করোনা মোকাবিলায় রাজশাহীতে প্রস্তুত ৭ সেবাকেন্দ্র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর থেকে রাজশাহীতেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্তরা দৌড়চ্ছেন হাসপাতালে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগে ভিড় বেড়েছে রোগীর। তবে এখনো রাজশাহীতে করোনা আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন কারও নামও আসেনি।

তবে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। রাজশাহী ও এর আশপাশের জেলা মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠান। আক্রান্তদের জন্য একটি সম্পূর্ণ হাসপাতালসহ অন্তত সাতটি সেবাকেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য।

প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ড

তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের জন্য আমরা অন্তত ৩০০ থেকে ৩৫০ বেডের ব্যবস্থা রেখেছি। রোগী পেলে আমরা সংক্রমণ ব্যাধি (আইডি) হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল, ডেন্টাল ইউনিট, পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্তত সাতটি জায়গা প্রস্তুত রেখেছি। পাশাপাশি রাখা হয়েছে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও নার্স। তাদের নিরাপত্তায়ও বিশেষ পোশাক সরবরাহ করা হচ্ছে।’

ডা. গোপেন্দ্র নাথ বলেন, ‘যদি সংক্রমিত হয় এবং তা ব্রেক আউট করে তবে আমরা কোনো ফাঁকা স্থানে স্কুল বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সেবাকেন্দ্র বানিয়ে নেব। বিভিন্ন সভায় এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের সভা হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়- বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ২৫০ থেকে ৩০০ এবং জেলা পর্যায়ে কমপক্ষে ১০০ বেড প্রস্তুত রাখার। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

ডা. গোপেন্দ্র নাথ বলেন, ‘এটি ছড়িয়ে পড়লে একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হবে না। তাই জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও আমরা বৈঠক করেছি। যারা চিকিৎসা দেবে তাদের জন্যও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে হ্যান্ড থার্মাল ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা কোনো কিছুতেই ছাড় দেব না। সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের আছে।’

ফাঁকা করা হচ্ছে রামেকের এই ওয়ার্ডটিও

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, ‘এটির জন্য কোনো ওষুধ নেই। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের অন্তত ১৪ দিন হাসপাতালে থাকতে হবে। সরাসরি সে যাতে পরিবারের সঙ্গে না মেশে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিদেশ থেকে যারা আসবে তাদের আমরা পরীক্ষা করব।’

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘দেশে তিনজনের আক্রান্তের খবর থাকলেও রাজশাহীতে কোনো রিপোর্ট নেই। যেহেতু আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তাই খুব সাবধানতার সঙ্গে কাজ করছি। যদি ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়, তবে নির্ধারণ করে রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে ক্যাম্প রাখা হবে। উপজেলা থেকে মহানগর হেড কোয়াটার পর্যন্ত এই ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :