সিরাজগঞ্জে ইজিবাইক চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জে আরমান (২২) নামে এক ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক (মিশুক) চালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নলকা-কামারখন্দ আঞ্চলিক সড়কে সলঙ্গা ও কামারখন্দ থানার সীমান্ত ঝাকরি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আরমান উল্লাপাড়া উপজেলার অলিপুর গ্রামের মো. আয়নাল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানায়, রোববার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে নিজের মিশুকটি নিয়ে ভাড়া খাটতে বের হন আরমান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিল। খোঁজাখুঁজি করে তাকে বা তার মিশুকটি পাওয়া যায়নি। সোমবার সকালে ঝাকরি এলাকায় রাস্তার পাশে তার গলাকাট মরদেহ দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেয়।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ওসি মো. এনামুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকারী চক্র তাকে গলাকেটে হত্যার পর মিশুকটি নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিআরটিএ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে গ্রাহক



স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএ

ছবি: সংগৃহীত, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি- বিআরটিএ

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ থেকে নিস্তার পায়নি রাজধানীর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-ও (বিআরটিএ)।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) এখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন নাশকতাকারীরা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহণকারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের ভিড়। মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সেবা, ফিটনেস সেবা, লাইসেন্স বায়োমেট্রিক, ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত সেবা, মালিকানা বদলিসহ, ইঞ্জিন পরিবর্তন, ট্যাক্স টোকেন ইত্যাদি নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভিড়। কিন্তু অফিসের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে সংরক্ষিত সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে সব ধরনের সেবা প্রদান। এতে গ্রাহকেরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকার বিআরটিএ'র কার্যালয়, ছবি- সংগৃহীত


ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বায়োমেট্রিক করাতে সাভার থেকে এসেছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। বায়োমেট্রিকের শেষ তারিখ ২৫ জুলাই। কিন্তু সব ধরনের সেবা বন্ধ থাকায় বায়োমেট্রিক করাতে পারেননি তিনি।

রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে সাদ্দাম হোসেন এসেছেন প্রাইভেটকার চালনার লাইসেন্স করাতে। বিআরটিএ থেকে তাকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। কিন্তু দফায় দফায় সময় বাড়ানোর অভিযোগ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আগুন লেগেছে আজ ১ সপ্তাহ। কিন্তু তারা আমাকে প্রায় বছরখানেক ধরে ঘোরাচ্ছে। সার্ভারে সমস্যা থাকলে ম্যানুয়ালি কোনো কাগজ দিক আমাদের! তাহলে সার্জেন্ট আটকালে আমরা তো সেটাও দেখাতে পারি। কিন্তু এখন তো কোনোকিছুই করতে পারছি না!

নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল এসেছেন তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করাতে। কিন্তু অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়েও কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি।

ডাটা সার্ভার নষ্ট বলে ব্যানার টানিয়ে তারা আর কিছু জানায় না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০২১ থেকে এখন পর্যন্ত হাঁটছি। শুধু তারিখ বাড়ানোর সিল দেয় আর অপেক্ষা করতে বলে ‘সিলের পর সিল’ মারতেই থাকে। ৪ বছর ধরে ঘুরছি। আমরা গরিব মানুষ। সার্জেন্ট তো এসব দেখে না। কেস দিলেই ভোগান্তি!

এসব অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে বিআরটিএ’এর উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হামলাকারীদের নাশকতায় আমাদের হেড অফিসের ডেটাসেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সে কারণে আমাদের অনলাইন সংক্রান্ত সব সেবা বন্ধ আছে। আমরা ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। তারা আলোচনা করছেন। যতদ্রুত সম্ভব, সার্ভার ঠিক করার প্রক্রিয়া চলছে। যাদের ১৬ জুলাই পর্যন্ত তারিখ দেওয়া আছে, তাদের ক্ষেত্রে ২ মাস সময় বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করা হবে।

;

কোটা আন্দোলনে সহিংসতায় সিসিক’র ক্ষতি ১৪ কোটি টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: খুলে নিয়ে গেছে রাস্তার ব্যারিকেড

ছবি: খুলে নিয়ে গেছে রাস্তার ব্যারিকেড

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব পড়ে সিলেটেও। আন্দোলন চলাকালে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংহিসতার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে নগরীজুড়ে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তথ্যমতে, আন্দোলনচলাকালে প্রায় ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট নগরীর আখালিয়া ও ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া সিসিকের ময়লার গাড়ি ও ডাস্টবিন ভাংচুর করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুবিদবাজার থেকে তেমুখী মুখ পর্যন্ত সড়ক বিভাজকগুলো ভাঙা হয়েছে। মাঝখানে সৌন্দর্যবধনের জন্য লাগানো গাছ ও রেলিং ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিলেট নগরীর পত্রিকাপয়েন্ট খ্যাত করিম উল্ল্যা মার্কেটের সামনে ও ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি এ সড়কের পাশেই। ফলে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় আখালিয়া এলাকায় অনেকে লোহার গ্রিল দিয়ে বানানো সড়ক বিভাজক ভেঙে নিয়ে গেছে। অনেকে আবার সেগুলো বিভিন্ন ভাঙারি দোকানে বিক্রি করেছেন বলে তারা ধারণা করছেন। আর দোকান মালিকরা ট্রাকে সেগুলো অন্য স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এব্যাপারে সিলেট সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর হয়েছে। নগরীর বন্দরবাজার থেকে ধোপাদিঘীরপাড় ও সুবিদবাজার থেকে তেমুখী সড়কে লোহা দিয়ে বানানো ডিভাইডার, রেলিং ও সৌন্দর্যবধনে লাগানো গাছের ক্ষতি করা হয়েছে।

এছাড়াও সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার ১৫টি ট্রাক, দুই শতাধিক ডাস্টবিন ও বিদ্যুতের খুঁটি ভাঙচুর হয়েছে। এতে সিটি করপোরেশেনের ১৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, শাবিপ্রবি এলাকায় সিসিকের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। সুবিদবাজার থেকে তেমুখী সড়ক (বিশ্ববিদ্যালয় এলাক) পর্যন্ত সাড়ে ৭কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে আমাদেরকে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি।

;

পুলিশ মারলে ১০ হাজার, ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার: ডিবির হারুন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ার যুবদল নেতা নুরে আলম সিদ্দিকি পিটন লন্ডন থেকে নির্দেশনা পান পুলিশ মারলে ১০ হাজার এবং ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই নির্দেশনার পর মাঠে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় নুরে আলম সিদ্দিকির দুলাভাই মো. আব্দুল আজিজ ওরফে সুলতানকে। সেই সুলতানকে গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

ডিবি বলছে, গ্রেফতার আব্দুল আজিজ ছাত্রদের মিছিলের ভেতর টাকার বিনিময়ে টোকাই ও ছিন্নমূল শ্রেণির লোকদের ঢুকিয়ে তাদের দিয়ে দেশব্যাপী হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের নির্দেশনা দিয়ে আসছিল। টাকার বিনিময়ে টোকাই ও ছিন্নমূলদের দিয়ে রাজধানীর উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গ্রেফতার মো. আব্দুল আজিজ ওরফে সুলতান

তিনি বলেন, সরকার পতনের আন্দোলন বাস্তবায়নের জন্য গ্রেফতার মো. আব্দুল আজিজ সুলতান টোকাই ও ছিন্নমূল শ্রেণির লোকদের দিয়ে একজন ছাত্রলীগকে মারলে ৫ হাজার টাকা এবং একজন পুলিশ সদস্য মারলে ১০ হাজার টাকা প্রদান করার জন্য জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের নির্দেশনা প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রেফতার আসামির প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা টাকার বিনিময়ে টোকাই ও ছিন্নমূলদের দিয়ে রাজধানীর উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

পুলিশের যদি মনোবল ভেঙে দেওয়া যায় তাহলে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির যে ষড়যন্ত্র তা সফল হবে। সেই মানসিকতা নিয়েই গত বছরের ২৮ অক্টোবরও পুলিশের ওপর হামলা করেছিল। সে সময় একজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ হাসপাতাল ও প্রধান বিচারপতির বাসভবন ভাঙচুর করা হয়। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রটি আবারও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন-হামলা ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। এটা কি কোনো সভ্য দেশের মানুষের পক্ষে সম্ভব, প্রশ্ন মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের।

;

বগুড়ায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর মামলার আসামি আ. লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা, সদ্য পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ছাত্রলীগ নেতা, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দুটি বেসরকারি পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ ও পরিচালকসহ অনেককেই। এরমধ্যে ৬৮ বছর বয়সী এক নারী কাউন্সিলরকেও আসামি করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজা বাদী হয়ে গত ২২ জুলাই রাতে ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শহর যুবলীগের রহমান নগর আঞ্চলিক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক কাজলকে ৬৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তিনি শহরের বিআরটিসি শপিং কমপ্লেক্সের সভাপতি। ওই মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন আকরামকেও আসামি করা হয়েছে। অথচ তার নিজের এবং শ্বশুর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার আপন ভাই বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই মামলার অপর আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারী। ওই মামলায় ১২ নম্বর আসামি জাকি তাজওয়ার সমুদ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের উপদফতর সম্পাদক ছিলেন। তিনি বগুড়া শহরের সাতমাথায় জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত ১৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাওন পালকে। অথচ হামলার সময় জেলা ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ও আক্রান্ত হয়। মামলায় বগুড়ার বিআইআইটি নামক বেসরকারি পলিটেকটিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন সৈকত ও আইআইটিবি’র পরিচালক সবুর শাহ লোটাসকেও আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র-৩ ও নারী কাউন্সিলর ৬৮ বছর বয়সী শিরিন আক্তারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তার স্বামী বজলুর রশিদকে বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা কাজল দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আসামি হওয়াকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার সময় আমিসহ সাধারণ সম্পাদক এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ মার্কেট রক্ষা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। দোকান-পাটে হামলা এবং লুটপাট ঠেকাতে সকলে মিলে মার্কেটের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের মার্কেটে প্রবেশ বন্ধ করে দেই। অথচ আমি নিজে যে দলের সদস্য, সেই দলীয় কার্যালয় পোড়ানোর ঘটনায় আসামি হওয়া খুবই লজ্জাজনক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকি তাজওয়ার সমুদ্র বগুড়া জিলা স্কুলের ২০১৯ সালের এসএসসি ব্যাচ এবং সরকারি আজিজুল হক কলেজের ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মাহতাব উদ্দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি ঘটনার সময় বগুড়ায় ছিলেন উল্লেখ করে সাংবাদিকদের জানান, জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের কারণেই তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পোড়ানো মামলার আসামি করা হয়েছে, এমনটা হয়তো নাও হতে পারে। কেউ হয়তো আওয়ামী লীগ নেতাদের ভুল বুঝিয়ে তকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাতমাথা এলাকায় অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেসবের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা উচিত ছিলো। ওই দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে।

ওই মামলার আসামি জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, অভিযোগটি খুবই হাস্যকর, কারণ একই ভবনে আওয়ামী লীগ কার্যালয় এবং আমাদের কার্যালয় অবস্থিত। হামলা এবং অগ্নিসংযোগে শুধু আওয়ামী লীগ অফিসই না, ছাত্র ইউনিয়ন এবং কমিউনিস্ট পার্টির অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামলা দেখে তো মনে হচ্ছে আমরা নিজেদের অফিসেই হামলা করেছি।

ওই মামলায় বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ ৮৭ জনের নাম আছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামি ছাড়াও অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ আসামি দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। তারা কার্যালয়ের মালামাল লুট করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী টাউন ক্লাব ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এবং সামনের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেন।

মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলের উপ-দফতর সম্পাদক হিসেবে আমাকে বাদী করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিষয়ে দলীয় সভায় সিদ্ধান্তক্রমে নাম দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ থেকে লিখিত যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটিই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তকালে যাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে না তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

;