চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড: যোগদান করেই পুরনো শোধ তুলছেন চেয়ারম্যান!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ওএমআর শিট সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘হাতে হাতে টাকা’ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক রেজাউল করিম। দুই দফা কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করার পর গত বছরের ১৯ অক্টোবর তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলে বদলি করা হয়। তখন এই ‘অনিয়ম’ নিয়ে বোর্ডের বর্তমান সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল রেজাউল করিমের। গত ১৪ মে সেই রেজাউল করিম চেয়ারম্যান হয়ে ফিরেছেন এই শিক্ষাবোর্ডে।

চেয়ারম্যান হয়ে ফেরার পর কোথায় অস্থিতিশীল হয়ে থাকা শিক্ষাবোর্ডে শান্তি ফেরাবেন। উল্টো যোগদান করতে না করতেই বর্তমান সচিবের ছেলের ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ সংক্রান্ত চলমান দুটি তদন্তের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। আর এই কাজে তাকে উপসচিব মো. বেলাল হোসেন সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবোর্ডে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানায়, শিক্ষা বোর্ডের সচিবের ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ গতবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তবে তিনি একটি বিষয়ে জিপিএ-৫ পাননি। সেজন্য সচিবের পরিবার পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে চায়। কিন্তু পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে গিয়ে দেখতে পান, কে বা কারা আগেই নক্ষত্র দেব নাথের ছয় বিষয়ের ১২টি পত্রের আবেদন করে ফেলেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সচিবের স্ত্রী বনশ্রী নাথ পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনকারীকে শনাক্ত ও আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে এ নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আবদুল আলীমের মোবাইল ফোন নম্বর রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে নক্ষত্র দেবনাথের নামে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনটি করা হয়েছিল। বিষয়টি উল্লেখ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব আবদুল আলীম ও চট্টগ্রাম কলেজের সাবেক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন বোর্ডের বর্তমান সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথের স্ত্রী বনশ্রী দেবনাথ। ইদ্রিসকেও আসামি করা হয়েছে কারণ তিনি অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যগুলো বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বলে অভিযোগ করেন নারায়ণ চন্দ্র নাথ। অভিযোগ রয়েছে নারায়ণ চন্দ্র নাথের করা মামলার দুই আসামির একজন বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের ঘনিষ্ট বন্ধু।

এদিকে বর্তমান সচিব নারায়ণ চন্দ্র নাথের ছেলের ফলাফল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থাৎ একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলার ফৌজদারি মামলা এবং অন্যটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশক্রমে তদন্ত। কিন্তু চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর নিজ উদ্যোগেই বর্তমান সচিবের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে জোর করে বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একে একে গোপনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের চাপ প্রয়োগ করে তার নিজের চাহিদামতো বক্তব্য লিখিয়ে নিয়েছেন। আর চেয়ারম্যানকে এই কাজে বোর্ডের উপসচিব মো. বেলাল হোসেন সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

চেয়ারম্যান শুরুতে গত বৃহস্পতিবার রহমান নামের একজন দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করা কর্মচারীকে ডেকে নেন। তাকে একান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার কাছ থেকে বক্তব্য লিখিয়ে নেন উপসচিব বেলাল হোসেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় ডাকা হয় শিবলু ও নোমান নামের আরও দুজন দিনভিত্তিক কাজ করা স্ক্যনারকে। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চেয়ারম্যানের চাহিদানুযায়ী বক্তব্য লিখিয়ে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার ডাকা হয় প্রোগ্রামার আব্দুল মালেককে। তাকে একান্তে চেয়ারম্যান এবং উপসচিব জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার কাছ থেকেও তদন্ত বিষয়ক নিজের চাহিদামতো বক্তব্য লিখিয়ে নেন চেয়ারম্যান। এদিকে এমন পরিস্থিতিতে দোটানায় পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চেয়ারম্যানের ডাকে সাড়া দিয়ে একদিকে যেতে হচ্ছে, তেমনি আবার চেয়ারম্যানের চাহিদা অনুযায়ী বক্তব্যও দিতে হচ্ছে। যেটি তাদের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে উদ্বেগের।

যে কমকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে বক্তব্য নেওয়া হয় তাদের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে বার্তা২৪.কম। তাদের বেশিরভাগই এই বিষয়ে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি। বলেছেন, এমনিতেই ঝামেলায় আছেন। এখন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিলে নতুন করে ঝামেলায় পড়তে পারেন।

চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের একজন অফিস সহকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গোপনে ডেকে আনার বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের ডেকে বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। বড় স্যারেরা অর্ডার দিলে তো কর্মচারীদের আসতেই হবে, যা বলবে তা করতে হবে। কথায় আছে না- কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। সেটিই হচ্ছে আর কি?

এছাড়া চেয়ারম্যান তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে একটি চিরকুট দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে চাহিদা দিয়েছেন, যেটিও বোর্ড আইন পরিপন্থী বলে জানা গেছে।

শিক্ষাবোর্ডের অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, সচিবের স্ত্রীর করা সাইবার মামলাটি একটি সাব-জুডিস বিষয়। এ বিষয়ে আদালতের তদন্ত কর্মকর্তা ব্যতীত কারো জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ নেই। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে জোর করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সচিবের বিরুদ্ধে বক্তব্য লিখিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এক ধরণের ভীতি কাজ করছে। যা নিয়ে বোর্ডে এক প্রকার থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

তবে সচিবের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের কাছ থেকে জোর করে বক্তব্য আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আমি তো আমার কর্মচারীদের অফিসিয়াল কাজে ডাকতেই পারি। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই।

   

মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আজ (শনিবার) বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২১ জুন) মোদীর আমন্ত্রণে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি যান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান।

শুক্রবার বিকেল পৌনে ৫টায় পালাম বিমানবন্দরে পা রাখেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র ও পরিবেশবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।

এর আগে দুপুর ২টা ৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার (২২ জুন) ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আতিথেয়তা গ্রহণ করবেন তিনি। একই দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর ভারতে কোনো সরকারপ্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। ভারতে পা দিয়েই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে অনুষ্ঠিত হয় বৈঠকটি।

বৈঠকের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিজের অ্যাকাউন্টে ড. জয়শঙ্কর লিখেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আনন্দিত। ভারতে তার রাষ্ট্রীয় সফর আমাদের ঘনিষ্ঠ ও চিরস্থায়ী সম্পর্কের বিষয়টিকেই নির্দেশ করে। আমাদের বিশেষ অংশীদারত্বের আরও উন্নয়নে তার নির্দেশনার প্রশংসা করি।’

একইদিন বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ভারতের শিল্পপতিদের সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে শনিবার সকালে লালগালিচা বিছানো হবে রাষ্ট্রপতি ভবনে। এ সময় তার ভারতীয় সমকক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড অব অনারও পরিদর্শন করবেন।

এরপর তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং সেখানে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।

পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনার জন্য হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন শেখ হাসিনা। উভয়েই সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দেবেন। এরপর হায়দরাবাদ হাউসে মোদীর ভোজসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখারের সঙ্গে তার সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

সফর শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পালাম বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লি ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। রাত ৯টায় তিনি ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

;

নওগাঁয় ৬৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁয় অভিনব পন্থায় গাঁজা বহনের সময় তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। এসময় ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ গাঁজা বহনকৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ জুন) সকাল ১০ টায় শহরের বাইপাস এলাকায় তাদের আটক করা হয়। বিকেলে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আটককৃতরা হলো- কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার বসন্তপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২৮), কুটিশহর গ্রামের আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং বড় জ্বলা গ্রামের শাওন (২১)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- অভিনব পদ্ধতিতে উপরের অংশ কাটা মাইক্রোর শিটের নিচে পাটাতনের প্লেন শিটের নিচে লুকায়িত অবস্থায় একটি মাইক্রো গাঁজা নিয়ে নওগাঁর ওপর দিয়ে যাচ্ছে। এমন সংবাদে র‌্যাব সদস্যরা সকালে নওগাঁ শহরের বাইপাস ঠ্যাংভাঙ্গা মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় একটি মাইক্রো যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মাইক্রোর শিটের নিচে পাটাতনের প্লেন শিটের নিচে লুকায়িত অবস্থায় আলামত হিসেবে ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করাসহ সাদ্দাম হোসেন, আলমগীর হোসেন এবং শাওনকে আটক করা হয়। এসময় চালক শহিদুল (২৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই জন কৌশলে পালিয়ে যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- আটক আসামি সাদ্দাম ও পলাতক আসামি শহিদুল (চালক) চিহ্নিত পেশাদার মাদক কারবারি। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করে আসছে বলে জানা যায়।

আটক সাদ্দাম জানায়- অজ্ঞাতনামা পলাতক আরও দুইজন একই অঞ্চলের বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লার সীমান্তবর্তী অঞ্চল হতে গাঁজার চালান সংগ্রহ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাইভেট কার/উপরের অংশ কাটা মাইক্রোতে বহন করে গাঁজা সরবরাহ করে আসছিল।

আটক আসামিদের যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নওগাঁ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

;

বিয়ের ১৯ দিন পর নববধূর আত্মহত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বান্দরবান
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিয়ের ১৯ দিন পর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খাতিজা আক্তার (১৯) নামের এক নববধূ আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (২১ জুন) বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড খেদারবান পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খাতিজা আক্তার একই এলাকার বাসিন্দা মো. ইব্রাহিমের মেয়ে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জুবাইরুল ইসলাম জানান, গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঘরের ভিমের ঝুলে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজন উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

জানা যায়, খাতিজা আক্তার গত বুধবার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এক পর্যায়ে শুক্রবার বিকাল ৫ টার দিকে আত্মহত্যা করেন। তবে কোন কারণে গলায় ফাঁস লাগিয়ে খতিজা আক্তার আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম শেখ বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল শেষে খতিজা আক্তারের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বান্দরবান সদর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।

;

পল্লী উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বার্ডের প্রকল্প



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রুপিয়া বেগমের সংসার। মেয়ে দুইজনকেই বিয়ে দিয়েছেন। তবে অর্থের অভাবে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর পর ছেলেকে পাঠিয়েছেন দেশের বাইরে। এদিকে তিনি ডিজিটাল থার্মোমিটার ও ওজন মাপার যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি আয়ও করছেন।

ম্যানেজার সংগঠন থেকে ঋণ নিয়ে দই বিক্রি ও অনলাইনে কাপড় বিক্রি করে মাসে প্রায় দশ হাজার টাকা উপার্জন করছে রৌশন আরা বেগম। আর আমেনা বেগম কৃষি কাজ করে মাসে ১০০ মণ ধান বিক্রি করে এবং গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করে বেশ ভালো অর্থ উপার্জন করছেন।


এরা প্রত্যেকেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের দক্ষিণরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। শুরুতে আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো কাজের সঙ্গে তারা যুক্ত না থাকলেও বার্ডের নারী উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন।

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই নারী। অর্ধেক সংখ্যক মানবগোষ্ঠীকে উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে রেখে কোনো দেশের উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, একটি গাড়ির দুটি চাকার একটি চাকা যদি অচল হয় তাহলে সে গাড়ি চালানো যেমন সম্ভব নয় তেমনি নারীদেরকে স্বাবলম্বী না করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়।


এমনটা ভেবেই বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এর প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান ষাটের দশকের শুরুতেই নারীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য তাদেরকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। এই প্রেক্ষিতেই বার্ড ১৯৬২ সাল থেকে নারীদের উন্নয়নের জন্য কুমিল্লা এলাকায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করে। 

গৃহ উন্নয়ন প্রকল্প:

১৯৬২ সালের বার্ডের নেয়া প্রথম প্রকল্পটি ছিল 'গৃহ উন্নয়ন প্রকল্প'। এই প্রকল্পের অধীনে বাড়ির আশেপাশে শাক-সবজির চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, পরিবার পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। তবে তা কেবল নারীদেরকেই নয়, পুরুষদেরকেও সেখানে যুক্ত করা হতো। 


মুশিআপুউ প্রকল্প:  

পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে 'মহিলা শিক্ষা, আয় ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প (মুশিআপুউ)' নামে আরেকটি প্রকল্প নেয় বার্ড। বার্ডের নিজস্ব রাজস্ব বাজেটভুক্ত এই প্রকল্পটি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়ে পরিমার্জিত আকারে কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, সদর দক্ষিণ এবং বরুড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ২৪টি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ২৪টি গ্রাম সংগঠনের মাধ্যমে বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পল্লী এলাকার মহিলা জনগোষ্ঠীদের মধ্যে বিশেষত সুবিধাবঞ্চিত ও দারিদ্রপীড়িত পরিবারের নারীদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে মুশিআপুউ কাজ করছে।

এছাড়া তাদের দক্ষতা উন্নয়নপূর্বক দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে আয়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনত সুরক্ষা, মা ও শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নসহ মৌলিক অধিকারসমূহের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের সার্বিক মানোন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছে। 

জিইওভিই প্রকল্প: 

নারীদের আইনি বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত কাজ করেছে ‘জেন্ডার রাইটস অপারেশনস এন্ড ভায়োলেন্স এলিমিনেশন ( GEOVE)' প্রকল্পটি। 

এছাড়া নারী ও শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিটি গ্রামে জেন্ডার এবং শিশু অধিকার কর্মী তৈরিতে কাজ করেছে বার্ড।

টেকসই শিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প:

গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য টেকসই শিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্পটিও (RWSEEDE) মুশিআপুউ প্রকল্পের অন্য আরেকটি রূপ। এই প্রকল্পের অধীনে এখন পর্যন্ত সংগঠনের সদস্যদের বার্ড কর্তৃক ৫৩টি বিষয়ভিত্তিক ও ৪৬৬টি নিয়মিত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। 

২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে চলমান এই প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে গ্রামের দরিদ্র নারী। গ্রামীণ নারীদের নির্বাচিত ইউপি সদস্য হিসেবে কাজ ও চাকরি লাভ এবং ৫০ শতাংশ নারীর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী মেলা, বার্ড ও কুমিল্লাস্থ সিটি মার্কেটের বিক্রয় কেন্দ্রের সাথে সংযোগ স্থাপন করে পণ্যের বাজারজাতকরণে সাহায্য করেছে। গৃহ, পরিবার এবং কমিউনিটি পর্যায়ে জেন্ডার বৈষম্য ও নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার সুপ্রতিষ্ঠা, সকল সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের পরিষেবা প্রাপ্তিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যায়ন ও কার্যকর নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যেও কাজ করছে এই প্রকল্পটি।

এ প্রকল্পের অধীনে যেসব নারীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদের বেশিরভাগই নিজেদের তৈরি করেছে খাদ্য উদ্যোক্তা হিসেবে।

;