খুলনায় ২৩ দিন পর কবর থেকে তোলা হলো ব্যবসায়ীর মরদেহ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
নিহত ব্যবসায়ী এমদাদুল হক লিপন

নিহত ব্যবসায়ী এমদাদুল হক লিপন

  • Font increase
  • Font Decrease

মৃত্যুর ২৩ দিন পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের নির্দেশে খুলনার ব্যবসায়ী এমদাদুল হক লিপনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (০৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের উপস্থিতিতে লিপনের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই-তদন্ত) নাজিমউদ্দিনসহ খুলনা সদর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন বলেন, কবর থেকে ব্যবসায়ী লিপনের মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজিএমইএ সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারি এমদাদুল হক লিপন গত ১৩ সেপ্টেম্বর তিন বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে বেড়াতে বের হন। পরে তার তিন বন্ধু পরিবারকে জানান, লিপন গাড়িসহ রূপগঞ্জ থানার ৩০০ ফিট সড়কের পাশে ডোবায় পড়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তাকে প্রথমে চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মৃত্যু হয়েছে জানালে তার বন্ধুরা মরদেহ অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ওই হাসপাতাল হতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে-এই মর্মে সনদ গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে নিহত এমদাদুল হক লিপনের মরদেহ খুলনায় দাফন করা হয়। কিন্তু মরদেহের সঙ্গে নিহতের স্ত্রী রুমানা আক্তার না আসা এবং তিন বন্ধুর কথায় সন্দেহ হলে পরিবারের পক্ষে নিহত লিপনের বড় ভাই এনামুল হক নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় নিহত লিপনের তিন বন্ধু এহতেশাম কবীর ওরফে জুন, মঞ্জুর মোর্শেদ এবং ইঞ্জিনিয়ার মাসুমকে আসামি করা হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর নিহতর মা আনোয়ারা আক্তার, বোন ফেরদৌসী নাহার ভাই এনামুল হক খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যা অভিযোগ আনেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রশ্ন রাখেন, প্রাথমিকভাবে তাদের জানানো হয় লিপন গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এবং তিনি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। অথচ ডোবা থেকে গাড়ি উদ্ধারের পর লিপনের মরদেহ গাড়ির পেছনে পাওয়া যায়। দুর্ঘটনা হলে গাড়িতে থাকা চারজনেরই আহত হওয়ার কথা। অথচ বাকি তিনজনের শরীরে আহতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পানিতে ডুবে মারা গেলে পেট ফুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু লিপনের দেহে তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এমনকি মৃত্যুর ১৫/১৬ ঘণ্টা পরেও তার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :