ডিএনসির নতুন ডিজি মোস্তাফিজুর রহমান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডিএনসির নতুন ডিজি মোস্তাফিজুর রহমান

ডিএনসির নতুন ডিজি মোস্তাফিজুর রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)'র নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। বর্তমানে তিনি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। মোস্তাফিজুর রহমানকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার আগে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দেওয়া হলো। পদোন্নতির পর তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মাস্টার অব স্ট্রেট্যাজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৯১ সালে নবম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন কাজ করেছেন। জেলা প্রশাসক হিসেবে ভোলা ও নোয়াখালী জেলায় কাজ করেছেন। মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন। গতবছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হন।

   

দুধ দিয়ে গোসল করলেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয় লাভের পর মো. এহসানুল হাকিম সাধনকে দুধ দিয়ে গোসল করালেন তার প্রতিবেশীরা।

বুধবার (২২ মে) নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যানের বাড়িতে তার সমর্থক ও এলাকাবাসী তাকে দুধ দিয়ে গোসল করান।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মো. এহছানুল হাকিম সাধন বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি ১ হাজার ভোট বেশি পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন।

সমর্থক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বিজয়োল্লাসের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে চেয়ারম্যানকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করেছি।’

মো: এহসানুল হাকিম বলেন, আমার সমর্থক ও এলাকাবাসীর আবদার রক্ষার্থে দুধ দিয়ে গোসল করেছি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এই উপজেলায় রাজতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। আমি বিজয়ী হওয়ার পরে জনমনে যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে তারা এতো দিন জেলখানায় ছিল। এখন মনে হচ্ছে- তারা মুক্ত আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার প্রমাণ সকাল থেকে আমার বাড়িতে হাজার হাজার মানুষ আসছে। জনগণ আমাকে অনেক ভালোবাসে আর তাদের ভালোবাসা ভোট দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে।

;

মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ডিপোতে কাজে ফিরলেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ডিপোতে কাজে ফিরলেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা

মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ডিপোতে কাজে ফিরলেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে তিন ডিপোতে ডাকা অনির্দিষ্ট কর্মবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার করার দাবি মেনে নেওয়ার পর কাজে যোগ দিয়েছেন কর্মচারীরা

অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের (এসএপিএল) ডিপোতে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার (২১ মে) এসএপিএল, ইস্পাহানি ও ওসিএল ডিপোতে কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মচারীরা।

এর প্রেক্ষিতে বুধবার (২২ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনারের সভাপতিত্বে ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর কাজে যোগ দেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু। তিনি বলেন, ‘সিঅ্যান্ডেএফ কর্মচারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ইউনিয়ন তিন ডিপোতে কর্মবিরতি পালন করছিল। কিন্তু ডিপোর রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ, শিপমেন্ট ইত্যাদি বিষয় তাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যা সমাধান করার বিষয়ে আমাদের বার্তা ছিল। কাস্টম হাউসের কমিশনারের সভাপতিত্বে বিজিএমইএ, বিকডার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সভা হয়। এতে তিন দিনের মধ্যে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ডিপো কর্তৃপক্ষের করা মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।

সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কাজী মো. খায়রুল বাশার মিল্টনও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমরা কাজে যোগ দিয়েছি।

;

বরগুনায় বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরগুনা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরগুনায় মায়ের সাথে ক্ষেতের ধান দেখতে গিয়ে বজ্রপাতে রিফাত (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে।

বুধবার (২২ মে) বিকেল তিনটার দিকে বরগুনা পৌর শহরের সোনাখালী শীপেরখাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিফাতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রিফাত তার মা সীমা বেগমের সাথে বাড়ির পাশে নিজেদের জমিতে হারবেস্টার মেশিনে ধান কাটা দেখতে যায়। তখন আকাশে হালকা মেঘের সাথে বজ্রপাত হচ্ছিল। হঠাৎ করে মা সীমা বেগমের সামনেই বজ্রপাত রিফাতের শরীরে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই ছেলে রিফাত ও মা সীমা বেগম দু’জনেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এসময় আশেপাশে থাকা লোকজন ছুটে এসে রিফাত ও মাকে দ্রুত বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক রিফাতকে মৃত্যু ঘোষণা করে এবং মা সীমা বেগম চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের সোনাখালী শীপেরখাল এলাকায় রিফাত নামের এক শিশুর বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে।

;

এই সড়ক যেন কাঠগোলাপের মধুর মেলোডি



মোঃ আব্দুল হাকিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর সড়ক বিভাজকগুলো যেন কাব্যিক সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। সড়কের দু'ধারে ফুটে থাকা কাঠগোলাপের সাদা পাপড়িগুলো মনে করিয়ে দেয় স্বর্গের নৈসর্গিক ছোঁয়া। পাপড়ির মাঝে গাঢ় হলুদ রঙের স্পর্শে যেন সৃষ্টির অপার মহিমা ফুটে ওঠে। কাঠফাটা রোদেও যখন গাছের পাতা ক্লান্ত, তখনও কাঠগোলাপের তরতাজা সৌন্দর্য ম্লান হয় না। এ ফুলের মাধুর্য মুগ্ধ করে পথচারীদের হৃদয়, যেন প্রতিটি পাপড়ি এক একটি সুর, প্রতিটি গন্ধ এক একটি মধুর মেলডি।

রাজশাহী শহরের সড়ক বিভাজকগুলো যেন হয়ে উঠেছে কাঠগোলাপের সৌন্দর্যের এক মেলোডি। কাঠফাটা রোদে যখন গাছের পাতা ঝলসে যাওয়ার উপক্রম, তখনো পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকে তরতাজা কাঠগোলাপ। স্বচ্ছ এ ফুল শহরের শোভা বাড়িয়ে তোলে অসাধারণভাবে। শুধু কাঠগোলাপই নয়, চেরি, টগর, মিনজিরি, শিউলিসহ নানা ফুল ফুটে আছে শহরের সড়ক বিভাজকে, যা পথচারীদের মুগ্ধ করে প্রতিনিয়ত।

শহরের প্রতিটি সড়ক যেন প্রকৃতির এক এক টুকরো চিত্রকর্ম। কাঠগোলাপের মিষ্টি সুবাস আর অপূর্ব রূপ সবার মন ছুঁয়ে যায়। এই সড়কগুলোতে হাঁটলে মনে হয়, যেন কাঠগোলাপের মধুর মেলোডি বাজছে চারিদিকে। তাই রাজশাহী শহরের সড়কগুলো শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং প্রকৃতির এক অনবদ্য সুরভিত ক্যানভাস।


রাজশাহী সিটি করপোরেশন সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে নগরীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে সি অ্যান্ড বি মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে প্রায় ২০০ কাঠগোলাপের গাছ লাগানো হয়। সড়ক বিভাজকের গাছগুলো ইতিমধ্যে শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে নগরবাসীর নজর কাড়ছে। তিন চার বছর থেকেই এই গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। এবার ফুল এসেছে সবচেয়ে বেশি।

রাজশাহী নগরের গ্রেটার রোড দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় কেউ এই সৌন্দর্যের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারবেন না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- পিচঢালা পাকা রাস্তার দুইধার, আইল্যান্ড ও সড়ক বিভাজনগুলোতে ঋতুভেদে নানা ফুল আর ফলগাছ শোভা পাচ্ছে। শুধু রাস্তায় নয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঈদগাহসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের ওলি-গলিতেও সুরোভী ছড়াচ্ছে চোখ ধাঁধাঁনো ফুল। সবুজে ঘেরা পদ্মাপাড়ে রাজশাহী নগরীতে এসব ফুলের সুগন্ধে মোহিত হচ্ছে নগরবাসীসহ পর্যটকরা।

চিরচেনা সবুজ নগরীতে এসব ফুল এখন নজর কাড়ছে ছোট-বড় সকলের। আর এগুলো পরিচর্যায় কাজ করছে সিটি করপোরেশনের ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মকারি। দুটি পানির ট্রাঙ্কার ও একটি বেবি জেট নিয়ে নিয়মিত তারা ছুটছেন এসব গাছের যত্নে।


রাসিক জানিয়েছে, প্রতিবছরই প্রায় অর্ধলক্ষ গাছ লাগানো হয় রাজশাহী মহানগরে। সিটি করপোরেশনের হিসাবে, নগরীর প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের আইল্যান্ডজুড়ে শোভা পাচ্ছে রং-বেরংয়ের ফুল। রাস্তায় বের হলে চোখে পড়বে হরেক রকমের ফুল। কখনো লাল কৃঞ্চচুড়া, কখনও হলুদ সূর্যমুখী কিংবা বেগুনি জারুল বা কাঠগোলাপের অপরূপ সৌন্দর্য মন কাড়ছে পথচারীদের।

ফাতেমা তুজ জোহরা নামে এক পথচারী বলেন, রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে আমাদের এই ফুলগাছগুলো। অন্যান্য শহরে ফুলের বাগান দেখার জন্য নানান জায়গায় যেতে হয় পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদিতে। কিন্তু রাজশাহী শহর পুরোটা পার্কের মতই। রাজশাহী মহানগরীর রাস্তার ধারসহ আইল্যান্ড, সড়ক বিভাজন ও ফুটপাতে নানা রংয়ের ফুল। এইসব ফুলের মধ্যে যখন কাঠগোলাপ ফোটে তা দেখতে অসাধারণ মনোমুগ্ধকর লাগে।

রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ-উল-ইসলাম বলেন, রাসিকের জিরো সয়েল্ট প্রকল্পের আওতায় শহরে কয়েকবছর আগে ফুলের গাছ লাগানো শুরু হয়। আমাদের এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য শহরের কোনো জায়গাতেও শুকনো মাটি থাকবে না। প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় সবুজায়নের জন্য গাছ লাগাতে হবে। এতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশের ভারস্যাম্য বজায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মেয়রের দিক-নির্দেশনায় গত সাড়ে ৫ বছরে দুই লাখের বেশি স্থায়ী ও ১০ লক্ষাধিক হেজ জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। রাসিকের নিজস্ব নার্সারি থেকে চারা এনে বিভিন্ন রাস্তায় গাছ লাগানো হচ্ছে। এ গাছগুলো পরিবেশের জন্য ভালো। গবেষণায় যে গাছগুলো ক্ষতিকর দেখা গেছে, সেগুলো লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই গাছগুলো থেকে পরিবেশের উপকার হচ্ছে, সৌন্দর্য বাড়ছে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানিরা বলছেন- কাঠগোলাপ গাছটির কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা নরম এবং শাখা-প্রশাখা কম হয় বলে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছটির বাকল মোটা ও পুরু। শীতে গাছের অধিকাংশ পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতা গজায়। পাতা আকারে বেশ বড় ও পুরু। শিরা-উপশিরা স্পষ্ট। কাণ্ডের ডগায় একগুচ্ছ ফুল অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে চুপটি করে বসে থাকে। ফুলের আকার মাঝারি। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির ওপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জুরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। প্রায় সারা বছর ফুল ফুটলেও গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরতে বেশি ফুল ফোটে।


কাঠগোলাপ বর্গের মধ্যে প্রায় ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গাছই গুল্ম জাতীয়। আবার কখনও ছোট আকারের গাছ হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রজাতি আমেরিকা, মেক্সিকো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আমেরিকা ও ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এদের বেশি দেখা যায়। আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় আমাদের দেশেও কাঠগোলাপের দেখা মেলে। অঞ্চলভেদে এ ফুল কাঠচাঁপা, গরুড়চাঁপা, গুলাচ, গুলাচিচাঁপা, গোলাইচ, গোলকচাপা, চালতাগোলাপ নামে পরিচিত।

রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নূরুন্নেছা বলেন, কাঠগোলাপ তার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য এবং সুগন্ধের জন্য পরিচিত। বিশেষত সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গাছ। এই গাছটি সাধারণত বাড়ির আঙিনায়, পার্কে এবং বাগানে রোপণ করা হয়। কাঠগোলাপের বিভিন্ন রঙের ফুলগুলো পরিবেশকে মনোরম করে তোলে এবং দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য যোগ করে। এর সৌন্দর্য ছাড়াও, কাঠগোলাপের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে।

ঔষধি গুণাবলীর জন্য কাঠগোলাপ বিশেষভাবে মূল্যবান। এর ফুল এবং কাণ্ড প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষত, কাঠগোলাপের ফুল এবং কাণ্ড জ্বর, সর্দি ও কাশি নিরাময়ে কাজ করে। কাঠগোলাপের ফুল থেকে তৈরি নির্যাস অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া, এই গাছের উপাদানগুলি প্রাকৃতিকভাবে নানা ধরনের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এটি শুধুমাত্র পরিবেশের শোভা বৃদ্ধি করে না, পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে কাঠগোলাপ গাছটি ঘরের আঙিনা, পার্ক এবং বাগান সাজানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ উদ্ভিদ।

;