ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতিই আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থার কারণ: শেখ হাসিনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন অগ্রগতি আমরা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। এ কারণে আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা এবং জোরালো সমর্থন অব্যাহত রয়েছে।’

২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে সোমবার (২৫ মার্চ) দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দর্শনে বিশ্বাসী। সাধারণ মানুষের জীবনমান এবং দেশের উন্নয়নে আমরা আশু, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশে এবং প্রবাসে বসবাসকারী সকল বাংলাদেশি নাগরিককে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বলেন, ‘তাঁর বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।’ জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে তিনি স্মরণ করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সকল বন্ধুরাষ্ট্র, সংগঠন, সংস্থা, ব্যক্তি এবং বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলাকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দিনে দিনে পাকিস্তানিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যমূলক মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। শেখ মুজিব যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালিদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে অটল ছিলেন। তাঁর অত্যন্ত সুদূরপ্রসারি চিন্তার ফসল ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ, যে সংগঠন দু’টির সৃষ্টি থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৬২-এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে এ সংগঠন দু’টির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। গণরোষের মুখে আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর ‘বঙ্গবন্ধু’। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা করেছিলেন, ‘আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় এদেশটির নাম হবে পূর্ব-পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ।’

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাক-সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে টালবাহানা শুরু করে। শেখ মুজিব অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন। ২৩ মার্চ সারাদেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করতে শুরু করে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাক সামরিক জান্তা শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই তিনি স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বাঙালির জননেতাকে পাকিস্তানের মিয়াওয়ালী কারাগারে বন্দী করে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। জাতির পিতার ডাকে বাংলার মুক্তিপাগল জনতা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর মিত্র শক্তির সহায়তায় ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।

তিনি বলেন, বাঙালি জাতির পিতা, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁর প্রাণপ্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। শূন্য হাতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সহায়তা নিয়ে ছিন্নমূল মানুষকে পুনর্বাসন করেন, অবকাঠামো পুনঃস্থাপন ও উন্নয়ন করেন এবং উৎপাদন খাত ও অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান। স্বাধীনতা অর্জনের ৯ মাসের মধ্যেই একটি সংবিধান উপহার দেন। তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ১২৩টি দেশের স্বীকৃতি এবং ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর আমলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ অতিক্রম করে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ১৯৭১-এর পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাতে থাকে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ শাহাদতবরণ করেন। খুনি মোস্তাক-জিয়া ও তাদের উত্তরসূরিরা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আমরা দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে দ্রুত কাজে নেমে পড়ি। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তুহারা মানুষের জন্য বাসস্থান নির্মাণসহ মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করি। ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষর, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন এবং ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী উদ্বাস্তুদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আমরা শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষণা করি। ব্যক্তি মালিকানায় টেলিভিশন চ্যানেল চালুর অনুমোদন দেই। ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে জাতির পিতা হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকাল ছিল সকল পশ্চাৎপদতা, অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে অন্ধকার থেকে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার এক সোনালী অধ্যায়।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবক’টি জাতীয় নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে সরকার পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এখন বাস্তবতা। আমরা ইতোমধ্যেই ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করেছি। সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটিয়েছি। এক দিনে ১০০ সেতু এবং ১০০ সড়ক উদ্বোধন করা হয়, যা ইতিহাসে এই প্রথম। শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে এসেছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃষ্টিনন্দন তৃতীয় টার্মিনাল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের মত মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন আমাদের সামর্থ্যের বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসের উপযোগী করে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমানে ২০ বছর মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অর্থাৎ ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়ন করতে চলছে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা।

জাতির পিতার খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানি শাসকদের দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা নিয়ে ‘আগরতলা কন্সপিরেসি কেইস’ (৪ খ-) এবং তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৪৮ হতে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (১৪ খ-) প্রকাশিত হয়েছে। জাতির পিতার নিজের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’ প্রকাশ করেছি। আমার বিশ্বাস, এই বইগুলো পড়লে নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার ইতিহাসে জাতির পিতার দৃপ্ত পদচারণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করতে পারবে।

তিনি স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক স্মার্ট ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের শপথ গ্রহণ করতে সকলের প্রতি আহবান জানান।

   

চলে গেলেন জাতীয় পতাকার নকশাকার শিব নারায়ণ দাস



ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলে গেলেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস (৭৮)। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের 

সম্প্রতি অসুস্থতা নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন শিব নারায়ণ দাস। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়। 

কুমিল্লায় জন্ম নেওয়া শিব নারায়ণ দাসের পিতা আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসক সতীশচন্দ্র দাস ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। শিব নারায়ণের স্ত্রী গীতশ্রী চৌধুরী এবং তাদের সন্তান অর্ণব আদিত্য দাস।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবিস্মরণীয় এক পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিব নারায়ণ দাসের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবন্ত এক ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটলো।৬ জুন, ১৯৭০ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত ১১টার পর বাংলাদেশের পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন শিব নারায়ণ দাস। এ পতাকাই পরবর্তীতে ১৯৭১ এর ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় উত্তোলিত হয়। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে শিব নারায়ণ দাশের নকশা করা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

শিবনারায়ণ দাসের বাবা সতীশচন্দ্র দাশ কুমিল্লাতে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা করতেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদাররা তাকে ধরে নিয়ে হত্যা করে।

ইতিহাস পাঠে জানা যায়, ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের ১০৮ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম প্রমূখ পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। যেখানে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ন দাসও।  

ঐতিহাসিক সেই সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনায় সর্বসম্মতিতে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান (খসরু) তখন ঢাকা নিউ মার্কেটের এক বিহারী দর্জির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে এনে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়েদে আজম হল এর ৩১২ নম্বর কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। শিবনারায়ণ দাস পরিশেষে তার নিপুণ হাতে মানচিত্রটি আঁকলেন লাল বৃত্তের মাঝে। রচিত এই পতাকাই কিছুদিন পর স্বীকৃতি লাভ করে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা হিসেবে। মুক্তিসংগ্রামের উত্তাল দিনগুলিতে জনতার হাতে হাতে এই পতাকা বাঙালির আত্মপরিচয়কে মূর্ত করে তুলে। 

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে শিবনারায়ন দাশের নকশা করা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। যদিও ১৯৭২ সালে সরকার শিবনারায়ন দাসের নকশা করা পতাকার মধ্যে মানচিত্রটি বাদ দিয়ে পতাকার মাপ, রঙ, ও তার ব্যাখ্যা সংবলিত একটি প্রতিবেদন দিতে বলে পটূয়া কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসান দ্বারা পরিমার্জিত রূপটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রারম্ভিক দিসগুলিতে শিব নারায়ণ দাসের অঙ্কিত জাতীয় পতাকা মুক্তি পাগল বাঙালির আবেগের সঙ্গে মিশে আছে। 

;

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় রিকশার যাত্রী নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় রায়হান মিয়া (৩৫) নামে এক রিকশার যাত্রীর নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন পুনিয়াউট রেলক্রসিংয় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর গ্রামের মৃত বাহার মিয়ার ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুনিয়াউট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। রায়হান একই এলাকার সাগর নামের এক ব্যক্তির ড্রেজারের ড্রাইভার ছিলেন। এ ঘটনায় রায়হানের শিশুকন্যা ইকরা জাহান ইফতি (৮) আহত হয়েছে। তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটি শেষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ভৈরব থেকে তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরেন রায়হান। পরে স্টেশন থেকে রিকশায় করে বাসায় যাওয়ার পথে পুনিয়াউট রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালী অভিমুখী নোয়াখালী মেইল ট্রেনটি তাদের রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রায়হান ও তার শিশুকন্যা ইফতি গুরুতর আহত হন।

তিনি আরও জানান, আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক দেব রায়হানকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

;

সিজারিয়ান প্রসবে নিষেধাজ্ঞার দাবি কি যৌক্তিক?



খন্দকার আরিফুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪
সিজারিয়ান প্রসবে নিষেধাজ্ঞার দাবি কি যৌক্তিক?

সিজারিয়ান প্রসবে নিষেধাজ্ঞার দাবি কি যৌক্তিক?

  • Font increase
  • Font Decrease

সিজারিয়ান প্রসবে নিষেধাজ্ঞা যৌক্তিক কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিতর্ক থাকতে পারে। তার আগে জানা দরকার সিজারিয়ান প্রসব কেন করতে হয়। সিজারিয়ান প্রসব করা হয় যখন মা স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে শিশুর জন্ম দিতে অপারগ হন বা মেডিকেল হিস্ট্রি অনুযায়ী যদি মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারগণ মা এবং শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিজারিয়ান প্রসবের সিদ্ধান্ত নেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রসবে কোনও ঝুঁকি না থাকা সত্ত্বেও গর্ভবতী মায়ের ইচ্ছেতেও অনেক সময় সিজারিয়ান প্রসব করতে হয়।

সর্বশেষ জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের (নিপোর্ট) একটি সমীক্ষাতে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে (বিডিএইচএস) ২০২২-এর প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায় যে, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মাত্র ৫ বছরে সিজারিয়ান প্রসবের ঘটনা ৩৪ থেকে বেড়ে ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সমীক্ষাই প্রমাণ করে বাংলাদেশে অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান সন্তান জন্মদানের প্রবণতা কতটুকু বেড়েছে।

যদিও সিজারিয়ান প্রসব করানো হয় শুধুমাত্র প্রসবের সময় কোনও জটিলতা দেখা দিলে। তবে বাংলাদেশে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও দিন দিন বেড়েই চলছে সিজারিয়ান প্রসবের প্রবণতা। সমীক্ষায় এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে গিয়ে প্রসব করানোর প্রবণতা বাড়ার কারণে।  সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনের হার কম হলেও বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে হচ্ছে সিজারিয়ান প্রসব। তবে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সিজারিয়ান প্রসব করা হলে মা ও শিশু উভয়ই পড়তে পারে ঝুঁকির মুখে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেডিকেল হিস্ট্রি অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয় না, সে ক্ষেত্রে সিজারিয়ান প্রসব তখন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটি ঘটেছিল দুই সন্তানের জননী সানজিদা মাহমুদ চৈতির ক্ষেত্রে। চৈতি বার্তা২৪.কমকে জানান, তার প্রথম সন্তানের প্রসব স্বাভাবিকভাবে হওয়ার কথা থাকলেও, শিশু গর্ভেই মলত্যাগ করে ফেলে এমনকি শিশু অক্সিজেনও নিতে পারছিল না। এবং চৈতি নিজেও দুর্বল হয়ে পড়েন। যে কারণে আর কোনও উপায় না পেয়ে মা ও শিশুকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত ডাক্তারকে সিজারিয়ান সেকশনে যেতে হয়েছে।

চৈতি বলেন, আমিও খুব চেষ্টা করছিলাম স্বাভাবিক প্রসবের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি। তবে এটাও ঠিক, ডাক্তার যদি সে সময়ে সিজারিয়ান সেকশনে না যেতেন তাহলে হয়তো আমি আজকে বেঁচে থাকতাম না।

সিজারিয়ান প্রসব করাবেন বলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাশফিয়া। কেন তিনি সিজার করাবেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'আমি ছোটবেলা থেকেই সামান্য ব্যথাও সহ্য করতে পারি না। ভয় হচ্ছে কীভাবে কী হবে। সিজারে কষ্ট কম হবে শুনেছি তাই সিজারই করব।'

সিজারিয়ান প্রসব নিয়ে বার্তা২৪.কমের কথা হয় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সালিমা আখতার জাহানের সাথে। তিনি বলেন, আমি দেশে-বিদেশে অসংখ্য ডেলিভারি কেস হ্যান্ডেল করেছি এবং এখনও করছি। আমি সবসময়ই চেষ্টা করি স্বাভাবিক প্রসব করানোর জন্য। তবে সিজারিয়ান সেকশনের ইন্ডিকেশন যখন আসে তখন আর কিছু করার থাকে না, সিজারিয়ান সেকশনে যেতে হয়। মায়ের গর্ভের জায়গা অনুযায়ী বাচ্চা ঠিক আছে কিনা, বাচ্চার ওজন ঠিক আছে কিনা, বাচ্চার আকার ঠিক আছে কিনা, গর্ভের ভেতরে বাচ্চার পজিশন ঠিক আছে কিনা-এই সব যদি ঠিক থাকে তাহলে স্বাভাবিক প্রসবই হবে। যদি এগুলো ঠিক না থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের সিজারিয়ান সেকশনে যেতে হয় এবং পৃথিবীর সব দেশেই একই নিয়মে সিজারিয়ান সেকশনে যান ডাক্তারেরা।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে আমাদের দাদি-নানিদের সময়ে তারা অনেক পরিশ্রম করতেন, তাদের ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি হত। যে কারণে তাদের স্বাভাবিক প্রসবই হত। কিন্তু বর্তমানে তা হয় না। যে কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিজারিয়ান সেকশনে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ই থাকে না।

অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান সেকশনে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, সিজারিয়ান সেকশন একবারে বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে এমন অনেক দেখা যায়, গর্ভবতীর ৫ ঘণ্টা ধরে প্রসব ব্যথা হচ্ছে কিন্তু প্রসবের রাস্তা ছোট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোনভাবেই বাচ্চা প্রসব হচ্ছে না- এমন অবস্থায় সিজারিয়ান প্রসবই করাতে হয়। এমন আরও অসংখ্য কারণ রয়েছে। সুতরাং, সিজারিয়ান সেকশন বাদ দেওয়ার কোনও রাস্তা নাই। যার মেডিকেল হিস্ট্রি স্বাভাবিক থাকবে তার স্বাভাবিক প্রসব হবে এবং যার স্বাস্থ্যগত  ঝুঁকি থাকবে তার সিজারিয়ান প্রসব হবে। এভাবেই বলছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. সানজিদা তাবাসসুম।

এদিকে, সম্প্রতি মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে গর্ভবতী নারীকে বের করে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসার পর বুধবার (১৭ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে সিজারিয়ান প্রসবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, গত ১৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গর্ভবতী মাকে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে বের করে দিলেন গাইনি চিকিৎসক’ শিরোনামে প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার এক বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে মানবাধিকার কমিশন জানতে পারে, মিটফোর্ড হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে গিয়েছিলেন রাজধানীর শ্যামপুরের এক নারী। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে স্বাস্থকর্মী জানায় সব স্বাভাবিক রয়েছে। পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক তার আর্থিক অবস্থা জানতে চান এবং অস্ত্রোপাচারের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই নারী তার আগের দুই সন্তান স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে জানিয়ে অস্ত্রোপাচারে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীর উপর নানা প্রকার মানসিক চাপ তৈরি করেন। চিকিৎসক আপত্তিকর মন্তব্যসহ হয়রানিমূলক কথা বলার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে মুগদা নবস্বাস্থ্য নামের এক সরকারি হাসপাতালে ওই নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়।

;

পহেলা বৈশাখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী, গ্রেফতার ৫



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকারের অভিযোগ করেছেন এক তরুণী (১৯)। তার করা মামলায় এরই মধ্যে অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে আসামিরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. রাহাত (১৮), মো. সোহাগ আলম (২০), শহিদুল ইসলাম (২১), মিলন (২৩) ও মো. মাসুম (২৫)

১৪ এপ্রিলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে দুই সহকর্মীর সঙ্গে ঘাটারচর সংলগ্ন মধু সিটিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন তরুণী।  এরপরই রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় আবাসন প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাকর্মী মাসুম। পরে তার সঙ্গে যোগ দেয় আরও কয়েকজন।

হাউজিংয়ের ভেতরে ছবি তোলার সময় ৫-৭ জন মিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা ওই তরুণী ও তার সহকর্মীদের কাছ থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তাদের টানাহেঁচড়া করে হাউজিংয়ের আরও ভিতরে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যান। সেখানে তরুণীর দুই সহকর্মীকে বেদম মারধর করে আটকে রাখে আসামিরা।

এরপর আসামিরা ওই তরুণীকে জোরপূর্বক হাউজিংয়ের উত্তর-দক্ষিণমুখী রাস্তার পূর্ব-পশ্চিম রোডের খালের উত্তর পাশে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে ঘটনা কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় পরদিন সোমবার তরুণী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চৌকস একটি টিম তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পরে ঘটনার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। তারা প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াত।

ভুক্তভোগী বলেন, তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। আমি রাজি না হওয়ায় তারা ব্লেড বের করে মুখের সামনে এসে আমাকে ভয় দেখিয়েছে। তখন আমি বাধা দিয়েছি। তারা তখন আমকে বলে আমি যদি রাজি না হই তাহলে আমার সহকর্মীদের মেরে ফেলে দেয়া হবে।  ওই তরুণী জানান, অনেক অনুরোধের পরও মন গলেনি ধর্ষকদের।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবাইকে বিবস্ত্র করে ছবি তোলা হয় এবং ভিডিও করা হয়। তারপর আমাদের ভয় দেখানো হয়। যদি পুলিশ বা এলাকার কারও কাছে বিষয়টি জানাই তাহলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছেড়ে দেয়া হবে। বাধা দিতে এলে সহকর্মী সিজানকে তারা প্রচুর মারধর করে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। আমি চাই না আমার মত আর কোন মেয়ে এমন ভোগান্তিতে পড়ুক।  আমি তাদের শাস্তি চাই।’

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দিন কবির বলেন, ‘এই ঘটনার সাথে পাঁচজন সরাসরি জড়িত। কিন্তু এদের যারা সহযোগী বা যারা ওখানে আড্ডা দেয় তাদেরকে আমরা শনাক্ত করেছি।  তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাবে না। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ছাড় দেয়া হবে না কাউকেই।’

এদিকে মঙ্গলবার মামলা হলে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামিরা। এমন নির্জন স্থানে এটিই প্রথম নয়, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেছে আসামিরা। 

 

;