এবার প্রবেশ পত্র দিতে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন সেই প্রধান শিক্ষক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তির সরকারের বিরুদ্ধে আবারও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবার তিনি টাকার বিনিময়ে এসএসসির প্রবেশপত্র বিতরণ করছেন।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) স্কুল চত্বরে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, যেসকল শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা বকেয়া রেখেছে শুধু তাদের কাছে টাকা নেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রধান শিক্ষকের এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। স্কুল সূত্র জানায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে সর্বমোট ২৪৭ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রবেশপত্র দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি পরীক্ষার্থীর নিকট গড়ে ৫০০ টাকা করে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকারী শিক্ষকদের আপত্তি আমলে নেননি তিনি।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার ও অফিস সহকারী আহমদ হোসেন প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে টাকা নিয়ে যেতে বলেছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ৫২০ টাকা এবং মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ৪৯০ টাকা দিতে বলেছেন।

রোববার স্কুল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছে। কেউ কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশপত্র দেওয়ার দাবিতে স্কুল চত্বরে অপেক্ষা করছে। অপেক্ষারত বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা জানায়, টাকা ছাড়া প্রবেশপত্র দিচ্ছেন না প্রধান শিক্ষক। ৫২০ টাকা করে দিয়ে অফিস সহকারীর কাছে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বলেছেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা ফরম পূরণের সময় পুরো টাকা দিয়েছি। তবুও আমাদের কাছে ৫২০ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে। অনেকে টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিয়ে গেছে। আমরা টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নেবো না।’

বায়েজিদ নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছোট বোন পরীক্ষা দেবে। আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রবেশপত্র নিতে গেলে তিনি ৫০০ টাকা দাবি করেছেন। বলেছেন, ১০ টাকা কম দিও।’

অফিস সহকারী আহমদ হোসেন কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র বিতরণের সত্যতা স্বীকার করেন। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে তিনি টাকা নিয়েছেন বলে জানান। তিনি দাবি করেন, ‘যে পরীক্ষার্থীরা ফরম পূরণের সময় টাকা বকেয়া রেখেছিল তাদের কাছে টাকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তবে পরে বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর টাকা নিতে নিষেধ করে দিয়েছেন। আমরা এখন টাকা ছাড়াই প্রবেশপত্র দেবো।’ অফিস সহকারীর এই দাবিরও সত্যতা মেলেনি।

স্কুলে উপস্থিত সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সামনে কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, তারা ফরম পূরণের কোনও টাকা বাকি রাখেননি। তবুও তাদের কাছে ৫২০ টাকা নিয়ে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে। এসময় সহকারী শিক্ষকরা নিরুত্তর থাকেন।
সহকারী প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম বলেন, ‘এমনটা শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন।’

প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পাশের জনতা ব্যাংক শাখায় তার সাথে দেখা হলে তিনি বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টা সঠিক নয়। যাদের টাকা বাকি ছিল তাদের কাছে টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটা নিতেও নিষেধ করেছি।

সকল পরীক্ষার্থীর কাছে টাকা দাবি করা ও অনেকের কাছে আদায় করা প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক বলেন,‘এমন হয়ে থাকলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।’

ফরম পূরণের পর প্রবেশপত্র জিম্মি করে টাকা আদায় বিধিসম্মত কি না, ‘এমন প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক বলেন, মোটেও বিধিসম্মত নয়।’

দুপুরে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে অবশিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে আবারও টাকা আদায় করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা।

জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম বলেন, ‘এভাবে টাকা আদায়ের কোনও সুযোগ নেই। প্রধান শিক্ষককে নিষেধ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে মামলাও চলছে আদালতে।

   

শবে বরাতের রুটি-হালুয়া তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা



রাজু আহম্মেদ ও গুলশান জাহান সারিকা, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শবে বরাত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি বিশেষ রাত। শবে-বরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্জন ও ক্ষমা প্রার্থনায় ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি পুরান ঢাকার বাড়িতে-বাড়িতে তৈরি হয় হালুয়া রুটিসহ লোভনীয় নানা খাবার। সে খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকে বাড়ির বড়রা। আত্মীয় স্বজনদের বিতরণ করা হয় বিভিন্ন মুখরোচক খাবার। বিশেষ করে রুটি-হালুয়া বিতরণ হয় প্রথা মেনে।

তবে বাড়িতে হালুয়া রুটি তৈরির এত সব ঝামেলা এড়াতে অনেকেই শবে বরাতের হালুয়া রুটি কেনেন দোকান থেকে। আর তাই হালুয়া রুটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবারও পুরান ঢাকার বেকারিগুলোতে চলছে রুটি কারিগরদের ব্যস্ততা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন পুরান ঢাকার চকবাজার, সওয়ারি ঘাটসহ বেশ কিছু এলাকা দেখা গেছে, বেকারির কারখানাগুলোতে দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। রুটি তৈরির আগে হাতের কসরতে খামির তৈরি করছে কারিগররা। এরপর বিভিন্ন নকশায় ময়দা খামির করে রাখা হচ্ছে টিনের তৈরি ছাঁচে। নিদিষ্ট সময় শেষে ছাঁচ দেওয়া হয় আগুনের চুলা অথবা ডিজিটাল মাইক্রোওভেনে।

ময়দা, চিনি, ঘি, ডিম ও তেলের মিশ্রণে তৈরি বিশেষ এই রুটির আছে নানা নান্দনিকতা। মাছ রুটি, বাটি রুটি, ফুল রুটিসহ বিভিন্ন নকশায় তৈরি হয় শবে বরাতে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই রুটি। যা বিক্রি হয় কেজি দরে। এবার প্রতিকেজি রুটি ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বেকারিগুলোতে।

পুরান ঢাকার সোয়ারি ঘাটের শাহাজাহান বেকারির কারিগর মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবছর শবে বরাতে ব্যস্ত থাকি নকশি রুটি তৈরিতে। এবারও অনেক ব্যস্ত সময় পার করছি। দিনে দুইশত রুটি তৈরির টার্গেট আমাদের। কিছু বানানো হয়েছে বাকিটা রাতেই শেষ হবে।

চকবাজার এলাকার হট এন্ড ব্রেড লাইভ বেকারির কারিগর ইদ্রিস বলেন, বিকেল থেকে রুটি তৈরি শুরু হয়েছে। আমাদের হাতে সময় নেই, ব্যস্ততা আছে-থাকবে আগামীকাল পর্যন্ত।

শাহাজাহান বেকারির স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, প্রতিবছর আমরা এই হালুয়া রুটি বিক্রি করি। গত বছর প্রায় ৫০ হাজার টাকার রুটি হালুয়া বিক্রি করেছি। এবার তেমন চাহিদা নেই। তবে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরান ঢাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে চলে আসছে শবে বরাতে এই রুটির তৈরির ঐতিহ্য। প্রতিবছর শবে বরাতে প্রায় কোটি টাকার হালুয়া রুটি কেনাবেচা হয় পুরান ঢাকাসহ রাজধানী মিরপুর, গুলশান ও আশেপাশের এলাকায়। শবে বরাতের আগের রাত থেকে থেকেই রুটির পসরা বসে পুরান ঢাকার অলিগলিতে। কেজি দরে কিনে নেয় ব্যস্ত নগরের বাসিন্দারা।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন, আজ থেকে দশ বছর আগে শবে বরাতের আগে থেকেই মুখরোচক খাবারের ঘ্রাণে ভরে যেত চারপাশ। এই ঐতিহ্য আমাদের যুগ যুগ ধরে চলছে। আমার দাদা করেছে, আমার বাপ করছে; এখন আমরা হালুয়া রুটি বানাই খাই, আবার সবাইকে দিই।

আবির নামের আরেকজন বলেন, আমরা অপেক্ষা করি এই দিনটির। রুটি হালুয়া খাই। আল্লাহর ইবাদত করি। ভালো লাগে।

তবে সময়ের সাথে ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে আগের মত শবে বরাতে রুটি হালুয়ার প্রচলন কমে আসছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। চকবাজারের বাসিন্দা মারুফ হাসান বলেন, আগে খুব উৎসাহ নিয়ে মানুষ শবে বরাতে হালুয়া রুটি বানাত, সবাইকে বিলি করত। কিন্তু এখন ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে এসব থেকে মানুষ পিছিয়ে আসছে। সময়ের সাথে হালুয়া রুটির উৎসব ঐতিহ্যটির পিছনে ফেলে মানুষ সুন্নাহ মেনে চলার চেষ্টা করছে।

তবে শবে বরাত ধর্মীয় শুভ্রতার হলেও পুরান ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় এখনো রুটির তৈরির উৎসবটাও কম নয়। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা পুরান ঢাকার হালুয়া রুটি সময়ের সাথে হয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনেও সেই ঐতিহ্য না হারিয়ে টিকে থাকুক—এমন প্রত্যাশা সকলের।

;

লালমনিরহাটে ট্রাক চাপায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ (১২) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহ শহরের পশ্চিম হাঁড়িভাংঙ্গার তালিমুল ইনসান কওমি হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র এবং একই এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে ৫ টার দিকে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার বিনিময় ফিলিংস স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক দিয়ে মালবাহী একটি ট্রাক মিশনমোড় হয়ে রংপুরের দিকে যাওয়ার সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বিনিময় ফিলিংস স্টেশনের সামনে সাইকেল আরোহী মাদ্রাসা ছাত্রকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। পরে মাদ্রাসা ছাত্র সাইকেল ছিটকে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এসময় সাইকেলে থাকা অপর আরোহী বেচে যায়। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করলেও চালক ও সহযোগী পালিয়ে যায়।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে।

;

রোববার পিলখানা হত্যা দিবস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা 
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যা দিবস। ১৫ বছর আগে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর সদর দফতর পিলখানায় বিপথগামী সৈনিকরা সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপর দুইদিনব্যাপী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই সময় বিডিআরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশু ছাড়াও আরও ১৭ জনকে হত্যা করে বিদ্রোহীরা। শোকাবহ এ ঘটনায় নিহতদের স্মরণে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

দিনটিকে উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর উদ্যোগে বনানী সামরিক কবরস্থান ও বিজিবি সদর দফতরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল ৯ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্প স্তবক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ শাখা গণমাধ্যমকে জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় রোববার সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) এবং শহীদদের নিকটাত্মীয়রা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। একই সাথে শহীদদের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারীরা অংশ নেবেন।

সেই সাথে দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদদের রুহের মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানায় বিজিবির সদর দফতরসহ সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় কোরআনখানি হবে। বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দিনটি পালন উপলক্ষ্যে বিজিবির যেসব স্থানে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন হয়, সেসব স্থানে বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবির সব সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবেন।

উল্লেখ্য হাইকোর্টে জমা হওয়া মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তৎকালীন বিডিআরের বার্ষিক দরবারের দিন। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমএ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাসহ বিডিআরের নানা পদের সদস্যরা। দরবার শুরুর পর মহাপরিচালকের বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চের বাঁ দিকের পেছন থেকে দু’জন বিদ্রোহী জওয়ান অতর্কিতে মঞ্চে প্রবেশ করেন, একজন ছিলেন সশস্ত্র। শুরু হয় বিদ্রোহ। দরবার হলের বাইরে থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসে। সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই দিন দরবারে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৬০ জন।

কিছুক্ষণের মধ্যে লাল-সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে নাক-মুখ বাঁধা বিদ্রোহী জওয়ানরা দরবার হল ঘিরে গুলি শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্রোহীরা কর্মকর্তাদের দরবার হল থেকে সারিবদ্ধভাবে বের করে আনেন। ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তারা দরবার হলের বাইরে পা রাখা মাত্র মুখে কাপড় ও মাথায় হলুদ রঙের হেলমেট পরা চারজন ডিজিকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেন। ডিজির পর হত্যা করা হয় আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে। এরপর পিলখানার ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট ছাড়া হলে ওই হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিদ্রোহীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বিদ্রোহীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। সন্ধ্যায় পিলখানার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের লাশ মাটিতে পুঁতে ও সরিয়ে ফেলা হয়।

;

দুই জালে চার লাখ টাকার মাছ, ভাগ্য খুলল জেলের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীতে দুই জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৩টি জাভা ও ১০টি মেদসহ একঝাঁক মাছ।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন নীলডুমুর ঘাটে নিলামের মাধ্যমে এসব মাছ বিক্রি হয়।

বারিক খাঁ ও শহিদুল ইসলাম শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পাশ্বেমারি গ্রামের বাসিন্দা।

নীলডুমুর গ্রামের আব্দুল হালিম জানান, লোকালয়ে আনার পর মাছগুলো চার লাখ ২১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে ভাগ্য খুলেছে তাদের।

জেলে বারিক খাঁ ও শহিদুল ইসলাম জানান, তারা সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মালঞ্চ নদীতে জাল ফেললে তাতে এক ঝাঁক মাছ ধরা পড়ে। কলবাড়ি বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জেলেদের কাছ থেকে মাছগুলো ক্রয় করেছেন।

ব্যবসায়ী আব্দুর সাত্তার জানান, সামুদ্রিক মাছ হিসেবে এসব মাছ খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। পাশাপাশি এই মাছের চাহিদা ও দাম চড়া হওয়ার মূল কারণ হলো এ মাছের ফুলকা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। মাছের গ্রেড অনুযায়ী প্রতি কেজি ফুলকার মূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।

;