বরিশালে ঈদ কেনাকাটার চাপ সামলাতে হিমশিম বিক্রেতাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীর ঈদ বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। এতে করে বিক্রেতারাও বেশ খুশি। একইসঙ্গে নগরীর পোশাক তৈরির টেইলার্সগুলো পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সবমিলিয়ে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।

বিগত ১৫ রমজানের পর থেকেই ক্রেতা আকর্ষণে নানা সাজসজ্জা আর বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন জেলা, উপজেলা ও নগরীর খুচরা ও পাইকারি পোশাক বিক্রেতারা। ছোট-বড় মার্কেট, স্বনামধন্য বিদেশি শোরুম ও শপিংমলগুলোর ভেতরে পোশাকের সমাহার আর বাইরে রং-বেরংয়ের বাতিতে ঝলমল করছে সব এলাকা। উৎফুল্ল ক্রেতাদের জমজমাট কেনাকাটায় জমে উঠেছে মার্কেটগুলোও। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা নিত্য নতুন কালেকশন নিয়ে পসরা সাজিয়েছে ফ্যাশন হাউস ও মার্কেটগুলো।

গৃহকর্তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কেনাকাটায়। চলছে মধ্যরাত পর্যন্ত। এছাড়াও জুতার শোরুমগুলোতে চলছে বিকিকিনি। পোশাক তৈরি করা টেইলার্সগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। ইতোমধ্যে, বড় বড় টেইলার্সগুলো কাপড় তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ঈদের পোশাক কিনতে নগরীর চকবাজারে আসা বিএম কলেজের ছাত্রী জেসিকা আহম্মেদ জুঁই, গৃহিনী মমতাজ বেগম, ফেরদৌস জাহান আঁখি বলেন, এ বছর রোজা শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বেশ কয়েকবার নগরীর একাধিক মার্কেট ঘুরে ঈদের শপিং করেছি। কিন্তু চলতি বছর ঈদের সব জিনিসপত্র ও পোশাকের দাম গতবারের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি।

নগরীর চকবাজার এলাকার ‘স্বদেশী বস্ত্রালয়’-এর স্বত্বাধিকারী মৃণাল কান্তি সাহা বলেন, ক্রেতারা নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক ও শাড়ি কিনছেন।

নগরীর চকবাজার, ভেনাস মার্কেট, সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন রোড, সোবাহান কমপ্লেক্স, ফকির কমপ্লেক্স, শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এছাড়াও সিটি মার্কেট ও মহসিন মার্কেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়।

এ বছর ঈদকে ঘিরে নগরীর মার্কেটগুলোতে বিদেশি পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে দেশি পোশাকের সমারোহ রয়েছে বেশ। ঈদ মার্কেটে পুরুষের কাছে পাঞ্জাবির ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির বলেন, ঈদ বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে ও যানজটমুক্ত রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।

এর পাশাপাশি নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ইতোমধ্যে পুরো নগরী জুড়ে ২শ ৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নগরীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, উন্নত পুলিশি সেবার লক্ষ্যে ক্রাইম কন্ট্রোল, ট্রাফিক ও থানা কন্ট্রোল এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের জন্য ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর বরিশালের পুরো নগরী এখন পুলিশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। সে কারণে মধ্যরাতেও নিরাপত্তায় নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুলোকে নির্বিঘ্নে ঈদের বিকিনিকি চলছে।

পাশাপাশি ক্রেতাদের চাপ সামলাতে ইতোমধ্যে নগরীর চকবাজার ও গীর্জা মহল্লা এলাকার সড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাহারি পোশাক

বরিশালে ঈদ কেনাকাটায় চাহিদার শীর্ষে বাহারি পোশাক, ছবি- বার্তা২৪.কম

দক্ষিণাঞ্চলের বিভাগীয় শহর বরিশাল শহরে পেশাজীবী মানুষের বসবাস বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শৌখিন ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা করার জন্য ছুটে আসছেন বরিশাল শহরে। সে কারণে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য উৎসাহী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে নগরীর শপিংমলগুলোতে।

এবার ঈদ মার্কেটে মেয়েদের বাহারি পোশাক, শাড়ি, থ্রি-পিস ও পুরুষের শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক কিনতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন সবাই। দেশি পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি পণ্যও কিনতেও ঝুঁকেছেন ক্রেতারা।

দোকানিরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদে নারীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ সুতির শাড়ি। পাশাপাশি রয়েছে, তাঁত-জামদানি, মুসলিম জামদানি ও দোপাট্টা; যা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মিরপুরী কাতান, সিল্ক ও জুট কাতানেরও চাহিদা রয়েছে; যা বিক্রি হচ্ছে, ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। মেয়েদের থ্রি-পিসে এবার কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ‘পি-কে’, ‘কাল্পনিক’, ‘লাভ স্টোরি’ নামের নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিসের যথেষ্ট চাহিদা বরিশালের ঈদ বাজারে। এসব থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে শুরু করে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ছেলেদের জন্য সুতি-পাঞ্জাবি ও শেরওয়ানি বেশি বিক্রি হচ্ছে। এর দাম ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঈদের কেনাকাটার জন্য প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে, ‘রিচম্যান-লুবনান’, ‘স্মার্টটেক্স’, ‘স্বপ্ন’, ‘স্টার প্লাস’, ‘ব্যাঙ’, ‘চন্দ্রবিন্দু’, ‘বিশ্ব রঙ’, ‘আড়ং’সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতে।

বরিশাল নগরীর চকবাজার বিপণী বিতানগুলোতে দেশিয় শাড়ি কিনতে আসা গৃহিনী সীমা আহম্মেদ বলেন, বাঙালির যেকোনো উৎসবে নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি ও থ্রি-পিস। আর ঈদ উপলক্ষে তো শাড়ি বা থ্রি-পিস চাই-ই চাই! ঈদে নারীদের জন্য শাড়ি আর পুরুষের জন্য পাঞ্জাবির আবেদন কোনোদিনও শেষ হবে না। এবারের ঈদেও এ দুটি পোশাকই প্রাধান্য পেয়েছে।

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শপিংমলের শাড়ি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি ও খুচরা শাড়ি বিক্রেতারা এবছর ভারত থেকে গুজরাটি সিল্ক, বাহা সিল্ক, মনিপুরী কাতান, মনিপুরী সুতি, পিউর সিল্ক, জর্জেট ও নেটের ওপর কাজ করা শাড়ি আমদানি করেছেন। তবে এবার বেশিরভাগ ক্রেতার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইল জামদানি, তাঁতের শাড়ি, সফট সিল্ক আর জুট জামদানি। এগুলোর দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এবছর ঈদে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার দামি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে বেশি।

তারা আরো জানিয়েছেন, ভ্যাঁপসা গরমকে মাথায় রেখেই এবার আরামদায়ক শাড়ি খুঁজছেন ক্রেতারা।

ফুটপাতে উপস্থিতি বেশি
ঈদ-উল ফিতরকে ঘিরে নগরীর নামিদামি শপিংমলের চেয়ে ফুটপাতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে। ক্রেতাদের দাবি, তুলনামূলকভাবে বরিশালে পোশাকের দাম গতবারের চেয়ে ৩/৪ গুণ বেশি। তাই, তারা পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে অনেকটা কমদামে ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

ফুটপাতে বিক্রি বেশি, ছবি- বার্তা২৪.কম

নগর ভবনের সামনে ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, এবার পোশাকের এত দাম যে, বলার মতো না! আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্যের!

হাসান সিদ্দিক নামে সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, ব্র্যান্ডের পোশাকগুলো ভালো কিন্তু সেগুলোর দাম কয়েকগুণ বেশি রাখা হচ্ছে। বিপনী বিতানগুলোতে যে পোশাকের দাম ৪ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে, সেই একইরকম পোশাক আমরা ফুটপাত থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেই কিনতে পারছি। তাই, বাধ্য হয়েই ফুটপাতের দোকান থেকে কিনেছি।

নাবিলা আক্তার জিতু নামে এক গৃহিনী বলেন, নগরীর ব্র্যান্ডের প্রায় সব শোরুমেই ঘুরলাম। প্রতিটি শোরুম ও মার্কেটগুলোতে পোশাকের অতিরিক্ত দাম। তাই, অনেকটা কমদামে ফুটপাত থেকে ঈদের কেনাকেটা করেছি।

তবে ক্রেতাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘টপ-টেন’ বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক ইমরান শেখ বলেন, আমরা সব সময় পোশাকের গুণগত মান ধরে রাখার চেষ্টা করছি। মানের সঙ্গে আমাদের প্রতিটি পণ্যের দামটাও সামঞ্জস্য করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে, বরিশালে কসমেটিকস ও কাপড়ের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। সেক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তেমন কোনো অভিযান নেই বললেই চলে।

তবে ভোক্তার জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি পণ্যে যেখানে যৌক্তিক একটা লাভ করা যায়, সেখানে বরিশালে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ লাভ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এছাড়া অনেকে অনৈতিকভাবে আলাদা করে ভ্যাট সংযুক্ত করেছেন। এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কেনাকাটা বিকাশ পেমেন্টে
বড় বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে স্বাচ্ছন্দে ঈদের কেনাকাটার পর এখন নিরাপদে মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে ‘বিকাশ’ পেমেন্টের মাধ্যমে। পছন্দের ফ্যাশন হাউস, নামিদামি শোরুম, শপিংমল, মার্কেট, জামা-জুতার আউটলেট ও ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে ঈদের কেনাকাটার পর ‘বিকাশ’ পেমেন্টের মাধ্যমে সহজ, নিরাপদ, ঝামেলাহীন ও দ্রুত ডিজিটাল লেনদেন এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের লাইফস্টাইলের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহী বেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের, ছবি- বার্তা২৪.কম

বরিশাল নগরীর সবচেয়ে বড় মার্কেট চকবাজারে পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ডা. শাহনাজ রুবি বলেন, সারাবছর সব কেনাকাটাতেই আমি কম-বেশি ‘বিকাশ’ পেমেন্টের চেষ্টা করি। তাছাড়া ছোট-বড় সব দোকানেই ‘বিকাশ’ পেমেন্টের সুবিধা আছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বিকাশ’-এর ডিজিটাল পেমেন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আমাকে শপিংমলে ক্যাশ বহন করতে হচ্ছে না। ফলে, টাকা চুরি যাওয়া অথবা ছেঁড়া-ফাটা-ভাংতি টাকার ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।

ক্রেতাদের পাশাপাশি বিক্রেতারাও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

চকবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাস্টমারের ভিড় কম-বেশি লেগেই রয়েছে। ‘বিকাশ’ পেমেন্ট সেবার কারণে টাকার হিসাব রাখা অনেক সহজ হয়ে গেছে। তার সঙ্গে ভাংতি বা নকল টাকার ঝামেলা নেই। পাশাপাশি দিন শেষে অনেক ক্যাশ টাকা রাখার ঝুঁকি নিয়েও ভাবতে হয় না।

   

শসার দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে কৃষকরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শসার দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কুষ্টিয়ার শসা চাষীরা। রমজান মাস এলেই শসার কদর বাড়ে। স্বল্প সময়ে আবাদ করা এই শসা চাষে বেশ লাভবান হওয়ায় কৃষকরা শসা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তবে রমজান মাস শেষ হওয়ার পর সেই শসার কদর অনেকটাই কমে গেছে। বাজারেও নেই আর আগের মতো শসার দাম। বর্তমানে খুচরা বাজারে ১০-১৫ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে দাম আরও কম।

কথা হয় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া গ্রামের কৃষক উজ্জ্বল হোসেন এর সাথে। তিনি বলেন, অল্প সময়ে কম খরচে অধিক মুনাফা অর্জনের কৃষিপণ্য শসা। আর এই শসা চাষ করে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় বেশ ভালো লাগছিলো। রমজানের শুরুতেই ক্ষেত থেকেই এক মণ শসা বিক্রি করেছেন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়।

ঈদের পর এখন ৪থেকে ৫শ টাকা মণ হিসেবে শসা বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড তাপদাহে পানির অভাবে শসা গাছগুলো সব মরে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সদর উপজেলা বিত্তিপাড়া এলাকার কৃষক আবু সালেক বলেন, ঈদের পর শসার দাম কমে যাওয়ায় আমার অনেক ক্ষতি হলো। সোয়া এক বিঘা জমিতে লাগানো শসা ক্ষেতে আসার খরচ হয়েছে আশি হাজার টাকা। তবে লাগাতে একটু দেরি হওয়ায় আমি রমজানের প্রথম দিকের ভালো দাম থেকে বঞ্চিত হয়েছি। ঈদের পর শসার দাম কমে যাওয়ার ফলে আমার আরও লোকসান বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, গত বছর ২০ শতক জমিতে শসার আবাদ করে সব খরচ বাদ দিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা লাভ হয়েছিলোে বলেই এবার আরও বেশি জমিতে শসার আবাদ করেছি। কিন্তু এবার লোকসানের পাল্লাটাই ভারি হলো। চলতি মৌসুমে শসার ফলন ভালো হলেও হঠাৎ দাম কমাতে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। যেই শসা কিছু দিন আগেও পাইকাররা ক্ষেত থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছেন এখন তারা ১০-১৫ টাকা কেজি দরেও কিনতে রাজি হচ্ছেন না।

কুষ্টিয়া পৌর বাজারের প্রত্যাশা আড়তের পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, বাজারে শসার ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। রমজানে যে শসা ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হতো সেই শসা এখন ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রমজানে মানুষের শসার উপর বেশি চাহিদা থাকে। তাছাড়া এখন আর সেই চাহিদা তেমন একটা নেই বলেই শসার দাম কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) মিরপুর উপজেলার নওপাড়া সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে কম বেশি শসার সরবরাহ থাকলেও বেচা-বিক্রি তেমন হচ্ছেনা।

সদর উপজেলার আলামপুর গ্রামের শসা চাষি ইসলাম বলেন, এ বছর তিনি এক বিঘা জমিতে শসার আবাদ করেছেন। খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। তবে রমজানের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় লোকসান কাটিয়ে উঠেছি। অবশ্য ঈদের পর দাম কমতে শুরু করেছে। এখন যে দাম পাচ্ছি তাতে করে শসা তোলার খরচই উঠছে না।

বাজারে সবজি কিনতে আসা রহমান আলী বলেন, শসার মত যদি সব সবজির দাম কমতো তাহলে বেশ ভালোই হতো। বাজারে পটল ৬০ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা কেজি, করলা ৬০ টাকা কেজি, বেগুন ৭০ টাকা কেজি, ঝিঙা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে বর্তমানে বাজারে শসার দাম অনেক কম। এখন সকল অনুষ্ঠানে শসা নিত্য প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদ সবজি চাষের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদেরকে শসা চাষে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও হয়েছে ভালো। তবে রমজানের শুরুতেই ভালো দাম পেলেও ঈদের পর শসার চাহিদা কমে যাওয়ায় চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। এছাড়াও প্রচণ্ড গরমে শসার গাছ মারা যাওয়াতেও কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে।

;

গাইবান্ধায় রেলপাত বিক্রির সময় অটোচালকসহ আটক ৩



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধায় চুরি করা রেলপাত (রেললাইন) ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রির সময় এক অটোচালকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে শহরের ব্রীজরোড এলাকার আশা ভাঙ্গারি দোকানে সরকারি এসব রেল লাইন বিক্রির সময় তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে গাইবান্ধার রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)। তবে, ভাঙ্গারির দোকানের মালিক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।

এ সময় চুরি করে বিক্রি করতে নিয়ে আসা রেলপাত এবং সেসব পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম দুর্গাপুর এলাকার মৃত দুলা মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (৩০), ফুলছড়ি উপজেলার উত্তর কঞ্চিপাড়া এলাকার বাবর উদ্দিনের ছেলে ওয়াহেদ মিয়া (৪০) ও আশা ভাঙ্গারি দোকানের শ্রমিক সদর উপজেলার বালুয়া বাজারের পাকারখুটি এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মোকলেছুর রহমান (৩৩)। তাদের মধ্যে ওয়াহেদ মিয়ার অটোতে এসব মালামাল পরিবহন করা হয়েছিল।

বিষয়টি মোবাইল ফোনে বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম তালুকদার।

এ সময় তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের ব্রীজ রোডের একটি ভাঙ্গারীর দোকানে সরকারি রেলপাত অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এসময় তাদের কাছ থেকে খন্ড খন্ড তিন ফুট দৈর্ঘ্যের ৯ টুকরা রেললাইনের পাত উদ্ধার করা হয়। যা সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া হবে। রেলপাতগুলো বালাসিঘাটের পরিত্যাক্ত রেলপথের।

এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন আইনে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া এদের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

;

রাঙামাটিতে ডিবির অভিযান: বিপুল পরিমাণ মদ, সরঞ্জামসহ আটক ১



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মাদকের আগ্রাসন থেকে রাঙামাটিবাসীকে রক্ষায় এবার সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে দেশীয় কয়েকশো লিটার চোলাই মদ, মদ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণসহ সরঞ্জাম জব্দ করেছে রাঙামাটির ডিবি পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলমান এই অভিযানে অন্তত ৫শ লিটার চোলাই মদসহ একজনকে আটক করে পুলিশ।

রাঙামাটিস্থ পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সদরস্থ পিটিআই নতুন পাড়া এলাকায় অবৈধ চোলাই মদ তৈরি এবং কেনা-বেচা হয় মর্মে গোপন সংবাদ পায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সংবাদ প্রাপ্তির পর পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, বিপিএম (বার) এর দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাহনেওয়াজ রাজু’র তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একাধিক টিম নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মানস বড়ুয়া।

অভিযানকালে পিটিআই নতুন পাড়া এলাকার উত্তরপাশের শেষ মাথায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে মজুদ রাখা ৪৫০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এসময় মাদক কারবারির সাথে জড়িত সুফল তালুকদারের হেফাজত হতে আরো ৫০ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ বিপুল পরিমাণ মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

;

‘ফুটপাত উদ্ধারের পর চসিকের লক্ষ্য ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল ফিতরের সময় বন্ধ থাকা উচ্ছেদ অভিযান আবারও শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র (প্রতিমন্ত্রী) মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। মেয়র বলেন, ফুটপাত উদ্ধারের পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান। এবার উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত-সড়ক দখলকারীদের পাশাপাশি শাস্তির আওতায় আনা হবে যত্রতত্র ময়লা ফেলা ব্যক্তিদেরও।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে লালদিঘী পাড়স্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনের সম্মেলন কক্ষে চসিকের ৬ষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের ৩৯তম সাধারণ সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র রেজাউল বলেন, নগরবাসী রাস্তায় নিরাপদে হাঁটার অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। ভালো কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। উচ্ছেদ কার্যক্রমকে ব্যর্থ করতে নানা রকম বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে, ঢাকার একেবারে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ সবাই উচ্ছেদ অভিযানে খুশি। ঈদের সময় একটু নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন আবারও ফুটপাত-সড়ক উদ্ধারে অভিযান চলবে।

'অভিযানে সংশ্লিষ্ট আরও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা বাড়াতে যোগাযোগ চলছে। একবার উচ্ছেদের পর পুনর্দখল ঠেকাতে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। ফুটপাত উদ্ধার শেষ হলে আমার পরবর্তী লক্ষ্য হলো ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাবো। এছাড়া, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি একজন ডেডিকেটেড ম্যাজিস্ট্রেট দিব যার কাজ থাকবে শুধু যাদের বাসা-দোকান-অফিসের সাথে ময়লা পাওয়া যাবে তাদের জরিমানা করা। ফুটপাত রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই।'

সভায় একাধিক কাউন্সিলর ব্যাটারি রিকশা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সভায় চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা জানান, নিউমার্কেট মোড়ে ব্যাপক উচ্ছেদের মাধ্যমে ফুটপাত-সড়কের স্থান উদ্ধার করা গেলেও ঈদের শেষ সময়ে হকাররা আবারও ফিরে এসেছে। এজন্য হকার উচ্ছেদে আবারও নতুন করে একটা প্রোগ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে। নিউমার্কেট মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে দ্রুত বিচার আইনে হওয়া মামলাটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আরেকটি মামলা চলমান আছে যেটির সাথে সংশ্লিষ্ট ফুটেজ বিশ্লেষণসহ তদন্ত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ বলেন, চসিকের ৩৭ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে পানির সংকট কমাতে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডেও পানির সংকট কমাতে কাজ করবে ওয়াসা।

গণপূর্ত অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রমিজুর রহমান বলেন, বায়েজিদ এলাকায় গণপূর্ত অধিদফতরের উদ্ধারকৃত জায়গায় হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট স্থাপনের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুসা জানান, নগরীতে ফুটপাতে অবৈধ কোনো দোকান যাতে কোনোভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ না পায় সে বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক আছে। পিডিবির পোলে ডিশ ও ইন্টারনেটের লাইন অপসারণের বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সভায় বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, দরপত্র কমিটির কার্যবিবরণী এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিগণ তাদের নিজ নিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী পেশ করেন। সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলরসহ চসিকের বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

;