রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিগগিরই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রধানমন্ত্রীর।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। তাই জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার সবসময় সচেষ্ট। এ লক্ষ্যে সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে আমরা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিকে অনেকাংশে সংযত করতে পেরেছি। তবে, বিশ্ববাজারের কয়েকটি পণ্য যেমন জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের দেশে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ অনুভূত হচ্ছে। আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার- মূল্যস্ফীতি কমাতে বিভিন্ন শুল্কছাড় প্রদান করা হচ্ছে; অপরিশোধিত সয়াবিন, পরিশোধিত/অপরিশোধিত পাম তেল আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে ১০% এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত সমুদয় ভ্যাট হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানে খেজুরের চাহিদা বিবেচনায় খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিবেচনায় পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনির আমদানি শুল্কহার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

চাল আমদানি শুল্ক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে এবং রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতি (রেপো) সুদহার দফায় দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের মে মাসে ৪.৭৫ শতাংশ হতে সর্বশেষ ৮ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি, রিভার্স রেপো রেট (এসডিএফ) বৃদ্ধি করে ৬.৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে এবং ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। নীতি সুদহার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি করায় বাজারভিত্তিক গড় সুদ হারে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আশা করা যায় যে, খুব শিগগিরই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ক্রলিং পেগ ভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত করিডোর ভিত্তিক এ ব্যবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের অস্বাভাবিক উত্থান-পতন রোধ করবে বলে আশা করা যায়। ফলে এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে

তিনি জানান, আসন্ন রোজায় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার অভিপ্রায়ে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত যোগানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যতম নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ভারত সরকারের কাছ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন চিনি এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ সরবরাহের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর বাইরেও কৃষি বিপণন অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দৈনিকভিত্তিতে কৃষিপণ্যের বাজারদর প্রকাশ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা জানান, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষের নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ২৫টি স্পটে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে দুধ, মাংস ও ডিম বিক্রির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, পবিত্র রমজান উপলক্ষে আমদানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক স্টেশনসমূহ ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুর দ্রুত খালাসকরণে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর/সংস্থা এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে সভাসমূহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা নির্ণয়, স্থানীয় উৎপাদন, মজুদ পরিস্থিতি, আমদানির পরিমাণ ইত্যাদি ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম কর্তৃক ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কোনরূপ অস্বাভাবিক অবস্থা/পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হলে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়ে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য সারাদেশে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের নেতৃত্বে জেলা ও উপজেলায় গঠিত জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত সভা করে থাকে। উক্ত টাস্কফোর্স জেলা ও উপজেলা বাজারসমূহে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে আমদানির এলসি'র সর্বনিম্ন মার্জিন গ্রহণসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলার জন্য এবং প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংককে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

চালের মজুদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের মূল বাজেটে ওএমএস খাতে ৪ লাখ মেট্রিক টন চালের সংস্থান রয়েছে। সারাদেশে প্রতিদিন ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে ৮শত ৬৭ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন আটা বিক্রয় করা হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট ৫টি মন্ত্রণালয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ করেছে। টিসিবি'র মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ভর্তুকি মূল্যে ১ কোটি পরিবারকে ৫ কেজি করে প্রতিমাসে মোট ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় চালের পাশাপাশি সাশ্রয়ীমূল্যে ২ কেজি করে ডাল এবং ২ কেজি সয়াবিন তেলও বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য আমদানি বন্ধ না রেখে লীন পিরিয়ডে পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে প্রয়োজনে মৌসুমভিত্তিক শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। এছাড়া, দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব প্রশমনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে এবং সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও জেলা শহরসমূহে ৩০ টাকা কেজি দরে ওএমএস চাল বিক্রয় করা হচ্ছে। কৃষিখাতে প্রদত্ত ভর্তুকি ও প্রণোদনা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে পরোক্ষভাবে কৃষিজাত পণ্যের মূল্য নিম্নমুখী রাখতে সহায়তা করে। ২০২৩- ২৪ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকি ও প্রণোদনা হিসেবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি জানান, অসাধু ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রতিটি মিলের পাক্ষিক মিলিং ক্ষমতা ধানের ক্ষেত্রে পাঁচ গুণ থেকে কমিয়ে তিন গুণ করা হয়েছে। মজুত রাখার এ বিধান সংশোধন করায় বাজারে ধানের সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং অবৈধ মজুত রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। চালকল মালিক এবং খাদ্যশস্য ব্যবসায়ীদের গুদাম নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। অটো রাইসমিলসমূহ হতে চালের বস্তার গায়ে-ধানের জাতের নাম, প্রস্তুতকারক মিলের নাম ঠিকানা, নিট ওজন, উৎপাদনের তারিখ এবং মিল গেটে চালের মূল্যের তথ্য লিখে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ২৯ শতাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা মোট বাজেটের ১৬.৫৮ শতাংশ। এছাড়া, কোভিড-১৯ ও পরবর্তী যুদ্ধ-বিগ্রহ বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য খাদ্য নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য নিত্যপণ্যের বৃহত্তম যোগানদাতা দেশ ভারত হতে সম্ভাব্য আমদানির ক্ষেত্রে বার্ষিক সুনির্দিষ্ট কোটা নির্ধারণের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উভয় দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে চাল, গম, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ইত্যাদি নিত্যপণ্য ভারত হতে আমদানির ক্ষেত্রে বাৎসরিক একটি সুনির্দিষ্ট সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এইসব পদক্ষেপের ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা মহিলাসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় যেমন স্বস্তি আসবে, তেমনি পবিত্র রমজান মাসে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে আশা করেন সরকার প্রধান।

   

গুম-নির্যাতন নিয়ে কাল্পনিক মিথ্যাচার করছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যখন পবিত্র ঈদ উৎসব উদযাপন করছে, নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে প্রতিটি গৃহকোণ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে মাতোয়ারা ঠিক সে সময়ে বিএনপি তথাকথিত 'গুম-নির্যাতনের' কাল্পনিক তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের।

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলের দেওয়া নেতাকর্মীদের গুম, হত্যার ঘটনা সব মিথ্যা এবং দায়েরকৃত মামলার সংখ্যার তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এখন মনগড়া তথ্য দিয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তথাকথিত গুম, খুন ও মামলার সংখ্যা নিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছ থেকে করুণা ও রাজনৈতিক সমর্থন লাভের আশায় বিএনপি নেতারা ধারাবাহিকভাবে সরকার বিরোধী এ অপপ্রচার চালাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢালাওভাবে অপপ্রচার না চালিয়ে রাজনৈতিক কারণে তথাকথিত নিপীড়ন-নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ বিএনপি নেতাদের সম্পূর্ণ তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মৃত্যুবরণকারী যুবদল নেতা একজন স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত মাদকসেবী এবং তার বিরদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কোন প্রকার আইনের ব্যত্যয় ঘটলে সরকার গুরুত্বসহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল একজন মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসায়ীর মতো একজন অপরাধীর স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে 'বিরোধীদলের উপর সরকারের নির্যাতন'-এর অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তখন ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র চালায়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে মোট এক হাজার ২২৩ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে ক্রস ফায়ার এবং পুলিশ হেফাজতে হত্যা করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে যেকোন মূল্যে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধ পরিকর।

;

নববর্ষকে ঘিরে তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে: সিএমপি কমিশনার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় জানিয়েছেন, নববর্ষকে ঘিরে আমাদের তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পর্যাপ্ত পোশাকের পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে। সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই। এরপরও যে কোনো ধরনের খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত আছে।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের বড় আয়োজন স্থলের নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শনে শিরিষতলা ঘুরে ডিসি হিলে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের তৎপরতার প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, নানা ধরনের কথাবার্তা আছে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখি। তবে আমি এটা বলতে চাই, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো থ্রেট নেই। তবে যে কোনো ধরনের খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে। আমাদের তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পর্যাপ্ত পোশাকের পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে। সংখ্যাটা আমরা বলতে চাই না।

নিরাপত্তার প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে আমাদের যে গৃহীত ব্যবস্থা সেটা পর্যালোচনায় নিয়ে এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। পোশাকি ব্যবস্থা তো আছেই, সাদা পোশাকের ব্যবস্থাও প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের স্পেশালাইজড ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং সোয়াতের সদস্যরা প্রস্তুত থাকবে।

আয়োজকদের নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ যাতে আলাদাভাবে প্রবেশ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আয়োজকদের রাখার জন্য বলা হয়েছে। ছিনতাই এবং ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ মোকাবিলায় আমাদের পোশাকি এবং সাদা পোশাকের ব্যবস্থা থাকবে। এর বাইরে আয়োজকদের নিজস্ব প্রস্তুতিও রাখার কথা বলা হয়েছে।

দর্শকদের অতিরিক্ত কিছু বহন না করার অনুরোধ করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সিএমপি কমিশনার বলেন, অনুরোধ করছি, আপনারা যখন আসবেন খালি হাতেই আসবেন। অতিরিক্ত কোনো ব্যাগ-পোটলা নিয়ে আসবেন না। যারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন ধরনের মুখোশ ধারণ করবেন, তারা যেন পূর্ব থেকে আয়োজকদের পরিচিত থাকেন। তাহলে এটার সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো অঘটন ঘটানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না।

তিনি আশা করে বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে এবং আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আমরা যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছি, তাতে আশা করছি আগামীকালের দিনটি খুব ভালো যাবে। আমরা আশা করছি, আমাদের গৃহীত ব্যবস্থা এবং যারা দর্শক আসবেন, তাদের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিরাপদ পরিবেশে উৎসবমুখরভাবে নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন হবে।

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল সিএমপি কমিশনারের সভাপতিত্বে নববর্ষ উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা সমন্বয় সভা হয়। এতে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পহেলা বৈশাখের আয়োজন শেষ করার নির্দেশনা দেন সিএমপি কমিশনার।

;

বরিশালে নববর্ষ বরণে চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে বাংলা নববর্ষ বরণে চলছে চারুকলা শিল্পীদের বর্ণাঢ্য আয়োজন। এবছর ১৪৩১ বর্ষবরণ করতে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মেলাসহ শিশু সমাবেশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বরিশাল চারুকলা, উদীচী ও বরিশাল নাটক, জেলা প্রশাসক, শিমু সংগঠন খেলাঘর।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) চারুকলা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, তরুণ-কিশোর শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ বানাচ্ছেন পালকি, ঘোড়া, হাতি আবার কেউবা ব্যস্ত টোপর ও মুকুট তৈরিতে। কারো কারো হাতের রংতুলির আঁচড়ে রঙিন হচ্ছে মাটির হাড়ি, পাতিল, বাঁশের কুলাসহ নানা লোকজ উপকরণ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবহমান দেশজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে ব্যস্ততার মধ্যে দিন-রাত সময় পার করছেন চারুকলার শিল্পীরা।

মঙ্গল শোভাযাত্রার কর্মযজ্ঞে চারুকলার নিজস্ব কার্যালয়ে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিল্পীদের কাজের পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামসহ সিটি কলেজের মাঠ জুড়ে। ১ এপ্রিল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণ তৈরি শুরু হয়েছে বরিশাল চারুকলা শিল্পী সদস্যরা।

বরিশাল চারুকলার বৈশাখ উৎসব-মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদের সমন্বয়ক দূর্জয় সিং ও কিশোর রায় প্রকাশ বলেন, পহেলা বৈশাখ রোববার সকালে প্রাঙ্গণে মঙ্গল সঙ্গীতের পর পরই শিশুদের হাতে রাখি পড়িয়ে বৈশাখ উৎসবের সূচনা হবে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়ার পর শুরু হবে চারুকলার ৩৩তম মঙ্গল শোভাযাত্রা। এটি ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হবে। এর পূর্বে উদীচী আয়োজনে সকাল ৭টায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হবে।

পরবর্তী কর্মসূচিতে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও গুণিজন সম্মাননা ও রাখি বন্ধনের মাধ্যমে মঙ্গলশোভা যাত্রার ১৪৩১ শুভ সূচনা করা হবে।


দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করে আবহমান দেশজ সংস্কৃতির উপকরণ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরের সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন সড়ক, চকবাজার, কাটপট্রি হয়ে আবার সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হবে শিশু চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে ‘ফিরে চল মাটির টানে’- স্লোগানকে তুলে ধরে উদীচী ও বরিশাল নাটক যৌথভাবে এবছর বাংলা নববর্ষ বরণ করতে আয়োজন করেছে প্রভাতী অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখ মেলা। নগরের ব্রজমোহন (বিএম) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে উদীচী ও বরিশাল নাটকের প্রভাতী অনুষ্ঠান। একই স্থান থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বরিশাল উদীচীর সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন জানান, পহেলা বৈশাখ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টায় বিএম স্কুল প্রাঙ্গণে প্রভাতী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। প্রভাতী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করবেন উদীচী এবং বরিশাল নাটকের শিল্পীরা। পরে অনুষ্ঠিত হবে ঢাক উৎসব। এরপর রাখিবন্ধন শেষে নগরে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

এদিকে নববর্ষকে বরণ করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বরিশাল সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এছাড়া প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নতুন বছরকে বরণ করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করেছে শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটার। অপরদিকে সকাল ৭টায় অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে শিশু সংগঠন খেলাঘর শিশু সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

;

‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় আর মৃত্যু নয়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় আর মৃত্যু নয়’

‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় আর মৃত্যু নয়’

  • Font increase
  • Font Decrease

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সারাদেশে স্যালাইনের কোনো অভাব হবে না। ডেঙ্গুতে কেউ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় সেদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ নজর রাখবে। ডেঙ্গু সম্পর্কে ডাক্তাররা এখন অভিজ্ঞ। আমরা আগে প্রতিরোধ করি।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবার ঈদে আমরা ডাক্তার-নার্সদের থাকা খাওয়ার ভালো ব্যবস্থাও করেছি। ফলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন। আর তারা আমার কথাও রেখেছেন। ঈদের এই কদিন শুধু ঢাকা নয়, আমি প্রতিটা ডিভিশন, প্রতিটা মেডিকেল কলেজের যারা বাইরে আছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাকে নিশ্চিত করে বলেছেন, চিকিৎসা সেবায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা এরইমধ্যে মিটিং করেছি। সচিবরাও মিটিং করছেন। স্যালাইনের ঘাটতি যাতে না হয়, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, ভবিষ্যতে আরও নেব। তবে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভালো ট্রিটমেন্ট হচ্ছে প্রিভেনশন। প্রিভেনশন না করতে পারলে আমি যতই হাসপাতালে নিয়ে আসি লাভ হবে না। সঠিক সময়ে সঠিক রোগীরা যদি হাসপাতালে আসেন, তাহলে সমস্যা হবে না।

সচেতনতায় গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজের বাড়ির জায়গাটা পরিষ্কার করি। তাহলে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব থেকে সবাই রক্ষা পাবে।

;