রাজশাহীতে ২৫ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে ২৫ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে ২৫ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী নগরীসহ জেলায় মোট এক হাজার ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আরও ৩শ’ ৭৬কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ছয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রায় পাঁচ কোটি তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর সিএন্ডবি ক্রসিংয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। ম্যুরালটির উচ্চতা ৫৮ ফুট এবং ম্যুরালের মূল অংশে ৫০ ফুট উচ্চতা এবং ৪০ ফুট চওড়া বঙ্গবন্ধুর ছবি রয়েছে। সীমানা প্রাচীরের উভয় পাশে ৭০০ ফুট জায়গায় টেরাকোটার কাজ করা হয়েছিল। গ্যালারি এবং ল্যান্ডস্কেপিং সুপার গ্রানাইট দিয়ে সুসজ্জিত। ম্যুরালে নাইট ভিশনসহ সুসজ্জিত বৈদ্যুতিক বাতি রয়েছে।

এছাড়া রয়েছে- শেখ রাসেল শিশু পার্ক, মোহনপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার, চারলেনের সড়ক এবং ভাদ্রা রেল ক্রসিং থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ধীরগতির যানবাহনের জন্য একটি পৃথক লেনসহ রোড ডিভাইডার, চারলেনের সড়ক এবং রোড ডিভাইডার। বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে সিটির হাট পর্যন্ত ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন এবং সড়ক প্রশস্তকরণ, কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী ক্রসিং এবং কার্পেটিং সড়কের উন্নয়ন, হাই-টেক পার্ক হয়ে রেন্টুর খারির আড়ত থেকে ধলুর মোড় পর্যন্ত নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং কার্পেটিং। কোর্ট থেকে শাহারতলী ক্লাব পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ।

অন্যদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ২৪ কোটি টাকায় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন, আট কোটি ৩৫ লাখ টাকা আঞ্চলিক জনপ্রশাসন অফিস ভবন, ৬২ কোটি টাকায় শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বালক উচ্চ বিদ্যালয়। ১৬২ কোটি টাকায় বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ করা।

প্রকল্পগুলো উদ্বোধন শেষে বিকালে রাজশাহী মাদরাসা মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর আগে সারদা পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের প্রবেশনারি সহকারী পুলিশ সুপারদের পাসিং আউট প্যারেডে যোগ দিয়ে রাজশাহী সফর শুরু করার কথা রয়েছে।

আরসিসি সূত্রে জানা যায়, ছোট বনগ্রাম এলাকায় ২.১৪ একর জমির উপর পার্কটি নির্মাণকরা হয়, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় চার কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুঠিয়া থেকে বাগমারা পর্যন্ত একটি মহাসড়ক নির্মাণ করেছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রায় ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রধান কার্যালয়ের ষষ্ঠ তলা থেকে দশম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছে। প্রায় ২০ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দফতর ভবন নির্মাণ করেছে। লক্ষ্মীপুর এলাকায় প্রায় ১৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। মোহনপুর উপজেলায় ২২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ২২ কোটি ৯০ লাখ টাকায় রাজশাহী শিশু হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।১২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে একটি বহুতল সমাজসেবা ভবন নির্মিত হয়েছে।রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে প্রায় পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় তলার ওপর দুই তলা বিশিষ্ট মহিলা হোস্টেল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। চারঘাট উপজেলায় ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহী সিভিল সার্জনের অফিস নির্মাণ করা হয়েছে চার কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মার ভাঙন থেকে বাম তীর রক্ষায় ৬৯৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) গ্রামীণ সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪৩ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি সড়ক নির্মাণ করছে। রাজশাহী পিটিআইতে প্রায় আট কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীতে প্রায় দুই কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন।

রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ম্যুরালটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ তাঁর জীবন, কর্ম এবং দেশের স্বাধীনতায় প্রশংসনীয় অবদান ও ত্যাগ সম্পর্কে জানতে অনুপ্রাণিত করে। মানুষের বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষে রাজশাহী নগরীতে শেখ রাসেল শিশু পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।

   

ফেনী পৌরসভায় জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি, ২ কর্মচারী বরখাস্ত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা-২৪.কম, ফেনী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনী পৌরসভার নাগরিক নন এমন এক ব্যক্তিকে ফেনী পৌরসভার বাসিন্দা হিসেবে জাল জন্ম নিবন্ধন সনদ করে দেয়ার অপরাধে পৌরসভার কর আদায়কারী নুরুল হুদা ও স্বাস্থ্য সহকারী পিংকু চন্দ্র দাস নামে দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ফেনী পৌরসভার মেয়র মো: নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি বার্তা-২৪কে নিশ্চিত করেছেন পৌরসভার সচিব আবুজর গিফরী।

পৌরসভার সচিব আবুজর গিফরী বলেন, ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ইস্যুতে জড়িত থাকার অপরাধে পৌর মেয়রের নির্দেশনায় দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়া স্বাপেক্ষে তাদের বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

এ ব্যাপারে ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ফেনী পৌরসভায় কোন দুর্নীতির স্থান নেই। দুর্নীতি করে কেউ পার পাওয়ার সুযোগ নেই। জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দু'জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলে তাদের বিষয় পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

হাতীবান্ধায় ঘুষের ভিডিও ধারণ, সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে ভাঙচুর



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে বিল পাসের জন্য ঘুষের টাকা লেনদেনের ভিডিও করায় সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদের ভেতরে এ ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত হলেন, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আমিন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক হলেন মোহনা টিভির লালমনিরহাট প্রতিনিধি শারুফ সুমন খান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে আসেন জেলা পরিষদ সদস্য মনোয়ার হোসেন। এ সময় তিনি প্রকৌশলী অফিসে আটকে থাকা একটি বিল পাসের জন্য প্রকৌশলীকে ঘুষ বাবদ কয়েক লাখ টাকা দেন। সেই টাকা নিয়ে মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে প্রকৌশলী অফিসের লোকজনের হাতাহাতি হয়।

এসময় সে চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেন মোহনা টিভির সাংবাদিক শারুফ সুমন খান। তার সে ভিডিওক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

পরে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে ওই প্রকৌশলীর কাছে বক্তব্য চাইতে গেলে তিনি সাংবাদিক সুমনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা ইউএনও অফিস ঘেরাও করেন। এর এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা এসে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত রাখেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক শারুফ সুমন খান বলেন, ‘ওই প্রকৌশলীকে জেলা পরিষদ সদস্য মনোয়ার টাকা দিচ্ছিলেন। আমি সেটার ভিডিওচিত্র ধারণ করি। এর কারণে ওই প্রকৌশলী আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, এলজিডি অফিস আমার কাজের একটি বিল আটকে রেখেছে। সেই জন্য আমি এসেছিলাম।

সে সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি যে ঘুষের টাকা দিয়েছেন আর সেই টাকা নিয়ে যে হাতাহাতি হয়েছে এর একটি ভিডিওক্লিপ আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী প্রশ্ন করা হলে সেখান থেকে দ্রুত সটকে পড়েন তিনি।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আমিন বলেন, ‘আমি কোনো ক্যামেরা ভাঙচুর করিনি। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে মাত্র’!

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক নেতা ও এলজিডি অফিসের লোকজন ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

;

চাপে নত হব না, উচ্ছেদ চলবে: চসিক মেয়র রেজাউল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোন চাপে চট্টগ্রামে চলমান ফুটপাত-রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করার কার্যক্রম বন্ধ না করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) নগরীর লালদিঘী পাড় এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের সম্মেলন কক্ষের উদ্বোধন করেন মেয়র।

এ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ৩৭তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র রেজাউল বলেন, নগরবাসী রাস্তায় নিরাপদে হাটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। আমি জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করেই মাঠে নেমেছি। কোন প্রভাব-প্রতিপত্তি-চাপ দিয়ে আমাকে থামানো যাবে না। কোন চাপে আমি নত হব না, উচ্ছেদ অভিযান চলবে। হকাররা ব্যবসা করুক আমরতো আপত্তি নেই। কিন্তু ফুটপাত দখল করে কেন হকার বসবে? হলিডে মার্কেট করে দিব ওখানে শুক্র-শনিবার হকাররা ব্যবসা করুক। কিছু কুচক্রী মহল ছাড়া রাস্তা-ফুটপাত উদ্ধার হওয়ায় সবাই খুশি।

পিডিবি’র প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, অবৈধভাবে দোকান বসানো ব্যক্তিরা কীভাবে বিদ্যুতের লাইন পেল? আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রতিমাসে কোটি টাকা বিল দেই। আমাদের কোন প্রতিষ্ঠানের দুই-তিন মাস বিল বাকী থাকলে লাইন কেটে দেন। কোন বাসায় বিদ্যুতের লাইন দিতে গেলেতো অনেক দলিল খুঁজেন। আমার প্রশ্ন ফুটপাত দখলকারীরা কীভাবে বিদ্যুতের লাইন পায়? অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুতের লাইন পেলে কেটে দিব, জেনারেটর পেলে জব্দ করব। ক’দিন আগে আগ্রাবাদে দেখলাম ঝুলন্ত তারের জঞ্জালে আগুন জ¦লছে। পিডিবিকে বিদ্যুতের পিলারে যাতে ডিশ-ইন্টারনেটের কেবলের জঞ্জালে পরিণত না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ফুটপাত রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, ফুটপাত রক্ষায় পুলিশ, র্যাব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আমারতো কোন ফোর্স নাই। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। আমরা যেখানে উচ্ছেদ করছি সেখানে সংশ্লিষ্ট থানা একটু মনিটরিং করলেইতো ভয়ে আর কেউ বসবেনা। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে ছয়মাসের মধ্যে শহরের চেহারা বদলে যাবে। অপরাধও কমে যাবে। নিউমার্কেট মোড়ে দেখেন, অভিযান চালানোর পর ছিনতাই কমে গেছে। আপনাদেরকে বলব, কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে আমাদের দমাতে না পারে।

‘নিউ মার্কেটে কী একটা বিশ্রী অবস্থা। অভিযান চালাতে গিয়ে দখলদারদের হামলায় আমার ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত হয়েছে। পুলিশ আহত হয়েছে। হামলাকারীদের প্রতি কোন অনুকম্পা নেই। অনেকে বলে হকার পুনর্বাসন। জহুর হকার মার্কেটতো আমরাই করেছি। আমি তখন ছাত্রনেতা ছিলাম। হকার পুনর্বাসনে কোন সুফল আসেনা। পুনর্বাসন করবেন, এরা দোকানগুলো বিক্রি করে আবার রাস্তায় চলে আসবে। এখন আর বাজারে যেতে হয়না। পথে-ঘাটে সবখানে বাজার হয়ে গেছে এখন। অনেকে বলে ফুটপাতে গরীব মানুষ বসুক, ব্যবসা করুক। ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গেলে তাদের পরিবারের দায়িত্ব কি কেউ নেন? আমাদেরকে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ নয়। এজন্য ট্রাফিক বিভাগকেও দায়িত্ব নিতে হবে।’

নগরীর সৌন্দর্যরক্ষায় সবগুলো সংস্থার সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, আমাদেরকে নগরীর সৌন্দর্যের কথাও ভাবতে হবে। পিডিবির অনেক বিদ্যুতের খুঁটি নালায় পড়েছে যে কারণে জলাবদ্ধতা হয় এগুলো সরাতে হবে। রাস্তার মাঝখানে পড়ায় যানজট হয়। এগুলো সরাতে হবে। ওয়াসাকে অনুরোধ করব পানির লাইনে লিকেজ হয়ে যাতে রাস্তা নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সিডিএ’কে বলব জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের কাজের গতি বাড়াতে হবে। ভবন নির্মাণের অনুমতির ক্ষেত্রে চসিকের অনুমতি গ্রহণও বাধ্যতামূলক করলে কেউ ফুটপাত-রাস্তা দখল করে বাড়ি করতে পারবেনা ফলে যানজট কমবে। নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে অনেক কার্যক্রম নিয়েছি। এখন কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে কে ফেলেছে দেখবনা যার প্রতিষ্ঠান-বাসার সামনে ময়লা পাব তাকে জরিমানা করব।

সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সব ধরনের রিকশা বন্ধ করে সোলার চালিত গাড়ি চালু করার প্রস্তাব দেন। মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম নিউ মার্কেট মোড়ে উচ্ছেদ অভিযানকালে হামলার ঘটনায় মামলার কোন আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি বলে জানান।

সভায় ট্রাফিক বিভাগের এডিসি মো. কাজী হুমায়ুন রশীদ বলেন, নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপারের স্বার্থে নগরীজুড়ে জেব্রা ক্রসিং গড়ে তুলতে হবে। নগরীতে যেসব নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে সেগুলোর সামনে বিল্ডিং কোড অনুসারে জায়গা ছাড়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাটারি রিকশা বন্ধে সমি¥লিত পক্ষেপ দরকার।

পিডিবির প্রতিনিধি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুসা জানান, ব্যাটারি রিকশা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পিডিবি। ভবিষ্যতে তারের জঞ্জাল কমাতে পিডিবির পোল ব্যবহার ঠেকাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সভায় বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, দরপত্র কমিটির কার্যবিবরণী এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিগণ তাদের নিজ নিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী পেশ করেন। সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলররাসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

;

দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল, চুন্নুর আপত্তি নাকচ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল, চুন্নুর আপত্তি নাকচ

দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল, চুন্নুর আপত্তি নাকচ

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে জাতীয় সংসদে ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার-সংশোধন) বিল-২০২৪’ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু বিলটির আপত্তি জানালেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।   

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনকালে মুজিবুল হক চুন্নু এ বিরোধীতা করেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে বিলটি উত্থাপন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে সংসদে মুজিবুল হক বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি যখন আইনটি করে, তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং সব দলের পক্ষ থেকে এই আইনের সমালোচনা করা হয়েছিল। দ্রুত বিচার আইন নাম হলেও কোর্টে কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুব কম মামলা শেষ হয়। সিআরপিসি মামলা যেভাবে চলে, সেভাবেই চলে। শুধু গ্রেফতারের বেলায় আইনটা মনে করা হয়। এই আইনটা দিয়ে সরকারের যদি ইনটেনশন থাকে, সাধারণ মানুষ বা প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করার সুযোগ আছে। আপনি আজকে ক্ষমতায় আছেন, কালকে ক্ষমতায় যদি অন্য কেউ আসে, এই আইনের মাধ্যমে আপনারাই হয়রানির শিকার হবেন।

তিনি বলেন, আইনটি স্থায়ী করবেন না। প্রত্যাহার করেন প্রয়োজনে। এক-দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ান। আপনারা ভুগবেন, মানুষ ভুগবে।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর অত্যাচার করার জন্য আইন বলে বলছেন। কিন্তু যখন এটা করা হয়েছিল, আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। আমি বলতে চাই, যখন এই আইন ২০০২ সালে পাস করা হয়, তখন এর উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য বিএনপিবিরোধী যেসব দল ছিল, তাদের অত্যাচার করার জন্য। কিন্তু গত ১৫ বছরে এই আইনের প্রয়োগ যেভাবে হয়েছে, সেখানে কিন্তু তার (চুন্নু) বক্তব্য সেটা সঠিক নয়। দ্বিতীয় কথা, এই আইনটা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজন। এই আইন থাকার কারণে অনেক ধরনের বিশৃঙ্খলা গত ১৫ বছরে হয়নি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আইন শুধু রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মী বা নেতাদের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। অনেক রকম সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এই আইন প্রতিহত করেছে। এ কারণে এই আইনটি স্থায়ী করা উচিত।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। এরপর ৭ দফা এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে আইনটি সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৯ এপ্রিল এই আইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে আইনটির মেয়াদ না বাড়িয়ে, তা স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বিলটি সংসদে তোলা হয়েছে। বিলে আইনটি স্থায়ী করা ছাড়া অন্য কোন সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়নি। অর্থাৎ আইনটির বিদ্যমান ধারা এখনকার মতোই থাকবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাকালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিলে জোরপূর্বক বাধা প্রদান, যা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে ‘আইন- শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২’ প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছিল।

আইনটি প্রণয়নের সময় এর মেয়াদ ছিল ২ বছর। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ক্রমান্বয়ে ৭ বার এর মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ১৭ বছর থেকে ২২ বছর বাড়ানো হয়, যার মেয়াদ আগামী ৯ এপ্রিল শেষ হবে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির জন্য এই আইনটি মেয়াদ শেষে বারবার সময় বাড়িয়ে স্থায়ীভাবে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।

 

;