‘গণমানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক টালমাটাল অবস্থায় বর্তমানে দেশের সার্বিক অর্থনীতি চাপে আছে বলে মন্তব্য করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং গণমানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। বরাদ্দ যতই বাড়ুক না কেন, দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ নারীর অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শোভন রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া এর বাস্তবায়ন অসম্ভব।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর সিরড্যাপে ‘বাজেট প্রক্রিয়া ও উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ এবং বাজেটে তাদের ন্যায্য বরাদ্দ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আবুল বারকাত বলেন, আমাদের হিসেবে-নিকেশ চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) ওপর নির্ভর করে করা। এটি আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত। কেননা সদ্য ঘোষিত বাজেট প্রস্তাব যেহেতু চূড়ান্ত হয়নি, চূড়ান্তকরণে আলোচনা চলছে। তাই ঘোষিত বাজেট প্রস্তাব আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছি, কিন্তু হিসাবে কাজে লাগাইনি। একই সাথে, আমরা চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রকল্প অনুযায়ী ঘোষিত বরাদ্দ ধরে হিসাব করেছি, সংশোধিত বরাদ্দ খুঁজতে যাইনি-কারণ, ঘোষিত বরাদ্দ সরকারের চিন্তা ভাবনার এক ধরণের প্রতিফলনও বটে, যা রাজনৈতিক-অর্থনীতির বিশ্লেষণে সরকারের মন গড়া'র জন্য দরকারি।

গবেষণার হিসেবে-পদ্ধতি নিয়ে কারো ভিন্নমত থাকতেই পারে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিষয় নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই যে চার বর্গ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হলো (পারিবারিক কৃষি, গ্রামীণ নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কার উদ্দিষ্ট মানুষ-তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ অতি মাত্রায় অপ্রতুল এবং তার আশু বৃদ্ধি অতি জরুরি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্দতেই শেষ নয়, হতে হবে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। এজন্য, বাজেটের লাইন আইটেম নির্ধারণ, বরাদ্দ প্রদান, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণে সক্রিয় জন-সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে 'বাজেট প্রক্রিয়া ও উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ এবং বাজেটে তাদের ন্যায্য বরাদ্দ' বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে ড. আবুল বারকাত জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেট কার্যকর একটি হাতিয়ার। তবে, দারিদ্র্য বিমোচনে (জনগোষ্ঠী-এলাকা-নৃপরিচয়-লৈঙ্গিক পরিচয়-শ্রেণী কাঠামোর ভিত্তিতে) বাজেটের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা-সে বিষয়ে রয়েছে যথেষ্ট মাত্রার সংশয়।

বর্তমান নয়া উদারবাদী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোতে এটাই স্বাভাবিক যে জাতীয় বাজেটে দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য 'পর্যাপ্ত' ও 'ন্যায়সঙ্গত' বরাদ্দ থাকে না।

পারিবারিক কৃষি-সংশ্লিষ্ট মানুষ: কারা? কেমন আছেন? তুলে ধরে বলা হয়, জাতিসংঘ ২০১৯ থেকে ২০২৮-এই সময়কালকে পারিবারিক কৃষি দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। অথচ, পারিবারিক কৃষি প্রপঞ্চটিই আমাদের দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই পারিবারিক কৃষি খানাতে কৃষি খাতের সমস্যাগুলো অনেক বেশি প্রকট-এ যেন আধপেটা খেয়ে, কোনোভাবে টিকে থাকার লক্ষ্যে পরিচালিত এক কৃষিব্যবস্থা।

আমাদের হিসেবে, বর্তমানে মোট কৃষিখানার ৯২% পারিবারিক কৃষি খানা-যার সংখ্যা ১ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ৫৯১ জন। রক্ষণশীল হিসেবে যদি ৯২% এর বদলে ৮০% ও ধরে নেই, তাহলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ১১২-পারিবারিক কৃষি খানার মোট সদস্য সংখ্যা ৬ কোটি ২৭ লাখ ৯ হাজার ৯৯৪।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পারিবারিক কৃষির জন্য বাজেটে বরাদ্দের হিসেব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় বাজেটে পারিবারিক কৃষির জন্য মোট বরাদ্দ কত তার কোনো 'দাফতরিক' হিসেবে নেই। আর থাকবার কথাও নয়- কারণ 'পারিবারিক কৃষি' প্রপঞ্চটিই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। আমাদের বিশ্লেষণে, পারিবারিক কৃষির বাজেট বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটে। এছাড়াও, আরও ১৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদফতরের অধীনে কিছু প্রকল্প বা কর্মসূচি রয়েছে যেগুলো নানান মাত্রায় পারিবারিক কৃষির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তেমনি 'সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ' খাতের ভূমিকা রয়েছে পারিবারিক কৃষি খানার ও কৃষকের জীবন-মান উন্নয়নে।

আমাদের হিসেবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে পারিবারিক কৃষির জন্য মোট বরাদ্দ ৪০ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা-যা মোট বাজেটের ৫.৩%।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পারিবারিক কৃষি-সংশ্লিষ্ট কৃষিখানার সদস্যপ্রতি বরাদ্দ ছিল গড়ে ৬ হাজার ৪৬৯ টাকা, যা জাতীয় মাথাপিছু গড় বরাদ্দের (যার পরিমাণ ৪৬ হাজার ১২৪ টাকা) তুলনায় ৮৬% কম।

পারিবারিক কৃষিসংশ্লিষ্ট মানুষের জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পারিবারিক কৃষি-সংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্য মোট বরাদ্দ হবে ৪৫ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ৭ হাজার ২৬৫ টাকা। চলমান বাজেট বরাদ্দে পারিবারিক কৃষিসংশ্লিষ্ট মানুষ তার ন্যায্য বরাদ্দ পাননি। 'আদর্শ অবস্থা' বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য। তাই, পারিবারিক কৃষিসংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান মাথাপিছু বরাদ্দের প্রকৃত পক্ষে দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমরা হিসেব করেছি। যদি মাথাপিছু ২ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসেব করি, তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা মোট অনুমিত জাতীয় বরাদ্দের ১০.৬%।

গ্রামীণ নারী কারা কেমন আছেন তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী (৫০.৪৯%)। মোট জনসংখ্যার মধ্যে গ্রামীণ নারী ৩৫.১%। গৃহস্থালী বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের অন্তত ৭০% প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। যদিও তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয় না। কৃষিতে নারীরা যে শ্রম দেন তার ৪৫.৬% ক্ষেত্রে কোনো পারিশ্রমিক পান না। আর বাকি ৫৪.৪% ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক পান বাজারমূল্যের চেয়ে কম। একই বৈষম্য অকৃষি খাতেও।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ নারীর জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসেবপত্তর তুলে ধরে জানান, আমাদের হিসেবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে গ্রামীণ নারীর জন্য মোট বরাদ্দ ৩১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা-যা মোট বাজেটের ৪.১%। অর্থাৎ, গ্রামীণ নারীর জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ গড়ে ১০ হাজার ৮১৪ টাকা, যা জাতীয় মাথাপিছু বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৭৬% কম।

গ্রামীণ নারীর মধ্যে ভূমিহীন, কৃষি-মৎসজীবীতার সাথে যুক্ত নারী, বিধবা, এবং প্রতিবন্ধী নারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ। তাদের বাজেট-বরাদ্দ বঞ্চনা আরও বেদনাদায়ক। অনুমিত যে এই ধরণের গ্রামীণ নারীরা বাজেট থেকে মাথাপিছু পান সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫৭০ টাকা।

গ্রামীণ নারীর জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ নারীর জন্য মোট বরাদ্দ হবে ৩৫ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। যদি আমরা মাথাপিছু ২ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসাব করি, তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা মোট অনুমিত জাতীয় বরাদ্দের ৮.২২%।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরে জানানো হয়, জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের জন্য কাঙ্খিত প্রতিফলন নেই, যার ফলে তাদের উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি একটি বড় বৈষম্য যা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আমাদের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আদিবাসী মানুষের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ, আদিবাসী মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল গড়ে ১২ হাজার ৪৭ টাকা। অর্থাৎ, আদিবাসী মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ জাতীয় মাথাপিছু বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৭৪% কম।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দেশে আদিবাসীর সংখ্যা (যদিও, সরকারি কাগজে এই পরিচয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৮ জন, তন্মধ্যে সমতলের আদিবাসী ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৫ জন আর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী ৯ লাখ ৯১ হাজার ১৩ জন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মতে এদেশে আদিবাসীর সংখ্যা ৩০ লাখ। ২০১৬ সালের আরেক হিসেবে এই সংখ্যা ৫০ লাখ (আবুল বারকাত, ২০১৬)।

বাংলাদেশে আদিবাসীদের সংখ্যা নিয়ে যেমন বিতর্ক আছে, তেমনই বিতর্ক আছে বিভিন্ন ধরনের আদিবাসী গোষ্ঠীর সংখ্যা কতো তা নিয়েও।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য মোট বরাদ্দ হবে ৬ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ১৩ হাজার ৫২৮ টাকা (এই হিসেব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখ ধরে করা; যদি তর্কের খাতিরে এই সংখ্যা ৩০ লাখও ধরা হয় তাহলেও মাথাপিছু এই অঙ্ক দাঁড়ায় ২০ হাজার ৭৮ টাকা, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৬ হাজার ১২৫ টাকা)।

চলমান বাজেট বরাদ্দে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ তার ন্যায্য বরাদ্দ পাননি। আদর্শ অবস্থা বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য। তাই, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান মাথাপিছু বরাদ্দের প্রকৃত পক্ষে দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমরা হিসেব করেছি। যদি আমরা মাথাপিছু ২ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসেব করি তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা, যা মোট অনুমিত জাতীয় বরাদ্দের ১.৪০%।

কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল সরকার গঠন করতে পারলে 'ভূমি সংস্কার কমিশন' গঠন করা হবে, আর ২০১৪ সালে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ওয়াদা করা হয়েছিলো বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এই দুই প্রতিশ্রুতি পূরণে বাজেটীয় উদ্যোগ কখনোই নেয়া হয়নি। বাজেটে কোনো চিহ্ন নেই খাস জমি জলার বন্টন ব্যবস্থাপনা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসেব তুলে ধরে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ দেখেই প্রতীয়মান হয় যে এটি সরকারের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের একটি, অথচ উন্নয়নের জন্য ভূমি অপরিহার্য এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসন স্বচ্ছ ও সহজ হওয়া বাঞ্ছনীয়। 'কৃষি সংস্কার', 'ভূমি সংস্কার', 'জলা সংস্কার- এগুলোর কোনোটির নামে কোনো উপখাত/লাইন আইটেম প্রচলিত বাজেটে থাকেনা।
আমাদের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা (যা মোট বাজেটের ১.৩৬%)-যেখানে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কার- উদ্বিষ্ট জনসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৮২.৮%। অর্থাৎ, কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল গড়ে মাত্র ৭৬১ টাকা।

কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে বলা হয়, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারউদ্দিষ্ট মানুষের জন্য মোট বরাদ্দ হবে ১১ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা; অর্থাৎ, মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ৮ শত ৫৪ টাকা। চলমান বাজেট বরাদ্দে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারউদ্দিষ্ট মানুষ তার ন্যায্য বরাদ্দ পাননি। "আদর্শ অবস্থা" বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য। তাই, কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারউদ্দিষ্ট মানুষের জন্য বিদ্যমান মাথাপিছু বরাদ্দের কমপক্ষে ১০ গুণ বৃদ্ধি আমরা হিসেব করেছি।

যদি আমরা মাথাপিছু ১০ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসেব করি, তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা, যা মোট অনুমদিত জাতীয় বরাদ্দের ১৩.৬৫%।

বাজেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুব-জনগোষ্ঠী এবং নগরে বাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি বাজেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও সেমিনারে জানানো হয়।

   

অর্থ পাচারের কারণে বাজেট সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে: ব্যারিস্টার সুমন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
অর্থ পাচারের কারণে বাজেট সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে: ব্যারিস্টার সুমন

অর্থ পাচারের কারণে বাজেট সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে: ব্যারিস্টার সুমন

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থ পাচারের কারণে বাজেট সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যারিস্টার সুমন) বলেছেন, অর্থ পাচার এই সরকারের বড় সমস্যা। কিছুতেই এটা ঠেকানো যাচ্ছে না। দুর্নীতি করলে তো সেই টাকা অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায়। পাচার হয়ে গেলে যেই দেশে যায় সেই দেশের অর্থনীতির বাজেট হয়ে যায়। আমরা তো বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরই আনতে পারিনি, আর পাচার করা টাকা ফেরত আনব কিভাবে?

সোমবার (২৪ জুন) দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, এই সরকারের মধ্যে রাসেল ভাইপার সাপ ঢুকে গেছে। প্রকৃতিতে যখন সাপ আসে, তখন বেজি সেই সাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই সরকারে সাপ ঢুকেছে, কিন্তু সেই সাপকে ধরার মতো বেজি নেই। তাই সাপ বেড়েই চলেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দুর্বল হয়ে গেছে! একজন ‘ভদ্রলোক’কে দুদক ধরতে পারেনি, এনবিআর ধরতে পারেনি, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট ধরতে পারেনি, সেখানে এনবিআর’র মতিউর রহমানকে ধরলো একটা ছাগল। ছাগলকাণ্ড না ঘটলে আর ফেসবুক ভাইরাল না হলে এই লোকের বিষয় তো সামনেই আসতো না।

সংসদ সদস্য সুমন বলেন, বেনজীর কান্ড! মাননীয় সাবেক আইজিপি! উনি এত বড় হয়ে গেলেন, মন্ত্রণালয় জানলো না, মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানলেন না! আর কিছুদিন সময় পেলে পুরো গোপালগঞ্জ কিনে ফেলতেন এই বেনজীর সাহেব। এটার দায় মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। এখন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদি এমন হয় যে, কিছু জমানো টাকা রয়ে গেছে যেটাকে সাদা করবেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু এই সুযোগ ব্যবহার করে বেনজীর আর মতিউরের টাকাও যদি সাদা হয়ে যায়, আর এদের আদর্শের উত্তরাধিকারদের টাকাও যদি সাদা হয়ে যায়, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

;

মানিকগঞ্জে ইয়াবাসহ আটক ১



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আটক মো: মোতালেব। ছবি: সংগৃহীত

আটক মো: মোতালেব। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার জান্না এলাকা থেকে এক হাজার একশত পিচ ইয়াবাসহ মো. মোতালেব (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য অধিদফতরের একটি অভিযানিক টিম।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে জান্না এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আটক হয় মোতালেব।

পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী বসতঘরের সুকেসের ড্রয়ার থেকে ওই পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মোতালেব জান্না খালাসীপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা মাদকদ্রব্য অধিদফতরের ইনচার্জ মো. রাসেল হোসেন বলেন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক মোতালেবের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

;

ভবনের মাঝখানে যুবকের লাশ, পাশে মিলল চুরি হওয়া ২ মোবাইল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ভবনের মাঝখানে যুবকের মরদেহ

ভবনের মাঝখানে যুবকের মরদেহ

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানার আলকরণ এলাকায় দুইটি ভবনে মাঝ থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, চুরি করে পালাতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে।

সোমবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় আলকরণ এলাকায় থেকে স্থায়ীদের খবরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এখনো তার পরিচয় জানতে পারিনি পুলিশ।

জানা গেছে, আজ বিকেলের দিকে ওই এলাকায় মরদেহের পচা গন্ধা পায় স্থানীয়রা। পরে খোঁজ করে দেখে বন্ধন টাওয়ার ও আলকরণ টাওয়ার নামে দুইটি বহুতল ভবনের মাঝামাঝি খালি স্থানে আটকে আছে এক যুবক। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। ওই স্থান থেকে গত ২২ জুন রাতে বন্ধন টাওয়ারে একটি কক্ষ থেকে চুরি হওয়া দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার দিন চুরির ঘটনা টের পেলে ভবনে বসবাসরতদের চিৎকারে পালিয়ে যায় চোরের দল। চুরি করতে এসে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভবনের পড়ে মৃত্যুবরণ করে যুবকটি।

ভবনটির মালিক নিজাম হাসান বলেন, সন্ধ্যায় এক রকম পচা গন্ধা পাওয়া যায় বিল্ডিংয়ের আশপাশে। পরে দেখা যায় দুই বিল্ডিংয়ে মাঝখানে আটকে আছে এক যুবক। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ সদস্য এসে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আমার বিল্ডিং থেকে গত পরশুদিন রাতে দুই মোবাইল চুরি হয়। তারা দুইজন ছিল। মনে হয় একজন পালিয়ে যেতে পারলে অন্যজন ডিশের তার দিয়ে নামার সময় দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানে পড়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম ওবায়েদুল হক বলেন, মরদেহটি দুই বিল্ডিংয়ের লোহার নেটের সাথে আটকানো ছিল। মরদেহ উদ্ধার করে চমেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঐ যুবকের নাম পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ অব্যাহত আছে। গত ২২জুন রাতে সেখানে একটি ভবনে চুরির ঘটনা ঘটে। মরদেহের সাথে চুরি হওয়া মোবাইল দুইটিও পাওয়া যায়। ধারণা হচ্ছে, চুরি করা পালাতে গিয়ে হয়ত পড়ে মারা গেছে।

;

জল্লাদ শাহজাহানের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া নেই এলাকাবাসীর



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নরসিংদী
ছবি: জল্লাদ শাহজাহান

ছবি: জল্লাদ শাহজাহান

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান আর নেই। এই সংবাদটি মিডিয়া জগতে যতটা আলোচিত হয় আর তুলনায় আলোচনা বা প্রতিক্রিয়া নেই এলাকাবাসীর। সোমবার (২৪ জুন) ভোর সাড়ে পাঁচটায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান দেশের আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান। জল্লাদ শাহজাহানের প্রতিবেশী ও স্বজন এবং স্থানীয় গজারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি আরো জানান, জল্লাদ শাজাহান আমাদের নিকট আত্মীয়, তিনি জেল থেকে মুক্তির পর বাড়িতে দুই চারবার আসেন, এছাড়া বেশিরভাগ সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসা করে বসবাস করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

সোমবার (২৪ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে শাজাহান বুকের ব্যথা অনুভব করে। এ সময় বাড়ির মালিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শাজাহান ইন্তেকাল করেন বলে খবর পাওয়া যায়। জল্লাদ শাজাহান মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশে স্থানীয়দের মাঝে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মৃত্যুর সংবাদ শুনে গ্রামের বাড়িতে তার স্বজনরা রাত দশটায় জানাজা নামাজের সময় নির্ধারণ করে কবরের খনন কাজ শেষ করেন। তবে শাহজাহানের মরদেহ হাসপাতাল থেকে আনতে হলে ময়নাতদন্তের পর আনতে হবে বিধায় আজ রাত জানাজা নামাজ দাফন কাজ সম্পন্ন নয় বলে জানান শাহজাহানের স্বজন এস এম আলমগীর।

শাজাহানের মৃত্যুতে এলাকাবাসী জানান, জল্লাদ শাহজাহান ছোট্টবেলা থেকেই এলাকা ছাড়া থাকায় এলাকার অনেকেই তাকে চেনেন না বা জানেন না, এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন কারা ভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় দেশের আলোচিত ব্যক্তিদের ফাঁসি দিয়ে সারাদেশে আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন

;