পাগলা মসজিদে নতুন রেকর্ড, ২৭ বস্তায় মিলল ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কিশোরগঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এবার নতুন রেকর্ড গড়লো কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দান। মসজিদটির দান বাক্স থেকে মিলল রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। ২২০ জনের একটি দল দীর্ঘ সাড়ে ১৮ ঘণ্টায় এ টাকা গণনা কাজে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় মসজিদের ৯টি লোহার দানবাক্স খুলে পাওয়া রেকর্ড ২৭ বস্তা টাকা মসজিদের দোতলায় এনে গণনার কাজ শুরু হয়। শেষ হয় রাত ২টায়। 

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজ শনিবার দিনগত রাত ২টায় গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টাকাগুলো পুলিশি নিরাপত্তায় রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সূত্রে জানান, ৪ মাস ১০ দিন পর শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্স খোলা হয়। এবার দিন বেশি হওয়ায় একটি ট্রাঙ্ক দেওয়া হয়েছিল। পরে মসজিদের দোতালায় এনে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। তিন মাস পরপর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার রমজানের কারণে ৪ মাস ১০ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। দানবাক্সে পাওয়া টাকার পরিমাণ এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

টাকা গণনা কাজে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজ, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, সিবিএ নেতা আনোয়ার পারভেজসহ মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ মোট ২২০ জনের একটি দল অংশ নিয়েছেন।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্স। তখন রেকর্ড ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।

২০২৩ সালে চারবার খোলা হয়েছিল কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। চারবারে মোট ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৮১ টাকা পাওয়া যায়। টাকার পাশাপাশি হীরা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ।

মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ-সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।

   

এই সড়ক যেন কাঠগোলাপের মধুর মেলোডি



মোঃ আব্দুল হাকিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর সড়ক বিভাজকগুলো যেন কাব্যিক সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। সড়কের দু'ধারে ফুটে থাকা কাঠগোলাপের সাদা পাপড়িগুলো মনে করিয়ে দেয় স্বর্গের নৈসর্গিক ছোঁয়া। পাপড়ির মাঝে গাঢ় হলুদ রঙের স্পর্শে যেন সৃষ্টির অপার মহিমা ফুটে ওঠে। কাঠফাটা রোদেও যখন গাছের পাতা ক্লান্ত, তখনও কাঠগোলাপের তরতাজা সৌন্দর্য ম্লান হয় না। এ ফুলের মাধুর্য মুগ্ধ করে পথচারীদের হৃদয়, যেন প্রতিটি পাপড়ি এক একটি সুর, প্রতিটি গন্ধ এক একটি মধুর মেলডি।

রাজশাহী শহরের সড়ক বিভাজকগুলো যেন হয়ে উঠেছে কাঠগোলাপের সৌন্দর্যের এক মেলোডি। কাঠফাটা রোদে যখন গাছের পাতা ঝলসে যাওয়ার উপক্রম, তখনো পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকে তরতাজা কাঠগোলাপ। স্বচ্ছ এ ফুল শহরের শোভা বাড়িয়ে তোলে অসাধারণভাবে। শুধু কাঠগোলাপই নয়, চেরি, টগর, মিনজিরি, শিউলিসহ নানা ফুল ফুটে আছে শহরের সড়ক বিভাজকে, যা পথচারীদের মুগ্ধ করে প্রতিনিয়ত।

শহরের প্রতিটি সড়ক যেন প্রকৃতির এক এক টুকরো চিত্রকর্ম। কাঠগোলাপের মিষ্টি সুবাস আর অপূর্ব রূপ সবার মন ছুঁয়ে যায়। এই সড়কগুলোতে হাঁটলে মনে হয়, যেন কাঠগোলাপের মধুর মেলোডি বাজছে চারিদিকে। তাই রাজশাহী শহরের সড়কগুলো শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং প্রকৃতির এক অনবদ্য সুরভিত ক্যানভাস।


রাজশাহী সিটি করপোরেশন সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে নগরীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে সি অ্যান্ড বি মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে প্রায় ২০০ কাঠগোলাপের গাছ লাগানো হয়। সড়ক বিভাজকের গাছগুলো ইতিমধ্যে শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে নগরবাসীর নজর কাড়ছে। তিন চার বছর থেকেই এই গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। এবার ফুল এসেছে সবচেয়ে বেশি।

রাজশাহী নগরের গ্রেটার রোড দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় কেউ এই সৌন্দর্যের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারবেন না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- পিচঢালা পাকা রাস্তার দুইধার, আইল্যান্ড ও সড়ক বিভাজনগুলোতে ঋতুভেদে নানা ফুল আর ফলগাছ শোভা পাচ্ছে। শুধু রাস্তায় নয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঈদগাহসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের ওলি-গলিতেও সুরোভী ছড়াচ্ছে চোখ ধাঁধাঁনো ফুল। সবুজে ঘেরা পদ্মাপাড়ে রাজশাহী নগরীতে এসব ফুলের সুগন্ধে মোহিত হচ্ছে নগরবাসীসহ পর্যটকরা।

চিরচেনা সবুজ নগরীতে এসব ফুল এখন নজর কাড়ছে ছোট-বড় সকলের। আর এগুলো পরিচর্যায় কাজ করছে সিটি করপোরেশনের ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মকারি। দুটি পানির ট্রাঙ্কার ও একটি বেবি জেট নিয়ে নিয়মিত তারা ছুটছেন এসব গাছের যত্নে।


রাসিক জানিয়েছে, প্রতিবছরই প্রায় অর্ধলক্ষ গাছ লাগানো হয় রাজশাহী মহানগরে। সিটি করপোরেশনের হিসাবে, নগরীর প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের আইল্যান্ডজুড়ে শোভা পাচ্ছে রং-বেরংয়ের ফুল। রাস্তায় বের হলে চোখে পড়বে হরেক রকমের ফুল। কখনো লাল কৃঞ্চচুড়া, কখনও হলুদ সূর্যমুখী কিংবা বেগুনি জারুল বা কাঠগোলাপের অপরূপ সৌন্দর্য মন কাড়ছে পথচারীদের।

ফাতেমা তুজ জোহরা নামে এক পথচারী বলেন, রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে আমাদের এই ফুলগাছগুলো। অন্যান্য শহরে ফুলের বাগান দেখার জন্য নানান জায়গায় যেতে হয় পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদিতে। কিন্তু রাজশাহী শহর পুরোটা পার্কের মতই। রাজশাহী মহানগরীর রাস্তার ধারসহ আইল্যান্ড, সড়ক বিভাজন ও ফুটপাতে নানা রংয়ের ফুল। এইসব ফুলের মধ্যে যখন কাঠগোলাপ ফোটে তা দেখতে অসাধারণ মনোমুগ্ধকর লাগে।

রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ-উল-ইসলাম বলেন, রাসিকের জিরো সয়েল্ট প্রকল্পের আওতায় শহরে কয়েকবছর আগে ফুলের গাছ লাগানো শুরু হয়। আমাদের এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য শহরের কোনো জায়গাতেও শুকনো মাটি থাকবে না। প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় সবুজায়নের জন্য গাছ লাগাতে হবে। এতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশের ভারস্যাম্য বজায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মেয়রের দিক-নির্দেশনায় গত সাড়ে ৫ বছরে দুই লাখের বেশি স্থায়ী ও ১০ লক্ষাধিক হেজ জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। রাসিকের নিজস্ব নার্সারি থেকে চারা এনে বিভিন্ন রাস্তায় গাছ লাগানো হচ্ছে। এ গাছগুলো পরিবেশের জন্য ভালো। গবেষণায় যে গাছগুলো ক্ষতিকর দেখা গেছে, সেগুলো লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই গাছগুলো থেকে পরিবেশের উপকার হচ্ছে, সৌন্দর্য বাড়ছে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানিরা বলছেন- কাঠগোলাপ গাছটির কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা নরম এবং শাখা-প্রশাখা কম হয় বলে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছটির বাকল মোটা ও পুরু। শীতে গাছের অধিকাংশ পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতা গজায়। পাতা আকারে বেশ বড় ও পুরু। শিরা-উপশিরা স্পষ্ট। কাণ্ডের ডগায় একগুচ্ছ ফুল অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে চুপটি করে বসে থাকে। ফুলের আকার মাঝারি। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির ওপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জুরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। প্রায় সারা বছর ফুল ফুটলেও গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরতে বেশি ফুল ফোটে।


কাঠগোলাপ বর্গের মধ্যে প্রায় ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গাছই গুল্ম জাতীয়। আবার কখনও ছোট আকারের গাছ হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রজাতি আমেরিকা, মেক্সিকো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আমেরিকা ও ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এদের বেশি দেখা যায়। আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় আমাদের দেশেও কাঠগোলাপের দেখা মেলে। অঞ্চলভেদে এ ফুল কাঠচাঁপা, গরুড়চাঁপা, গুলাচ, গুলাচিচাঁপা, গোলাইচ, গোলকচাপা, চালতাগোলাপ নামে পরিচিত।

রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নূরুন্নেছা বলেন, কাঠগোলাপ তার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য এবং সুগন্ধের জন্য পরিচিত। বিশেষত সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গাছ। এই গাছটি সাধারণত বাড়ির আঙিনায়, পার্কে এবং বাগানে রোপণ করা হয়। কাঠগোলাপের বিভিন্ন রঙের ফুলগুলো পরিবেশকে মনোরম করে তোলে এবং দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য যোগ করে। এর সৌন্দর্য ছাড়াও, কাঠগোলাপের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে।

ঔষধি গুণাবলীর জন্য কাঠগোলাপ বিশেষভাবে মূল্যবান। এর ফুল এবং কাণ্ড প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষত, কাঠগোলাপের ফুল এবং কাণ্ড জ্বর, সর্দি ও কাশি নিরাময়ে কাজ করে। কাঠগোলাপের ফুল থেকে তৈরি নির্যাস অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া, এই গাছের উপাদানগুলি প্রাকৃতিকভাবে নানা ধরনের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এটি শুধুমাত্র পরিবেশের শোভা বৃদ্ধি করে না, পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে কাঠগোলাপ গাছটি ঘরের আঙিনা, পার্ক এবং বাগান সাজানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ উদ্ভিদ।

;

বাকলিয়া চরে বর্জ্য শোধনাগার: কর্ণফুলীকে এগিয়ে দেবে মৃত্যুর দিকে!



রেদ্ওয়ান আহমদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
বাকলিয়া চর

বাকলিয়া চর

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৩০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু নির্মাণের কারণে শাহ আমানত সেতু থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার উজানে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে ধীরে ধীরে একটি চর জেগে ওঠে। যার নাম বাকলিয়া চর। কর্ণফুলী নদীতে জেগে ওঠা এই চরে গত বছরের অক্টোবরে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এজন্য চসিকের অনুকূলে খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। যা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে চট্টগ্রামের সচেতন মানুষের মনে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চরটির পশ্চিম দক্ষিণ পাশে কিছুটা খনন করেছে। চরটির মোট আয়তন প্রায় ১০৫ একর বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে, বর্তমানে চরটি সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানে নদী শ্রেণির জমি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকদের দাবি, জেলার বোয়ালখালী উপজেলাধীন চর বাকলিয়া মৌজার ৩৫ একর জমিতে বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা দেশের বৃহত্তম বন্দরকে ঘিরে থাকা দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড খ্যাত কর্ণফুলী নদীকে ধ্বংস করে দেবে। তাদের মতে, চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য শোধনাগারের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, কিন্তু যে জায়গায় এটি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে সেটি মোটেও পরিবেশবান্ধব, জনবান্ধব এবং চট্টগ্রামবান্ধব হবে না।

তাদের দাবি, এই নদীর মোহনার কাছেই চট্টগ্রাম বন্দর। এজন্য কর্ণফুলী নদীকে দেশের প্রাণপ্রবাহও বলা হয়ে থাকে। বর্জ্য শোধনাগার স্থাপিত হলে এই প্রাণপ্রবাহ থেমে যাবে। দেশে অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। পরিবেশ ধ্বংস হবে। জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। কর্ণফুলীর দুই তীরে বিস্তীর্ণ জনপদের জনজীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

এ কারণে পরিকল্পনাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পরিবেশ আন্দোলন কর্মীরা। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এমন স্থাপনা নির্মাণ পরিকল্পনা বাতিলের জন্য যে কোনো কঠিন আন্দোলনে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে ‘কর্ণফুলী রক্ষায় জনগণের প্রতিবাদ মঞ্চ’।

চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র, আরএসকে ফাউন্ডেশন, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন মিলে ছয়টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই মোর্চা যেখানে এই স্থাপনা গড়ার পরিকল্পনা চলছে, সেই কর্ণফুলীর চরে গিয়ে সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলনও করেছে।

এছাড়াও আজ বুধবার (২২ মে) এক সংবাদ সম্মেলন করে তারা বলেছেন, নদীর মাঝখানে বর্জ্য শোধনাগার হলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। সেখানে ভূমি নিরীক্ষার কাজ করছে চীন দেশের একটি প্রকৌশলী কোম্পানি।

কর্ণফুলী রক্ষায় জনগণের প্রতিবাদ মঞ্চের নেতারা বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্টের রায়ে আমাদের দেশের নদীগুলোকেও জীবন্ত সত্তা, জুরিসটিক পারসন বা লিগ্যাল পারসন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে মানুষের মতো নদীর মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। হাইকোর্টের এই আদেশ অনুযায়ী নদীর মাঝখানে বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প করা অবৈধ এবং আদালতের আদেশের লঙ্ঘন, সুতরাং এই প্রকল্প হতে পারে না।

ম্যাপে বাকলিয়া চর

তারা আরও বলেন, আমাদের সংবিধানেও উল্লেখ আছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন। তার মানে জলাভূমি অর্থাৎ নদীর নিরাপত্তা বিধান সংবিধানস্বীকৃত এবং সেটি করতে হবে স্বয়ং রাষ্ট্রকে।’ আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করার সময় নদী রক্ষা কমিশনকে নদীর অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেন। তারা রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে নদীর অধিকার রক্ষা করবে। কিন্তু বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প নদীর অধিকারকে হত্যা করবে।

প্রতিবাদ মঞ্চের নেতারা জানান, দেশের সংবিধান অনুযায়ী নদীর মাঝখানে বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে। তা না হলে এটি আইনবিরুদ্ধ কাজ হবে।

কর্ণফুলী নদীর প্রাণপ্রকৃতি, উদ্ভিদ বৈচিত্র্য ও দূষণ নিয়ে বন্দরনগর ভিত্তিক পরিবেশ সংস্থা ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপিনিয়ন (ইসিএইচও) ২০২২ সালে এক গবেষণা চালায়। তাতে দেখা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ৮১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। দূষণ রোধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে আরও ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে পড়বে। ৫৩টি শিল্পসহ ৮৯টি উৎস থেকে কর্ণফুলী নদী দূষিত হচ্ছে। গবেষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া গেছে। যার কারণে জনগণের প্রতিবাদ মঞ্চের নেতারা ঝুঁকিতে থাকা ৮১ প্রজাতির দেশীয় উদ্ভিদ সংগ্রহ করে সেগুলোর চারা চরে লাগানোর দাবি জানান। তাতে কর্ণফুলী নদী প্রাণ ফিরে পাবে বলে তারা মনে করেন।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিনোদনের তেমন কোনো স্থান নেই। পৃথিবীতে অনেক দেশে নদী বা সাগরের মাঝখানের চরে নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। সেগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চর বাকলিয়ায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটি ইকোট্যুরিস্ট স্পট গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

তারা দাবি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প বাকলিয়া চর থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায় তারা সিটি করপোরেশন ঘেরাওসহ উচ্চ আদালতে নির্দেশ অমান্য করাসহ সংশ্লিষ্ট আইনে প্রতিকার প্রার্থনা করে রিট দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

কর্ণফুলী নদী গবেষক প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘নদী ভরাট হয়ে জেগে ওঠা দ্বীপ এমনিতেই কর্ণফুলীকে দুই ভাগ করেছে। উন্নয়নের নাম দিয়ে এই চর বা দ্বীপে বিষাক্ত বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের পরিকল্পনা আত্মঘাতী। এটি কর্ণফুলীকে হত্যা করবে। চসিক মেয়রকে এই কাজ করার কুপরামর্শ যারা দিয়েছে তারা দেশের শত্রু। বীর মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক প্রজন্মকে নিয়ে এই অন্যায় প্রতিহত করবে।’

প্রতিবাদ মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘জনগণের দাবি মেনে বর্জ্য শোধনাগার প্রকল্প স্থাপন বন্ধ করুন। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা, যুবসমাজ, সাম্পান মাঝিরা লাঠি বইঠা নিয়ে মেয়রের কার্যালয় ঘেরাও করবে। দেশকে ধ্বংস করে কার স্বার্থে কীসের এই প্রকল্প?’

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের দাবি, বাকলিয়া চরে চসিকের বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন প্রকল্পটি আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেই করা হবে। এর বর্জ্য নদীতে পড়বে না।

এ বিষয়ে বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘আমরা যতোটুকু জানি, এই প্রকল্পটা হবে গ্রিন ফ্যাসিলিটিসের মধ্যে। এখানে পরিবেশ দূষণের খুব বেশি কিছু থাকবে না। এরপরও বিষয়টা ভূমি মন্ত্রণালয় দেখছে, এখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে পরিবেশের জন্য এটি কোন প্রকার ক্ষতি হবে কিনা। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকেও এটার ওপরে একটা এনওসি পাওয়া গেছে। তবুও, বিষয়টা নিয়ে আরও অনেক স্টাডি হবে, গবেষণা হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। কেননা, এটা তো অনেক বড় একটি প্রকল্প। প্রায় ৬-৭ হাজার কোটি টাকার। সুতরাং কিছু করার আগে অবশ্যই ভালো করে যাচাই বাছাই হবে।’

কোন বিকল্প জায়গা আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে চসিকের এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘না, প্রকল্পটা বাস্তবায়নের জন্য চট্টগ্রামে তেমন কোন বিকল্প জায়গা নেই। কেননা, আমাদের বর্জ্য শোধনাগার করতে প্রায় ৩৫ একর জায়গা লাগবে। আর ওখানে একসাথে প্রায় ৩৫ একর জমিই পাওয়া যাবে। যেটা চট্টগ্রামে আর কোথায় পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে, ওখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

;

ডিসি-ইউএনওদের জন্য কেনা হচ্ছে ২৬১ গাড়ি, ব্যয় ৩৮২ কোটি টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) জন্য কেনা হচ্ছে ২৬১ বিলাসবহুল গাড়ি। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩৮২ কোটি টাকা।

বুধবার (২২ মে) প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

জানা গেছে, জনপ্রশাসনের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো যানবাহন অধিদফতরের চাহিদাপত্র অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের জন্য গাড়ি কেনা হবে ৬১টি। প্রতিটি গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় হবে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। মোট ৬১টি গাড়ি ক্রয়ে ব্যয় হবে ৮৮ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য কেনা হবে ২০০টি গাড়ি। প্রতিটি গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। এতে ব্যয় হবে ২৯১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এরআগে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৬১ জন ডিসি ও ২০০ জন ইউএনওর জন্য ২৬১টি নতুন জিপ কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে সময় সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল সরকার।

সে সময় 'মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্ট কিউ এক্স' মডেলের প্রতিটি গাড়ির দাম ধরা হয়েছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। ৩৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে গাড়িগুলো কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।

;

জনসংখ্যার ঘনত্বকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে: তাপস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪. কম, ঢাকা
তাপস বলেন, ঢাকাকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে হলে তিনটি কাজ আমাদের করতে হবে

তাপস বলেন, ঢাকাকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে হলে তিনটি কাজ আমাদের করতে হবে

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্বকে মাথায় রেখেই আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। তবে ঢাকা মুখী অভিবাসনের যে স্রোত, তা থামতে না পারলে উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না।

বুধবার (২২ মে) বিকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত 'নিরাপদ নগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বেস্ট আরবান রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৪' এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পাঁচ সাংবাদিককে নগর সাংবাদিকতার জন্য 'বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৪' দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ঢাকাকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে হলে তিনটি কাজ আমাদের করতে হবে। কাজগুলো হচ্ছে- শহরকে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে। কঠোর আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আইন বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তবে আমাদের কাজের মাধ্যমে শহরের বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, নিরাপদ নগরীর সব সূচকে পিছিয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেরও এই শহরকে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়নি। ফলে শহরটির নাগরিকদের পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা এবং দায়িত্বশীল সংস্থা গুলোর সমন্বয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেন, নগরের সংকট সমাধানে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, গ্রাম হবে শহর, শহর হবে বাসযোগ্য এই স্লোগানে যেতে হবে।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আগুন লাগে। এই শহর কতটা নিরাপদ? তা আমাদের প্রশ্নেই ঘাটতি ফুটে ওঠে। পৃথিবীর মেগাসিটির তালিকায় ঢাকা আয়তনের দিক থেকে ৪০তম, অথচ জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে প্রথম। এই শহরে ৫ লাখ গাড়ি চলার ব্যবস্থা আছে, অথচ চলে ১৬ লাখ গাড়ি। ঢাকায় রাস্তা, গাছ, জলাশয় অনেক কমলেও বাড়ছে শুধু মানুষ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লান্যার্স এর সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের নগরায়ন ও পরিবেশ সম্পাদক স্থপতি সুজাউল ইসলাম খান, সাংবাদিক অমিতোষ পাল, বেস্ট আরবান রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড- ২০২৪ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হেলিমুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল খান।

;