আশুলিয়ায় গণধর্ষণের শিকার পোশাক শ্রমিক: গ্রেফতার ৫



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারের আশুলিয়ায় নারী পোশাক শ্রমিককে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব- ৪)। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে আরও ২ আসামি।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে গ্রেফতারকৃতদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব ৪। এর আগে শুক্রবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। পরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব ৪।

গ্রেফতারকৃতরা হল, মনিরুল ইসলাম ওরফে পাপ্পু (২৫), আহসান আহম্মেদ রায়হান (২২), রফিকুল মিয়া (২২), আরাবি হুসাইন শান্ত (১৯), মো. জুয়েল (২২)। পলাতক আসামিরা হল, সাগর ওরফে লিটন (২২) ও মো. তুহিন (২৩)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নারী ও তার এক বান্ধবীকে নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় সাগর ওরফে লিটন। সেখানে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় পাপ্পু। পরে পাপ্পু ও রায়হান তাকে ধর্ষণ করে এবং বাকিরা সহায়তা করে। পরে রফিকুল মিয়া ধর্ষণের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীর ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এসে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। পরে র‍্যাবের কাছে অভিযোগ দিলে অভিযান চালিয়ে ৫ আসামিকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন্স) নির্মল কুমার দাস বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতারকৃতদের আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।

 

   

সিজারিয়ান প্রসবের ওপর বিধি-নিষেধ চায় মানবাধিকার কমিশন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিজারিয়ান প্রসবের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইউশা রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিক মোহসিন কবিরের ‘গর্ভবতী মাকে মিডফোর্ড হাসপাতাল থেকে বের করে দিলেন গাইনি চিকিৎসক’ শিরোনামে লেখাটি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়।

সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, রাজধানীর শ্যামপুর থেকে এক গর্ভবতী নারী মিডফোর্ড হাসপাতালে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সবকিছু ঠিক আছে মর্মে স্বাস্থ্যকর্মী জানান। দায়িত্বরত চিকিৎসক তার আর্থিক অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করেন এবং সিজার করতেই হবে বলে জানান। কিন্তু গর্ভবর্তী নারীর পূর্বে দুটি সন্তান স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে উল্লেখ করেন এবং সিজার করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে ওই চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেন। চিকিৎসক আপত্তিকর মন্তব্যসহ হয়রানিমূলক কথা বলেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই নারী মুগদা নবস্বাস্থ্য নামক একটি সরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়।

আরও বলা হয়, গত বছরের ১০ জুন একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার অনলাইনে ‘শিশু জন্মে অস্ত্রোপচার যেন সুনামির মতো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) ৩১তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের একটি অধিবেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, দেশে শিশু জন্মে অস্ত্রোপচার যেন সুনামির মতো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অস্ত্রোপচার বাড়ছে। দুটি শিশু জন্মের একটি হচ্ছে অস্ত্রোপচারে। এতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বাড়ছে স্বাস্থ্য ব্যয়।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে মর্মে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। প্রয়োজন ছাড়া শিশু জন্মে অস্ত্রোপচার করা মা ও নবজাতকের জন্য মারাত্বক হুমকি স্বরূপ। যেখানে স্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর সরকারকে বিপুল পরিমাণে অর্থ ভর্তুকি প্রদান করতে হয়, সেখানে মিডফোর্ডের মতো একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসক কর্তৃক সিজার করতে চাপ প্রয়োগ করার বিষয়টি কমিশনের নিকট বোধগম্য নয়। এরূপ সিজারিয়ান প্রসবের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রকৃত কারণ কী তা খতিয়ে দেখা এবং সিজারিয়ান প্রসবের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন মর্মে কমিশন মনে করে।

এ অবস্থায়, মিডফোর্ড হাসপাতালের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করতে পরিচালক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালকে বলা হয়েছে। একইসাথে প্রসবে অপ্রয়োজনীয় সিজার/সি-সেকশন বন্ধ, এ লক্ষ্যে নারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সিজারিয়ান প্রসবের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির পেছনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

;

অবৈধ অস্ত্রধারীদের ছাড় দেয়া হবে না: র‍্যাব মহাপরিচালক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বান্দরবান
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

স্বাধীন দেশে কোন অবৈধ সংগঠন থাকবেনা, অবৈধ অস্ত্রধারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তারা যতক্ষণ শান্তির পরে ফিরে না আসবে ততক্ষণ যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন।

তিনি বলেন, গজিয়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট'র (কেএনএফ) জন্য শান্তির পথে ফিরে আসতে এখনো আলোচনার পথ খোলা আছে। তারা চাইলে আত্মসমর্পণ করে শান্তির পথে ফিরে আসতে পারে। তাদের জন্য যা যা করা লাগবে সে সবগুলো আমরা করবো।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ৩টায় বান্দরবানের সার্কিট হাউজে এক ব্রিফিং-এ একথা বলেন তিনি।

এর আগে তিনি সকালে রুমায় ব্যাংক ডাকাতি, মসজিদে হামলা, অস্ত্র লুটের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর সার্কিট হাউজে জেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বান্দরবানের রুমা-থানচিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো খুবই নিন্দনীয় কাজ। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং বিপদগামীরা যতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসে ততদিন পর্যন্ত এই অভিযান চলমান থাকবে।

এছাড়া এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি রয়েছে তাদের সাথে কিংবা জেলা প্রশাসক, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই,আনসার ও র‍্যাব সদস্যরা রয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করে শান্তি আলোচনার মাধ্যমে বিপদগামীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। শান্তি আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। সংঘর্ষ বা সংঘাত কারোই কাম্য নয়, বিপদগামী সকলের শুভবুদ্ধি উদয় হোক এই কামনা করেন তিনি।

আটজন ত্রিপুরাদের গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে প্রশ্ন করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। কেননা তাদের সাথে সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তারা চিহ্নিত বা দেখিয়ে দিলে আমাদের জন্য সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযান করা আরো সহজ হবে বলে মনে করি।

এসময় তিনি আরও বলেন, তারা যদি আত্মসমর্পণ করতে চায় তাহলে তাদের স্বাগত জানাবো। তাদের পুর্নবাসন করা হবে, সহযোগিতা করা হবে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, আমরা শান্তি চাই। সরকার প্রধান পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেনাবাহিনী নিযুক্ত করেছে। যাতে পাহাড়ি অঞ্চলে সকল জাতিগোষ্ঠী শান্তিতে বসবাস করতে পারে। কিন্তু পাহাড়ের অশান্তি সৃষ্টি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না। তাই আমরা চাই তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির মাধ্যমে আলোচনায় এসে আবার শান্তির পথে ফিরে আসুক।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন, র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস্) কর্নেল মোঃ মাহাবুব আলম, বিজিবি বান্দরবান সেক্টর সদর দপ্তরের কর্নেল সোহেল আহমেদ, ডিজিএফআই এর কর্নেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ জামশেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

;

চার দিনের ন্যাপ এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চার দিনের ন্যাপ এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের ন্যাপ এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ২২ থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলন ন্যাশনাল এডাপটেশন প্লান (ন্যাপ) এক্সপো ২০২৪ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ উপলক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এতে আরও উপস্থিত থাকবেন ইউএনএফসিসিসির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সাইমন স্টিয়েল উক্ত ন্যাপ এক্সপোতে উপস্থিত থাকবেন।

এসময় তিনি জানান, ন্যাপ সম্মেলন আগামী ২২ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হবে ২৫ এপ্রিল। সম্মেলনটি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিত হবে। ইউএনএফসিসিসির তত্ত্বাবধানে স্বল্পোন্নত দেশগুলির বিশেষজ্ঞ গ্রুপ এবং বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এ এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ এ অংশগ্রহণের জন্য ১০৪টি দেশের ৩৮৩ জন ইউএনএফসিসিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞবৃন্দ, এনজিওর প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষার্থীসহ ৫৫০জন অংশগ্রহণ করবেন। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের অভিযোজন কার্যক্রম সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় থেকে সবাই পারস্পরিকভাবে উপকৃত হতে পারবে।

সাবের চৌধুরী বলেন, ন্যাপ এক্সপো একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম যেখানে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা ন্যাপ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা, সর্বোত্তম অনুশীলন, বাস্তবায়নের চ্যালেন্জ, চাহিদা এবং ন্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত প্রদত্ত এবং প্রাপ্ত সহায়তা সম্পর্কিত তথ্য বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষজ্ঞগণের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং বিভিন্ন দেশের ন্যাপসমুহের বাস্তবায়ন অগ্রগতির মূল্যায়ন করার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপদাপন্ন দেশগুলোর ন্যাপ-প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য জিসিএফসহ আন্যান্য জলবায়ু তহবিল হতে অর্থায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে এটি একটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম। এই এক্সপো উন্নয়নশীল দেশগুলির ন্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত গ্যাপ এবং চাহিদা চিহ্নিতকরণের জন্য প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করবে। ন্যাপ এক্সপো ২০২৪ এ বাংলাদেশ বিভিন্ন সেশন আয়োজন করবে।

মন্ত্রী জানান, এ সম্মেলনে মোট ২০টি স্টল থাকবে যেখানে বিভিন্ন দেশের অভিযোজনমূলক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও, ৪ দিনে ১টি সেশনে বিশেষজ্ঞগণ ট্রান্সফরমেশনাল এডাপটেশন, ফিনান্সিয়াল মেকানিজম, এডাপ্টেশন একটিভিটি মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন টুলস, জেন্ডার রেস্পন্সিভ এডাপটেশন প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করবেন।

বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি স্টলে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, পাহাড়ি অঞ্চলে সোলার এনার্জির মাধ্যমে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা, জলবায়ু সহিষ্ণু বীজ, প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য কৃষি কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়, অভিযোজন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ডেল্টা প্লানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য সাইক্লোন সেল্টার, মুজিব কিল্লা, রাস্তাঘাট, কালভার্ট নির্মাণ, জলবায়ু সহিষ্ণু নগর ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু উদ্বাস্তু, ইত্যাদি জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়সমূহ প্রদর্শন করা হবে। বিদেশি স্টলে প্রদর্শিত অভিযোজন কর্মকাণ্ড থেকেও আমরা অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবো। এ এক্সপোতে দেশের জলবায়ু অভিযোজন প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দেশি বিদেশি সংস্থা অংশগ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইকবাল আব্দুল্লাহ হারুন, অতিরিক্ত সচিব (পদূনি) তপন কুমার বিশ্বাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড আবদুল হামিদ এবং বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ।

;

চৈত্রের খরতাপে বিপর্যস্ত বরেন্দ্র অঞ্চল



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চৈত্র মাসের প্রখর সূর্যতাপ বরেন্দ্র অঞ্চলের জীবনযাত্রা ও কৃষি কার্যক্রমকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করেছে। তীব্র খরতাপ এবং অনবরত খরা অবস্থার কারণে রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা ফসল উৎপাদনে গভীর সংকটে পড়েছেন। এ অঞ্চলটি এই সময়ে প্রায় প্রতি বছরই প্রচণ্ড তাপদাহের মুখে পড়ে। এ বছর অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মৌসুমের ফলে জলাভাব সৃষ্টি হয়েছে। যা কৃষি জমিগুলিতে পানির প্রাপ্যতা হ্রাস করেছে। সেচের অভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পাচ্ছে। উত্তপ্ত আবহওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও হাঁসফাঁস করছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথ-ঘাট-মাঠ সবকিছুই উত্তপ্ত।

একটু শীতল প্রশান্তির আশায় শিশু-কিশোররা পুকুর, নদী-নালার পানিতে নেমে খেলা করছে। পথচারীরা টিউবওয়েলের পানিতে মুখ ভিজিয়ে উত্তপ্ত আবহাওয়ার ক্লান্তি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। প্রচণ্ড গরমে তাদের মুখে স্বস্তির ছায়া নেই। বরেন্দ্র অঞ্চলের এমন উত্তপ্ত আবহাওয়া শুধু দৈনন্দিন জীবনের উপরই নয়, জনস্বাস্থ্যের উপরেও গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

শীতল প্রশান্তির আশায় শিশু-কিশোররা পুকুর, নদী-নালার পানিতে নেমে খেলা করছে

চিকিৎসকরা বলছেন, অত্যধিক গরমে জলশূন্যতা ও হিট স্ট্রোকের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে অপর্যাপ্ত পানির যোগান এই সমস্যাকে আরও জটিল করছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রেক্ষাপটে জরুরী পানীয় জল ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহীতে বুধবার (১৭ এপ্রিল) সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১১টা গড়াতেই রাস্তা-ঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে। কিন্তু আগুনঝরা আবহাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না ঘরেও। তাই ভোগান্তিতে থাকা মানুষ প্রশান্তির বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন।

স্থানীয় পবা উপজেলার কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এবারের তাপমাত্রা আগের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। আমাদের ধানের ফসলে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসলের অবস্থা খুবই খারাপ। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যত উৎপাদন ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়বে।

নগরীর অটোরিকশা চালক ইদ্রিস আলী বলেন, রাজশাহী শহরে দুই শিফটে অটো চলাচল করে। সকালের শিফটে লাল চললে বিকেলের শিফটে চলে সবুজ রঙের অটোরিকশা। সকালের শিফটে গরম অত্যন্ত প্রখর হয়। আমি বর্তমানে সকালের শিফটে গাড়ি চালাই। দিনের বেলা যত বাড়ে, ততই তাপদাহ ও কষ্ট বাড়তে থাকে। কঠিন রোদ সত্ত্বেও, অটোরিকশা চালানো আমার কাছে একটি অনিবার্য কর্তব্য।

এই বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যেও স্বস্তির বার্তা নেই আবহওয়া অফিসের কাছে। রাজশাহী আবহওয়া অফিসের তথ্যমতে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৩০ শতাংশ।।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রাজীব খান বলেন, আপাতত রাজশাহীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে মেঘের সঙ্গে বজ্রপাত হতে পারে। মার্চের শেষের দিকেও রাজশাহীতে এমন আবহাওয়া ছিল না। ওই সময় রাতের দিকে শীত অনুভব হত। তাপমাত্রা উঠানামা করত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। তবে এপ্রিলের পথম সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা বাড়তির দিকে। আরও কিছুদিন এমন থাকতে পারে।

এদিকে, হঠাৎ পরিবর্তিত এই অবহওয়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানা গেছে। আর এ সময় সর্তক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক-বিভাগীয় প্রধান ডা. খলিলুর রহমান বলেন, গত কয়েক দিন থেকে হঠাৎ করে আবারও তাপমাত্রা বাড়ায় ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এ তীব্র গরমে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ও হৃদরোগে আক্রান্তদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

তিনি বলেন, এ সময় সতর্ক থাকতে হবে। পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। যাতে শরীর ঠিক মতো হাইড্রেটেড থাকে। ঘামের মাধ্যমে হারানো তরল ও খনিজ উপাদানগুলো যেন পুনরায় পূরণ হতে পারে। সানস্ক্রিনের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা পায়। গরমের সময় হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত যা শরীরের তাপ নির্গমনে সহায়ক। তাপমাত্রা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন যতটা সম্ভব শীতল ও ছায়াশীতল স্থানে থাকা উচিত এবং দুপুরের দিকে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এই সব পদক্ষেপ মেনে চললে গরমের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।

;