শুধু কয়লা আমদানিতে সীমাবদ্ধ হালুয়াঘাটের স্থলবন্দর!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ 
গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর

গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর

  • Font increase
  • Font Decrease

আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্থলপথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে। একই সাথে গুরুত্ব বাড়ছে স্থলবন্দরগুলোর। আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরকে পুর্ণাঙ্গ ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করা হলেও রপ্তানি তো দুরে থাক, বছরে ৬ মাস শুধু ইট পোড়ানোর কয়লা আমদানির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে এই স্থলবন্দর। বছরের বাকি সময় মূলত বন্ধ থাকে বন্দরটি। তবে, আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গোবরাকুড়া স্থল বন্দরে ঢুকতেই চোখে পড়ে বড় বড় কয়লার স্তুপ। তবে, স্থলবন্দর বিরাজ করছে শুনশান নিরবতা, নেই কোনো মানুষ। কয়লার স্তুপের মাঝে মাঝে রয়েছে ব্যবসায়ীদের বসার জন্য ঘর। ওই ঘরগুলোতেও তালা দেয়া। এরপরই চোখে পড়ে স্থল বন্দরের প্রশাসনিক ভবন। সেখানে গিয়েও গেইটের দারোয়ান ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

গোবরাকুড়া স্থল বন্দর থেকে কড়ইতলী স্থল বন্দরের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। কড়ইতলী স্থল বন্দরে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়, বড় বড় স্তুপ করে কয়লা রাখা হয়েছে। সেখানেও মানুষজন নাই। বন্দরের প্রধান ফটকে তালা দেয়া। সিকিউরিটি গার্ডের কাছে দেয়ার পর পরিচয় দেয়ার পর গেইট খুলে দেন তিনি। ভিতরে রয়েছে আমদানি-রপ্তানি করার সকল সুবিধা। 

বছরে ৬ মাস শুধু কয়লা আমদানিতে সীমাবদ্ধ হালুয়াঘাটের স্থলবন্দর

যেভাবে শুরু গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর

১৯৭৯ সালে কড়ইতলী ও ১৯৯৭ সালে গোবরাকুড়া শুল্ক স্টেশনের মধ্য দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়। কড়ইতলী ব্যবসায়ীদের নিয়ে কড়ইতলী কোল অ্যান্ড কোক ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও গোবরাকুড়া আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ নামের দুটি সংগঠন সৃষ্টি হয়। এই দুটি সংগঠন কড়ইতলী-গোবরাকুড়া স্থলবন্দর নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এরপর প্রায় ৬ বছর পার হলেও গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠেনি। পরে ২০১৮ সালের ১ জুলাই ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১.১৪ একর জমির উপর গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১১ মার্চ বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় নির্মিত ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উদ্বোধন করেন। পরে ১৭ মে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের গোবরাকুড়া অংশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নামাঙ্কিত উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।

পুর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে যে সকল সুবিধা রয়েছে

বন্দরের সিমানা প্রাচীর, বন্দরের অভ্যন্তরীণ সড়ক, ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড, পার্কিং ইয়ার্ড, ৪০০ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্য দুই ওয়্যারহাউজ, অফিস ভবন, ডরমিটরী ভবন, ব্যারাক ভবন ও পাওয়ার হাউজ, বন্দরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টয়লেট কমপ্লেক্স, আমদানী-রপ্তানী পন্যের সঠিক পরিমাপের লক্ষে ১০০ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৪ টি ডিজিটাল ওয়েব্রীজ স্কেলসহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

এই বন্দরে আমদানি ও রপ্তানি যোগ্য পণ্যসমুহ

গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর দিয়ে প্রধানত কয়লা ও পাথর আমদানী হয়ে থাকে। তাছাড়া, তাজা ফলমুল, গাছপালা, বীজ, হম, রাসায়নিক সার, চায়না-ক্লে, কাঠ, টিম্বার, চুনা পাথর, পেয়াজ, মরিচ, রসুন, আদা, ফুল ঝাড়ু, ডাব, হলুদ, কাজু বাদাম, তেতুল, তীল, সরিষা, ভুসি, চাউলের গুড়া, গবাদিপশু ও মাছের পোনা আমদানিকরণের অনুমোদন রয়েছে। তবে, সিমেন্ট, প্লাস্টিক পন্য, শিশুখাদ্য রপ্তানির অনুমোদন রয়েছে।

যেভাবে চলছে গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর

ভুটানসহ ভারতের সেভেন সিস্টারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্য ছিল, ভুটান-ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়লা, পাথর, মসলা, পেঁয়াজ, রসুন, বাঁশ, পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি করা। কিন্তু এখন এই বন্দরের কার্যক্রম শুধু কয়লা আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কয়লা আমদানীর কার্যক্রম চলে ৬ মাস। বছরের বাকি সময় এই বন্দর কার্যত বন্ধই থাকে।

কর্মসংস্থান

হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের দুইটি পোর্টে অন্তত ৫ শতাধিকের বেশি আমদানী কারক রয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছে। আমদানি বন্ধ থাকলে আমদানিকারকরা বেকার হয়ে পড়েন। এদিকে, পোর্টে কর্মরত শ্রমিকরা অন্য কাজ করে সংসার চালান। তাদের দাবি, এই দুটি পোর্ট দিয়ে আমদানীর সাথে পন্য রপ্তানী করা গেলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পেত ও এর সংশ্লিষ্ট সকলের ভাল ব্যবসা বা আয়-রোজগার হত।

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের ৬ মাসে বন্দরে লাভ

স্থল বন্দর সুত্র জানায়, গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের দুইটি পোর্ট দিয়ে চলতি বছরে জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয়েছে। জানুয়ারীতে ১৪ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন, ফেব্রুয়ারীতে ১২ হাজার ৭৫৩ মেট্রিক টন, মার্চে ১৪৫ মেট্রিক টন, এপ্রিলে ১১ হাজার ৬২১ মেট্রিক টন, মে'তে ১৫ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন এবং জুন মাসে ১৭ হাজার ৭৮৩ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা কয়লা থেকে ৬ মাসে বন্দর মাসুল (বন্দরের লাভ) ১ কোটি ৩১ লক্ষ ২১৮ টাকা। এর মাঝে ভ্যাট ধরা হয়েছে ১৯ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪৫৯ টাকা।

গোবরাকুড়া স্থল বন্দরের মাসুদ ট্রেড লিমিটেডের মালিক মাসুদ করিম শান্ত বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কয়লা ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। কারণ, একটা মামলার জন্য কয়লা আমদানী বন্ধ ছিল। কোর্ট নির্দেশেনা দিলে কিছু দিন কয়লা আসছে। আবার কিছু দিন পরে বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবেই কেটেছে ৮ বছর। ২০২৩ সালে কয়লা আমদানী শুরু হয়েছে। এখন কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।’

গোবরাকুড়া আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের মহাসচিব অশোক সরকার অপু বলেন, ‘বছরে ৬ মাস কয়লা আমদানি করা হয়েছে। পাথর আমদানি করার পরিকল্পনা আছে। আমাদের অপর পাশে ভারতের মেঘালয় রাজ্য দিয়ে বাংলাদেশে পন্য আমদানি করতে হয়। এলাকাটা জঙ্গলের মত হওয়ায় আমদানি করতে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়। যে কারণে শুধু কয়লা আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছি। তবে, ফলমুল, মসলা জাতীয় কিছু পন্য আমদানি করার চেষ্টা করছি। এই পোর্ট দিয়ে কোনো পন্য এখন পর্যন্ত রপ্তানী করার সুযোগ হয়নি। তবে, আমরা পন্য রপ্তানি করার চেষ্টা করছি।’

গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এই বছরের জানুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত শুধু কয়লা আমদানি হয়েছে। অন্য কোনো পন্য আমদানি-রপ্তানি করা হয়নি। এছাড়া এই দুটি পোর্ট দিয়ে বছরে ৬ মাস শুধু কয়লা আমদানি হয়। বাকি ৬ মাস এখানে কোনো কাজ থাকে না। এই সময়টাতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়েন।’

   

সাভার ট্যানারিতে ঢুকেছে সাড়ে চার লাখের বেশি কাঁচা চামড়া, পোস্তায় দেড় লাখ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে দুই দিনে সাভার বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি কাঁচা চামড়া ঢুকছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল পর্যন্ত সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ৪ লাখ ৬০ হাজার ও পোস্তায় দেড় লাখের মতো চামড়া ঢুকেছে। এসব তথ্য বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিক।

এরআগে, সোমবার দুপুরের দিক থেকে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া ঢুকতে শুরু করে।

মঙ্গলবার বিকেলের দিকে চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে দেখা যায়, চামড়াবাহী ট্রাক ঢুকছে শিল্পনগরীতে। আর ট্যানারিগুলোতে চলছে কর্মব্যস্ততা। কাঁচা চামড়ায় লবন মাখাচ্ছেন অনেকেই। থরে থরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে এসব লবন মাখানো চামড়া।

সাজেদুল হক নামে এক ট্যানারি শ্রমিক বলেন, গতকাল থেকেই চামড়া আসার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো পরিষ্কার করে লবন মাখাচ্ছি।

ট্যানারি মালিকরা জানান, সোমবার দুপুরের দিক থেকেই বিভিন্ন মাদরাসা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে আসা শুরু করেন।

সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে অবস্থিত আজমির লেদারের মালিক মো. শহীদুল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখানে লবন ছাড়া কাঁচা চামড়া ঢুকছে। এগুলো লবন দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এভাবে অন্তত দুই আড়াই মাস রাখা যাবে। আমরা সরাসরি মাদরাসা থেকে চামড়া কিনছি। আগেই কথা বলা ছিল। সেগুলোই নিচ্ছি। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, লবন যুক্ত চামড়া ১২০০ টাকা করে। লবন মাখাতে ২০০-২৫০ টাকা লাগে। এই খরচ বাদ দিয়ে কাঁচা চামড়া কেনা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সালমা ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ঈদের দিন ও আজ যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

চামড়া শিল্পনগরীর প্রস্তুতির বিষয়ে সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান রিজোয়ান বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ চামড়া ঢুকেছে ট্যানারিতে। আরও চামড়া ঢোকার সম্ভাবনা আছে।

বিসিক চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বার্তা ২৪.কমকে বলেন, সর্বশেষ আমাদের সাভার ট্যানারিতে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস চামড়া প্রবেশ করছে। এবার সারাদেশের রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছে। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে প্রত্যেক জেলায় ডিলারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেছি এবং লবণের মূল্য গতবারের চেয়ে কেজিতে দুই টাকা করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে কোথাও লবণ সংকটে পড়েছে আমরা এরকম রিপোর্ট পাইনি। চামড়ার মূল্যের বিষয়টা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নির্ধারণ করে ভোক্তা নিজেকেও আজকেও আমি বলেছি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাইনি।

;

সিলেটে পানিবন্দি ৬ লক্ষাধিক মানুষ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিপাতে সিলেটে পানিবন্দি রয়েছেন ৬ লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সময় যত যাচ্ছে বানভাসি মানুষের মাঝে ভয় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘর-বাড়ি ছেড়ে কিছু সংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে, বেশির ভাগই মানুষজন নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন পাড়াপ্রতিবেশিদের উঁচু বাসায় বা আত্মীয় স্বজনের বাসায়। ইতোমধ্যে সিলেটের সবকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা বৃষ্টির ফলে সুরমা নদীর পানি ছাড়াও নালা উপচে প্রবেশ করছে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়। তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ঘর থেকে বাইরে বের হতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানান সমস্যায়। সিলেট মহানগরীতে ৫০ হাজার মানুষ রয়েছেন পানি বন্দি। এছাড়াও সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৭ জন পানি বন্দি রয়েছেন।

এমনটাই মঙ্গলবার দিবাগত জানিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসনের সূত্র।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য মতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, অমলসীদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ৪৭ সেন্টিমিটার ও একই নদীর ফেঞ্চুগঞ্জে ৮৮ সেন্টিমিটার নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে। এছাড়াও সারি গোয়াইনের পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮জুন) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭৬ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানান সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো.সজীব হোসাইন।

জানা যায়, গত ২৭ মে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। এতে জেলার অন্তত সাড়ে ৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে ঈদের আগের দিন রোববার (১৬মে) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিতে আবার সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। এতে করে নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, বরইকান্দি, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।

এছাড়াও জেলার গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আর্তমানবতার তাগিদে বানভাসি মানুষের পাশে রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি।

তিনি মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ও দশঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে ও বানভাসি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

মঙ্গলবার (১৮জুন) মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সিলেট মহানগরীসহ ১৩টি উপজেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১টি ওয়ার্ডের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৬২৭ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন ১৭ হাজার২৮৫জন। ১৩টি উপজেলায় ১৩২৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ,জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা।

;

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চুয়াডাঙ্গা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মুকুল হোসেন (৫০) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কিরণগাছিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মুকুল হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ঘাটপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাত আলী মন্ডল বলেন, মুকুল হোসেন মোটরসাইকেলে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। মুকুল হোসেন সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মুকুল নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজ হোসেন নামের এক কলেজছাত্র নিহত হন। এ নিয়ে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে দুজনের মৃত্যু হলো।

;

নাম ধরে ডাকায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু খুন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মনির হোসেন (১৮) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

নিহত জাহিদুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ (২০) উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কুতুবপুর গ্রামের ওয়ারিশ হাজী বাড়ির হারুনুর রশীদ ওরফে কালামিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার একটি ব্যাগ তৈরির কারখানায় চাকরি করতেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের কামলারটেক বাজারের হাশেমের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে একই গ্রামের আলাবক্স বেপারী বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে হামলাকারী মো.রিয়াজকে (২০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম জাহিদুল ও আটককৃত আসামি রিয়াজ উভয়ে প্রতিবেশী এবং একসাথে চলাফেরা করত। ভিকটিমের সাথে ৪-৫ দিন আগে আসামি রিয়াজের খেলাধুলা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহিদুল তার কয়েকজন বন্ধুসহ স্থানীয় কামলারটেক বাজারের হাশেমের চা দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় কিশোর গ্যাং সদস্য বখাটে রিয়াজ তার কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গসহ জাহিদুলের উপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার বুকে ছুরিকাঘাত করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তাকে বাঁচাতে তার বন্ধু মনির এগিয়ে আসলে তাকেও গুরুত্বর জখম করা হয়। আহত মনির ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তারা পরস্পর বন্ধু ছিল। তাদের পাশাপাশি বাড়ি। ছোটকাল থেকে তারা এক সাথে চলাফেরা করত। নিহত জাহিদুল আসামি রিয়াজকে নাম ধরে ডাকে। তখন আসামি রিয়াজ ভিকটিমকে বলে আমি কি তোর ছোট নাকি। এরপর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাতে করলে ভিকটিম ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই একজনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;