বায়ুদূষণে বিপজ্জনক শহর এখন ঢাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় টানা ছয় দিন শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় দেখা যায়, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ৪২৭ নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান বিপজ্জনক বা দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

১০১ থেকে ২০০-এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

অন্যদিকে ৩০১ থেকে ৪০০-এর এর মধ্যে থাকা একিউআইকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

এ তালিকায় ৩৭৮ একিউআই স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে তাজিকিস্তানের তাশখন্দ; ২৪৬ নিয়ে তৃতীয় মঙ্গোলিয়া উলানবাটার। এরপর চতুর্থ স্থানে থাকা
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের স্কোর ১৯১ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের স্কোর ১৯০।

মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে বায়ুদূষণে। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো: ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।

বর্তমানে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণকাজ, রাস্তার ধুলা ও অন্যান্য উৎস থেকে দূষিত কণার ব্যাপক নিঃসরণের কারণে ঢাকা শহরের বাতাসের গুণমান দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতরের মতে, বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন।

প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাসহ ৬৯ জনকে শাস্তি দিয়েছে ইসি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অসদুপায়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা, এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাসহ ৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ইসির ওয়েবসাইটে শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

৬৯ জনের মধ্যে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা রয়েছেন ২৫ জন, এদের মধ্যে একজন উপ-সচিব ও একজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাও রয়েছেন। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা রয়েছেন তিনজন। আর তৃতীয় শ্রেণির ২৫ জন ও চতুর্থ শ্রেণির ১৬ জনসহ মোট ৬৯ জনকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিয়েছে ইসি। শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে।

জানা গেছে, এদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কয়েকজনকে নিচের পদে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত। আবার কেউ কেউ ‘তিরস্কার’ বা ’সতর্ক’ হওয়ার মতো শাস্তিও পেয়েছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান পলাতক থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। উপজেলা কর্মকর্তা এসএম নাসির উদ্দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও আর্থিক অনিয়ম করায় তার বেতন বৃদ্ধি এক বছরের জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় শাস্তি হিসেবে ‘তিরস্কার’ পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিনানুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বরখাস্ত হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এমকে আহমেদ অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কারণে তার বেতন বৃদ্ধি তিন বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া এনআইডি জালিয়াতি ও অনিয়মের কারণে উপ-সচিব মো. নওয়াবুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ছামিউল আলম, অমিত কুমার দাশ বেতন গ্রেডের নিম্নতম ধাপে অবনমিত হয়েছেন। আর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এনআইডি সংক্রান্ত অনিয়মের কারণের তিরস্কৃত হয়েছেন। লাইব্রেরিয়ান মো. নাসিমুল হক অবৈধ অর্থ লেনদেনের কারণে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হয়েছেন। অন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের বেতন বৃদ্ধি বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে আলিমুল রাজী নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানার সঙ্গে ‘মারাত্মক অসদাচরণ’ করার দায়ে এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি পেয়েছেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎ করায় ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো, কামরুল ইসলামের বেতন নিম্নতর গ্রেডে অবনমিত করাসহ সাত বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিতের শাস্তি পেয়েছেন। এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় বেতন নিম্নতর গ্রেডে অবনমিতকরণের শাস্তি পেয়েছেন। এদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও অনেকে বরখাস্ত হয়েছেন। অনেকের বেতন বৃদ্ধি বিভিন্ন মেয়াদে আটকে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিত হয়েছেন।

;

রাজবাড়ী আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক রাজ্জাক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
রাজবাড়ী আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক রাজ্জাক

রাজবাড়ী আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক রাজ্জাক

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ প্যানেলের মো. আনোয়ার হোসেন ৮৬ ভোট এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল থেকে মো.আব্দুর রাজ্জাক ৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. অশোক কুমার বোস।

জানা গেছে, তিনটি প্যানেল পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দুটি পদে দুইজন প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। যে তিনটি প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা হলেন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আনোয়ার-আনিছ-নিরঞ্জন পরিষদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে শহিদুল-টিটু-রাজ্জাক পরিষদ এবং সাধারণ আইনজীবী পরিষদ থেকে মোস্তফা-বাচ্চু-বিজন পরিষদ।

জেলা আইনজীবী সমিতির সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের মো.আনোয়ার হোসেন ৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ আইনজীবী পরিষদের এ.টি.এম মোস্তফা মিঠু পেয়েছেন ৬৯ ভোট।

সহ-সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের মো.আনিছুর রহমান ৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ আইনজীবী পরিষদের খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু পেয়েছেন ৮১ ভোট।

অন্যদিকে,সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল থেকে মো.আব্দুর রাজ্জাক ৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ আইনজীবী ফোরাম থেকে বিজন কুমার বোস ৫২ ভোট।

সহ-সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ থেকে মো.আশরাফুল হাসান আশা ৮৮ ভোট এবং সাধারণ আইনজীবী পরিষদ থেকে খান মোহাম্মদ জহুরুল হক ৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ আইনজীবী পরিষদের তসলিম আহমেদ তপন পান ৭৩ ভোট ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আবুল বাশার মোহাম্মদ শরীফ পান ৫৯ ভোট।

এছাড়াও ক্রীড়া,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী প্যানেল থেকে আহমেদ আলী মৃধা (বাটু) ৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাধারণ আইনজীবী পরিষদের বিপ্লব কুমার রায় ৬৮ ভোট পান।

এছাড়াও সদস্য পদে মো. তুহিন শেখ ৯৬ ভোট, সাখাওত হোসেন সালেহ ৮৬ ভোট, সুখেন্দু চক্রবর্তী ৮৩ ভোট, অনুপ কুমার দাস ৮২ ভোট ও খন্দকার সানোয়ার হোসেন ৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সমিতির কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ চলে। মোট ২০৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।এরপর রাত ৮টায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

;

ভয়ংকর হয়ে উঠছে সড়ক, একমাসে নিহত ৪



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
ভয়ংকর হয়ে উঠছে সড়ক

ভয়ংকর হয়ে উঠছে সড়ক

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক এখন মৃত্যু ফাঁদ। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইটভাটার অবৈধ মাটি টানা ট্রাক্টর। গ্রামীণ সড়কে চলা এসব শত শত ট্রাক্টর পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ঝুঁকিতে ফেলছে সাধারণ মানুষের। এছাড়াও এসব অবৈধ ট্রাক্টরে অরক্ষিতভাবে মাটি-বালু পরিবহনের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুসহ বয়োবৃদ্ধরা।

গত ২১ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত অবৈধ ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন চারজন। এরপরেও থেমে নেই এ সকল অবৈধ যান চলাচল। অবৈধ যান চলাচল বন্ধে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতেও থামছে না এ সকল পরিবহন চলাচল। ফলে দিনদিন সড়কগুলো ভয়ংকর হয়ে উঠছে।

অবৈধ ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। কাউকে আবার সারা জীবনের মতো বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। এছাড়া এগুলোর বিকট শব্দে ঘটছে শব্দদূষণও। ফলে পথচারীসহ জন সাধারণকে সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু চোখের সামনে অবৈধ এই যানের অবাধ চলাচল দেখেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ২১ ডিসেম্বর নারুয়া মধুপুরের মোড়ে অবৈধ ড্রাম ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুল মজিদ মোল্যা (৫০) নামে একজন নিহত হয়। তার দুদিন পরেই ২৩ ডিসেম্বর গাড়াকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফ (৭) ট্রাক্টরের নিচে পড়ে নিহত হয়। রাস্তায় মাটিপড়ে এবড়োথেবড়ো সড়কে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গত ১০ জানুয়ারি সদর ইউনিয়নের ইরশালবাড়ী গ্রামের সুনীল বিশ্বাস মারা যান। সবশেষ ২১ জানুয়ারি নবাবপুর ইউনিয়নের বকশিয়াবাড়ীতে সানজিদা (৫) নামের এক শিশু ট্রাক্টর চাপায় নিহত হয়।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতিমোহন থেকে নলিয়া যাবার পথে একটি ভ্যানের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যায় অবৈধ গাড়ি পটাং (স্থানীয় ভাষায়)। এতে ৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। যার মাঝে ২ জনের হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং বাকি দুজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় শিশু কিংবা কিশোররাও এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। উপজেলায় প্রতিদিন কয়েকশত ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক বিভিন্ন ধরনের মালামাল, বিশেষ করে মাটি ও বালু নিয়ে অবাধে চলাচল করছে। এধরনের যানবাহন নিয়ম মোতাবেক কৃষি জমিতে চাষাবাদের কাজে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ মোটরযান আইনে পাকা রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের তালিকায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও সংগঠক মুন্সী আমীর আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। দিনকে দিন যেভাবে রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ভটভটি, নসিমন, অটোভ্যান, ড্রাম ট্রাক্টর ইটবালি মাটিবহন করছে এবং রাস্তাঘাটে বেপরোয়া গতিতে জীবন বিপর্যস্ত করে চলেছে তাতে সুষ্ঠু সুন্দর জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে।বালিয়াকান্দিতে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে যার প্রতিক্রিয়া খুবই দুঃখজনক। যা প্রতিরোধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার। সাময়িক জরিমানায় কোন ফল আসবে না। প্রয়োজনে বিভিন্ন পেশাজীবি সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনকে একত্রিত করে বালিয়াকান্দি প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে এসব দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করি।

বালিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আমাদের এখনো কয়েকটি গাড়ি জব্দ রাখা আছে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম আজাদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, সত্যিই দিন দিন এ সকল অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বালিয়াকান্দিবাসী। গত কয়েক মাসে কয়েকটি তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছে এই সকল অবৈধ যানবাহনের মাধ্যমে। প্রশাসনের উচিত এ সকল অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়া।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, অদক্ষ ড্রাইভার ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। যা আগের তুলনায় বেশি। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এই যানবাহন যাতে দ্বিতীয়বার যাতে রাস্তায় না নামতে পারে সেজন্য আমরা পদক্ষেপ নিব।

;

আইএমএফের ঋণই প্রমাণ করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত: অর্থমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের অনুমোদনই প্রমাণ করে যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক ক্ষেত্রগুলো শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো বিশ্বের অনেক দেশের চেয়েই ভালো।

আইএমএফ ঋণ অনুমোদন করায় মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতার কারণে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থাটি বাংলাদেশে এধরনের ঋণ সুবিধা প্রদান করবে না। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তারা ঋণ অনুমোদন করে, তা ভুল প্রমাণিত করেছে। তিনি আইএমএফের এধরনের ঋণ সহায়তা প্রদানের জন্য এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ করে- আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থাটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আন্তোয়েনেট সায়েহ মনসেউ এবং মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ’র পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, আইএমএফ সোমবার বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ)-এর আওতায় প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)-এর আওতায় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে।

আইএমএফ-এর ইসিএফ বা ইএফএফ অনুমোদনের ফলে ৪২ মাসের মধ্যে নির্ধারিত সাতটি কিস্তির মধ্যে প্রথম হিসাবে প্রায় ৪৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ছয়টি সমান কিস্তিতে দেয়া হবে, প্রতিটি কিস্তি হবে ৭০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৪২ মাসের এই কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, দুর্বলদের সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করবে।

সংস্কারগুলো বৃহত্তর সামাজিক ও উন্নয়নমূলক ব্যয় সক্ষম করার জন্য বাজেট সক্ষমতা তৈরি করবে, আর্থিক খাতকে শক্তিশালীকরণ, নীতি কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করবে।

আইএমএফ’কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে মহামারি থেকে বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পেয়েছে। এতে আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষ এই সর্বশেষ অর্থনৈতিক বিঘœ মোকাবেলার জন্য একটি বিস্তৃত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, এই তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার পাশাপাশি, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা এবং দুর্বলতাগুলোও মোকাবেলা করতে হবে।

ইসিএফ/ইএফএফ ব্যবস্থার অধীনে আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপনের সময় দুর্বলদের সুরক্ষায় সহায়তা করবে। সমসাময়িক আরএসএফ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় চিহ্নিত জলবায়ু বিনিয়োগের অগ্রাধিকারগুলোর অর্থায়নের জন্য আর্থিক স্থান প্রসারিত করতে, অতিরিক্ত অর্থায়নকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু ঝুঁকির বিরুদ্ধে স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে ইসিএফ/ইএফএফের অধীনে সংস্থানগুলো পূর্ণ সহায়তা করবে।

;