আর্থ সামাজিক বিকাশে সংস্কৃতির মেলবন্ধন অপরিহার্য: ডেপুটি স্পিকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সেমিনারে বক্তৃতাকালে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া/ ছবি: সংগৃহীত

সেমিনারে বক্তৃতাকালে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সংস্কৃতির মেলবন্ধন অপরিহার্য। সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধি পায় বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত ‘ডায়ালগ অন এক্সচেঞ্জেস অ্যান্ড মিউচুয়াল লার্নিং অ্যামং সিভিলাইজেশনস’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তৃতাকালে তিনি এ সব কথা বলেন। সেমিনারে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। 

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ইতিহাসের প্রাচীনতম সময় থেকেই দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাধক, পরিব্রাজক সকলেই প্রতিটি সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের বিকাশেও ভূমিকা রেখেছে। চতুর্দশ শতাব্দীতে রেনেসাঁ, অষ্টাদশ শতাব্দীতে শিল্পবিপ্লব, ঊনবিংশ শতাব্দীতে রুশ বিপ্লবসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ মানব সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিটি বিপ্লব একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করে। প্রতিটি বিপ্লবের বিষয়বস্তুই সমতা ও ন্যায়বিচারের জন্য সংঘটিত হয়, যা জাতিগোষ্ঠীর হৃদয়, ধর্ম ও অঞ্চলকে প্রভাবিত করে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত বিকাশ ভৌগলিক দূরত্বকে কমিয়ে আন্তঃসভ্যতার মধ্যে যোগাযোগকে আরও সহজতর করেছে। আমরা বিশ্বায়নের যুগে বসবাস করলেও বিশ্বটা এখনও শান্তিপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা, ইউরোপে উদ্বাস্তু সংকট, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রোহিঙ্গা সংকট প্রভৃতি প্রকট হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংস্কৃতির জাতিসত্তার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি জরুরি ও সময়ের দাবি। আমরা সাড়া বিশ্বে শান্তি এবং স্থিতি কামনা করি। আমরা ভীতি ও যুদ্ধমুক্ত জীবন যাপনে বিশ্বাস করি। সভ্যতার সৃষ্টি ও তার ধারাবাহিক বিকাশে শিক্ষা একটি কার্যকরী উপাদান। তাই আমরা যখন কোনো উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করি তখন সকলের জন্য শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, মানব সভ্যতার বিকাশে এশিয়ার অবদান অপরিহার্য। আমরা একটি উন্মুক্ত ও সু-যোগাযোগভিত্তিক এশিয়া দেখতে চাই। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে চলতে হলে বিশ্ব অঙ্গনে নিজ দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, ক্ষুধা দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার অভিপ্রায় জানিয়েছিলেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পৌছানোর লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।

আপনার মতামত লিখুন :