গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ এগিয়ে ৭৩তম বাংলাদেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। ২০২২ সালের গণতন্ত্র সূচকে দুই ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ এখন ৭৩তম।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ সূচক প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। ১৬৭টি দেশ ও ২টি অঞ্চল নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ২০২২ সালের এই সূচক।

সূচকে ১০ এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ৯৯। ২০২১ সালে একই স্কোর নিয়ে তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫তম। এর আগের বছর ছিল ৭৬তম। এ হিসেবে সূচকে ধারাবাহিক উন্নতির পথে রয়েছে বাংলাদেশ।

সূচকে পাঁচটি মূল বিষয়ের আলোকে বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর গণতন্ত্রের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুত্ববাদ, সরকারের কার্যকারিতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নাগরিক স্বাধীনতা।

সূচকে দেশ ও অঞ্চলগুলোকে চারটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা।

এবারের সূচকে পূর্ণ গণতন্ত্র বিভাগে রয়েছে ২৪টি দেশ। ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র বিভাগে ৪৮টি দেশ। হাইব্রিড শাসনব্যবস্থায় ৩৬টি দেশ। কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় ৫৯টি দেশ।

বাংলাদেশ এবারও হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বিভাগে রয়েছে। ১০-এর মধ্যে যেসব দেশের স্কোর ৪ থেকে ৬-এর মধ্যে, তারাই এই বিভাগে রয়েছে। এই বিভাগে সবার ওপরে বাংলাদেশ। সবার নিচে মৌরিতানিয়া। সূচকে দেশটির অবস্থান ১০৮তম, স্কোর ৪ দশমিক শূন্য ৩। এই বিভাগের অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুটান (৮৪তম), ইউক্রেন (৮৭তম), উগান্ডা (৯৯তম), নেপাল (১০১তম), পাকিস্তান (১০৭তম)।

হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা বলতে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এমন ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে প্রায়ই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়। এ শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দল ও বিরোধী প্রার্থীদের ওপর সরকারের নিয়মিত চাপ থাকে। এই বিভাগে থাকা দেশগুলোর বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয়। সাংবাদিকদের হয়রানি ও চাপ দেওয়া হয়। দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার, দুর্বল আইনের শাসন, দুর্বল নাগরিক সমাজ এই ধরনের শাসনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য।

এবারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে, স্কোর ৯ দশমিক ৮১ স্কোর। শীর্ষ দশে আরও আছে নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড।

গণতন্ত্র সূচকে সবার নিচে রয়েছে আফগানিস্তান (১৬৭তম)। কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা বিভাগের এই দেশের স্কোর শূন্য দশমিক ৩২। বিভাগটির অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার ১৬৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ৪৬তম ও শ্রীলঙ্কা ৬০তম অবস্থানে রয়েছে।

   

চাপে নত হব না, উচ্ছেদ চলবে: চসিক মেয়র রেজাউল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোন চাপে চট্টগ্রামে চলমান ফুটপাত-রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করার কার্যক্রম বন্ধ না করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) নগরীর লালদিঘী পাড় এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের সম্মেলন কক্ষের উদ্বোধন করেন মেয়র।

এ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ৩৭তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র রেজাউল বলেন, নগরবাসী রাস্তায় নিরাপদে হাটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। আমি জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করেই মাঠে নেমেছি। কোন প্রভাব-প্রতিপত্তি-চাপ দিয়ে আমাকে থামানো যাবে না। কোন চাপে আমি নত হব না, উচ্ছেদ অভিযান চলবে। হকাররা ব্যবসা করুক আমরতো আপত্তি নেই। কিন্তু ফুটপাত দখল করে কেন হকার বসবে? হলিডে মার্কেট করে দিব ওখানে শুক্র-শনিবার হকাররা ব্যবসা করুক। কিছু কুচক্রী মহল ছাড়া রাস্তা-ফুটপাত উদ্ধার হওয়ায় সবাই খুশি।

পিডিবি’র প্রতিনিধির উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, অবৈধভাবে দোকান বসানো ব্যক্তিরা কীভাবে বিদ্যুতের লাইন পেল? আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রতিমাসে কোটি টাকা বিল দেই। আমাদের কোন প্রতিষ্ঠানের দুই-তিন মাস বিল বাকী থাকলে লাইন কেটে দেন। কোন বাসায় বিদ্যুতের লাইন দিতে গেলেতো অনেক দলিল খুঁজেন। আমার প্রশ্ন ফুটপাত দখলকারীরা কীভাবে বিদ্যুতের লাইন পায়? অবৈধ দখলদারদের বিদ্যুতের লাইন পেলে কেটে দিব, জেনারেটর পেলে জব্দ করব। ক’দিন আগে আগ্রাবাদে দেখলাম ঝুলন্ত তারের জঞ্জালে আগুন জ¦লছে। পিডিবিকে বিদ্যুতের পিলারে যাতে ডিশ-ইন্টারনেটের কেবলের জঞ্জালে পরিণত না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ফুটপাত রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, ফুটপাত রক্ষায় পুলিশ, র্যাব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই। আমারতো কোন ফোর্স নাই। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। আমরা যেখানে উচ্ছেদ করছি সেখানে সংশ্লিষ্ট থানা একটু মনিটরিং করলেইতো ভয়ে আর কেউ বসবেনা। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে ছয়মাসের মধ্যে শহরের চেহারা বদলে যাবে। অপরাধও কমে যাবে। নিউমার্কেট মোড়ে দেখেন, অভিযান চালানোর পর ছিনতাই কমে গেছে। আপনাদেরকে বলব, কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে আমাদের দমাতে না পারে।

‘নিউ মার্কেটে কী একটা বিশ্রী অবস্থা। অভিযান চালাতে গিয়ে দখলদারদের হামলায় আমার ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আহত হয়েছে। পুলিশ আহত হয়েছে। হামলাকারীদের প্রতি কোন অনুকম্পা নেই। অনেকে বলে হকার পুনর্বাসন। জহুর হকার মার্কেটতো আমরাই করেছি। আমি তখন ছাত্রনেতা ছিলাম। হকার পুনর্বাসনে কোন সুফল আসেনা। পুনর্বাসন করবেন, এরা দোকানগুলো বিক্রি করে আবার রাস্তায় চলে আসবে। এখন আর বাজারে যেতে হয়না। পথে-ঘাটে সবখানে বাজার হয়ে গেছে এখন। অনেকে বলে ফুটপাতে গরীব মানুষ বসুক, ব্যবসা করুক। ফুটপাত দখলের কারণে মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গেলে তাদের পরিবারের দায়িত্ব কি কেউ নেন? আমাদেরকে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ নয়। এজন্য ট্রাফিক বিভাগকেও দায়িত্ব নিতে হবে।’

নগরীর সৌন্দর্যরক্ষায় সবগুলো সংস্থার সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, আমাদেরকে নগরীর সৌন্দর্যের কথাও ভাবতে হবে। পিডিবির অনেক বিদ্যুতের খুঁটি নালায় পড়েছে যে কারণে জলাবদ্ধতা হয় এগুলো সরাতে হবে। রাস্তার মাঝখানে পড়ায় যানজট হয়। এগুলো সরাতে হবে। ওয়াসাকে অনুরোধ করব পানির লাইনে লিকেজ হয়ে যাতে রাস্তা নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সিডিএ’কে বলব জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের কাজের গতি বাড়াতে হবে। ভবন নির্মাণের অনুমতির ক্ষেত্রে চসিকের অনুমতি গ্রহণও বাধ্যতামূলক করলে কেউ ফুটপাত-রাস্তা দখল করে বাড়ি করতে পারবেনা ফলে যানজট কমবে। নগরী পরিচ্ছন্ন রাখতে অনেক কার্যক্রম নিয়েছি। এখন কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে কে ফেলেছে দেখবনা যার প্রতিষ্ঠান-বাসার সামনে ময়লা পাব তাকে জরিমানা করব।

সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সব ধরনের রিকশা বন্ধ করে সোলার চালিত গাড়ি চালু করার প্রস্তাব দেন। মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম নিউ মার্কেট মোড়ে উচ্ছেদ অভিযানকালে হামলার ঘটনায় মামলার কোন আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি বলে জানান।

সভায় ট্রাফিক বিভাগের এডিসি মো. কাজী হুমায়ুন রশীদ বলেন, নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপারের স্বার্থে নগরীজুড়ে জেব্রা ক্রসিং গড়ে তুলতে হবে। নগরীতে যেসব নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে সেগুলোর সামনে বিল্ডিং কোড অনুসারে জায়গা ছাড়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাটারি রিকশা বন্ধে সমি¥লিত পক্ষেপ দরকার।

পিডিবির প্রতিনিধি উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুসা জানান, ব্যাটারি রিকশা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পিডিবি। ভবিষ্যতে তারের জঞ্জাল কমাতে পিডিবির পোল ব্যবহার ঠেকাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সভায় বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, দরপত্র কমিটির কার্যবিবরণী এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিগণ তাদের নিজ নিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী পেশ করেন। সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলররাসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানরা এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

;

দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল, চুন্নুর আপত্তি নাকচ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল, চুন্নুর আপত্তি নাকচ

দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল, চুন্নুর আপত্তি নাকচ

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে জাতীয় সংসদে ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার-সংশোধন) বিল-২০২৪’ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু বিলটির আপত্তি জানালেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।   

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনকালে মুজিবুল হক চুন্নু এ বিরোধীতা করেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে বিলটি উত্থাপন করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে সংসদে মুজিবুল হক বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি যখন আইনটি করে, তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং সব দলের পক্ষ থেকে এই আইনের সমালোচনা করা হয়েছিল। দ্রুত বিচার আইন নাম হলেও কোর্টে কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুব কম মামলা শেষ হয়। সিআরপিসি মামলা যেভাবে চলে, সেভাবেই চলে। শুধু গ্রেফতারের বেলায় আইনটা মনে করা হয়। এই আইনটা দিয়ে সরকারের যদি ইনটেনশন থাকে, সাধারণ মানুষ বা প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করার সুযোগ আছে। আপনি আজকে ক্ষমতায় আছেন, কালকে ক্ষমতায় যদি অন্য কেউ আসে, এই আইনের মাধ্যমে আপনারাই হয়রানির শিকার হবেন।

তিনি বলেন, আইনটি স্থায়ী করবেন না। প্রত্যাহার করেন প্রয়োজনে। এক-দুই বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ান। আপনারা ভুগবেন, মানুষ ভুগবে।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের ওপর অত্যাচার করার জন্য আইন বলে বলছেন। কিন্তু যখন এটা করা হয়েছিল, আমরা বিরোধিতা করেছিলাম। আমি বলতে চাই, যখন এই আইন ২০০২ সালে পাস করা হয়, তখন এর উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য বিএনপিবিরোধী যেসব দল ছিল, তাদের অত্যাচার করার জন্য। কিন্তু গত ১৫ বছরে এই আইনের প্রয়োগ যেভাবে হয়েছে, সেখানে কিন্তু তার (চুন্নু) বক্তব্য সেটা সঠিক নয়। দ্বিতীয় কথা, এই আইনটা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজন। এই আইন থাকার কারণে অনেক ধরনের বিশৃঙ্খলা গত ১৫ বছরে হয়নি। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আইন শুধু রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মী বা নেতাদের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। অনেক রকম সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা এই আইন প্রতিহত করেছে। এ কারণে এই আইনটি স্থায়ী করা উচিত।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। এরপর ৭ দফা এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে আইনটি সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৯ এপ্রিল এই আইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে আইনটির মেয়াদ না বাড়িয়ে, তা স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বিলটি সংসদে তোলা হয়েছে। বিলে আইনটি স্থায়ী করা ছাড়া অন্য কোন সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়নি। অর্থাৎ আইনটির বিদ্যমান ধারা এখনকার মতোই থাকবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা পালনের উদ্দেশ্যে চাঁদাবাজি, যানবাহন চলাকালে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যানবাহনের ক্ষতিসাধন, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিনষ্ট করা, ছিনতাই, দস্যুতা, ত্রাস ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, দরপত্র ক্রয়, বিক্রয়, গ্রহণ বা দাখিলে জোরপূর্বক বাধা প্রদান, যা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে ‘আইন- শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০২’ প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছিল।

আইনটি প্রণয়নের সময় এর মেয়াদ ছিল ২ বছর। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ক্রমান্বয়ে ৭ বার এর মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ১৭ বছর থেকে ২২ বছর বাড়ানো হয়, যার মেয়াদ আগামী ৯ এপ্রিল শেষ হবে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির জন্য এই আইনটি মেয়াদ শেষে বারবার সময় বাড়িয়ে স্থায়ীভাবে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।

 

;

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে

  • Font increase
  • Font Decrease

তামাকমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের বাঁচাতে হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ই-সিগারেট ও স্মোকিং জোনও বন্ধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আহ্ছানিয়া মিশন অডিটোরিয়ামে 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে করণীয়' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও অধ্যাপক ডা. মো: আব্দুল আজিজ বলেন, তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। স্মোকিং জোনের মাধ্যমেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে মানুষ। এর ফলে দেশে বছরে মারা যাচ্ছে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ। আইন সংশোধন করে ই-সিগারেট ও স্মোকিং জোন বন্ধ করতে হবে। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী সংসদে পাশ করার ক্ষেত্রে দৃঢ় ভূমিকা রাখার কথা ব্যক্ত করেন।

স্বাগত বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধিকতর সংশোধনীর জন্য যে খসড়াটি প্রণয়ন করেছে, সেটি পাশ হলে দেশে আইনটি এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হবে। ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠন তরান্বিত হবে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রী কিডস-এর দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. মাহিন মালিক, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রী কিডস বাংলাদেশ এর লিড পলিসি এডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তামাক কোম্পানী সবসময়ই বিভিন্ন কূটকৌশল অবলম্বন করে দেশের জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতির মুখে ফেলে। বর্তমানে তারা দেশে ই-সিগারেট আমদানির পায়তারা করছে। তরুণদের মাঝে ই-সিগারেট উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও জানান তারা। তামাক কোম্পানী এই অপতৎপরতা রুখতে হবে। তরুদেরকে বাঁচাতে ই-সিগারেটসহ সকল প্রকার ভেপিং পণ্য নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করতে হবে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আ. ফ. ম. গোলাম শরফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্তিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রবিন, বাংলাদেশ সুপারমার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ই-ক্যাবের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহাঙ্গীর আলম শোভন, জাতীয় দোকান কর্মচারি ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

;

খৎনার সময় শিশুর লিঙ্গ কেটে ফেললেন হাজাম



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুর সুন্নতে খৎনা করার সময় লিঙ্গের সামনের অংশ কেটে ফেলেছেন হাজাম (খৎনাকারী)। গুরুতর আহত শিশু সাহাদাত হোসেনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বুরপিট গ্রামের বুরপিট দক্ষিণ সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত হাজাম (খৎনাকারী) মামুনকে (৩৫) আটক করে। সে জেলার সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

আহত শাহাদাত হোসেন উপজেলার নদনা ইউনিয়নের বুরপিট গ্রামের বুরপিট দক্ষিণ সরকার বাড়ির নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে শাহাদাতের খৎনা করতে হাজাম মামুন উপজেলার নদনা বুরপিট দক্ষিণ সরকার বাড়িতে আসেন। এরপর খৎনা করতে গিয়ে খুর চালিয়ে শিশু শাহাদাতের লিঙ্গের মাথা থেকে কেটে মাটিতে ফেলে দেন। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় লিঙ্গের মাথার কাটা অংশসহ শাহাদাতকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার তানভীর হায়দার ইমন বলেন, হাজাম খৎনা করতে গিয়ে ওই শিশুর লিঙ্গের সামনের অংশ কেটে ফেলে দেয়। পরে রোগীর স্বজনেরা লিঙ্গের কাটা অংশসহ তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখানে লিঙ্গের কাটা অংশ ফ্রিজআপ করে রোগীর স্বজনদের বুঝিয়ে দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে রেফার্ড করে দেওয়া হয়েছে।

;