‘দেশি-বিদেশি রাজনীতির কারণে গণহত্যার স্বীকৃতি মিলছে না’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশি-বিদেশি রাজনীতির কারণে একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত্রে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলছে না। এছাড়া দেশের সঠিক ইতিহাস নিয়ে জনগণের মাঝে ঐকমত্য সৃষ্টি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে বারবার পিছিয়ে পরেছে বাংলাদেশ।

শনিবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা গ্যালারিতে ‘গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মানবাধিকার প্রশ্ন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন। 

বৈঠকে ইতিহাসবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, গণহত্যা নিয়ে একটা রাজনীতি আছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে। যখন এই যুদ্ধটা হয় তখন বাংলাদেশের পক্ষে কেউ ছিল না। সেই অবস্থায় লুঙ্গি পড়া কিছু মানুষ তৎকালীন বিশ্বের পঞ্চম না ষষ্ঠ সেনাবাহিনীকে হারিয়ে দিলো, এটা কিন্তু তারা গ্রহণ করতে পারেনি। না পারার কারণে সেখানে একাডেমিয়াম থেকে শুরু করে রাজনৈতিক একটা ঐকমত্যে পৌঁছেছিল যে এটা নিয়ে আলোচনার কোনও দরকার নাই। আলোচনা করলে তখন আসবে কে সাহায্য করেছিল, কারা সাহায্য করেছিল- এই বিষয়গুলো চলে আসবে। অন্যদিকে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে ৭৫ এর পর থেকে ২৫ বছর যদি ধরেন, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি তারা কখনও গণহত্যাকে সামনে আনতে চায়নি। তারা সব সময় বিজয়ের ওপর জোড় দিয়েছে। কেননা তাদের সঙ্গে আঁতাত ছিল ঘাতকদের। এখন তারা যদি গণহত্যার কথা বলে তাহলে এসব ঘাতকদের কথা চলে আসে। সুতরাং এটি হারিয়ে গেলো। অর্থাৎ দেশ-বিদেশের রাজনীতির কারণে আমাদের গণহত্যার ঘটনাটা হারিয়ে গেলো।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, গণহত্যার স্বীকৃতির কথা বলতে গেলে প্রত্যেক সরকার দায়ী৷ বর্তমান সরকার বেশি দায়ী। কারণ ইতিহাস আজ পর্যন্ত কেউ নিরেপক্ষভাবে লিখলো না। আমরা যারা রাজনীতি করি, জনগণকে এক জায়গায় আনতে পারিনি। গণহত্যা, বঙ্গবন্ধু হত্যা এখানে আমরা দ্বিমত হবো কেন? আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এখানে কেন বিভিক্ত হয়ে যাচ্ছি। আজ কেন প্রশ্ন জাগবে কতলোক মারা গিয়েছে৷ প্রথম রাতে একলক্ষ লোকে মেরে ফেলেছে। রাস্তায় শুধু লাশ আর লাশ৷ সেইখানেও যদি কথা উঠে এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, আমরা একটা বিভৎস হত্যাকাণ্ডকে চাপা দেওয়ার নানা রকম চেষ্টা দেখেছি এবং পরবর্তীতে সেটাকে জাস্টিফাই করারও চেষ্টা হয়েছে। আমরা দেখেছি আসলে কেন সে সময় কেউ কথা বলেনি৷ এর কারণটা হচ্ছে এই গণহত্যার যে ব্যাপারটি, এর সংজ্ঞা যদি দেখি, জাতিগত নির্মূল বিষয়টা তো ছিল। পাশাপাশি ওদের প্রত্যেকের পরিষ্কার কথা, হিন্দু থাকবে না৷ বাংলা ভাষা থাকবে না। গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি করতে গেলে এই জিনিসটা প্রমাণ করা প্রয়োজন। সে সময় শুধু একটা অংশকে হত্যা করা হয়েছিল একটা ধর্মীয় কারণে। রাজনৈতিক কারণ থেকেও বড় কারণ ছিল ধর্মীয় কারণ। এই জায়গাটা আমাদের নিয়ে আসা উচিত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, ‘সেসময় যতগুলো রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে তা গণহত্যার ভিত্তিতে। এখানে গণহত্যা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান, বাংলাদেশের জন্মসনদ পত্রে ছিল। সেটাকেও আমরা হারাতে চলেছি৷ কোনও পাঠ্যপুস্তকেও নেই৷'

প্রজন্ম একাত্তরের সভাপতি আসিফ মুনীর বলেন, ‘আমরা ইতিহাসকে ধারণ করি রাজনীতিকীকরনের মাধ্যমে। এইটাই বাস্তবতা, এটার মধ্যেই আমরা আছি। এখন আমরা যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাই। তখন সেই প্রসঙ্গটা আসবে তোমাদের ইতিহাসের কথাগুলো ঠিক নাই। তোমাদের একেক রাজনৈতিক দল একেকভাবে ইতিহাসকে বলো। সেখানে আমাদের একটা জায়গায় আসতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, গত ৫০ বছরে এটার স্বীকৃতির জায়গায় আমরা বেশিদূর আগাতে পারি নাই৷ এই শিক্ষা থেকে সামনে এটাকে কীভাবে নিয়ে যাবো সেই জায়গা থেকে চিন্তা করতে হবে।’

এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু গোলটেবিল বৈঠকে সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন।

গোল টেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম হেলাল মোর্শেদ খান, মানবাধিকারকর্মী রোকেয়া কবীর। 

   

দুপুরের মধ্যে ৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ৫ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার (১৬ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির এ প্রবণতা সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

;

বোট ক্লাব থেকে পদত্যাগ করলেন বেনজীর আহমেদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারের বোট ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত ১৩ জুন ক্লাবের উপদেষ্টা রুবেল আজীজের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তিনি এ পদ ছাড়েন।

বোট ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নাসির বলেন, বোট ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে থাকা বেনজীর আহমেদ ক্লাবের উপদেষ্টা রুবেল আজীজের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, জরুরি কাজে পরিবারের সঙ্গে তিনি দেশের বাইরে আছেন। যে কারণে তিনি ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

নাসির জানান, বেনজীর আহমেদের পদত্যাগের পর রুবেল আজীজকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ও তার পরিবারের সম্পদ অনুসন্ধান করছিল। তার মধ্যেই গত ৪ মে তিনি সপরিবার দেশ ছাড়েন। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

;

ফেনীতে বজ্রপাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীতে দশ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় বজ্রপাতে রোকসানা আক্তার নামের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও তিনজন। ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে চারটি গবাদিপশু। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি এলাকা। নিহত রোকসানা ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

শনিবার (১৫ জুন) জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের মধ্যে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে রোকসানা আক্তারের মৃত্যু হয়। একইসময় বজ্রপাতে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উত্তর জামমুড়া এলাকায় মা-মেয়েসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ওই এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সামছুন্নাহার (৪২), মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার (২১) এবং ভগ্নিপতি মোহাম্মদ মোস্তফা (৫২)।

আহতদের স্বজন মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বজ্রপাতে আহত হয়ে আমার মেয়ে ও স্ত্রী ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত ভগ্নিপতি জামমুড়া গ্রামের বাড়িতে রয়েছে।

এ ছাড়া বজ্রপাত-ঝড়ে ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় চারটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে দুপুরে গাছের নিচে চাপা পড়ে ফুলগাজীর বাশুড়া গ্রামে একটি গরু, কোরবানির হাটে নেওয়ার পথে ফুলগাজী বাজারে একটি, বজ্রপাতে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামে একটি গরু ও ছাগলনাইয়ায় একটি মহিষ মারা গেছে।

ফুলগাজীর মুন্সিরহাট এলাকার কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য গরুটি লালনপালন করেছিলাম। ফুলগাজী বাজারে বিক্রির জন্য বের হলে পথিমধ্যে বৃষ্টি আসলে রাস্তার পাশে গরুটি রেখে আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় হঠাৎ বাতাসে গাছ ভেঙে গরুর উপর পড়ে।

এদিকে ঝড়ো হাওয়ায় গাছপালা উপড়ে পড়ে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া সড়কে যানচলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় ফুলগাজী মহিলা কলেজ সংলগ্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে ৫-৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ লাইন ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছাগলনাইয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে ছাগলনাইয়ার কালাপুল থেকে রেজুমিয়া পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত গাছ উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।

ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, দুপুরে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও ঝড়ে বাতাসের বেগ বেশি ছিল। কোথাও কোথাও ভারি বজ্রপাতও হয়েছে।

সায়েম চৌধুরী নামে একজন বলেন, বৃষ্টি হচ্ছিল সাথে বজ্রপাত হয়েছে। ঝড়ো বাতাস ছিলনা। হঠাৎ করে ঝড়ো বাতাস শুরু হয় যা সর্বোচ্চ ১০ মিনিট স্থায়ী ছিল। এরমধ্যে এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছি।

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারমধ্যে বসন্তপুর, বাশুড়া এলাকায় ১৫টির মতো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া লাইনে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের লোকজন কাজ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ঝড়ে ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

;

প্রস্তুত সাভারের চামড়া শিল্প নগরী, লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ১০ লাখ পিস



মো. কামরুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ-উল-আজেহাকে কেন্দ্র করে ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। কারখানাগুলোতে চলছে ধোয়া মুছার কাজ। প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিসিক ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এ বছর ১ কোটি ১০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ জুন) সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় বিসিক চামড়া শিল্প নগরীতে ঘুরে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে জোর প্রস্তুতি চলছে। কোনো কারখানায় আনা হচ্ছে লবণ। কোথাও আনা হচ্ছে কেমিক্যাল। আবার কোথাও মেশিনারিজগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া হচ্ছে। কারখানা ও সড়কের পাশে বর্জ্য যেমন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। তেমনই পানি নিষ্কাশনের নালাও পরিষ্কার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ সিইটিপির মেশিনারিজ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেছে বলে জানায়। বিসিক কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে চামড়া সংগ্রহের জন্য ৫০ জনের স্বেচ্ছাসেবক দল ঠিক করেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্ল্যাহ বলেন, গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া মিলিয়ে আমরা এ বছর ১ কোটি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছি। এ বছর লবণের দামও অনেকটা আয়ত্ত্বে রয়েছে। এ বছর আশংকার বিষয় হচ্ছে, গরম। যেহেতু কোরবানির মৌসুম গরমে পড়েছে আর এবছর গরমও বেশি তাই যারা সারাদেশে চামড়া সংগ্রহ করবেন তারা যথাযথ নিয়ম মেনে চামড়া সংরক্ষণ করবেন, তাহলে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাবেন। এছাড়া সিইটিপির অবস্থা পূর্বের যেকোন সময়ের চাইতে ভালো।

চামড়া শিল্পনগরীর প্রস্তুতির বিষয়ে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান রিজোয়ান বলেন, এবারের কোরবানির ঈদে আমরা শিল্প নগরীতে মোট ৬ লাখ চামড়া সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের চামড়া শিল্পনগরের পার্শ্ববর্তী যে আড়ৎ রয়েছে, সেখানেও ৬ লাখ পিস সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। চামড়া শিল্প নগরীতে চামড়া প্রবেশ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, সেজন্য আমরা ৫০ জনের অধিক স্বেচ্ছাসেবকের একটি দল গঠন করেছি। ঈদের দিন বিকাল তিনটা থেকে কাজ করা শুরু করবে। আশা করছি এ সময় আমাদের চামড়া সংগ্রহ করা আমাদের চামড়া সংগ্রহ করা ও চামড়া প্রসেস করা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েটেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম শাহনেওয়াজ বলেন, আমরা কোরবানির জন্য ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। পাশাপাশি বছরই আমাদের প্রস্তুতি থাকে। আমাদের কমন ক্রোম রিকভারি ইউনিট (সিসিআরইউ) গত এক বছর বন্ধ ছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে এটির ক্রোম সেপারেশন সেকশনের ৫০% আমরা চালু করেছি। আগামী এক মাসের মধ্যে বাকি ৫০% চালু হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর আমাদের যে ওভারহোলিং করা হয়, কোরবানির সময় এটি এ বছর আরও ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে। আমাদের ইপিএস ১, ২ ও ৩ থেকে শুরু করে ইকুলেশন, ইফ্লুয়েন্ট পাম্পিং স্টেশন, থিকিনিং ট্যাংক সবই আমরা প্রস্তুত রেখেছি যাতে আমাদের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান বলেন, এ বছর চামড়া সংরক্ষণে ঢাকা জেলা প্রশাসন ব্যতিক্রম উদ্দ্যোগ নিয়েছে। এটির মূল কার্যক্রম মানুষকে সচেতন করা। ঢাকার দুই সিটির ২০ গরুর হাঁটে বিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন স্টল দিয়ে জেলা প্রশাসন লিফলেট বিতরণ করছে। রোভার স্কাউট, আমাদের কর্মচারীসহ সবাই চামড়া কিভাবে ছাড়াতে হবে, কিভাবে লবন দিতে হবে সে বিষয়ে প্রচার করছেন।

তিনি বলেন, চামড়া পরিবহনের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় চামড়ায় মান কমতে থাকে। ফলে চামড়া পরিবহনকারী যানগুলোকে সড়কে যাতে যানজটের কবলে না পড়তে না হয়, ও চামড়া যাতে দ্রুত সংরক্ষণাগারে পৌঁছানো যায়, সেজন্য পোস্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর সাভার চামড়া শিল্পনগরীতেও ওসি ও ইউএনওর সমন্বয়ে সেখানে যাতে কোনো যানজট না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

;