নিরাপদ নয় রাজশাহীর মার্কেট-সুপারমল, অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন



আব্দুল হাকিম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর মার্কেট ও সুপারমলগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। বহু মার্কেট ও শপিং মলে পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতা ও দোকানিরা সবসময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানই অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীন বা অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যা বৃহত্তর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মার্কেট ও সুপারমলগুলো অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাবে চিহ্নিত হয়েছে। জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নি নির্বাপক, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র এবং জলের স্প্রিংকলার সিস্টেমের মতো প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তা উপাদানগুলোরও ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া, নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা মহড়া এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নাই বললেই চলে।

জানা গেছে, রাজশাহীর পাঁচটি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহন করতে করতেই দিন পার হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের বারবার সতর্কবাণীর পরেও, মার্কেটগুলোর ঝুঁকি মোচনে কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করছে না। ফায়ার সার্ভিস দ্বারা মার্কেটগুলোর সামনে সতর্কতামূলক ব্যানার টানানো হলেও, রাতারাতি তা খুলে ফেলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতা হচ্ছে এই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার মূল কারণ।


মার্কেট পাঁচটি হলো- নগরীর সাহেববাজারের আরডিএ মার্কেট, রাজশাহী নিউমার্কেট, হড়গ্রাম নিউমার্কেট, সোনাদীঘি এলাকার সমবায় মার্কেট এবং নগরীর সাহেববাজার কাপড়পট্টি। এর মধ্যে আরডিএ মার্কেট রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অধীনে, সমবায় মার্কেট সমবায় বিভাগের, রাজশাহী নিউমার্কেট ও হড়গ্রাম নিউমার্কেট রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এবং কাপড়পট্টি সাধারণ ব্যবসায়ীদের দোকানপাট নিয়ে গড়ে উঠেছে।

রাজশাহীর বিভিন্ন মার্কেট ও সুপার মল ঘুরে দেখা গেছে, বহু মার্কেটে অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ অমান্য করা হচ্ছে। মার্কেট ও সুপারমলগুলোর অধিকাংশের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেই এবং অগ্নি সতর্কতা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় প্রশাসন ও অগ্নি নিরাপত্তা বিভাগের উচ্চতর মনোযোগ এবং কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজন। নিরাপদে কেনাকাটা ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য এই মার্কেট ও সুপারমলগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং নিয়মিত মনিটরিং জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।


সচেতন নাগরিকরা বলেন, নিরাপদে কেনাকাটা এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য রাজশাহীর মার্কেট ও সুপারমলগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি সত্যিই অপরিহার্য। আমরা যখন কেনাকাটা করতে যাই, তখন আমাদের মনে একটি নিরাপদ পরিবেশের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, এসব মার্কেট ও সুপারমলে জরুরি নির্গমন পথ অবরুদ্ধ বা অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জামাদির অভাব থাকে। এমনকি অগ্নি সংক্রান্ত দুর্ঘটনা মোকাবিলা করার প্রশিক্ষণের অভাবও প্রায়ই দেখা যায়।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, আরডিএ নগর উন্নয়নে যারা কাজ করে, যাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, তাদেরই নিজস্ব একটা মার্কেট আছে, তাদের নিজস্ব মার্কেটেই অগ্নি নির্বাপক কোনো ব্যবস্থা তারা রাখেনি। এছাড়া যে সমস্ত মার্কেট বা শপিং মলগুলো রয়েছে সে সমস্ত মার্কেটগুলোতেও খুব অল্প সংখ্যক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। আর যেখানে ফায়ার সার্ভিস বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো আইন বা নোটিশ মানেনি।


তিনি বলেন, বিশেষ করে রাজশাহী নিউ মার্কেটের পাশে একটি পুকুর ছিল, সেটিও ভূমি দস্যুরা খেয়ে নিয়েছে। সুতরাং আমি মনে করেছি রাজশাহীতে আর ডি মার্কেট, নিউ মার্কেটসহ যে সমস্ত মার্কেটগুলো রয়েছে, সেগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব মার্কেটগুলোতে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আমি মনে করি। এছাড়া ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ব্যবসায়ী সমাজ ও ক্রেতাদের মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন জামাত খান।

সাহেব বাজার এলাকার সড়কটি সম্প্রসারণের সময় ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে ১৯৯০ সালে আরডিএ মার্কেটে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। তিন তলা এই মার্কেটে ১ হাজার ৯৫২টি দোকান রয়েছে। এই মার্কেটের তিন পাশেই সরু রাস্তা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার কোনো উপায় নেই। সামনে প্রশস্ত রাস্তা থাকলেও প্রধান ফটকের কারণে মার্কেটের ভেতরে গাড়ি ঢুকতে পারবে না। মার্কেটটিতে মুদি দোকান, কাপড়, কসমেটিক্স থেকে ক্রোকারিজ ও ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানও রয়েছে। ফলে মার্কেটটিতে অগ্নিকাণ্ডের চরম ঝুঁকি রয়েছে।

গত ৮ জানুয়ারি রাতে মার্কেটের প্রধান ফটক সংলগ্ন বাইরের অংশে একটি মুদি দোকানের দোতলার গুদামে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রধান সড়ক থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই আগুন খাঁচার মতো ঘিঞ্জি মূল মার্কেটে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু মানুষের হতাহতের আশঙ্কা ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের চরম ঝুঁকি থাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কয়েক বছর আগেই আরডিএ মার্কেট ভেঙে ফেলতে সুপারিশ করে। তবে মার্কেটটি এখনও ভাঙা হয়নি। এই মার্কেটে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কেনাকাটা করেন। ঈদের সময় মার্কেটের ভেতরে পা ফেলার জায়গা থাকে না। তাই ফায়ার সার্ভিস প্রতিবছরই ঈদের সময় ক্রেতাদের সতর্ক করে মার্কেটের সামনে ব্যানার টানিয়ে দেয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চলে গেলেই ওই ব্যানার গায়েব হয়ে যায়।

সর্বশেষ, গত ১৭ এপ্রিল আরডিএ মার্কেট, রাজশাহী নিউমার্কেট, হড়গ্রাম নিউমার্কেট, সমবায় মার্কেট এবং সাহেববাজার কাপড়পট্টি অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অগ্নিনিরাপত্তার দিক দিয়ে এই মার্কেট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।’ এই দিনে, সকলকে সতর্ক করে মাইকিং এবং প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছিল।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক ওহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর এই মার্কেটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে অগ্নিনির্বাপণের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। আমরা বারবার চিঠি দিয়েও মার্কেট কর্তৃপক্ষকে সচেতন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আরডিএ মার্কেটের কাছে কোনো পুকুর নেই, যা অগ্নিকাণ্ডের সময় পানির অভাব সৃষ্টি করবে। এছাড়া, মার্কেটের সিঁড়িগুলোতে মালামাল রাখা হয়, যা আগুন লাগলে মানুষের নিরাপদে নেমে আসার পথে বাধা সৃষ্টি করবে। মার্কেটের ভেতরে বৈদ্যুতিক তারের অব্যবস্থাপনা রয়েছে, যা সহজেই দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এসব কারণে এই মার্কেটগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আরডিএ একাধিকবার তাদের মার্কেট ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করেছে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মানতে চান না। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরাও একই অবস্থানে আছেন। আরডিএ মার্কেটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেছেন, মার্কেট ভাঙা হলে তাদের পুনর্বাসনের ঠিক নেই। নতুন মার্কেট নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যবসার অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা মূলত তাদের বিরোধিতার কারণ।

আরডিএ’র চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বলেন, মার্কেটের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি আমরা প্রায় ২০০টি ফায়ার এক্সট্রিংগুইসার দিয়েছি। পাশ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন আছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব সতর্কতা অবলম্বনের জন্য আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের সতর্কতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ চলমান। মার্কেটটা ভাঙার পরিকল্পনা আছে। সেটা নিয়েও কাজ চলছে।

ফায়ার সার্ভিস কোন মাপকাঠিকে অযৌক্তিক মন্তব্য করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার বলেন, ফায়ার সার্ভিস কোন মাপকাঠিতে এবং কীভাবে এসব মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে পারব না। কিন্তু অনেক সময় ব্যবসায়ীরা এক ধরনের দোকান নিয়ে শুরু করে অন্য ধরনের ব্যবসা করেন। অবকাঠামোর আকারও পরিবর্তন করে ফেলেন। এমন পরিবর্তন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হড়গ্রাম নিউমার্কেটে এ ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত পরীক্ষা না করে বলা সম্ভব নয়। তবে আমার মতে, রাজশাহী নিউমার্কেট খুব একটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয় না। এর তিন পাশে বড় বড় রাস্তা আছে এবং ভবনটি মাত্র দুই তলা বিশিষ্ট। এরপরও, এটিকে ভেঙে একটি অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

   

কক্সবাজারগামী বিশেষ ট্রেনের ২ বগি লাইনচ্যুত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
কক্সবাজারগামী বিশেষ ট্রেনের ২ বগি লাইনচ্যুত

কক্সবাজারগামী বিশেষ ট্রেনের ২ বগি লাইনচ্যুত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী বিশেষ ট্রেন (ঈদ স্পেশাল) লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা জংশনে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ডুলাহাজারা জংশনে কক্সবাজারগামী ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ২ টি কোচ লাইনচ্যুত হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনটি উদ্ধার করার জন্য উদ্ধারকারী দল রওয়ানা দিয়েছে।

ডুলাহাজারা থেকে তীব্র গরমের মধ্যে বাসে সবাই কক্সবাজারে ফিরে এসেছে বলে জানান যাত্রীরা।

ঈদ স্পেশাল ট্রেনের যাত্রী সায়ন্তন ভট্টাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল ট্রেনে করে কক্সবাজারে নিজ বাড়িতে ফিরছিলাম। ট্রেনটি ডুলাহাজারা স্টেশনে লাইনচ্যুত হয়। তীব্র গরমের মধ্যে সব যাত্রীরা বাসে ফিরে যাচ্ছে। আমরাও বাসেই কক্সবাজারে চলে আসি। ট্রেনটি ঠিক হতে হয়তো সারাদিন লেগে যেতে পারে।

;

র‌্যাবের নতুন মুখপাত্র হলেন কমান্ডার আরাফাত ইসলাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন কমান্ডার আরাফাত ইসলাম। তিনি কমান্ডার খন্দকার আল মঈনের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) তাকে দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত র‌্যাব ১১ জন মুখপাত্র পেয়েছে। আরাফাত ১২তম মুখপাত্র হলেন।

দীর্ঘ তিনবছর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করা মঈন গত বৃহস্পতিবার নিজ বাহিনীতে ফেরত যান। এর আগে তিনি ২০২১ সালের ২৫ মার্চ র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক হন।

জানা গেছে, কমান্ডার আরাফাত ইসলাম বর্তমানে র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক (সিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতবছরের জানুয়ারিতে তিনি ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব পান। ২০২২ সালে তিনি প্রেষণে র‌্যাবে আসেন। নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ ব্রাঞ্চে কমিশন লাভ করেন। পেশাগত জীবনে আরাফাত ইসলাম নেভিগেশন অ্যান্ড ডাইরেকশনের ওপর স্পেশালাইজেশন সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি আবহাওয়াবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পেশাগত জীবনে তিনি নৌবাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে লেবানন এবং সাউথ সুদানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসা, ফোর্স কমান্ডার’স কমেন্ডেশনসহ নৌ উৎকর্ষতা পদক (এনইউপি) এবং প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড মেডেল (পিসিজিএম) এ ভূষিত হন। তাছাড়া পৃথিবীর পাঁচটি মহাদেশের প্রায় ৩৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ও দুই কন্যা সন্তানের জনক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

;

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৭

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৭ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ছয়টা থেকে বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদেরকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১০ পিস ইয়াবা, ১০ কেজি ৪০০ গ্রাম ৪০ পুরিয়া গাঁজা, ১৫১ গ্রাম হেরোইন ও ৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জা‌নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এ অ‌ভিযান প‌রিচালনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সেই সঙ্গে আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৩টি মামলা রুজু হয়েছে বলেও জানানো হয়।

;

রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর, নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আলোচিত রানা প্লাজা ধ্বসের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শিল্প পুলিশ-১, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ভবন ধ্বসের ঘটনায় আহত শ্রমিক ও নিহতের স্বজনেরা। 

বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সাভার বাজার স্ট্যান্ড সংলগ্ন ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে এই শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা ভবন মালিক সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দাবি করেন।

এদিকে, যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

;