এনডিএফ বিডি’র জাতীয় বিতর্ক উৎসব শুরু ১ মার্চ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বিতর্ক চার্চা ও আন্দোলনের সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের (এনডিএফ বিডি) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ১৬তম জাতীয় বিতর্ক উৎসব শুরু হবে শুক্রবার (১ মার্চ)।  চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত।

‘এসো উদয়ের পথে, যুক্তিকথার সমীরণে’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এই উৎসব শুরু হবে।

উৎসবে দেশের সরকারি-বেসরকারি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার বিতার্কিক অংশ নেবেন।

উৎসবে বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। থাকবে আঞ্চলিক, সংসদীয়, ওয়ার্ল্ড ফরমেট, প্ল্যানচেট, রম্য, বায়োয়ারী ও মডেল বিতর্ক পরিবেশনা ও প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে আরও থাকবে বিতর্কের বিভিন্ন দিকে নিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, পুরস্কার ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হবে। এ উৎসবে নেতৃত্ব দেবেন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব।

উৎসবের প্রথম দিন ১ মার্চ সকাল ৮টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে আইডি কার্ড, উপহার সামগ্রী এবং খাদ্য কুপন সংগ্রহ, সাড়ে ৮ টায় নাস্তা, ৯ টায় মহাসমাবেশ, সকাল ১০ টায় গ্র্যান্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খানকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান, সকাল সাড়ে ১১টায় শিশু বিতর্ক, সাড়ে বারোটায় ইংরেজি পাবলিক স্পিকিং ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা।

দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান- এনডিএফ বিডি যুব সংগঠক, ৯:৪৫ মিনিটে বাংলা বারোয়ারী, সকাল সাড়ে ১০ টায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি (ইংরেজি) বিতর্ক চূড়ান্ত রাউন্ড, সকাল ১১.১৫ মিনিটে ‘বিতার্কিকরা কিভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থাপন করবেন ব্র্যাকের হেড অব কমিউনিকেশন, ও গ্রামীণফোনের সাবেক যোগাযোগ প্রধান খায়রুল বাসার সোহেল।

দুপুর ১২.১৫ মিনিট রিজিওনাল ডিবেট ("এই বাংলায় আমার প্রেমত্র") ও দুপুর ১ টায় বিতর্ক বিচার কর্মশালা ইংরেজি পাবলিক ও এথিক স্পিকিং অনুষ্ঠিত হবে।

দুপুরের খাবার এবং নামাজের বিরতির পর চূড়ান্ত কুইজ প্রতিযোগিতা, সাড়ে ৩ টায় ইউএন মডেল বিতর্ক শেষে তারকাদের সাথে সাক্ষাৎ, সাড়ে ৪টায় প্লান চাট ডিবেট, বিকাল ৪ টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান শেষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টায় এ উৎসবের উদ্বোধনী ঘোষণা করবেন চ্যানেল ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি)'র প্রধান উপদেষ্টা ফরিদুর রেজা সাগর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মো. সোহরাব হোসেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিক্ষা পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: রেজাউল ইসলাম পিএসসি, পিএইচডি, এটিএন বাংলার নির্বাহী পরিচালক (নিউজ) ও গণতন্ত্রের জন্য বিতর্ক'র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান ডাঃ. মো. সবুর খানকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে।

বিকেলে প্রখ্যাত বিতার্কিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক শাইন সাদিক ইশতির সঞ্চালনায় "একটি পেশাদার দক্ষতা হিসাবে বিতর্ক" শিরোনামে বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

পরে ইংরেজি বিতর্ক, প্ল্যানচেট বিতর্ক ("আমি ইতিহাসের রচয়িতা") পরিবেশন করা হবে। সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাত ৯টায় থাকবে বিশেষ আকর্ষণ ক্যাম্প ফায়ার, অতঃপর রাতের খাবার।

সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মশিউর রহমান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শিখর দে, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল ফারুক সিদ্দিকী ও সোলসের (সংগ্রহ ও উত্পাদন) পরিচালক কার্ডিক লিনোয়র।

পুরো আয়োজনের সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি, ইউনিভার্সিটি ব্লু অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত এবং জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন এনডিএফ বিডি এর চেয়ারম্যান জনাব এ কে এম শোয়েব।

এছাড়াও এনডিএফ বিডি মহাসচিব আশিকুর রহমান আকাশ, ১৬ তম জাতীয় বিতর্ক কার্নিভাল ২০২৪ এর আহবায়ক তাহসিন রিয়াজ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান দক্ষিণ এশিয়ার সব রোগবৃহৎ এই বিতর্ক আয়োজনে মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন।

   

নববর্ষকে ঘিরে তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে: সিএমপি কমিশনার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় জানিয়েছেন, নববর্ষকে ঘিরে আমাদের তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পর্যাপ্ত পোশাকের পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে। সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই। এরপরও যে কোনো ধরনের খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত আছে।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের বড় আয়োজন স্থলের নিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শনে শিরিষতলা ঘুরে ডিসি হিলে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের তৎপরতার প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার বলেন, নানা ধরনের কথাবার্তা আছে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখি। তবে আমি এটা বলতে চাই, আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো থ্রেট নেই। তবে যে কোনো ধরনের খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে। আমাদের তিনস্তরের নিরাপত্তা থাকবে। পর্যাপ্ত পোশাকের পুলিশ এবং সাদা পোশাকের পুলিশ থাকবে। সংখ্যাটা আমরা বলতে চাই না।

নিরাপত্তার প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে আমাদের যে গৃহীত ব্যবস্থা সেটা পর্যালোচনায় নিয়ে এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছে। পোশাকি ব্যবস্থা তো আছেই, সাদা পোশাকের ব্যবস্থাও প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের স্পেশালাইজড ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং সোয়াতের সদস্যরা প্রস্তুত থাকবে।

আয়োজকদের নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ যাতে আলাদাভাবে প্রবেশ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আয়োজকদের রাখার জন্য বলা হয়েছে। ছিনতাই এবং ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ মোকাবিলায় আমাদের পোশাকি এবং সাদা পোশাকের ব্যবস্থা থাকবে। এর বাইরে আয়োজকদের নিজস্ব প্রস্তুতিও রাখার কথা বলা হয়েছে।

দর্শকদের অতিরিক্ত কিছু বহন না করার অনুরোধ করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সিএমপি কমিশনার বলেন, অনুরোধ করছি, আপনারা যখন আসবেন খালি হাতেই আসবেন। অতিরিক্ত কোনো ব্যাগ-পোটলা নিয়ে আসবেন না। যারা মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন, বিশেষ করে যারা বিভিন্ন ধরনের মুখোশ ধারণ করবেন, তারা যেন পূর্ব থেকে আয়োজকদের পরিচিত থাকেন। তাহলে এটার সুযোগ নিয়ে কেউ কোনো অঘটন ঘটানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না।

তিনি আশা করে বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে এবং আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে আমরা যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছি, তাতে আশা করছি আগামীকালের দিনটি খুব ভালো যাবে। আমরা আশা করছি, আমাদের গৃহীত ব্যবস্থা এবং যারা দর্শক আসবেন, তাদের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নিরাপদ পরিবেশে উৎসবমুখরভাবে নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন হবে।

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল সিএমপি কমিশনারের সভাপতিত্বে নববর্ষ উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা সমন্বয় সভা হয়। এতে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পহেলা বৈশাখের আয়োজন শেষ করার নির্দেশনা দেন সিএমপি কমিশনার।

;

বরিশালে নববর্ষ বরণে চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে বাংলা নববর্ষ বরণে চলছে চারুকলা শিল্পীদের বর্ণাঢ্য আয়োজন। এবছর ১৪৩১ বর্ষবরণ করতে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও মেলাসহ শিশু সমাবেশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বরিশাল চারুকলা, উদীচী ও বরিশাল নাটক, জেলা প্রশাসক, শিমু সংগঠন খেলাঘর।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) চারুকলা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, তরুণ-কিশোর শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ বানাচ্ছেন পালকি, ঘোড়া, হাতি আবার কেউবা ব্যস্ত টোপর ও মুকুট তৈরিতে। কারো কারো হাতের রংতুলির আঁচড়ে রঙিন হচ্ছে মাটির হাড়ি, পাতিল, বাঁশের কুলাসহ নানা লোকজ উপকরণ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবহমান দেশজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে ব্যস্ততার মধ্যে দিন-রাত সময় পার করছেন চারুকলার শিল্পীরা।

মঙ্গল শোভাযাত্রার কর্মযজ্ঞে চারুকলার নিজস্ব কার্যালয়ে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিল্পীদের কাজের পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামসহ সিটি কলেজের মাঠ জুড়ে। ১ এপ্রিল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণ তৈরি শুরু হয়েছে বরিশাল চারুকলা শিল্পী সদস্যরা।

বরিশাল চারুকলার বৈশাখ উৎসব-মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন পর্ষদের সমন্বয়ক দূর্জয় সিং ও কিশোর রায় প্রকাশ বলেন, পহেলা বৈশাখ রোববার সকালে প্রাঙ্গণে মঙ্গল সঙ্গীতের পর পরই শিশুদের হাতে রাখি পড়িয়ে বৈশাখ উৎসবের সূচনা হবে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়ার পর শুরু হবে চারুকলার ৩৩তম মঙ্গল শোভাযাত্রা। এটি ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হবে। এর পূর্বে উদীচী আয়োজনে সকাল ৭টায় প্রভাতী অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হবে।

পরবর্তী কর্মসূচিতে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও গুণিজন সম্মাননা ও রাখি বন্ধনের মাধ্যমে মঙ্গলশোভা যাত্রার ১৪৩১ শুভ সূচনা করা হবে।


দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করে আবহমান দেশজ সংস্কৃতির উপকরণ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা নগরের সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন সড়ক, চকবাজার, কাটপট্রি হয়ে আবার সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত হবে শিশু চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে ‘ফিরে চল মাটির টানে’- স্লোগানকে তুলে ধরে উদীচী ও বরিশাল নাটক যৌথভাবে এবছর বাংলা নববর্ষ বরণ করতে আয়োজন করেছে প্রভাতি অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখ মেলা। নগরের ব্রজমোহন (বিএম) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে উদীচী ও বরিশাল নাটকের প্রভাতি অনুষ্ঠান। একই স্থান থেকে বের করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বরিশাল উদীচীর সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন জানান, পহেলা বৈশাখ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টায় বিএম স্কুল প্রাঙ্গণে প্রভাতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হবে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। প্রভাতি অনুষ্ঠানে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করবেন উদীচী এবং বরিশাল নাটকের শিল্পিরা। পরে অনুষ্ঠিত হবে ঢাক উৎসব। এরপর রাখিবন্ধন শেষে নগরে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

এদিকে নববর্ষকে বরণ করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বরিশাল সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে বেড় করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্র। এছাড়া প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নতুন বছরকে বরণ করতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করেছে শব্দাবলী গ্ররুপ থিয়েটার। অপরদিকে সকাল ৭টায় অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে শিশু সংগঠন খেলাঘর শিশু সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

;

‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় আর মৃত্যু নয়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় আর মৃত্যু নয়’

‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুত হাসপাতাল, বিনা চিকিৎসায় আর মৃত্যু নয়’

  • Font increase
  • Font Decrease

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সারাদেশে স্যালাইনের কোনো অভাব হবে না। ডেঙ্গুতে কেউ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায় সেদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ নজর রাখবে। ডেঙ্গু সম্পর্কে ডাক্তাররা এখন অভিজ্ঞ। আমরা আগে প্রতিরোধ করি।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এবার ঈদে আমরা ডাক্তার-নার্সদের থাকা খাওয়ার ভালো ব্যবস্থাও করেছি। ফলে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছেন। আর তারা আমার কথাও রেখেছেন। ঈদের এই কদিন শুধু ঢাকা নয়, আমি প্রতিটা ডিভিশন, প্রতিটা মেডিকেল কলেজের যারা বাইরে আছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাকে নিশ্চিত করে বলেছেন, চিকিৎসা সেবায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা এরইমধ্যে মিটিং করেছি। সচিবরাও মিটিং করছেন। স্যালাইনের ঘাটতি যাতে না হয়, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি, ভবিষ্যতে আরও নেব। তবে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভালো ট্রিটমেন্ট হচ্ছে প্রিভেনশন। প্রিভেনশন না করতে পারলে আমি যতই হাসপাতালে নিয়ে আসি লাভ হবে না। সঠিক সময়ে সঠিক রোগীরা যদি হাসপাতালে আসেন, তাহলে সমস্যা হবে না।

সচেতনতায় গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজের বাড়ির জায়গাটা পরিষ্কার করি। তাহলে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব থেকে সবাই রক্ষা পাবে।

;

হকারদের দখলে চিড়িয়াখানার ফুটপাত, ভোগান্তিতে দর্শনার্থীরা



রাকিব হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হকারদের দখলে চিড়িয়াখানার ফুটপাত, ভোগান্তিতে দর্শনার্থীরা

হকারদের দখলে চিড়িয়াখানার ফুটপাত, ভোগান্তিতে দর্শনার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

জাতীয় চিড়িয়াখানার পশু পাখি আর সুন্দর প্রকৃতি শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। তাই ঈদে চিড়িয়াখানায় এসেছে হাজারো দর্শনার্থী। তবে শিশুদের এই ঈদ আনন্দ ভোগান্তিতে রূপ নিচ্ছে তীব্র গরম, যানজট এবং ফুটপাতের হকারদের অত্যাচারে।

বিশেষ করে হকারদের কারণে ফুটপাত দিয়ে দর্শনার্থীদের চলাচলই যেন দায় হয়ে পড়েছে। ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে দর্শনার্থীদের অনেকে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটছেন।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা এবং থানাকে ম্যানেজ করেই চলছে সড়ক ও ফুটপাত দখল। চায়ের দোকানদার আবুলের নেতৃত্বে টাকা তোলা হয় ফুটপাত ও সড়কের এসব অবৈধ দোকান থেকে। ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ ও পানি।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে চিড়িয়াখানার প্রধান গেট থেকে রাইনখোলা বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত তীব্র যানজট। সাধারণ মানুষ উপায় না পেয়ে রাইনখোলা বাস স্ট্যান্ড থেকে হেঁটে চিড়িয়াখানার উদ্দেশ্য রওনা দিচ্ছে। তীব্র গরমে কোলের শিশু অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক বাচ্চা অল্প হেঁটেই রাস্তার মধ্যে অসুস্থ হয়ে বমি করে দিচ্ছে।


গেন্ডারিয়া থেকে চিড়িয়াখানা এসেছেন প্রশান্ত চন্দ্র হালদার। কোলে তার ছোট ছেলে ও বড় ছেলে হেটেই যাচ্ছিলো। হঠাৎ টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে থাকার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে কোলের ছেলে। এমন অবস্থায় কি করবেন প্রশান্ত চন্দ্র তা ভেবে পাচ্ছিলেন না। তবে মাথায় ও চোখে মুখে পানি দিয়ে ছায়াতে বসে কিছুক্ষণ সেবা শুশ্রূষা করলে ছেলে কিছুটা সুস্থ করলে চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশ করেন।

তিনি বলেন, সেই রাইনখোলা মোড় থেকে হেটে আসছি। জ্যামের কারণে গাড়ি চিড়িয়াখানা পর্যন্ত আসতে পারেনি। তাছাড়া রাস্তায় যে পরিমাণে দোকান বসেছে এতে হাটাও এখন দায়। কারো কোন কাণ্ডজ্ঞান নেই।

রফিকুল ইসলাম তার দুই মেয়েকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন তিনি বলেন, চিড়িয়াখানা আসতে যে এতো ঝামেলা পোহাতে হবে তা আগে জানলে আসতাম না। এতো অব্যবস্থাপনা তা বলে শেষ করতে পারব না। রাস্তার পুরো অংশটা জুড়ে মানুষ গাড়ি দোকান সব মিলেমিশে জগা খিচুড়ি। পাশেই পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে কিন্তু কিছু বলছে না।


ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসা এক ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তার নাম জানাতে অনীহাবোধ করেন। তিনি বলেন, আমরা সারা বছর এখানে দোকান করি। আমরা এই এলাকার লোক। কাউকে কোন চাঁদা দেই না।

তবে আরেক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে জানান, চিড়িয়াখানা রোডের চায়ের দোকানদার আবুল এই সড়কে যত দোকান আছে সেগুলোর থেকে টাকা উঠায়। এই আবুল মূলত লাইনম্যানের দায়িত্ব পালন করছে। আবুল এই টাকা থানা ও স্থানীয় নেতাদের হাতে তুলে দেন। সারা বছর যারা ব্যবসায় করে তারাই ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি করে দোকান দিয়েছে। ভাসমান এসব দোকান থেকে শুধু মাত্র ঈদের এই কয়েকদিন ১০০/২০০ থেকে শুরু করে ১০০০ হাজার করে টাকাও তোলা হচ্ছে। দোকানের পজিশন আর সাইজের উপর ভিত্তি করে চাঁদার হার নির্ধারণ করা হয়।

এই টাকা কারা পাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কার পেটে যাচ্ছে বলতে পারবো না। তবে স্থানীয় নেতা ও থানায় যাচ্ছে এটা তো অনুমান করতে পারি। কিন্তু কিছু বলার নাই।

এ প্রসঙ্গে মিরপুর ট্রাফিক জোনের এটিএসএই মো: শামীম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, যানজট নিরসনে প্রতিদিনের মতো আজকেও সকাল থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণত চিড়িয়াখানার এই সড়কে শুক্র ও শনিবার ভিড় হলেও। ঈদকে কেন্দ্র করে গাড়ির চাপ অনেক বেশি। তাই মাঝেমধ্যে একটু জ্যাম তৈরি হচ্ছে। সড়কে অবৈধ দোকান, ফুটপাত দখল করে দোকান উচ্ছেদ আমাদের কাজ না। তবে যেহেতু এদের জন্যে আমাদের সমস্যা হচ্ছে তাই আমি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করছি তারাই সমাধান করবে।

;