বিএনপি নেতারা নিজেদের মুখ রক্ষায় অসংলগ্ন কথা বলছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়া ও সারাবিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সাথে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করায় বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম, আমীর খসরু সাহেবরা নিজেদের মুখ রক্ষার জন্য এখন অসংলগ্ন কথা বলছেন।’

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন বর্জন করে বিএনপির নেতারা এখন কর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, তোপের মুখে। আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিগত যে কোনো সরকারের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত সরকারকে ভারত, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ সমস্ত দেশ ও সংস্থা অভিনন্দন জানিয়েছে, কাজের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যারা নির্বাচনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল, নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল এ সব দেখে তারা এখন চুপসে গেছে, তাদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, এখন কি করবে দিশা পাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির উচিত সন্ত্রাসী অপতৎপরতা ও সবকিছুতে না বলার অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা করা।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন উপলক্ষে সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি যেখানে পৌঁছায় না, তারা সেখানে আলো ফেলে। সাংবাদিকদের সাথে আমার দীর্ঘদিনের ঘর-সংসার, আমি সাংবাদিকদের সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তা এবং বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শেখ মামুনুর রশীদ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতা দেন।

   

বিএনপি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে: কাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দুরভিসন্ধিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদে এ বিবৃতি তিনি ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের কোনো আগ্রহ নেই বরং বিএনপির প্রতি তাদের এক ধরনের ঘৃণা রয়েছে। যে কারণে জনগণ বার বার তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির নেতারা তাদের দুঃশাসনের দুর্বিষহ দিনগুলোতে জনগণকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অভূতপূর্ব উন্নয়ন- অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ ও দেশের জনগণকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যা দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হয়। বিভিন্ন সময় বিএনপি ও তার দোসরদের যৌথ উদ্যোগে প্রযোজিত ও পরিচালিত সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং দেশের জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উসকানি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণের নিকট রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঝাঁকুনি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অথচ বিএনপি নিজেই রাজনৈতিকভাবে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। ব্যর্থ রাজনীতির ধারায় হাঁটায় হোঁচট আর ঝাঁকুনির প্রকোপে পর্যদুস্ত বিএনপি। এই ঝাঁকুনি হলো বার বার পরাজয়ের ঝাঁকুনি। হতাশার গভীরে নিমজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাদের বোধশক্তি লোপ পেয়েছে। দিন দিন তারা দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণকে শত্রুতে পরিণত করে চলেছে।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছে তাদের অর্জনগুলো নাকি বর্তমান সরকার ধ্বংস করেছে! অথচ অন্ধকারের অপশক্তি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিভূ সন্ত্রাসী দল বিএনপি দেশের অগ্রগতি ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কী ভূমিকা রেখেছে? বরং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে হত্যা, গুম ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির প্রচলন করেছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান। আসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান বিরোধী দল ও মত দমনে ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তো ওঠেই নি, বরং তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে সেগুলোকে যেন বিএনপির কার্যালয় ও হাওয়া ভবনের সঙ্গে অঙ্গীভূত করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। এগুলোই বিএনপির অর্জন, যা জনগণ বর্জন করে আসছে। জনগণ দ্বারা বর্জিত বিএনপি কখনোই ইতিবাচক কিছু অর্জন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে বরাবরের ন্যায় জননেত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। জনগণ চেয়েছে বলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। দেশের স্বার্থ আর জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। আর সরকার যে জনগণের সেবক বাংলাদেশে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক সংগঠন। তাই যে অপশক্তি দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের প্রবল প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে গণ্য হবে।

;

ব্যারিস্টার খোকনকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে অব্যাহতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন

  • Font increase
  • Font Decrease

দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বার সভাপতির দায়িত্ব নেয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২১ এপ্রিল) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দপ্তর সম্পাদক মো. জিয়াউর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের নির্দেশনা অমান্য করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেয়ায় ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহ সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

;

মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের নির্বাচনে মানা ক্ষমতাসীনদের, অনড় প্রার্থীরা



রুহুল আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের প্রার্থী না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের অনেক স্বজনেরা।

মন্ত্রী-সংসদ সদস্য ও প্রার্থীদের এ বিষয়ে তাগাদা দিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশনা দেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ধানমন্ডির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দায়িত্বশীল যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা বৈঠক করেন। বৈঠকে আত্মীয়দের তালিকা করারও নির্দেশনা দিয়ে এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়।

তবে এমন কঠোর বার্তাও নির্বাচন থেকে সরাতে পারছে না প্রার্থীদের। প্রার্থীরা বলছেন, আমরা মন্ত্রী-এমপিদের রাজনীতি করি না। তাহলে আমাকে কেন এমপি সাহেবদের জন্য সরে দাঁড়াতে হবে? আমরা আমাদের যোগ্যতায় নিজেদের রাজনীতির মাঠ তৈরি করেছি কিন্তু আমার স্বজন কেউ এমপি বা মন্ত্রী হলেন বলেই আমি সব কিছু ছেড়ে দেব, এটা সম্ভব না।

মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়দের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন প্রায় দুই ডজনেরও অধিক স্বজন। তাদের মধ্যে আছেন, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খান, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নানের ছেলে মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামান ওরফে লিটন (তারা ভিন্ন ভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন), টাঙ্গাইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাকের খালাত ভাই, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিমের ছোট ভাই নূর-ই আলম, বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছোট ছেলে আশিক আব্দুল্লাহ, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর চাচাত ভাই বিল্লাল হোসেন নিপু।

এছাড়াও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার আশরাফ খানের শ্যালক মো. শরিফুল হক, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের শ্যালক লুৎফুল হাবীব রুবেল, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীরেন শিকদারের ছোট ভাই বিমল শিকদার, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের ছেলে শাহাদাত মান্নান, সুনামগঞ্জের সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুন্নাহার বেগমের ছেলে ফজলে রাব্বি, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেকের ফুপাত ভাই ইসরাফিল হোসেন, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুব-উল আলম হানিফের চাচাত ভাই আতাউর রহমান, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর ছেলে আতিক আলী অমি, এমপি মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ও সাবেক এমপি আয়েশা আলীও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

আবার নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী এক জনসভায় গিয়ে তার ছেলের পক্ষে দেওয়া বক্তব্য হয়েছে ভাইরাল। সেখানে তিনি বলেছেন, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে তার ছেলেকে ভোট না দিলে উন্নয়নকাজ করবেন না তিনি। তার ছেলে আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরী সুবর্ণচর সদর উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

স্বজনদের প্রার্থিতার বিষয়ে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়ে শনিবার (২০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'একটা দলে আমি এমপি, আমি মন্ত্রী, আবার আমার ভাই, ছেলে এরাও পদ নিয়ে যাবে সব, তাহলে তৃণমূলের কর্মীরা কী করবে? তাদের পদে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই? সে সুযোগটা করে দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

তবে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্যমতে, শুধু স্বজন হওয়ার কারণেই প্রার্থী না হওয়ার বিষয়টি তারা মানতে নারাজ। তাদের কথা, আমরা তো মন্ত্রী-এমপিদের ভরসায় নির্বাচন করছি না। আমরা আমাদের পরিচয়ে নির্বাচন করছি। তাহলে স্বজন হওয়া কি অপরাধ? তারাও তাই অনড় নির্বাচনি মাঠে; দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে হলেও নির্বাচনি মাঠে থেকে দেখতে চান শেষটা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়রা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, সে ক্ষেত্রে যেহেতু আপনার বোনের স্বামী নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য (আনোয়ার আশরাফ খান), আপনি কি মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে পলাশ উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শরিফুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি উইথড্র করব কারণ কী? আমি তো এমপি সাহেবের রাজনীতি করি না।

শরিফুল হক বলেন, ঘোড়াশাল-পলাশে আমরা রাজনৈতিক পরিবার। আমার রাজনৈতিক পরিচয় তো শালা-সম্বন্ধী না। আমার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে পলাশের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাসানুল হক হাসান সাহেবের ভাতিজা। ছাত্র সংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। আমার ভগ্নীপতি তখন কোনো রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ডাক্তার। আমি কি আমার বোনের স্বামীর জন্য আমার তিলে তিলে গড়া রাজনীতি ধ্বংস করে দেব? অবশ্যই আমি আমার নির্বাচন চালিয়ে যাব।

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিমের ছোট ভাই নূর-ই আলম নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার সংসদ সদস্য ভাইয়ের সাথে সরাসরি কোন সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি ৩০ বছর থেকে আলাদা সংসার মেনটেইন করি। আমার মতাদর্শ আলাদা। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি, শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। আমার ভাই যে সংসদ সদস্য তিনি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে আছেন গত ১৫ দিন। আমি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। করোনার সময়ে সামাজিক কাজ করেছি, বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সাহায্য করেছি। সে কাজের ক্ষেত্রে আমাকে নিয়ে একটা বলয় তৈরি হয়েছে। তারা আমাকে নির্বাচনের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে, সেজন্য আমি নির্বাচন করি।

নূর-ই আলম বলেন, আমি রাজনৈতিক মতাদর্শে আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক, কিন্তু অফিসিয়ালি দলের সাথে সংশ্লিষ্ট না। কোনো ইউনিটের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত না। এমনকি আমি এমপি সাহেবের রাজনীতির সাথেও সরাসরি সম্পৃক্ত না। আমি দূর থেকে যতটা পারি সহযোগিতা করি। তার সাথে আসলে আমার রাজনৈতিকভাবে তেমন কোন সম্পৃক্ততা নেই।

তবে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, দলের বার্তা সব জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বজনরা নির্বাচনে থাকেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। এমনকি তাদের পক্ষে সমর্থনও করতে পারবেন না দলীয় কোনো ব্যক্তি। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়দের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ছেলে, স্ত্রী, কন্যা, ভাগিনা, শ্যালক সরাসরি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দেরকে প্রার্থী করা যাবে না। আমরা অংশগ্রহণমূলক একটি সুন্দর নির্বাচন চাই। এই নির্বাচন যেন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্যই আমরা আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় কোন প্রতীক দিইনি। এটা সবাই মানবে, মানার জন্যই বলা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত কেউ মানবে না বলে আমরা মনে করি না।

নাছিম বলেন, আমাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দু'চারজন প্রার্থী আছে বিভিন্ন বিভাগে, তারা দায়িত্বশীল মানুষ, দায়িত্বশীল নেতা, তারা দলের অভিমতকে, সিদ্ধান্তকে অবশ্যই মানবেন, সম্মান দেবেন, প্রতিপালন করবেন।

;

একটা দুঃসময় আমরা অতিক্রম করছি: মির্জা ফখরুল



Sajid Sumon
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটা দুঃসময়, কঠিন সময়… আমরা অতিক্রম করছি। রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক সংকট ভয়াবহভাবে আমাদের আক্রমণ করেছে। এখানে বিচারব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ হয়ে গেছে। অর্থনীতিকে পুরোপুরিভাবে নিজেদের মতো করে তারা সেখানে লুটপাট চালাচ্ছে। আজ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধবংস করা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে একেবারে উপড়ে ফেলা হয়েছে।’

শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্মরণে নাগরিক স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে নাগরিক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যার জন্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী লড়াই করছিলেন, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি আবার আমাদের ফিরিয়ে আনতে হয়, বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমরা পরিণত করতে চাই, তাহলে আমাদেরকে এখন অবশ্যই সব নতুন করে চিন্তা করে নতুনভাবে আবার বলীয়ান হয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, `কে কী বললো সেটা ভাবার দরকার নেই, আমাদের মধ্যে যে আশা, যে আকাঙ্ক্ষা আছে; আমরা যারা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, যারা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছি, যারা গুম হয়েছে তাদের সবাইকে সেই সম্মানটুকু দেওয়ার জন্য আমাদের আজ একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে… আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

তিনি বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে আলাপ হচ্ছিল… একজন কৌশলের কথা বলেছেন। আসলে এখানে প্রয়োজন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। সব নাগরিক যারা দেশকে ভালোবাসেন, সব রাজনৈতিক দল যারা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় তাদের এখন সবাইকে এক হয়ে সোচ্চার কণ্ঠে শুধু রাজপথে বেরিয়ে নয়, সমগ্র রাষ্ট্র যন্ত্রকে ঝাঁকি দিতে হবে। তাহলেই হয়তোবা ডা. জাফরুল্লাহর যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নকে আমরা কিছুটা বাস্তবায়িত করতে পারবো।’

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাস নাইম বাবু। এতে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, ব্রতীর শারমিন মুরশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এফবিবিআইয়ের আবদুল হক, মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ‘মায়ের ডাক’ এর সানজিদা ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়া জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সভাপতি জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির তানিয়া রব, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, মিয়া মশিউজ্জামান এবং প্রয়াত জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মেয়ে বৃষ্টি চৌধুরী স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন।

;