চলতি বছরের জানুয়ারির ২০ তারিখ কানাডার টরেন্টো বিমানবন্দরে এসে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। কিন্তু টিকিট চেকিংয়ে গিয়ে জানা যায় তার নামে কাটা টিকিট বাতিল করা হয়েছে। বরং এই টিকিট জমা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি টাকা তুলে নিয়েছে। এই সময়ে বিদেশে বসে এজেন্সির মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউই তার ফোন ধরেননি। এমনকি দেশে আসার পরে টিকিটের টাকা ফেরত চাইলেও এজেন্সিটি টাকা না দিয়ে বরং নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আলবার্ট প্রদীপ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমার এক স্বজনের মাধ্যমে এই ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে তারা আমার কাছ থেকে টিকিটের টাকা নিয়েছে। টিকিট দিলেও পরবর্তীতে আমি বিদেশে যাওয়ার পর তারা টিকিটের টাকা তুলে নিয়েছে। আমার কাছে তাদের টাকা দেওয়া এবং টিকিটের সকল তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এখন তারা ভিন্ন কথা বলছে।

প্রদীপের কাটা টিকিটের একটি কপি বার্তা২৪.কমের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৮৭-৯ এয়ারক্রাফটের টিকিট কেনেন। ফ্লাইট নম্বর: বিজি ৩০৫। এর প্রায় তিন মাস পর একই বিমানে ফেরার টিকিট কেটেছেন তিনি। যার ফ্লাইট নম্বর ৩০৬। ই-টিকিট নম্বর যথাক্রমে: ৯৯৭৯৩৪২৩৯১০২২, ৯৯৭৯৩৪২৩৯১০২৩ ও ৯৯৭৯৩৪২৩৯১০২৪।

এদিকে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীকেই দায়ী করছেন এজেন্সির মালিক মাহের হাসান। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, তিনি আমাদের কাছ থেকে টিকিট কেনেননি। আমার প্রতিষ্ঠানের এক সময়ের পার্টনার জীবনের কাছ থেকে টিকিট কেটেছিলেন, কিন্তু জীবন সেই টিকিটের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে। এমনকি সে আমার প্রতিষ্ঠানের ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে দুবাই গিয়ে আত্মগোপন করেছে। জীবনের বিরুদ্ধে আমরাও একাধিক মামলা ও জিডি করেছি। তার সঙ্গে আমাদের ২০২৩ সালের পহেলা আগস্ট থেকে কাগজেকলমে কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও জুলাই থেকেই সে আমাদের সঙ্গে নেই। এই বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার তেজগাঁও থানায় পুলিশ আমাদের ডেকেছিল। তখন আমরাই ভুক্তভোগীকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। সে যার সঙ্গে লেনদেন করেছে তার কাছ থেকে টাকা নেবে, এতে আমাদের কোনো দায় নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার তাকে (ভুক্তভোগী) জীবনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। কিন্তু সে আমাদের বারবার ডিস্টার্ব করছে। জীবনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেক ভুক্তভোগীই কিছু টাকা ফেরত পেয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী প্রদীপ বলছেন, আমি যখন টিকিট কিনেছি তখন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করেছি। না হলে কেউ একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর কাছে লাখ লাখ টাকা দেয়। তাদের প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আমাকে দেখিয়ে লাভ কী? তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায় এড়াতে পারে না। টাকা দাবি করায় তারা ‘আর কখনো বিদেশে যেতে পারব না’ বলে হুমকি দিচ্ছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর আমরা প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা যাচাই করেছি। সত্যতা পাওয়ার পর আমরা মামলা নিয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে।

;