চট্টগ্রামে নিরাপদ ও দখলমুক্ত ফুটপাতের দাবিতে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপদ ও দখলমুক্ত ফুটপাতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর সাতটি পয়েন্টে মানববন্ধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুই শতাধিক শিক্ষকও অংশ নেন। এসময় পথচারীরাও শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সহমত পোষণ করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ফুটপাতের মালিক জনগণ। কিন্তু অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে রাখায় শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুলে যেতে চায়, নিরাপদে ঘরে ফিরতে চায়। অবৈধ দখলদারদের কারণে কোন মাকে যাতে সন্তানহারা হতে না হয়। কোন শিক্ষার্থীকে যাতে পঙ্গু হতে না হয় সে বিষয় দায়িত্বশীলদের নিশ্চিত করতে হবে।

এদিন নগরীর রাইফেল ক্লাব থেকে জিপিও মোড় পর্যন্ত অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কৃষ্ণ কুমারী সিটি সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষাথীরা মানবন্ধন করে।

একই সময়ে ফিরিঙ্গি বাজার মোড় থেকে আলকরণ হয়ে দোস্ত বিল্ডিং পর্যন্ত আলকরণ নুর আহমদ সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, আলকরণ সুঃ আহমদ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা মানবন্ধনে অংশ নেয়। এছাড়াও পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন থেকে নতুন রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় এবং লালদিঘী থেকে কোতওয়ালী পর্যন্ত পাথরঘাটা মেনকা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে।

এছাড়া আন্দরকিল্লা থেকে লালদিঘী পর্যন্ত পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন কলেজ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কায়সার নিলুফার কলেজ এবং আন্দরকিল্লা মোড় থেকে চেরাগী পাহাড় মোড় পর্যন্ত জামালাখান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গুল-এজার বেগম সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চেরাগী পাহাড় থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত কদম মোবারক সিটি কর্পোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরাইপাড়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে অংশ নেয়।

এ বিষয়ে চসিকের শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমাদের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অনেকদিন ধরেই দাবি করে আসছিল। ফুটপাতগুলোতে হকাররা বসে থাকায় তারা রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হত। এতে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওড়না বা কাপড় গাড়ির সঙ্গে লেগে ছিঁড়ে গিয়েছে। এরকম অনেক অভিযোগ আছে।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের মেয়র তাদের সব অভিযোগ শুনে চট্টগ্রাম নগরীকে হকারমুক্ত করতে রাস্তায় রাস্তায় অভিযান চালাচ্ছে। তবুও কিছু কিছু জায়গায় আবারও হকার বসছে। তাদেরকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার দাবিতে সিটি করপোরেশনের সব স্কুল আজ মানববন্ধন করবে বলে শুনেছি। তবে সব স্কুল ও কলেজ নেমেছে কিনা সেটা বলতে পারব না।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর নিউমার্কেট মোড় থেকে নতুন রেলস্টেশন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, পুরাতন রেলস্টেশন, ফলমণ্ডি, তামাকমুণ্ডি লেইন ও আমতলসহ প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে হাজারেরও বেশি হকার উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। এসব এলাকার ফুটপাত থেকে সড়কের একাংশ দখলে নিয়ে এসব হকার পোশাক, মোবাইল, জুতা, তৈরি খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আসছিল। ফুটপাত ও সড়কে বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কারণে এসব এলাকায় নিয়মিত যানজট লেগে থাকতো।

উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকাররা বিক্ষোভ করেছিলেন। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নিয়ে হকাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পর দিন হকারদের কেউ কেউ আবারও বসতে চাইলে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন। এরপরও হকাররা সড়ক ও ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখলে নিতে শুরু করলে ১২ ফেব্রুয়ারি ফের অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। এ সময় হকারদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় সিটি করপোরেশনের যানবাহন। পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় হকারদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এ অবস্থায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পুনর্বাসনের দাবি তোলেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। হকাররাও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

   

সাময়িক সৌন্দর্যে হুমকিতে হাওরের জীববৈচিত্র্য



ছাইদুর রহমান নাঈম, উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সেলিব্রিটিরাও ধুমধাম করে উদ্বোধন করেন আলপনা এই সড়কটি। কিন্তু এই সাময়িক সৌন্দর্য একসময় প্রকৃতির হুমকি হবে এটি চিন্তার মধ্যে আনেননি কেউ। কদিন পরেই হাওরে আসবে নতুন পানি। আর এই রঙের প্রভাব কতটুকু ক্ষতির কারণ হবে তাই নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সম্প্রতি হাওরের অল-ওয়েদার সড়কের মিঠামইন জিরো পয়েন্ট থেকে অষ্টগ্রাম জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার জুড়ে দৃষ্টিনন্দন আলপনা আঁকা হয়েছে। আলপনার এসব রং বৃষ্টিতে ধুয়ে হাওরের পানিতে মিশলে তা হাওরে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো রঙে স্বাভাবিকভাবে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে। হাওরের সড়কে আঁকা আলপনায় যে পরিমাণ রঙ ব্যবহার হয়েছে, তাতে থাকা রাসায়নিকের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেখানকার জলজ উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণি।

হাওরের অল-ওয়েদার সড়কে বিশ্বের দীর্ঘতম আলপনা আঁকার কাজটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন, এশিয়াটিক এক্সপেরিয়েন্সিয়াল মার্কেটিং লিমিটেড ও বার্জার পেইন্টস। ১২ এপ্রিল মিঠামইনের জিরো পয়েন্টে রংতুলির আঁচড় দিয়ে আলপনা আঁকার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। জানা গেছে, এই আলপনা আঁকার জন্য ১৪ কিলোমিটার সড়কে ১৬ হাজার লিটার রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। আর রঙের সঙ্গে মেশানো হয়েছে প্রচুর পরিমাণে তারপিন। এই তারপিন কেরোসিনের চেয়ে ভয়ংকর।

রঙ ও তারপিনের মিশেলে আঁকা এই আলপনা হাওরের শস্য ও মাছের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে দাবি করে তখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, হাওর মা মাছের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ জায়গা। বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতে সাধারণত ট্যাংরা, বাতাসি, পুঁটি, মলা, বোয়াল, শোল, গজার, পাবদা, গুলশা, কই, শিং, মাগুরসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে। যদি বৃষ্টি হয়, তবে এখানে ব্যবহার করা রঙ ধুয়ে হাওরের পানিতে মিশে যাবে। এই রঙ হাওরের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে শস্য, মাছসহ জলজ প্রাণি, ঘাস ও পোকা-পতঙ্গের প্রাণ কেড়ে নেবে। মাটি-পানি দূষিত হয়ে বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বৈশাখে আলপনার রঙে সাজবে, এটাই বাঙালির চিরায়ত প্রথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল পরিবেশ বিপর্যয়ের কথাটা সবার আগে মাথায় রাখা। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, রঙে থাকে টক্সিক কেমিক্যাল। বিশেষ করে বিসফেনলের মধ্যে এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টার (অন্তঃস্রাব বিঘ্নকারী) থাকে, যা পানিতে মিশে মাছের ওপর ভয়ংকর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। যখনই মাছসহ জলজ প্রাণি এই উচ্চমাত্রার বিসফেনলের সংস্পর্শে আসবে, তখনই মাছসহ জলজ প্রাণি ডিম পাড়বে না, ডিম নিষিক্ত করতে পারবে না।’

দেশে মাছের চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পূরণ হয় হাওর থেকে। এ জন্য কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলকে বাংলাদেশের অন্যতম মৎস্যভাণ্ডারও বলা হয়।

জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৮ হাজার ২১ টন মাছ উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে হাওরের মাটি খুবই উর্বর হওয়ায় এখানে প্রচুর ধান জন্মে। সারা দেশের ধানের চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ হয় হাওরাঞ্চল থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বোরো ও আমন ধান উৎপাদিত হয় ৪ লাখ ৮২ হাজার ২৮৩ টন।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রঙের ভেতরে যে সাধারণ উপাদানগুলো থাকে (যেমন বেনজেন, ডাইক্লোভিশন, সেট্রাক্লোভিশন, টলিউন, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম); সেগুলোয় অনেক ধরনের কেমিক্যাল থাকে। হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়কে যে পরিমাণ রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই ওখানকার জলাভূমি, জলজ উদ্ভিদ, মাইক্রোস্কোপিক জলজ প্রাণি, এমনকি ছোট ছোট মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘যেকোনো ধরনের কেমিক্যাল জলজ প্রাণির জন্য হুমকিস্বরূপ। সেখানে বিশাল এলাকাজুড়ে আলপনা আঁকা হয়েছে; সেটা মাছ এবং অন্যান্য প্রাণির জন্য অবশ্যই কিছুটা ক্ষতিকর হবে। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের আইন রয়েছে, যেমন বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরির বর্জ্য নদ-নদীর জন্য ক্ষতিকর। আর সে ক্ষেত্রে পরিবেশ আইনেরও প্রয়োগ করা হয়। এসব কাজ করার আগে পরিবেশের কথা বিবেচনা করে সবার আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন গণমাধ্যমকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

;

তীব্র তাপদাহে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে পুলিশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র তাপদাহে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মানবিক সহায়তা হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন থানা পুলিশ সুপেয় পানি বিতরণ করছে। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশনার পর এই কার্যক্রম শুরু হয়।

শনিবার (২০ এপ্রিল) দিনব্যাপী রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরখান, ডেমরাসহ কয়েকটি থানা এলাকায় চলে এই কার্যক্রম। যা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শুক্রবার ডিএমপিতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য ছাতা, ঠাণ্ডা পানি, স্যালাইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেন ডিএমপি কমিশনার। এ সময় তিনি সাধারণ নগরবাসীর সেবায় সকলকে পাশে থাকার আহবান জানান। এরপরই থানা পুলিশ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে ঠাণ্ডা পানির বোতল, ভ্রাম্যমান পানির ট্যাঙ্ক স্থাপন ও লেবু বা শরবত খেতে দিচ্ছেন।

ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক পুলিশ কমিশনারের নির্দেশক্রমে ধানমন্ডি মডেল থানা এলাকায় অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়। তাপদাহ যতদিন চলবে আমরাও আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।'

উওরখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ আল মামুন বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত খেটে খাওয়া মানুষকে পানি ও স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে। অনেক সাধারণ মানুষ এতে উপকৃত হচ্ছেন।

এদিকে শনিবার দেশজুড়ে ব্যাপক তাপদাহ ছিল। যশোরে ৪২ ডিগ্রি এবং রাজধানীতে ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। এতে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে নগরবাসী।

;

চুয়াডাঙ্গায় হিট স্ট্রোকে দুজনের মৃত্যুর খবরটি সঠিক নয়



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চুয়াডাঙ্গা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। শনিবার (২০ এপ্রিল) এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোকে চুয়াডাঙ্গায় নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে তাদের মৃত্যু হিট স্ট্রোকে হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন- চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ঠাকুরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আমির হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪৪)। তিনি ঠাকুরপুর পীরপুরকুল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছিলেন। আর মর্জিনা খাতুন (৫৫) দামুড়হুদা উপজেলা শহরের আজিম উদ্দিনের স্ত্রী। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাকির হোসেন ও বেলা ৩টার দিকে মর্জিনা খাতুনের মৃত্যু হয়।

জাকির হোসেনের পিতা আমির হোসেন জানান, ‘দীর্ঘ ৫-৬ বছর যাবত উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিল আমার ছেলে। গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) রাতেও তার প্রেশার বেড়ে যায়। ওই সময় মাথায় পানি ঢেলে ও ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়। ভোরবেলা জাকির তার ছেলেকে সাথে নিয়ে পাশের জমিতে পাটের বীজ বুনছিল। এর কিছুক্ষণ পরই জাকির হোসেন মাটিতে পড়ে যায়। আমার নাতি আমাদের জানালে ছেলেকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতো সকালে হিট স্ট্রোক হওয়ার কথা না। আমার ছেলে মালয়েশিয়া থেকে পাঁচ বছর আগে দেশে আসে। সেখান থেকে আসার পর উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছিল সে।’

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুজনের হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর খবর দেখার পর আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ওই দুজনের কেউই হিট স্ট্রোকের কারণে মারা যাননি।’

তিনি বলেন, শনিবার সকাল সাতটার পরে পরিবারের সদস্যরা মৃত অবস্থায় জাকির হোসেনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। হার্ট বা ব্রেন স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। তাপমাত্রা ৪০ কিংবা তার অধিক হলে সেই সময় রোদে কাজ করার সময় হিট স্ট্রোক হতে পারে। সকালে হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ডা. মহিবুল্লাহ আরও বলেন, শনিবার বিকেল চারটার দিকে মর্জিনা খাতুন নামের এক নারীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। পরিবারের দাবি, সকাল ১০টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করেন মর্জিনা খাতুন। ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে তাকে খাওয়ানো হয়েছিল। দুপুরের দিকে অতিরিক্ত অসুস্থ অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। তিনি হিট স্ট্রোকে নয়, হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে পারেন।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, এতো সকালে যদি মৃত্যু হয়, তাহলে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে, এটা বলা ঠিক হবে না। কারণ সেই সময় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি খুবই কম। হতে পারে তার প্রেশার কিংবা ডায়াবেটিস ছিল। সেই কারণে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মার্টিন হীরক চৌধুরী বলেন, ‘সকালে তাপমাত্রা কম থাকে। এসময় হিট স্ট্রোকের কোনো ঝুঁকি নেই। ওনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতেও অসুস্থ বোধ করেছিলেন বলে জেনেছি। ধারণা করা হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক কিংবা ব্রেন স্ট্রোক করে মৃত্যু হতে পারে তার। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার অধিক তাপমাত্রায় রোদের মধ্যে কায়িক পরিশ্রম করলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। আসলে যে কোনো স্ট্রোক হলে হিট স্ট্রোক বলে চালিয়ে দেওয়া মেডিকেল সায়েন্স সমর্থন করে না। তিনি আরও বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানুষকে সতর্ক করতে হবে। এমন কোনো সংবাদ পরিবেশন করা যাবে না, যাতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

;

নড়াইলে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নড়াইল
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইলে পানিতে ডুবে তিন্নি (৫) ও তানহা (৩) নামে আপন দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বাহিরগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুইশিশু ওই গ্রামের জালাল মোল্লার সন্তান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালের দিকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশের ঘেরে যায় তানহা ও তিন্নি। পরে ঘের পাড় ধরে বাবা জালাল মোল্লা একটু দূরে এগিয়ে যান। বাড়িতে কাজ থাকায় মাও বাড়িতে ফিরে আসেন। মা বাড়িতে আসার কিছু সময় পর ছেলে-মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘেরের পানি থেকে তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

;