বান্দরবানে ২টি ভাল্লুকের শাবক উদ্ধার, আটক ১



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বান্দরবান
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২টি ভাল্লুকের শাবক উদ্ধার করা হয়েছে আর এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন।

এসময় পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, আলীকদম থানা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ০১ এপ্রিল সন্ধ্যায় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শিবাতলী পাড়ার একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে আলীকদম উপজেলার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামশুল আলমের পুত্র মো: আলাউদ্দিন (২৪) কে তল্লাশি করলে তার মোটর সাইকেলে থাকা বস্তায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২টি ভাল্লুকের শাবক উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের সদস্যরা ভাল্লুকের শাবক ২টি উদ্ধার করে এবং মো: আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে।পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন আরো জানান, এই ঘটনায় মো:আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং উদ্ধার ভাল্লুকের শাবক ২টি ডুলহাজারা সাফারি পার্কে অবমুক্ত করার জন্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

   

যুগলের পেটের ভাত কেড়ে নিল ‘ধানের ব্লাস্ট রোগ’



মৃত্যুঞ্জয় রায়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সবাই যখন ইরি ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত। ঠিক তখনই যুগল মাথায় হাত দিয়ে জমির আলের উপর বসে আছে। এদিকে চোখ দিয়ে জলের ধারা বয়ে যাচ্ছে আর অপার দৃষ্টিতে ধানের দিকে তাকিয়ে একা একা বিরবির করে কি যেনো বলছেন। শুনতে কাছে যেতেই গলা ছেড়ে কান্না করে বলতে লাগলেন, সারাবছর কি খাবো? সমিতি থেকে লোন নিয়ে ইরি ধান করেছি। আশা ছিলো ধান ঝেড়ে ঝুড়ে বিক্রি করে লোন শোধ করবো। কিন্তু ধানে ‘ব্লাস্ট’ রোগে শেষ সব। ধান বাড়ি নিয়ে যাওয়া তো দূরে থাক শুধু খর গুলো শেষ সম্ভল। তিন মাসের শ্রম, কষ্ট সব পুড়ে ছাই। মনে হচ্ছে ধানের শীষে আগুন লেগেছে। কত ভালোই না ধান হয়েছিলো তাকালে যেন খিলখিল করে হাসতো বাতাসে। কিন্তু রাতারাতি ধানে পোকা লেগে সব কিছু শেষ।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে যুগলের সংসার। এই ইরি ধানই সারাবছর তাদের খাবার জোগায়। কিন্তু নতুন চালের ভাত খাওয়ার আগেই ধানে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে সব শেষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, যুগলের জমির ধান সব চিটা হয়ে গেছে। ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান গাছের পাতা আছে তবে ধানের ফল নেই। জমির বাঁধে যুগুল মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে আর তার একটু সামনে তার স্ত্রী ধানের অবশিষ্ট খর কাঁচি দিয়ে কাটছে। এদিকে তাদের ছোট্ট শিশুপুত্র আপন মনে একপাশে খেলা করছে।

যুগুলের স্ত্রী বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের বলতে আর কিছু নেই। আমাদের এলাকায় একটাই ফসল হয় আর সেই ইরি ধানে আমরা মাইর খেলাম। কি খাবো না খাবো ভেবে পাচ্ছি না। একদিকে ঋণের বোঝা আর এদিকে পেটের জ্বালা। কিভাবে শোধ করবো ইরি ধান করা লোনের টাকা। এই ফসল ছাড়া আমাদের এদিকে আর কোনো ফসল হয় না। আমরা এই ফসলের উপর ভরসা করে থাকি। কিন্তু সেই ফসল আমাদের পেটের খাবার কেড়ে নিল।

ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধান গাছের পাতা আছে তবে ধানের ফল নেই

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধানের ব্লাস্ট (Blast) একটি মারাত্মক ছত্রাকজনিত রােগ। পাইরিকুলারিয়া গ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে। হালকা মাটি বা বেলেমাটি যার পানি ধারণক্ষমতা কম সেখানে রােগ বেশি হতে দেখা যায়। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার এবং প্রয়ােজনের তুলনায় কম পটাশ সার দিলে এ রােগের আক্রমণ বেশি হয়। দীর্ঘদিন জমি শুকনা অবস্থায় থাকলেও এ রােগের আক্রমণ হতে পারে। রাতে ঠান্ডা, দিনে গরম এবং শিশির থাকলে এ রােগের প্রকোপ বেড়ে যায়।

এদিকে কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধানের থোর অবস্থায় ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ধানের ফুল অবস্থায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা চলে গেলে; থোরের ভেতর ভ্রুণের গর্ভপাত হতে পারে। ফলে ধানের থোর থেকে ফুল বের হওয়ার পরপরই সাদা মরা অপরিপক্ক মন্জুরী দেখা যায়।

ধানের থোর বা ফুল অবস্থায় তাপমাত্রা যদি ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি চলে যায় তা হলেও ধান চিটা হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া অনাকাঙ্খিত ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ধানের থোর ও ফুল অবস্থায় আঘাতজনিত ইনজুরির কারণেও ধান সাদা চিটা হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ কোল্ড ইনজুরি বা হিট ইনজুরির কারণেও ধানের থোরের মধ্যে ভ্রুণের গর্ভপাত হয়ে ছড়ার আংশিক সাদা হয়ে মরা বের হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ধান ক্ষেতে কোনো ওষুধ দিয়েও লাভ হয় না।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনাকাঙ্খিত ঝড়- শিলাবৃষ্টি, অসময়ে অতি শীত, অতি গরম ধান চাষে কৃষকদের নতুন নতুন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

;

তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ



গুলশান জাহান সারিকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্যাপসা গরম ও তীব্র তাপদাহের মধ্য দিয়ে চৈত্রের বিদায়। বৈশাখের শুরু থেকেই রাজধানীতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীসহ আশেপাশে একপশলা বৃষ্টি হলেও কমেনি তাপদাহ। আজ সকাল থেকে আবার তীব্র তাপদাহ বইছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে।

অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। রোদ ও গরমে দেহে পানিশূন্যতা, মাংসপেশিতে টান ধরা, ক্লান্তি, অসার ভাব, হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। এগুলো সবই খরতাপের প্রভাবে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মহাখালী ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ (আইসিডিডিআর, বি) হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন ডায়রিয়া ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে।

হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, সাড়ে তিন হাজার রোগীর তিন ভাগের দুই ভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিস্বল্পতা ও ফুড পয়জনিংয়ের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধের আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অতিরিক্ত রোদ, তাপ থেকে নিরাপদ থেকে সচেতনতা অবলম্বন করে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাইরের খাবার খেয়ে আমার এ অবস্থা। গরমে কয়েকদিন রাস্তার ধারের আখের জুস, লেবুপানি খেয়েছি। গতকাল রাত থেকে খারাপ অবস্থা শুরু হয়েছে, আজ সকালে ভর্তি হয়েছি।

চার বছরের ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আসমা বেগম। তিনি জানান, ফুড পয়জনিং থেকে ছেলের ডাইরিয়া হয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত গরমে আর বাইরের খাবারের জন্য সম্ভবত এমন হয়েছে।

আইসিডিডিআর বি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আফরোজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়া নিয়ে। মার্চের শেষ থেকে গরমের প্রভাব বাড়ার কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুর সংখ্যা বেশি বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তীব্র তাপদাহে সুস্থ থাকতে প্রথমত সচেতন হতে হবে। প্রাত্যহিক রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। অতিরিক্ত তাপে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে বাইরে কম বের হতে হবে। বেশি করে নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ডিহাইড্রেশন হতে দেওয়া যাবে না। বাইরের খাবার, বোতলজাত ফলের জুস, ফুটপাতের খাবার, ভাজাপোড়া, তেলযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে, কম মশলাযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। চা, কফি কম খেতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, নিয়মিত গোসল করতে হবে।

বাচ্চাদের ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না। মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে হবে। গরমে হালকা পোশাক পরতে হবে। ডায়রিয়া হলে সঠিক নিয়মে স্যালাইন খেতে হবে।

এছাড়া বেশি অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

;

ভারতে লোকসভা নির্বাচন: বুড়িমারী স্থলবন্দরে বন্ধ থাকবে আমদানি-রফতানি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বুড়িমারী স্থলবন্দর ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন দিন আমদানি-রফতানি ও দুই দেশের পাসপোর্টধারীদের যাতায়াতে বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ১৫ এপ্রিল একটি চিঠি ইস্যু করে। 

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি ও দুই দেশের স্থলবন্দরের পুলিশ অভিবাসন চৌকি দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাজ্যে সাত দফায় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৫৪৩টি আসনে এই নির্বাচন হবে। তাই বুড়িমারী স্থল বন্দরে ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিন আমদানি-রফতানি ও দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে যথারীতি দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবিব পলাশ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তিন দিন আমদানি-রফতানি ও দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন। আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীরা অবাধে চলাচল করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের (কাস্টমস) সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল হাসান বলেন, ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তিন দিন আমদানি-রফতানি ও দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত তাদের থেকে কোন লিখিত চিঠি পাইনি। 

;

চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকের ওপর হামলা, গ্রেফতার ১



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকের ওপর হামলা, গ্রেফতার ১

চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকের ওপর হামলা, গ্রেফতার ১

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের পটিয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগে একটি বেসরকারি হাসপাতালের দায়িত্বরত এক চিকিৎসককে মারধরের মামলায় রফিক হাসান (৪৬) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাতে পটিয়া পৌর সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে, গত ১১ এপ্রিল রাতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রক্তিম দাশ (২৯) ওপর এ হামলা করা হয়। এসময় ঐ চিকিৎসককে মেরে আহত করা হয়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১২ এপ্রিল) ঈদের দিন রাতে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক এস এইচ খাদেমী প্রকাশ বাহাদুর বাদি হয়ে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোহাম্মদ মুকুল, মোহাম্মদ টিপু ও পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দসহ আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজহারে বলা হয়েছে, বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত পৌনে ১১ দিকে সাইফুল্লাহ পলাশ (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার নেওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রক্তিম দাশ আহত সাইফুল্লাহ পলাশকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য অপারেশন রুমে নেন। অপারেশন রুমে যেতে দেরি হওয়ায় ডা. রক্তিম দাশকে হাসপাতালেই মারধর করা হয় এবং সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপর হামলার ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করে রফিক হাসান নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। আজ তাকে চিকিৎসকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ কাজ করছে। খুব শিগগির আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

;