এমপি আনার হত্যার নেপথ্যে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তে বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসছে।

তদন্তকারীদের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার সোনা ও হুন্ডির ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করায় প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধীদের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে ভারতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩০ এপ্রিল কিলিং মিশন বাস্তবায়নকারী সৈয়দ আমানুল্লাহ ওরফে শিমুলকে নিয়ে ভারতের কলকাতায় যান মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহিন। নিউমার্কেট এলাকা থেকে ছুরি, চাপাতিসহ হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিয়ে রাখেন নিউটাউন অভিজাত এলাকায় সঞ্জীবা গার্ডেনসে। আগে থেকেই হত্যার ছক আঁকা থাকায় আমান দফায় দফায় রিহার্সেল করেন তার সহযোগীদের সঙ্গে।

তার অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে ছোটবেলার বন্ধু আক্তারুজ্জামান শাহিন এমপি আনারকে ভারতে নিয়ে বিনিয়োগের টাকা ফেরত দিতে বলেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। মৃতের পরিচয় যাতে বোঝা না যায় তাই তারা শরীরের হাড় ও মাংস আলাদা করে ফেলেন। এর পর হাড় ও মাংস টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে সব কিছু পলিথিন ব্যাগে ভরে ফ্ল্যাটের বাইরে গিয়ে ফেলে দেয়।

এমপি আনার খুনের ঘটনায় কলকাতার সিআইডি ইতোমধ্যেই তিন জনকে আটক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের এক জন জুবেরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কী কারণে সেই সাক্ষাৎ সেই বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। খুনের কিনারা করতে সিআইডির একটি দল বৃহস্পতিবারই ঢাকা আসে। তারা ঢাকায় আটকদের জেরা করবেন।

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম। প্রথমে তিনি উঠেছিলেন বরাহনগরের এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখান থেকে দু’দিন পর নিখোঁজ হয়ে যান। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে ১৮ মে নিখোঁজ ডায়েরি করেন ওই বন্ধু। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যেরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে যোগাযোগ করা হয় ভারত সরকারের সঙ্গে। তার পর সংসদ সদস্যের খোঁজ শুরু হয়।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, সংসদ সদস্য আনার কলকাতায় আসার অনেক আগেই এখানে চলে এসেছিলেন অভিযুক্তেরা। শহরে বসেই তারা খুনের ছক কষেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। দুই অভিযুক্ত কলকাতার সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলে ছিলেন গত ২ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, ১২ তারিখ কলকাতায় আসেন সংসদ সদস্য আনার। অর্থাৎ, তার আসার অন্তত ১০ দিন আগে কলকাতায় এসে পড়েছিলেন ওই দুই অভিযুক্ত। তারা হোটেল ছাড়েন আজিম আসার এক দিন পরেই। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই ১০ দিন ধরে শহরে থেকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন অভিযুক্তেরা।

   

স্বামীকে হত্যা চেষ্টা, বিজিবির সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) সীতাকুণ্ড থানায় এ মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুলতানা রাবেয়া। এতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) এক সদস্যসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে সীতাকুণ্ডর ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া গ্রামের ফসি হাজী জামে মসজিদের সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় আলতাফকে। ভুক্তভোগী আলতাফ একই ইউনিয়নের দক্ষিণ বগাচতর গ্রামের মাস্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বড় ভাই সিরাজ উদ্দৌল্লাহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হরিনা ক্যাম্পের প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন।

আসামিরা হলেন, একই এলাকার নওশেদ আলম ওরপে রিপন। তিনি বিজিবির সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মারধর ও হয়রানি করার একাধিক অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার পর রিপন এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকি আসামিরা হলেন মো. তারিফ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. নুরুর মোস্তফা, মো. মুসলিম উদ্দিন ও রোকেয়া বেগম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ ভুক্তভোগী আলতাফের সাথে রিপনের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। আলতাফ বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলেও রিপন স্থানীয় কারও কথা মানতে রাজি হয়নি। উল্টো বিভিন্নসময় আলতাফকে হুমকি দিতে থাকে। এরমধ্যে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় আলতাফ হোসেন আসরের নামাজ পড়তে যান। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলতাফের গতিরোধ করেন রিপন ও তার সহযোগীরা। রিপন প্রথমে কিরিচ দিয়ে আলতাফকে কুপিয়ে জখম করে।

পরে রিপনের সাথে আরও কয়েকজন লোহার রড, হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধর শুরু করে। স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী রাবেয়া ছুটে আসলে তাকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও এলোপাতাড়ি মারধর করে আসামিরা। এসময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা চলে যায়। যাওয়ার সময় এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় আলতাফের স্ত্রী রাবেয়াকে। পরে আহতাবস্থায় আলতাফকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে অপারেশন করা হলেও এখনও শঙ্কা মুক্ত নয় আলতাফ।

আলতাফের ভাতিজা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিরুল ইসলাম জনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার চাচাকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। হাসপাতালে এখনও মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চায়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, সাতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

;

ঈদের ছুটির ৩ দিনে বরিশাল সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের ছুটির তিনদিনে বরিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

এর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া নামক এলাকায় বুধবার (১৯ জন) দুপুরে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সাথে গ্রেট বিক্রমপুর নামের পরিবহনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বৃষ্টি আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঝালকাঠি থেকে বরযাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি গৌরনদীর বাটাজোরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো।


অপরদিকে একই উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রাস্তা পারাপারের সময় বরিশালগামী সাকুরা পরিবহনের ধাক্কায় ইসমাইল ব্যাপারী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলা সদরের মুন্ডপাশা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ঘাতক বাস ও চালককে আটক করেছে।

নগরীর কাশিপুর এলাকায় গত রোববার (১৬ জুন) সকালে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ব্যাপারী পরিবহনের চালকের সহকারী মো. সোহাগ (১৯) ও কুমিল্লার বাসিন্দা অজ্ঞাতনামা সুপারভাইজার (৪০) নিহত হয়।

আহত আট যাত্রীকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইদিন ভোররাতে বরিশাল-ঝালকঠি মহাসড়কের নলছিটি এলাকার শ্রীরামপুর বাজারে সাকুরা পরিবহনের বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক আল-আমিন ও যাত্রী আলতাফ মুন্সী নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে ১৫ জুন দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রিজে দুইটি থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে স্বপ্না বেগম (৫০) নামের এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত চালকসহ দুইজনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

;

তিস্তায় দর্শনার্থীদের গলার কাটা জুয়ার আসর



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তার পাড়ে পুলিশের সামনেই চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। জুয়ার আসরে বখাটেদের আনাগোনায় হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ পর্যটকরা।

বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জিয়া, লিটন, শাহিনসহ কয়েকজন যুবকের নেতৃত্বে বসেছে জমজমাট জুয়ার আসর। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তিস্তা ব্যারেজ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসেছে ডাবু পিঠে খেলা তাসসহ বিশাল জুয়ার আসর। এতে করে ঘুরতে আসা তরুণ ও যুবকরা জুয়ার দিকে আসক্ত হচ্ছে। জুয়ার এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

জানা যায়, পুলিশ প্রশাসনের সামনেই জুয়ার আসর চললেও নিরব ভূমিকা পালন করছে তারা। তিস্তা ব্যারেজ এলাকার দুই পাশেই জুয়ার আসর চললেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এতে করে ঘুরতে আসা দূর দূরান্তের পর্যটকরা চরম হয়রানি শিকার হচ্ছেন। জন সম্মুখে জুয়ার আসর তলায় সুশীল সমাজের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, বন্ধুদের নিয়ে তিস্তা বাড়িতে ঘুরতে এসেছি। এখানে জুয়া খেলা দেখে আমিও আগ্রহ হই। বাড়ি থেকে যে টাকা পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সব জুয়ায় হারিয়েছি।

তিস্তা ব্যারেজে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রকিবুল হাসান বলেন, জলঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে তিস্তা ব্যারেজে ঘুরতে এসেছি। এখানে প্রকাশ্যেই প্রশাসনের সামনেই চলছে জুয়া। এভাবে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় জুয়া চলতে থাকলে পর্যটকরা আসার আগ্রহ হারাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা অন্তর্গত দোয়ানী ক্যাম্প ইনচার্জ মুক্তা সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, জুয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

;

১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক

ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক: ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন

১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক: ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক এগ্রো। কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সাদিক এগ্রোর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অন্যতম আলোচিত ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল বিক্রি।

ছাগলটির ক্রেতা হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান ছেলে ইফাতের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক চলছে। তবে ইফাতের দাবি তিনি ছাগলটি কেনেননি, বরং সাদিক এগ্রোর মালিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের অনুরোধে ছবি তুলেছেন।

বুধবার বিকেলে বিশ্বস্ত এক সূত্রের মাধ্যমে কথা হয় ইফাতের সঙ্গে। পারিবারিক নিষেধের কারণে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলেননি ইফাত। তবে একটি সূত্রের কাছে ঈদের আগে সাদিক এগ্রোতে যাওয়ার বিষয় মুখ খুলেছেন এই তরুণ।

তার দাবি, পূর্ব পরিচিত ইমরানের সাদিক এগ্রোতে কোরবানির পশু দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন ইমরান তাকে ক্রেতা সাজিয়ে ছবি তুলতে অনুরোধ করেন। সেই সময়ে তিনি একটি ভিডিওতেও কথা বলেন।


এছাড়াও ইফাতের দাবি, ছাগলটি কেনার জন্য বুকিং বাবদ তিনি কোনো টাকা দেননি।

ইফাত বলেন, 'আমি ছোটবেলা থেকে পশুপাখি অনেক বেশি ভালোবাসি। সাদিক এগ্রোতে গরু দেখতে গিয়ে ছিলাম। সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকে পরিচয় আছে। যেহেতু আমি অনেক দিন ধরে পাখি পালন করি। আমাদের পাখি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসেবে তিনি আসেন। এইভাবে তার সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় হয়। আমাকে ইমরান ভাই খাসিটি (ছাগল) নিয়ে ছবি তুলতে বলে। যেহেতু আমি ছাগলটি কিনছি না। আমার মাধ্যমে যদি তার উপকার হয় তাহলে তো আমার সমস্যা নেই। তার কথামতো ছাগলটির সঙ্গে ছবি তুলি। এবং বলি যে, খাসিটি আমি কিনছি। আসলে ছাগলটি আমার কেনা হয়নি। ছাগলটি বাসায় আনিনি। এখনো কিন্তু সেটি সাদিক এগ্রোতেই আছে।'

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে বাসা থেকে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, আমার পরিবারকে ছোট হতে হয়েছে। আসলে আমার একটা ভুলের কারণেই এটা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখি বাজিগরের জাত উন্নয়নে কাজ করছেন এই তরুণ। পাখিপ্রেমের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে খাঁচায় পোষা পাখি বাজিগরের জাত উন্নয়ন, মিউটেশন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করি। এই কাজ করে আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। সাতবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন থেকেও নানা পুরস্কার ও সনদ পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই পাখি অনেক ভালোবাসি। কিন্তু ছাগল নিয়ে ছবি তুলতে বলায় আমি বাধ্য হয়ে কাজটি করেছি। কিন্তু তার কারণে আমাকে যে এই দিন দেখতে হবে তা কোনো দিন বুঝিনি।'


এদিকে ইফাতকে ছবি তুলতে অনুরোধের বিষয় জানতে সাদিক এগ্রোর মালিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে ছাগল বিক্রির বিষয়ে বুধবার বিকেলে সাদিক এগ্রোর মালিক মো. ইমরান হোসেন বলেন, 'উনি (ক্রেতা) আসলেন, এক লাখ টাকা অ্যাডভান্স করলেন। এক লাখ টাকা একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট। ১২ তারিখ নিয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তিনি আসেননি।'

সাদিক এগ্রো ওই ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, '১১ তারিখ থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে ফোনে পাইনি।'

এ দিকে ইফাতের বাবা মতিউর রহমান গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইফাত নামের আমার কোনো ছেলে নেই। ছাগলের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছেলেটির সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই। যারা আমার নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;