৪০ বছর পর দেশে ফিরলেন নেপালী নাগরিক 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বগুড়া
৪০ বছর পর দেশে ফিরলেন নেপালী নাগরিক 

৪০ বছর পর দেশে ফিরলেন নেপালী নাগরিক 

  • Font increase
  • Font Decrease

৪০ বছর আগে কাজের সন্ধানে বাংলাদেশে এসে আটকে পড়েন নেপালী নাগরিক বীর কা বাহাদুর রায়। বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের একটি চাতালে আশ্রয় মেলে তার। ৪০ বছরের বেশি সময় তিনি সেখানে থেকে কখনো চাতাল শ্রমিক, কখনো হোটেল শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন বয়স এতটাই বেড়েছে যে সব কাজ আর ঠিক মতো করতে পারেন না। ৭০ বছরের বৃদ্ধ বীর কা বাহাদুর অন্যের করুণায় দিন কাটান। এমন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগী হয় স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) নেপাল দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাবান্ধা সীমান্ত হয়ে নিজ দেশে ফিরে যান বীর কা বাহাদুর রায়।

দীর্ঘদিন দুপচাঁচিয়ায় অবস্থান করা বীর কা বাহাদুর যখন এলাকা ছাড়েন সেসময় এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একদিকে তাকে বিদায় দেওয়ার বেদনা, অন্যদিকে স্বজনদের কাছে তিনি ফিরতে পারছেন সেই আনন্দের মিশ্রন দেখা দেয় এলাকাবাসীর মধ্যে। এদিকে দীর্ঘদিন পর নিজ দেশে ফিরতে গিয়ে নিজেরও মন খারাপ বীর কা বাহাদুরের। তিনি আবার ফিরে আসবেন বলে জানান স্থানীয়দেরকে।

শুধু যে দেশেই ফিরলেন বীর কা বাহাদুর তা নয়, সাথে যেমন নিয়ে গেলেন এলাকাবাসীর ভালোবাসা; তেমনি যে চাতালে তিনি আশ্রয় নিয়ে ছিলেন সেই চাতাল মালিক অলোক কুমার বসাক ও পুলক কুমার বসাক এবং তাকে দেশে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণকারী স্থানীয় ফার্মেসী ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান খান ফরেন এই তিনজন তার হাতে তুলে দেন নগদ ৭৫ হাজার টাকা। 

গত বুধবার সন্ধ্যায় বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় গিয়ে বীর কা বাহাদুরকে দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন নেপাল দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি উজানা বামজান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ললিতা শিলওয়াল ও একই দূতাবাসের অ্যাম্বাসিডরের সেক্রেটারি রিয়া ছৈত্রী। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ছিলেন দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত আরা তিথি ও দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল ৯ টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউস থেকে বীর কা বাহাদুরকে নিয়ে দূতাবাস কর্মকর্তাগণ বাংলাবান্ধা সীমান্তের উদ্দেশে রওনা করেন।

দুপচাঁচিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেপাল দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডরের সেক্রেটারি রিয়া ছৈত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীর কা বাহাদুরের আটকে পড়ার খবর নজরে এলে উপজেলা প্রশাসন থেকে দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। ওই খবরে যে এলাকার কথা বলা হচ্ছিলো তা পূর্ণাঙ্গ ছিল না। তারপরও নেপাল সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়। ওই জায়গার নামের সঙ্গে মিল খুঁজে বের করা হয় বীর কা বাহাদুরের নিজ জন্মস্থান। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত বাংলাবান্ধার কাছে নেপালের হিলাম নামক এক জেলা আছে; সেই জেলায় গোরখা বাঙ্গানা নামে একটি বাজারের সন্ধান মেলে। এরপর সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে (ভাবী)। তিনি ছবি দেখে নিশ্চিত করেন এই বীর কা বাহাদুর-ই তার দেবর। বহুদিন আগে যিনি কাজের সন্ধানে বেরিয়ে আর ফেরেননি। এরই মাঝে তার বড়ভাইও মারা গেছেন। বাড়ির অন্য সদস্যদের বীর কা বাহাদুরের কথা তেমন মনে নেই। পরিবার তার পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলে প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার পর তাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তাকে ফিরিয়ে নিতে আসা নেপাল দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি উজানা বামজান বলেন, ‘বীর কা বাহাদুর রায় বাংলাদেশে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আছেন। এখন তিনি নেপালে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। নেপাল সরকারের উদ্যোগে তাকে বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তে তার পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে গ্রহণ করবেন। তাকে দেশে ফেরার জন্য সহায়তা করায় আমি দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেইসঙ্গে নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ করার কারণে দুপচাঁচিয়ার বাসিন্দা মেহেদী হাসান খান ফরেনের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।’

দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত আরা তিথি বলেন, ‘বীর কা বাহাদুরের সংবাদ জানার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেসময় তিনি নেপালে ফেরার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। এবিষয়ে তিনি আবেদন করলে তা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় নেপাল দূতাবাস থেকে সেকেণ্ড সেক্রেটারিসহ একটি প্রতিনিধি দল বীর কা বাহাদুরকে নেওয়ার জন্য আসেন। তারা বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।’

এদিকে দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে বীর কা বাহাদুর বলেন, ‘ওরা বললো আমি নেপালে গিয়ে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দেখা করে আবার ফিরে আসব। এখান থেকে যেতে ভালো লাগছে না। নেপালে তো আমার কিছুই নেই। আমি আবার কয়দিন পর এখানে চলে আসব।’

বীর কা বাহাদুরের দেশে ফেরার কথা শুনে এলাকার অনেকেই ছুটে যান তার সঙ্গে বিদায় সাক্ষাৎ করতে। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তারা। দীর্ঘদিন এলাকায় থেকে স্থানীয়দের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন বীর কা বাহাদুর। 

   

গাবুরা ইউনিয়নে বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতংকে এলাকাবাসী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরা উপকূলের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। যার চারপাশে অথৈজল মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপ। যেখানে বসবাস করে হাজারো পরিবার। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তভিটা হারাতে হচ্ছে সেখানকার অনেক মানুষের। এদিকে ঝড় জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদী ভাঙনতো লেগেই আছে।

শনিবার (২২ জুন) শ‍্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ৯নং ওয়ার্ডের সোরা মালী বাড়ী সংলগ্ন বেড়িবাঁধে বিকেলে হঠাৎ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে আতংকে আছেন এলাকাবাসী।

এদিকে সরকারের হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলমান থাকলে ও ৯নং সোরা এলাকার মালীবাড়ীর সামনে আজও পযর্ন্ত কোন মেগা প্রকল্পর কাজ শুরু হয়নি। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকার মানুষের। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে বসতভিটা ছেড়ে পালাতে হয় তাদের।

গাবুরা ইউনিয়নে ৪৭টি প‍্যাকেজের মাধ্যমে মেগা প্রকল্পের কাজ চালু হওয়ার কথা থাকলে ও ৯নং সোরা ২৬নং প‍্যাকেজ চালু না করায় এভাবেই নদী ভাঙনে ভেঙে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় গ্রামবাসীর মাঝে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, বাঁধটি ভেঙে গেলে গাবুরার নয়টি গ্রাম প্লাবিত হবে। মাছের ঘের, বসতবাড়ি সব ভেসে যাবে। হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানান তিনি।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, আকস্মিক বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঁধের ভয়াবহ অবস্থা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বাঁধ মেরামত না করা পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবে না বলেও জানান তিনি।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দীন জানান, বাঁধের ৩০ মিটার এলাকাজুড়ে অবস্থা একটু খারাপ। আকস্মিক এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে জিও বস্তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মীরা রওনা হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

;

বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদ

সংসদ

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদে শনিবার (২২ জুন) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা এ কথা বলেন।

তারা বলেন, অর্থনীতিতে চলমান সংকট নিরসন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য। চলমান বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে একটি ভারসাম্যমূলক, গণমুখী, সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় উল্লেখ্যযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।

চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং হামাস-ইসরায়েল- ফিলিস্তিন সংঘাতে কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ৬ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭,৯৭,০০০ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পণ্যের ওপর এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দুই সামরিক শাসনের কঠোর সমালোচনা করে গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক শাসন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। জিয়া ও এরশাদের অপশাসন না থাকলে, দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতো। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২৬০ মার্কিন ডলার, যেখানে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তা হ্রাস পেয়ে ১৯০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ হবে জ্ঞানভিত্তিক সুখী, সম্মৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন একটা দেশকে বঙ্গবন্ধু যখন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন, তখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি নিশংসভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। তার পরবর্তিতে জেলের অভ্যান্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এরকম নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড পৃথিবীতে আর হয়েছে কিনা জানিনা, যা ছিল ঘৃণ্য ও জঘণ্য হত্যাকান্ড। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের মধ্যে যারা এখনো পলাতক আছে, তাদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।

তিনি বলেন, কৃষি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় খাত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তাই বাজেটে কৃষি খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। আব্দুস শহীদ বলেন, দেশের ৪৩ শতাংশ মানুষ কৃষিতে সম্পৃক্ত।

সত্যিকার অর্থে এদেশের কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছিলেন, ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করা চলবে না। প্রয়োজনীয় খাদ্য আমাদেরকেই উৎপাদন করতে হবে। কৃষকদেরকে বাঁচাতে হবে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তা নাহলে কৃষি তথা দেশকে বাচাঁতে পারবো না।’ তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ১১টি বিশেষ অধিকার উল্লেখ করেছি। যার একটি- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা করা। অপরটি হলো- লাভজনক কৃষির জন্য সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ বাড়ানো। চলতি বছরের ধানের উৎপাদন বেড়েছে উলে¬খ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষকদের হার্বেস্টার মেশিন দেয়ায় একটা ধানও প্রাকৃতিক দূর্যোগে নষ্ট হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের প্রতিটি কৃষক যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। কৃষকদের অর্ধেক ভর্তুকিমূল্যে সার, কীটনাশক দেয়া হয়।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, গত ৬ জুন এ মহান সংসদে ‘টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হয়েছে। আমাদের নেতা ভিশন ২০৪১ এ উন্নত, উচ্চ আয়ের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ী নেতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ ও দিক নির্দশনায় একটি বুদ্ধিদীপ্ত, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম, সময়োপযোগী বাজেট আমরা এ মহান সংসদে উপস্থাপন করেছি।” তিনি বলেন, এ বাজেটে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দেড় দশকে বাংলাদেশের সাফল্য এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং তা থেকে উত্তরণের জন্য খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও নীতিকৌশল, খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার, কর্মপরিকল্পনা ও সম্পদ সঞ্চালন, রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতি, রাজস্ব আহরণ আধুনকিায়ন এবং বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা, বিদ্যুৎ, খাদ্য, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি খাতের উন্নয়ন এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে, যা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী ট্যানেল, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বৃহৎ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি দলের সদস্য জাহিদ মালেক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনমুখী হওয়ায় সরকার ৩০টি জিনিসের ওপর কর কমিয়েছে যা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হবে।

সরকারি দলের সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট আমাদের ক্ষুদ্র অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাজেটে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সদস্য নুরুন্নাহার বেগম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বরাদ্দ বাড়ানো হলেও জনগণের বরাদ্দ বাড়েনি।

বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন সরকারি দলের সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ, প্রাণ গোপাল দত্ত, শাহাব উদ্দিন, এসএম আতাউল হক, স্বতন্ত্র সদস্য মইন উদ্দিন ও আজিজুল ইসলাম।

এর আগে, তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা সর্বাত্মক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

;

খালেদা জিয়া সরকারি চক্রান্তে গুরুতর অসুস্থ: রিজভী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বেগম খালেদা জিয়া আজ সরকারি চক্রান্তে, ষড়যন্ত্রে, গভীর নীলনকশায় গুরুতর অসুস্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আগামীকাল (২৩ জুন) দেশব্যাপী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২২ জুন) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা যখন ঈদের দিন বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়েছে তখনও তিনি কিছুটা সুস্থ ছিলেন। কিন্তু, মাত্র কয়েকদিনের ভিতরেই তিনি আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া আজ সরকারি চক্রান্তে, ষড়যন্ত্রে, গভীর নীলনকশায় গুরুতর অসুস্থ। তাকে অন্যায় এবং জোরপূর্বক একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি সুস্থ থাকা অবস্থায় যখন কারাগারে ছিলেন তখন তার খাওয়ার মধ্যে এমন কিছু করা হয়েছে যার জন্য তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বেগম খালেদা জিয়া যাতে দুনিয়া থেকে চলে যায় এই প্রতিক্ষায় বর্তমান দখলদার সরকার অপেক্ষা করছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, একজন ব্যক্তি তার ক্রোধ, প্রতিহিংসা এবং আক্রোশকে বাস্তবায়ন করার জন্য বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় ক্রমাগত বাঁধা দিয়ে যাচ্ছে। তার দখলদার সরকারের আওয়ামী ফ্যাসিজমের যত উপকরণ আছে, সমস্ত উপকরণ দিয়ে তিনি ক্ষমতাকে আঁকড়ে রেখে সবকিছুকে নিঃশেষ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তিনি যেভাবে দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড এবং চুক্তি করে যাচ্ছেন, আজকে যদি দেশে সত্যিকারের আইনের শাসন থাকতো তাহলে আজকে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের প্রকাশ্যে দিবালোকে আদালত বিচার করতো।

;

ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে দুই দিনের সরকারি সফর শেষে নয়াদিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ৬টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর ত্যাগ করে। ফ্লাইটটি রাত ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।

ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী কীর্তিবর্ধন সিং এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার পর ভারতে কোনো সরকার প্রধানের এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।

এছাড়াও, এই সফরটি ছিল ১৫ দিনেরও কম সময়ে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। এর আগে তিনি ৯ জুন মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ঢাকা ও নয়াদিল্লি আজ দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে সাতটি নতুন ও তিনটি নবায়নকৃতসহ ১০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার (২১ জুন) নয়াদিল্লি যান।

;